📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 'প্রতিপালনের একত্বে' অবিশ্বাস

📄 'প্রতিপালনের একত্বে' অবিশ্বাস


আমরা দেখেছি যে, তাওহীদের প্রথম পর্যায় তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত। এ বিষয়ে কোনো প্রকার অবিশ্বাস, অস্বীকার, দ্বিধা, সন্দেহ বা আংশিক বিশ্বাস 'কুফ্র' বলে গণ্য। আল্লাহর অস্তিত্বে অবিশ্বাস, তাঁর স্রষ্টাত্বে অবিশ্বাস, অন্য কোনো স্রষ্টা আছে বলে বিশ্বাস, তার প্রতিপানের ক্ষমতায় অবিশ্বাস, অন্য কারো বিশ্ব পরিচালনা, প্রতিপালন বা মঙ্গল-অমঙ্গলের ক্ষমতা আছে বলে বিশ্বাস, তার রিফ্ট দানের ক্ষমতায় অবিশ্বাস, অন্য কোনো রিযিকদাতা আছে বলে বিশ্বাস, ইত্যাদি সবই এ পর্যায়ের কুফ্র। অনুরূপভাবে কিছু বিষয়ে আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস ও কিছু বিষয়ে তা অবিশ্বাস করাও একইরূপ কুফ্র।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 নাম ও গুণাবলির একত্বে অবিশ্বাস

📄 নাম ও গুণাবলির একত্বে অবিশ্বাস


'তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত' বা আল্লাহর নাম ও গুণাবলির একত্ব আমরা তাওহীদ অধ্যায়ে আলোচনা করেছি। আল্লাহ তা'আলার নাম ও গুণাবলির কিছু বা সব অস্বীকার করা এ পর্যায়ের কুফর। এ কুদ্র দু প্রকারের: প্রথমত: কুফরুন নাফই (كفر النفي) বা অস্বীকারের কুফ্র এর অর্থ আল্লাহ যে সকল নাম ও গুণ তাঁর আছে বলে জানিয়েছেন তার সব বা যে কোনো একটি অবিশ্বাস বা অস্বীকার করা। যেমন আল্লাহর ইলম (জ্ঞান), কুদরত (ক্ষমতা), কালাম (কথা), রাহমাত... ইত্যাদি যে কোনো এক বা একাধিক নাম বা গুণ অস্বীকার করা, বা তার পূর্ণতা অস্বীকার করা। আল্লাহর কোনো কর্ম বা গুণ তার সৃষ্টির মত বা তুলনীয় বলে বিশ্বাস করাও একই পর্যায়ের কুফ্র বা অবিশ্বাস। দ্বিতীয়ত: কুফরুল ইসবাত (كفر الإثبات) বা দাবির কুফ্র এর অর্থ আল্লাহ নিজের জন্য যা অস্বীকার করেছেন তাঁর তা আছে বলে দাবি করা। যেমন আল্লাহর জন্য ঘুম, তন্দ্রা, সন্তান, স্ত্রী ... ইত্যাদি দাবি করা। আল্লাহ তাঁর নিজের জন্য যে সকল বিশেষণ, গুণ ও বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন, কেউ যদি নিজের জন্য বা অন্য কোনো সৃষ্টির জন্য সে সকল বৈশিষ্ট্যের মধ্য থেকে এক বা একাধিক গুণ বা বিশেষণ দাবি করে তবে তাও এ প্রকারের কুফরী বলে গণ্য হবে। যেমন আল্লাহর মত ইলম, হিকমত, রহমত... ইত্যাদি অন্য কারো আছে বলে দাবি করা। এরূপ দাবি স্বীকার বা বিশ্বাস করাও একইরূপ কুফ্র।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 ইবাদতের একত্বে অবিশ্বাস

📄 ইবাদতের একত্বে অবিশ্বাস


আমরা দেখেছি যে, তাওহীদের চূড়ান্ত পর্যায় তাওহীদুল উলুহিয়‍্যাত বা তাওহীদুল ইবাদাত। সকল নবী-রাসূল ইবাদতের তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন। তাঁরা সকলেই বলেছেন, একমাত্র আল্লাহর ইবাদত কর এবং আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত করা হয় তাদের ইবাদত বর্জন কর। আল্লাহর ইবাদতের একত্বে অস্বীকার করা, তাঁর মা'বুদ হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ বা অবিশ্বাস পোষণ করা বা অন্য কেউ কোনোরূপ ইবাদত পাওয়ার যোগ্য আছে বলে বিশ্বাস করা এ পর্যায়ের কুফর। আমরা দেখেছি যে, যুগে যুগে অধিকাংশ কাফিরই এ প্রকারের কুফরে নিপতিত হয়েছে।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর রিসালাতে অবিশ্বাস

📄 মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর রিসালাতে অবিশ্বাস


মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর রিসালাতে বিশ্বাসের অর্থ ও বিষয়বস্তু আমরা পূর্ববর্তী অধ্যায়ে আলোচনা করেছি। মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর ব্যক্তিত্ব, মর্যাদা, মহত্ব, রিসালাত, নুবুওয়াত, নুবুওয়াতের পূর্ণতা, প্রচার ও তাবলীগের পূর্ণতা, নুবুওয়াতের বিশ্বজনীনতা, স্থায়িত্ব, সমাপ্তি, মুক্তির একমাত্র পথ ইত্যাদি কোনো বিষয়ে অস্বীকার, অবিশ্বাস বা সন্দেহ এ পর্যায়ের কুফ্র। মুহাম্মাদ (ﷺ) যা কিছু বলেছেন তার কোনো বিষয়কে মিথ্যা বা সন্দেহযুক্ত বলে মনে করাও একই পর্যায়ের কুফ্র। এ পর্যায়ের কুফ্র-এর দুটি দিক রয়েছে: প্রথমত, মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর ব্যক্তিত্বে সন্দেহ, দ্বিধা বা অভিযোগ কেউ যদি মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সত্যবাদিতায়, নিষ্কলুষ চরিত্রে, নিষ্পাপ ব্যক্তিত্বে, ইসলাম প্রচারে তাঁর পূর্ণতায়, তাঁর ধার্মিকতায়, তাঁর পূর্ণ জ্ঞান ও বুদ্ধিতে বা অনুরূপ কোনো বিষয়ে সন্দেহ, আপত্তি বা অভিযোগ করে তবে তা এ পর্যায়ের কুফরী দ্বিতীয়ত, মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর কথা বা শিক্ষায় অবিশ্বাস বা সন্দেহ মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর নুবুওয়াতের বিশ্বাসের অর্থই হলো তিনি যা বলেছেন বা শিক্ষা দিয়েছেন তা সবই সন্দেহাতীতভাবে সত্য বলে
বিশ্বাস করা। তিনি বলেছেন বলে প্রমাণিত কোনো সংবাদ, শিক্ষা, কথা বা বক্তব্যকে অসত্য বলে মনে করা বা সন্দেহ করা এ পর্যায়ের কুফ্রী। মুহাম্মাদ (ﷺ) বলেছেন কিনা তা প্রমাণিত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ হতে পারে। প্রমাণিত হওয়ার পরে কোনো মুমিন তার সত্যতায় সন্দেহ বা দ্বিধা করতে পারেন না।
রাসূলুল্লাহ কুরআন হিসেবে যা কিছু শিক্ষা দিয়েছেন বা কুরআন কারীমে যা কিছু বলা হয়েছে তা সবই মুতাওয়াতির পর্যায়ে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। অনুরূপভাবে মুতাওয়াতির হাদীসে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা সন্দেহাতীতভাবে তাঁর বক্তব্য বা শিক্ষা হিসেবে প্রমাণিত। আরকানুল ঈমান ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি সবই এই পর্যায়ের। খাবারু ওয়াহিদ হিসেবে বর্ণিত বিষয়গুলি বিশুদ্ধ সনদে প্রমাণিত হলে তাও সাধারণভাবে বিশ্বাসের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়। তবে সাধারণভাবে খাবারু ওয়াহিদ পর্যায়ের সহীহ হাদীসে প্রমাণিত বিষয় অস্বীকার করলে তাকে বিভ্রান্ত বলা হয়, তবে কাফির বলা হয় না। এ বিষয়ে আমরা এ পুস্তকের প্রথম অধ্যায়ে আলোচনা করেছি।
কুরআন অথবা সুন্নাত দ্বারা, বিশেষত মুতাওয়াতিরভাবে প্রমাণিত কোনো বিধান অস্বীকার করাও একই পর্যায়ের কুফ্রী। সালাত, যাকাত, সিয়াম ইত্যাদির ফরয হওয়া অস্বীকার করা, ব্যভিচার, চুরি, হত্যা ইত্যাদির হারাম হওয়া অস্বীকার করা, সালাতের, তাহারাত, রাক'আত, সময়, সাজদা, রুকু ইত্যাদির পদ্ধতি অস্বীকার, ব্যতিক্রম করা ইত্যাদি সবই এ পর্যায়ের কুফ্র। তবে অজ্ঞতার কারণে অস্বীকার করলে তা ওযর বলে গণ্য হতে পারে। কোনো ইজতিহাদী বা ইখতিলাফী বিষয় অস্বীকার করলে তা কুফ্র বলে গণ্য হবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00