📄 কর্মনির্বাহ ও কর্মবণ্টন
সাধারণভাবে আল্লাহর ইবাদত, তাসবীহ ও তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করা ছাড়াও মালাকগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদেরকে প্রদত্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। মহান আল্লাহ বিশ্ব পরিচালনায় তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য তাঁদেরকে দায়িত্ব দেন। মহান আল্লাহ বলেন:
وَالنَّازِعَاتِ غَرْقًا وَالنَّاشِطَاتِ نَشْطًا وَالسَّابِحَاتِ سَبْحًا فَالسَّابِقَاتِ سَبَقًا فَالْمُدَبِّرَاتِ أَمْرًا "শপথ তাদের যারা নির্মমভাবে উৎপাটন করে। এবং যারা মৃদুভাবে বন্ধনমুক্ত করে দেয়। এবং যারা তীব্র গতিতে সন্তরণ করে। আর যারা দ্রুতবেগে অগ্রসর হয়। অতঃপর যারা কর্ম নির্বাহ করে।" মুফাস্সিরগণ উল্লেখ করেছেন যে, এখানে মালাকগণকেই বুঝানো হয়েছে। তাঁদের কেউ কাফিরদের প্রাণ নির্মমভাবে উৎপাটন করেন, কেউ মুমিনের প্রাণ মৃদুভাবে বন্ধনমুক্ত করেন, কেউ আল্লাহর নির্দেশাবলি নিয়ে মহাবিশ্বে সন্তরণ, চলাচল বা যাতায়াত করেন এবং কেউ আল্লাহর নির্দেশিত কর্মসমূহ নির্বাহ করেন। অন্যত্র আল্লাহ বলেন:
فَالْمُقَسِّمَاتِ أَمْرًا "শপথ কর্মবণ্টনকারীগণের (কর্মবণ্টনকারী মালাকগণের)।" এভাবে আমরা সাধারণভাবে ফিরিশতাদের দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে পারি। এছাড়া কুরআন ও হাদীসের বর্ণনা থেকে আমরা তাঁদের বিভিন্ন বিশেষ দায়িত্ব ও কর্ম সম্পর্কে জানতে পারি। তাঁদের এ সকল দায়িত্ব ও কর্মের মধ্যে রয়েছে:
📄 ওহী পৌঁছানো
মালাকগণের একটি মৌলিক দয়িত্ব নবী রাসূলগণের নিকট আল্লাহর ওহী পৌঁছান। জিবরাঈল (আ)-এর নাম ও পরিচয় বিষয়ক আলোচনায় আমরা এ বিষয়ে আমরা কয়েকটি আয়াত দেখেছি।
📄 মানুষের রক্ষণাবেক্ষণ
মালাকগণের অন্য একটি দায়িত্ব আল্লাহর হুকুমে তাঁরই মর্জিমত মানুষের রক্ষণাবেক্ষণ করা। মহান আল্লাহ বলেন:
لَهُ مُعَقِّبَاتٌ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ يَحْفَظُونَهُ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ "মানুষের জন্য তার সামনে ও তার পিছনে একের পর এক প্রহরী থাকে, তারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে।"
📄 মানুষকে কল্যাণ-কর্মে উৎসাহ প্রদান
আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন:
إِنَّ لِلشَّيْطَانِ لَمَّةً بِابْنِ آدَمَ وَلِلْمَلَكِ لَمَّةً فَأَمَّا لَمَّةُ الشَّيْطَانِ فَإِيعَادٌ بِالشَّرِّ وَتَكْذِيبٌ بِالْحَقِّ وَأَمَّا لَمَّةُ الْمَلَكِ فَإِيعَادٌ بِالْخَيْرِ وَتَصْدِيقٌ بِالْحَقِّ ... ثُمَّ قَرَأَ : الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمْ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ) الآية "শয়তান মানুষের মনে প্রেরণা জাগায়, আবার মালাকও (ফিরিশাতও) মানুষের মনে প্রেরণা জাগায়। শয়তানের প্রেরণা অশুভ ও অকল্যানের ওয়াদা করা এবং সত্যকে অস্বীকার করার প্রেরণা। মালাকের প্রেরণা হলো কল্যাণের ও মঙ্গলের ওয়াদা করা এবং সত্যকে মেনে নেয়া। ... এরপর তিনি কুরআনের নিম্নোক্ত আয়াতটি পাঠ করেন: "শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্রের ভয় দেখায় এবং অশ্বলতা-কার্পণ্যের নির্দেশ দেয়। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়।