📄 মৃত্যুর সময় আত্মগ্রহণ
কুরআন-হাদীস থেকে আমরা জানি যে, মৃত্যুর সময় মানুষের আত্মা গ্রহণ করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একদল মালাককে। আল্লাহ বলেন :
حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لَا يُفَرِّطُونَ "অবশেষে যখন তোমাদের কারো মৃত্যুকাল উপস্থিত হয় তখন আমার প্রেরিত দূতগণ তার মৃত্যু ঘটায় এবং তারা কোনো ত্রুটি করে না।" অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন :
قُلْ يَتَوَفَّاكُمْ مَلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وُكِّلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ "আপনি বলুন, তোমাদের জন্য নিযুক্ত ‘মালাকুল মউত’ (মৃত্যুর মালাক) তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অবশেষে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে।" কুরআনে বা নির্ভরযোগ্য হাদীসে ‘মালাকুল মউত’ নাম উল্লেখ হয়নি। তবে কোনো কোনো মুফাসসির তাঁর নাম ‘আজরাঈল’ বলে উল্লেখ করেছেন। পরবর্তী যামানার মুসলিমদের মধ্যে এই নামই প্রসিদ্ধ।
📄 আরশ বহন করা
মালাকা বা ফিরিশতাগণের একটি বিশেষ কর্ম মহান আরশ বহন করা। এ বিষয়ে কুরআনের একটি আয়াত আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি। মহান আল্লাহ বলেছেন : “যারা আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা তার চতুর্পাশ ঘিরে আছে তারা তাদের –
প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে প্রশংসার সাথে এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে...।" অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন:
وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةً "এবং সেইদিন আটজন (মালাক) তাদের প্রতিপালকের আর্শকে ধারণ করবে তাদের ঊর্ধ্বে।"
📄 অন্যান্য কর্ম
এছাড়া কুরআন ও হাদীস থেকে আমরা জানি যে, আল্লাহ বিভিন্ন সৃষ্টির পরিচালনা ও রক্ষনাবেক্ষনের জন্য বিভিন্ন শ্রেণীর মালাককে দায়িত্ব দিয়েছেন। চাঁদ-সূর্যের জন্য, পাহাড়-পর্বতের জন্য, আকাশের বিভিন্ন স্থানের জন্য, মেঘের জন্য, বৃষ্টির জন্য, মাতৃগর্ভের ভ্রুনের জন্য, জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য, পাপীদের শাস্তিদানের জন্য, জান্নাতবাসী মুমিনদের খেদমত ও শান্তিদানের জন্য বিভিন্ন মালাককে দয়িত্ব প্রদান করেছেন আল্লাহ।
মুসলিমদের জিকিরের মাজলিস, আলোচনার মজলিস, ইলমের মাজলিস, সালাতের জামাত ইত্যাদি সৎকর্মে উপস্থিত থাকেন কিছু মালাক, বিশ্বের সকল প্রান্ত থেকে রাসূলুল্লাহ-এর জন্য প্রেরিত সালাত ও সালাম তাঁর রওযা মুবারকে পৌঁছে দেন কিছু মালাক, মৃত্যুর পরে বা কবরে মৃত ব্যক্তিকে প্রশ্ন করার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন মুনকার নাকির নামক মালাক। 'মালিক' (আ)-কে দিয়েছেন জাহান্নামের তত্বাবধানের দায়িত্বে। ইস্রাফিল (আ)-কে দিয়েছেন কিয়ামতের সিংগায় ফুৎকার দানের দায়িত্ব। মিকাঈল ফিরিশতা বৃষ্টিপাত ও ফল-ফসলের দায়িত্বে নিয়োজিত। এভাবে বিভিন্ন হাদীস থেকে বিশ্বজগতের বিভিন্ন সৃষ্টির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন ফিরিশতাদের কথা আমরা জানতে পারি যারা বিশ্বজগত পরিচালনায় আল্লাহর ইচ্ছা ও নির্দেশের বাস্তবায়ন করেন। তাই মুসলিমরা বিশ্বাস করেন যে, চাঁদ, সূর্য, মেঘ, বৃষ্টি ইত্যাদি আল্লাহর সকল সৃষ্টি যেমন তাঁরই সৃষ্ট প্রাকৃতিক নিয়মের অধীন, তেমনি এসকল সৃষ্টির মধ্যে আল্লাহর নিয়ম ও নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য রয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মালাকগণ। সকল সৃষ্টি তাঁরই নিয়ন্ত্রণে, সকল প্রাকৃতিক নিয়ম তাঁরই সৃষ্টি, ফিরিশতাগণ তাঁরই দাস। সবকিছু তাঁর ইচ্ছা ও নির্দেশের অধীনে। একমাত্র তাঁর ইচ্ছাই চূড়ান্ত, তিনিই সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।