📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 ঈমানের সংজ্ঞা ও পাপীর ঈমান

📄 ঈমানের সংজ্ঞা ও পাপীর ঈমান


আমরা ইতোপূর্বে বিভিন্ন আলোচনা থেকে দেখেছি যে, কুরআনে পাপ, জুলম, কুফর ইত্যাদি শব্দ কঠিন নিন্দা ও বিভ্রান্তির অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। আল্লাহর বিধান অমান্যকারীদেরকে কাফির বলা হয়েছে। পাপীদের অনন্ত জাহান্নাম বাসের কথা বলা হয়েছে। এ সকল আয়াত থেকে বাহ্যত বুঝা যেতে পারে যে, পাপ, ফিস্ক, জুলম ও কুফরের একই পরিণতি, তা হলো অনন্ত জাহান্নাম বাস। এ থেকে কেউ দাবি করতে পারেন যে, কর্ম ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্বাস যতই ঠিক থাক, যদি কর্মের ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি দেখা দেয় তবে তা ঈমানের ঘাটতি বলে বিবেচিত হবে এবং এরূপ ব্যক্তি কাফির বলে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে কুরআন কারীমে বারংবার বলা হয়েছে যে, শিরক ছাড়া সকল পাপ আল্লাহ ইচ্ছা করলে ক্ষমা করেন। কঠিন কবীরা গোনাহে লিপ্ত মানুষদেরকে কুরআনে 'মুমিন' বলে অভিহিত করা হয়েছে। অগণিত সহীহ হাদীসে পাপী মুমিনের শাস্তিভোগের পরে জান্নাতে গমনের কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ-এর শাফা'আতের কারণে কবীরা গোনাহকারী মুমিন ব্যক্তি মুক্তিলাভ করবে বলে বিভিন্ন হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সকল আয়াত ও হাদীস থেকে বাহ্যত বুঝা যায় যে, আমল বা কর্মের সাথে ঈমান বা বিশ্বাস অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত নয়। বিশ্বাস বা ঈমান ঠিক থাকলে কবীরা গোনাহে লিপ্ত ব্যক্তিও জান্নাতে যাবে। সাহাবীগণ এ সকল আয়াত ও হাদীসের নির্দেশ সর্বান্তকরণে মেনে নিয়েছেন ও বিশ্বাস করেছেন। উভয় প্রকারের আয়াত ও হাদীসের মধ্যে যে কোনোরূপ বৈপরীত্য আছে সে কথা তাঁরা কখনো কল্পনা করেন নি। এ বিষয়ে তাঁরা কোনো প্রশ্নও করেন নি। কারণ উভয় অর্থের মধ্যে সরাসরি কোনো সংঘর্ষ নেই এবং উভয় অর্থই মানবিক বুদ্ধি ও জ্ঞানে গ্রহণযোগ্য। কাজেই এ বিষয় নিয়ে প্রশ্ন না করে মুমিন নিজের দায়িত্ব পালন করে যাবে। কিন্তু দ্বিতীয় প্রজন্মের কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। মুসলিম উম্মাহর বিভক্তির অন্যতম প্রশ্ন ছিল এটি। প্রাথমিক শীয়াগণের পরে মুসলিম উম্মাহর প্রথম ফিরকা খারিজীগণ কুরআনের কিছু আয়াতের বাহ্যিক অর্থের ভিত্তিতে দাবি করে যে, মুসলিম পাপে লিপ্ত হলে সে কাফির বা ঈমান হারা হয়ে যায়। তাদের মতে ইসলামের অনুশাসন অনুসরণ করা ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাজেই যে ব্যক্তি ইসলামের কোনো অনুশাসন লঙ্ঘন করে সে ঈমানহারা বা কাফিরে পরিণত হয়। ঈমান ও কুফরের মাঝে আর কোনো মধ্যম অবস্থা নেই। কাজেই যার ঈমানের পূর্ণতা নষ্ট হবে সে কাফিরে পরিণত হবে। ১৭৬ আলী (রা)-এর খিলাফতকালে ৩৭ হিজরী সাল থেকে খারিজী বিভ্রান্তি ও বিভক্তির উন্মেষ ঘটে এবং ক্রমান্বয়ে বিকশিত হয়। পরবর্তীকালে মুতাযিলাগণও খারিজীদের অনুরূপ মত গ্রহণ করে। এর বিপরীতে মুরজিয়া সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়, তারা দাবি করে যে, ঈমান ও ইসলাম সম্পূর্ণ পৃথক বিষয়। ঈমান বা বিশ্বাস যদি ঠিক থাকে তাহলে কোনো গোনাহের কারণেই কোনো অসুবিধা হবে না। ইসলামের অনুশাসন মানুক অথবা নাই মানুক, সকল মুমিনই সরাসরি জান্নাতী হবে।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 রাষ্ট্র-ব্যবস্থা ও ইমামত

📄 রাষ্ট্র-ব্যবস্থা ও ইমামত


খারিজীদের মতামতের একটি বিশেষ দিক ছিল 'রাষ্ট্র ব্যবস্থা' ও রাষ্ট্র প্রধান। ইসলামে রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় 'ইমামত' বা নেতৃত্ব একসূত্রে বাঁধা। রাষ্ট্রপ্রধানই সালাতের ইমামতি করেন, ইমাম নির্ধারণ করেন এবং জিহাদ ও অন্যান্য ধর্মীয় বিষয়ে নেতৃত্ব দেন। যেহেতু পাপী ব্যক্তি মুমিন নয়, সেহেতু সে ইমাম হতে পারে না বা রাষ্ট্র-প্রধানও হতে পারে না। এ কারণে তারা পাপী রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, তাকে অপসারণ ও সে জন্য যুদ্ধ ও অস্ত্রধারণ করাকে ঈমানী দায়িত্ব বলে গণ্য করে। এ দায়িত্বে অবহেলা করা বা পাপী রাষ্ট্রপ্রধানের নেতৃত্বের স্বীকৃতিকে তারা কুফরী বলে গণ্য করে। শীয়াগণও খারিজীদের অনুরূপ মত গ্রহণ করে। সর্বোচ্চ তাকওয়া সম্পন্ন নিষ্পাপ ব্যক্তিকে তথা আলী (রা)-এর বংশের ইমামদেরকে ইমাম বা রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় নেতা নিয়োগ করা বা রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসানোকে ইসলামী আকীদার অংশ মনে করে। সাহাবীগণ ও তাঁদের অনুসারী সাধারণ মুসলিমগণের সাথে এ বিষয়ে তাদের মৌলিক মতভেদ ও বিভক্তি সৃষ্টি হয়।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 তাকদীর বনাম মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা

📄 তাকদীর বনাম মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা


ইসলামের তাকদীরে বিশ্বাস সম্পর্কে আমরা চতুর্থ অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এখানে সংক্ষেপে আমরা বলতে পারি যে, কুরআন কারীমে বারংবার উল্লেখ করা হয়েছে যে মহান আল্লাহ সর্বজ্ঞানী, সর্বজ্ঞ। কোনো সৃষ্টির জ্ঞানের সাথে আল্লাহর জ্ঞানের তুলনা হয়না। সৃষ্টির আগেই তিনি বিশ্বের সকল বিষয় কোথায় কিভাবে সংঘটিত হবে সবই জানেন। কুরআন কারীমে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ তাঁর অনাদি, অনন্ত, অসীম ও সর্বব্যাপী জ্ঞান 'কিতাবে মুবীন' (সুস্পষ্ট কিতাব) বা 'লাওহে মাহফুজে' (সংরক্ষিত পত্রে) লিখে রেখেছেন। কুরআন কারীম বারংবার ঘোষণা করা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ সবকিছু নির্ধারণ করে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর মহান ইচ্ছার বাইরে কিছুই ঘটে না। আবার কুরআন থেকে আমরা মানুষের নিজের কর্মের জন্য দায়বদ্ধতার কথা জানতে পারি। ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিই যে, মানুষ তার নিজের কর্মফলের জন্য দায়ী। মহান আল্লাহ করুণাময় ও ন্যায়বিচারক, তিনি কারো উপর জুলুম করবেন না। বরং প্রত্যেককে তার কর্মের পুরস্কার ও শাস্তি প্রদান করবেন। সাহাবীগণ এ সকল আয়াত ও এ বিষয়ক সকল হাদীস সর্বান্তকরণে বিশ্বাস করেছেন। এগুলির মধ্যে কোনো বৈপরীত্য তাঁরা কল্পনা করেন নি। কিন্তু দ্বিতীয় প্রজন্ম থেকে কিছু মানুষ এ বিষয়ে বৈপরীত্য কল্পনা করতে শুরু করে। প্রথম হিজরী শতকের শেষভাগ থেকে কিছু মানুষ বলতে শুরু করে যে, তাকদীর বা আল্লাহর ইলম, লিখনী বা নির্ধারণ বলে কিছু নেই। তাদের মতে তাকদীরের বিশ্বাস আল্লাহর ইনসাফ ও ন্যায়পরায়ণতার বিরোধী। ক্রমান্বয়ে এ মতটি একটি 'দল' বা ফিরকায় পরিণত হয়। এদের 'কাদরীয়া' বলা হয়। পরবর্তীকালে মুতাযিলাগণও অনুরূপ মত গ্রহণ করে। এ মতের বিপরীতে একদল মানুষ বলতে থাকে যে, মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা বলে কিছু নেই। কলের পুতুলের মতই সে কর্ম করে। এদের 'জাবারিয়‍্যাহ' বলা হয়।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 আল্লাহর বিশেষণ: বিশ্বাস, অবিশ্বাস ও ব্যাখ্যা

📄 আল্লাহর বিশেষণ: বিশ্বাস, অবিশ্বাস ও ব্যাখ্যা


ইফতিরাকের অন্যতম বিষয় ছিল মহান আল্লাহর সিফাত বা কর্ম ও বিশেষণ। প্রাচীন কাল থেকেই মহান আল্লাহর অস্তিত্ব এবং স্রষ্টা ও প্রতিপালক হিসেবে তাঁর একত্ব বা তাওহীদের বিষয়ে অধিকাংশ ধর্ম, সম্প্রদায় ও মানবগোষ্ঠী প্রায় একমত। প্রায় সকলেই স্বীকার ও বিশ্বাস করেছেন যে, অনাদি-অনন্ত সত্তা হিসেবে আল্লাহই একমাত্র সত্তা এবং এ বিশ্বের একমাত্র স্রষ্টা ও প্রতিপালক মহান আল্লাহ। কিন্তু তাঁর সত্তার প্রকৃতি, তাঁর কর্ম, তাঁর বিশেষণ ইত্যাদি বিষয়ে অগণিত মতভেদ ও বিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। এ সকল মতের অনুসারীগণ স্বীকার করেছেন যে, মানুষ তার মানবীয় জ্ঞান, বিবেক, প্রজ্ঞা, দর্শন ও যুক্তি দিয়ে মহান আল্লাহর অস্তি ত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে। মানুষ বুঝতে পারে যে, নিখুত ও বৈজ্ঞানিক নিয়মে সৃষ্ট, পরিচালিত, পরিবর্তিত ও ক্ষয়শীল এ বিশ্বের একজন মহাজ্ঞানী, বৈজ্ঞানিক মহাক্ষমতাশীল স্রষ্টা আছেন। মানুষ এও বুঝতে পারে যে, স্রষ্টার প্রকৃতি, স্বরূপ, কর্ম, বিশেষণ মানবীয় ইন্দ্রিয়ের অগম্য, কারণ মানুষ যা কোনোভাবে ইন্দ্রিয় দিয়ে অনুভব করেনি বা যার তুলনীয় কিছুই তার ইন্দ্রিয় বা কল্পনার মধ্যে প্রবেশ করে নি তা সে ইন্দ্রিয় লব্ধ জ্ঞান বা কল্পনায় ধারণ করতে পারে না। এরপরও মহান স্রষ্টার প্রকৃতি, কর্ম ও বিশেষণাদি সম্পর্কে মানুষ দর্শন, কল্পনা ও যুক্তি দিয়ে অনেক কিছু বুঝতে চেষ্টা করেছে এবং এ বিষয়ে অনেকেই অনেক বিতর্ক ও মতামত প্রকাশ করেছে। এ সকল মতামত সবই 'অন্ধের হস্তি দর্শন'-এর মতই। এগুলি অন্তহীন বিতর্ক জন্ম দিয়েছে কিন্তু কোনো সমাধান দিতে পারে নি। কারণ কার মতটি সঠিক তা ইন্দ্রিয় বা মানবীয় জ্ঞানের গম্য কোনো বিষয় দিয়ে কোনোভাবে প্রমাণ করার কোনো উপায় নেই। কুরআন কারীমে আল্লাহর আসমা ও সিফাত বা নাম ও বিশেষণ সম্পর্কে মক্কার কাফিরদের এ জাতীয় কিছু বিভ্রান্তির কথা আলোচনা করা হয়েছে। ওহীর সাথে মানবীয় 'আকল', জ্ঞান, বিবেক ও যুক্তির সম্পর্ক ও সমন্বয় বিষয়ে ইসলামের দিক নির্দেশনা আমরা প্রথম অধ্যায়ে আকীদার উৎস প্রসঙ্গে আলোচনা করেছি। মহান আল্লাহর যে সকল সিফাত বা কর্ম ও বিশেষণের কথা ওহীর মাধ্যমে জানা যায় তা মানবীয় জ্ঞান, বিবেক বা বুদ্ধির সাথে সাংঘর্ষিক নয়, অবোধ্য নয় বা অসম্ভব নয়। যেমন মহান স্রষ্টা মানুষকে তার পাপের জন্য শাস্তি দিবেন বা ক্ষমা করবেন। দুটি বিষয়ই মানবীয় বিবেক ও বুদ্ধিতে সম্ভব। তবে কোন্টি কিভাবে তিনি করবেন সে বিষয়ে মানবীয় বুদ্ধি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। একজন হয়ত বলবেন, মহান আল্লাহ দয়াময়, কাজেই তিনি তার প্রিয় সৃষ্টিকে শাস্তি দিতে পারে না, তিনি কাউকে কোনো শাস্তি দিবেন না। অন্য ব্যক্তি হয়ত বলবেন, মহান আল্লাহ ন্যায়বিচারক, তিনি যদি কোনো পাপীকে শাস্তি না দেন তবে তা তাঁর ন্যায় বিচারের মর্যাদা ক্ষুন্ন করে। তিনি কাউকে ক্ষমা করবেন না।.... মহান আল্লাহর প্রতিটি বুদ্ধিগম্য সিফাত বা কর্ম নিয়ে এরূপ বিতর্ক করা যায়। যেহেতু মহান আল্লাহর সিফাতগুলি গাইবী জগতের বিষয় সেহেতু সকল বিতর্কই অন্তহীন, চূড়ান্ত ও সুনিশ্চিত কোনো ফলাফলে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সাহাবীগণের রীতি ও পদ্ধতি ছিল এ সকল বিষয়ে ওহীর মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞান সর্বান্তকরণে বিশ্বাস ও গ্রহণ করা এবং এর স্বরূপ নির্ণয়ের জন্য চেষ্টা না করা। আমরা দেখেছি যে, গাইবী বিষয়ে যুক্তি, তর্ক বা দর্শন কোনো সমাধান দিতে পারে না। প্রথম হিজরী শতকের শেষাংশ থেকে দ্বিতীয় প্রজন্মে নও-মুসলিমদের মধ্যে এ বিষয়ক পুরাতন দার্শনিক ও ধর্মীয় বিতর্ক ও বিভ্রান্তি প্রবেশ করে। কেউ কেউ বলতে থাকে মহান আল্লাহর কোনো কর্ম বা বিশেষণ থাকতে পারে না। কারণ তাতে অমুক বা তমুক দিক থেকে তার অনাদিত্ব নষ্ট হয় বা সৃষ্টির সাথে তার তুলনা হয়ে যায়। কেউ বা অন্য দর্শন বা যুক্তি দিয়ে তাদের এমতের বিরোধিতা করেন। প্রত্যেকে তার মতের পক্ষে ও বিরোধী মতের বিপক্ষে অনেক 'যুক্তি' পেশ করতে থাকে। এভাবে মহান আল্লাহর সিফাত বা বিশেষণ স্বীকার, অস্বীকার, ব্যাখ্যা, সৃষ্টির কর্ম ও বিশেষণের সাথে তুলনা ইত্যাদি নিয়ে মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ব্যাপক বিভক্তি ও বিভ্রান্তি জন্ম নেয়। আমরা দেখেছি প্রথম হিজরী শতকের শেষ থেকেই 'কাদারিয়া' ফিরকার মানুষেরা তাকদীর অস্বীকার করার মাধ্যমে আল্লাহর ইলম বা জ্ঞান বিশেষণের অনাদিত্ব অস্বীকার করে। এ সময় থেকে কেউ কেউ মহান আল্লাহ কালাম বা কথা বলার বিশেষণ অস্বীকার করেন। কারণ কথা বলা সৃষ্টির কর্ম। মহান আল্লাহর ক্ষেত্রে এ বিশেষণ আরোপ করলে তাঁকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করা হয়। কাজেই তাঁর ক্ষেত্রে এ বিশেষণ আরোপ করা যায় না। বরং আল্লাহ কথা বলেছেন মর্মে যে সকল আয়াত কুরআনে রয়েছে সেগুলির ব্যাখ্যা করতে হবে যে, তিনি এই অর্থের জ্ঞান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে প্রদান করেছেন, অথবা তিনি কিছু কথা সৃষ্টি করে উক্ত ব্যক্তিকে শুনিয়েছেন... ইত্যাদি। দ্বিতীয় হিজরী শতকের শুরুর দিকে জাহ্‌ম ইবনু সাফওয়ান নামক এক ব্যক্তি ভারতীয়, গ্রীক ও মিসরীয় দর্শনের ভিত্তিতে মহান আল্লাহকে সকল প্রকার সিফাত বা বিশেষণ থেকে বিমুক্ত বা 'নির্গুণ' বলে দাবি করে। পরবতীকালে মু'তাযিলীগণও মহান আল্লাহর বিশেষণসমূহ অস্বীকার ও ব্যাখ্যা করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00