📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 ঈমান বিনষ্টকারী বিষয়াদি সম্পর্কে জ্ঞানলাভের গুরুত্ব

📄 ঈমান বিনষ্টকারী বিষয়াদি সম্পর্কে জ্ঞানলাভের গুরুত্ব


কুরআন কারীমের ইহুদী, খৃস্টান, আরবের কাফিরগণ ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এরা সকলেই নিজদেরকে খাটি মুমিন বলেই দাবি ও বিশ্বাস করত। তার মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর দীনকেই বিভ্রান্তি ও পূর্বপুরুষদের মাধ্যমে প্রাপ্ত খাঁটি ধর্মের ব্যতিক্রম বলে মনে করত। অথচ তারা সকলেই ঈমান বিনষ্টকারী শিরক, কুফর ইত্যাদির মধ্যে লিপ্ত ছিল। তারা অনেক নেককর্ম করত এবং আল্লাহর ইবাদত বন্দেগি করত। কিন্তু ঈমান-বিনষ্টকারী বিষয়াদিতে বা শির্ক-কুফরে লিপ্ত থাকা অবস্থায় এ সকল কর্ম কখনোই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এজন্য মহান আল্লাহ বলেন:

وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ "নিশ্চয়ই তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্ববর্তীগণের প্রতি এ ওহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, যদি তুমি শিরকে লিপ্ত হও, তবে অবশ্যই তোমার কর্ম বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং তুমি নিশ্চিতরূপে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তভুক্ত হবে।"৯২ অন্যত্র ইরশাদ করা হয়েছে:

وَمَنْ يَكْفُرْ بِالإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ "আর কেউ ঈমান প্রত্যাখ্যান করলে তার কর্ম বিনষ্ট বা নিষ্ফল হবে এবং সে পরকালে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।"৯৩ মহান আল্লাহ আরো বলেন,

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا "আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। তা ছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছ ক্ষমা করেন। এবং যে কেউ আল্লার সাথে শরীক করে সে এক মহাপাপ করে।"৯৪

এ মর্মে আরো অনেক আয়াত ও হাদীস আমরা পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে দেখব। এজন্য ঈমান বিনষ্টকারী বিষয়ের স্বরূপ, এগুলির কারণ ও পূর্ববর্তী উম্মাতগুলির বিভ্রান্তির কারণ ও প্রেক্ষাপট অবগত হওয়া মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব। অন্যথায় শয়তানের প্ররোচনায় অর্জিত ঈমান বিনষ্ট হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 ইসলামী আকীদার গুরুত্ব

📄 ইসলামী আকীদার গুরুত্ব


ইসলামের সকল বিধান ও কর্মের মধ্যে যেমন ঈমানের গুরুত্ব বেশি, তেমনিভাবে সকল ইসলামী ইলম বা জ্ঞানের মধ্যে ঈমান বা আকীদা বিষয়ক জ্ঞানের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। ইসলামী আকীদার পঠন ও পাঠনের মাধ্যমে আমরা নিম্নের বিষয়গুলি জানতে পারি: (১) বিশুদ্ধ ঈমানের পরিচিতি ও স্বরূপ (২) ঈমান বিনষ্টকারী বিষয়াদি, সেগুলির কারণ ও স্বরূপ (৩) বিভ্রান্তিকর আকীদাসমূহ, সেগুলিরর কারণ ও স্বরূপ মূলত একজন মুমিনের জন্য এ বিষয়গুলি বিষদভাবে অবগত হওয়া তার দুনিয়া ও আখিরাতের মুক্তি ও সফলতার জন্য অপরিহার্য।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 বিশুদ্ধ ইমানের গুরুত্ব

📄 বিশুদ্ধ ইমানের গুরুত্ব


মানুষের প্রকৃতি ও মানবজাতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই যে, সঠিক বিশ্বাসই মানুষের সকল সফলতা ও সৌভাগ্যের ভিত্তি। বিশ্বাসই মানুষের পরিচালিকা শক্তি। সঠিক বিশ্বাস মানুষকে মানবতার শিখরে তুলে দেয়, তার জীবনে বয়ে আনে অফুরন্ত শান্তি ও আনন্দ। আর ভুল বিশ্বাস বা কুসংস্কার মানুষের মনকে সদাব্যস্ত, অস্থির ও হতাশ করে ফেলে। আমরা জানি বিশ্বাস ও কর্মের সমন্বয়ে ইসলাম। সঠিক বিশ্বাস বা ঈমান ইসলামের মূল ভিত্তি। আমরা যত ইবাদত বা সৎকর্ম করি সবকিছু আল্লাহর নিকট কবুল বা গ্রহণযোগ্য হওয়ার প্রথম শর্ত বিশুদ্ধ শির্ক-কুফরমুক্ত ঈমান। কুরআন করীমে বিভিন্ন স্থানে একথা বলা হয়েছে। এক স্থানে আল্লাহ বলেন:

وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ كَانَ سَعْيُهُمْ مَشْكُورًا "এবং যে ব্যক্তি পরলৌকিক জীবনে কল্যাণ চায়, সে জন্য চেষ্টা করে এবং সে বিশ্বাসী বা মুমিন হয় তাহলে তার চেষ্টা ও কর্ম কবুল করা হবে।"৮৬

দুনিয়াতে আল্লাহর নিয়ামত ও বরকত অর্জনের এবং আল্লাহর ওয়াদাকৃত পবিত্র জীবন লাভের শর্ত হলো সঠিক ঈমান। আল্লাহ বলেছেন:

مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ "যদি কোনো পুরুষ বা মহিলা সৎকর্ম করে এবং সে মুমিন হয়, আমি অবশ্যই তাদেরকে (দুনিয়াতে) পবিত্র জীবন দিয়ে জীবিত রাখব এবং (আখিরাতে) তাদের সর্বোত্তম কর্মের উপর ভিত্তি করে তাদের পুরষ্কার দান করব।"৮৭

দুনিয়াতে সার্বিক বরকত ও কল্যাণ লাভের জন্য প্রথমত সঠিক ও বিশুদ্ধ ঈমানের অধিকারী হতে হবে। অতঃপর আল্লাহকে ভয় করে সৎ জীবন যাপন করতে হবে। আর কুফরী বা অবিশ্বাসের শাস্তি হলো ধবংস ও ক্ষতি। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে:

وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَكِنْ كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُمْ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ "যদি জনপদ সমূহের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত তবে আমি তাদের জন্য আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর

বরকত-কল্যাণসমূহ উন্মুক্ত করে দিতাম। কিন্তু তারা অবিশ্বাস করল, কাজেই আমি তাদের কর্ম অনুযায়ী ফল দান করলাম।"৮৮

আল্লাহর বন্ধুত্ব ও সন্তুষ্টি অর্জনের প্রথম ধাপই বিশুদ্ধ ঈমান। আল্লাহ বলেন:

أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ "জেনে রাখ! আল্লাহর ওলীগণের কোনো ভয় নেই এবং তাঁরা চিন্তাগ্রস্তও হবে না- যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়ার পথ অনুসরণ করে।"৯১

এখানে দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে লক্ষণীয়: প্রথমত, আমরা ইতোপূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, মানুষ প্রকৃতিগতভাবেই মানবীয় বুদ্ধি, বিবেক ও যুক্তির মাধ্যমে মহান স্রষ্টার অস্তিত্ব অনুভব ও প্রমাণ করতে পারে। কিন্তু তাঁর প্রতি বিশ্বাসের স্বরূপ ও বিস্তারিত বিষয়াদি অনুভব করতে পারে না। এজন্য ওহীর জ্ঞানের উপর নির্ভর করতে হয়। এজন্য কুরআন ও হাদীসের আলোকে ইসলামী ঈমানের স্বরূপ, ভিত্তি, আরকান ইত্যাদি বিস্তারিত অবগত হওয়া ছাড়া বিশুদ্ধ ঈমান অর্জন করা সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়ত, আমরা পরবর্তী বিভিন্ন অধ্যায়ে দেখব যে, ঈমান অর্জনের ন্যায় সংরক্ষণও অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যুগে যুগে অনেক জাতিই নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে আসমানী হেদায়াত ও ঈমান লাভ করেছে। কিন্তু তারা তা সংরক্ষণ করতে পারে নি। বরং বিভিন্ন ঈমান বিনষ্টকারী বিশ্বাস বা কর্মের মাধ্যমে তারা ঈমান হারিয়ে ফেলেছে। এজন্য ঈমান বিনষ্টের কারণ ও অবিশ্বাসের স্বরূপ জানা মুমিনের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় বিষয়।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 বিভ্রান্তিকর আকীদা সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব

📄 বিভ্রান্তিকর আকীদা সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের গুরুত্ব


আমরা পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদ থেকে জেনেছি এবং পরবর্তী অধ্যায়গুলি থেকেও জানতে পারব যে, রাসূলুল্লাহ-এর আদর্শই মুমিনের নাজাতের একমাত্র পথ। সকল বিষয়ের ন্যায় ঈমান ও আকীদার ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি কঠিন পাপ ও ধ্বংসের পথ। তিনি যে কর্ম করেন নি সে কর্মকে বুজুর্গি বা দীনদারি মনে করার অর্থ তাঁর সুন্নাতকে অপূর্ণ বলে গণ্য করা এবং পাপ। অনুরূপভাবে বিশ্বাস ও আকীদার ক্ষেত্রে তিনি যা বলেন নি তা বলা বা অনুরূপ কোনো বিষয়কে ইসলামী বিশ্বাসের অর্ন্তভুক্ত বলে গণ্য করাও তাঁর সুন্নাতকে অবজ্ঞা করা ও অপূর্ণ মনে করা। এরূপ করা কঠিন পাপ। কর্মের ক্ষেত্রে নেককার হলেও বা কর্মের ক্ষেত্রে পাপী না হলেও বিশ্বাস বা আকীদার ক্ষেত্রে এরূপ সুন্নাত-বিরোধিতার কারণে এ ব্যক্তি পাপী হন। এরূপ ব্যক্তি বিশ্বাসের বিভ্রান্তির কারণে জাহান্নামী হবেন বলে হাদীস শরীফে বলা হয়েছে। এ বিষয়ক একটি হাদীস আমরা ইতোপূর্বে দেখেছি। আরো অনেক হাদীস আমরা পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে, বিশেষত, ষষ্ঠ অধ্যায়ে আলোচনা করব। এখানে এ সকল ফিরকার জাহান্নামী হওয়ার অর্থ এই নয় যে, এরা

সকলেই কাফির। বরং আকীদার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ ও সাহাবীগণের সুন্নাতের ব্যতিক্রম বিশ্বাস উদ্ভাবনের ফলে তারা আকীদাগত পাপে নিপতিত হয় এবং এজন্য তারা জাহান্নামী হবে। আর সাধারণভাবে আকীদাগত বিদ'আত কর্মগত বিদ'আতের দিকে টেনে নিয়ে যায়।

এজন্য বিশ্বাসের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ ﷺ ও তাঁর সাহাবীগণ কী বিশ্বাস পোষণ করতেন তা জানা মুমিনের অতীব প্রয়োজন। তাঁরা যা বলেছেন তা বলা, তাঁরা যা বলেন নি তা না বলা এবং সকল ক্ষেত্রে হুবহু তাঁদের অনুসরণ করার জন্য ইলমুল আকীদার পঠন ও পাঠন মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00