📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 এ সকল উপাস্য উপাসকদের ডাকে সাড়া দেয় না

📄 এ সকল উপাস্য উপাসকদের ডাকে সাড়া দেয় না


কুরআন কারীমে বিভিন্ন স্থানে এ সকল উপাস্যের অসহায়ত্ব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন:
إِن تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ "তোমরা তাদের ডাকলে তারা তোমাদের ডাক শুনে না এবং শুনলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দেয় না। তোমরা তাদেরকে যে শরীক করেছ কিয়ামতের দিন তারা তা অস্বীকার করবে। সর্বজ্ঞের ন্যায় কেউই তোমাকে অবহিত করতে পারে না।" মুশরিকগণ যাদের ডাকে তাদের সাড়া দেওয়ার অক্ষমতা বর্ণনা করে অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন:
لَهُ دَعْوَةُ الْحَقِّ وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ لَا يَسْتَجِيبُونَ لَهُمْ بِشَيْءٍ إِلَّا كَبَاسِطِ كَفَّيْهِ إِلَى الْمَاءِ لِيَبْلُغَ فَاهُ وَمَا هُوَ بِبَالِغِهِ وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ "সত্যের আহবান তাঁরই (আল্লাহরই)। যারা তাকে ব্যতীত আহবান করে অপরকে, তাদেরকে কোনো সাড়াই দেয় না তারা। তাদের দৃষ্টান্ত সে ব্যক্তির মত, যে তার মুখে পানি পৌছাবে-এই আশায় তার হস্তদ্বয় প্রসারিত করে পানির দিকে, আর এভাবে কখনোই পানি তার মুখে পৌঁছাবে না। কাফিরদের দু'আ- আহবান নিষ্ফল।" অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন:
"وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ مَنْ لَا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوا لَهُمْ أَعْدَاءً وَكَانُوا بِعِبَادَتِهِمْ كَافِرِينَ" "সে ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত কে যে আল্লাহর পরিবর্তে এমন কাউকে ডাকে যে কিয়ামত পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দিবে না? এবং তারা তার প্রার্থনা সম্বন্ধে অবহিতও নয়। যখন কিয়ামতের দিন মানুষকে একত্র করা হবে তখন তারা হবে তাদের শত্রু এবং তারা তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে।" এ বিষয়টিও মুশরিকদের সকল উপাস্যের বিষয়েই প্রযোজ্য। মুর্তি, প্রতিমা, ফিরিশতা, জিন্ন, নবী, ওলী ও অন্যান্য সকল মাবুদের ক্ষেত্রেই বিষয়টি সত্য। যারা আল্লাহকে ছেড়ে বিপদে আপদে ঈসা মাসীহ, ইবরাহীম, ইসমাঈল, উযাইর, জিবরাঈল, আযরাঈল (আলাইহিমুস সালাম) বা কোনো সত্যিকার ওলী বা মনগড়া আল্লাহর পুত্রকন্যা বা প্রতিমা লাত, মানাত বা অন্য কাউকে ডাকছে তাদের সকলের ক্ষেত্রেই এ কথা বলা হয়েছে। এ কথা মনে করার সুযোগ নেই যে, জিবরাঈল, ইসরাফীল, অন্য কোনো ফিরিশতা, নবীগণ বা ওলীগণকে ডাকলে হয়ত শুনতে পান। কাউকেই আল্লাহ কোনো অলৌকিক বা গাইবী শ্রবণের ক্ষমতা দেন নি। সবই মুশরিকদের কল্পনা মাত্র। সবচেয়ে বড় কথা যে, এরা কেউই তাদের অনুসারী বা ভক্ত নামধারীদের ভক্তি বা ইবাদতে খুশি নন এবং এদের জন্য কোনো সুপারিশ তাঁরা করবেন না।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 মালিককে রেখে চাকরকে মাবূদ বানানো চূড়ান্ত বোকামি

📄 মালিককে রেখে চাকরকে মাবূদ বানানো চূড়ান্ত বোকামি


সকল মুশরিকই স্বীকার করছে যে, মহান আল্লাহই একমাত্র মালিক, রাজা এবং সর্বশক্তিমান প্রতিপালক। পাশাপাশি তাঁরা একবাক্যে স্বীকার করছে যে, তার সাথে যাদেরকে তারা ইবাদত করছে তারা সকলেই মহান আল্লহরই সৃষ্টি এবং তাঁরই বান্দা। এ কথা স্বীকার করার পরে মহান মালিককে ছেড়ে চাকরবাকরদের ইবাদত করা বা তাদের নিকট নিজের চূড়ান্ত অসহায়ত্ব ও ভক্তি প্রকাশ করার মত বোকামি আর কি হতে পারে। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন:
أَفَحَسِبَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ يَتَّخِذُوا عِبَادِي مِنْ دُونِي أَوْلِيَاءَ إِنَّا أَعْتَدْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَافِرِينَ نُزُلًا "যারা কুফরী করেছে তারা কি মনে করে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার দাসদেরকে ওলী-অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করবে? আমি কাফিরদের আপ্যায়নের জন্য প্রস্তুত রেখেছি জাহান্নাম।"

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 মহান আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করা যায় না

📄 মহান আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করা যায় না


আমরা দেখেছি যে, শিরকের মূল হলো মহান আল্লাহর বিষয়ে কু-ধারণা বা "অব-ভক্তি' এবং বান্দার বিষয়ে 'অতি-ধারণা' বা 'অতিভক্তি'। আর এর অন্যতম কারণ মহান আল্লাহকে মানুষের সাথে তুলনা করা। মুশরিকদের যুক্তিই ছিল পৃথিবীর রাজা- বাদশাহগণের নিকট আবেদন করতে যেমন মন্ত্রী, খাদেম, দারোয়ান, সামন্তরাজা বা অনুরূপ ব্যক্তিবর্গের সুপারিশ বা মধ্যস্থতার প্রয়োজন হয়, আল্লাহর ক্ষেত্রেও অনুরূপ মধ্যস্থতার প্রয়োজন হবে না কেন। দুনিয়ার সাধারণ একজন রাজা এত আমত্য-পরিষদ রাখেন আর সকল রাজার মহারাজা মহান আল্লাহ তা রাখবেন না কেন? ইত্যাদি।
কুরআনে এরূপ তুলনা করতে বারংবার নিষেধ করা হয়েছে। মহান আল্লাহকে মানুষের সাথে তুলনা করা যায় না। একজন মানুষ মহারাজা তার সেনাপতি, খাদেম, সামন্ত শাসক বা কর্মকর্তাদের সহযোগিতার মুখাপেক্ষী, তিনি নিজে সবকিছু দেখতে, শুনতে বা জানতে পারেন না। তিনি অনেক সময় নিজের ইচ্ছা না থাকলেও তাদের সুপারিশ গ্রহণ করেন, অথবা মূল বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না, তাই সংশ্লিষ্ট অফিসারের সুপারিশের ভিত্তিতেই তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, সব কিছু নিজে জানা ও বিচার করা তো তার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু মহান আল্লাহকে এরূপ মানুষ মহারাজার সাথে তুলনা করার অর্থ তার রুবুবিয়্যাতের সাথে কুফরী করা ও তাঁর বিষয়ে 'কু-ধারণা' পোষণ করা। মহান আল্লাহ বলেন:
فَلَا تَضْرِبُوا لِلَّهِ الْأَمْثَالَ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ “সুতরাং আল্লাহর জন্য কোনো তুলনা-উদাহরণ স্থাপন করো না। আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।"

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 আল্লাহর মাহবূব বান্দারা মুশরিকদের উপর অসন্তুষ্ট

📄 আল্লাহর মাহবূব বান্দারা মুশরিকদের উপর অসন্তুষ্ট


আমরা ইতোপূর্বে দেখেছি যে, শয়তানের প্ররোচনা, প্রবঞ্চনা এবং বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচারের কারণে মুশরিকগণ বিশ্বাস করত যে, ফিরিশতাগণ ও আল্লাহর অন্যান্য প্রিয় বান্দা তাদের ইবাদত পেয়ে খুশি হন এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করেন। স্বপ্ন, কাশফ ইত্যাদির মাধ্যমে শয়তান ফিরিশতাগণের কল্পিত রূপে বা অন্যান্য নবী, ওলী বা কল্পিত মা'বুদদের বেশ ধরে তাদেরকে এরূপ ধারণা প্রদান করত, যেমন ভারতীয় হিন্দু পূজারীদের সামনে স্বপ্নে বা জাগরণে কালী, গনেশ, মহামায়া ইত্যাদি রূপে 'প্রকাশিত' হয়ে তাদের শিককে সঠিক বলে ধারণা দেয়। মুসলিম সমাজে যারা শিরকে লিপ্ত তাদেরকেও এভাবে স্বপ্ন, কাশফ ইত্যাদির মাধ্যমে শয়তান প্রতারিত করে।
এজন্য কুরআন কারীমের বিভিন্ন স্থানে বারংবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহর প্রকৃত প্রিয় বান্দাগণ কিয়ামতের দিন এসকল মুশরিকের প্রতি তাদের প্রকৃত বিরাগ প্রকাশ করবেন। বিভিন্নভাবে এ বিষয়টি বারংবার উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কয়েকটি আয়াত
২০১
ইতোপূর্বে আমার দেখেছি। মুশরিকগণ ফিরিশতা, নবী, ওলী বা কল্পিত 'আল্লাহর প্রিয়' বলে যাদেরকে ডাকে তারা কিয়ামতের দিন এ সকল মুশরিকের সাথে শত্রুতা করবেন এবং মুশরিকগণ মূলত শয়তানদের ইবাদত করত বলে ঘোষণা করবেন বলে আমরা দেখেছি। পরবর্তী অনুচ্ছেদে এ বিষয়ক আরো কিছু আয়াত আমরা দেখব।
অন্যত্র মহান আল্লাহ জানিয়েছেন যে, কোনো নবী-রাসূল কখনোই আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করার কথা বলতে পারেন না। আল্লাহ ছাড়া কোনো ফিরিশতা বা কোনো নবীকে ইলাহ তো দূরের কথা 'রাব্ব' বা প্রতিপালক হিসেবে গ্রহণের কথাও তিনি বলতে পারেন না। আমরা ইতোপূর্বে দেখেছি যে, মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না, তবে আপেক্ষিক লালন- পালন এবং তত্ত্বাবধানের অর্থে 'রাব্ব' বলা যায়। কোনো নবী-রাসূল বা কোনো সত্যিকার ধার্মিক মানুষ কোনো ফিরিশতা বা নবীকে ইবাদত করা তো দূরের কথা তাদের তত্ত্বাবধানের বা বিশ্ব-পরিচালনার কোনোরূপ ক্ষমতা আছে বলে বিশ্বাস করতেও তারা বলতে পারেন না। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন:
مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادًا لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ وَلَا يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَتَّخِذُوا الْمَلَائِكَةَ وَالنَّبِيِّينَ أَرْبَابًا أَيَأْمُرُكُمْ بِالْكُفْرِ بَعْدَ إِذْ أَنْتُمْ مُسْلِمُونَ "কোনো ব্যক্তিকে আল্লাহ কিতাব, হিকমাত ও নুবুওয়াত প্রদান করার পর তার জন্য শোভন নয় যে, সে বলবে, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে আমার বান্দা হয়ে যাও', বরং সে বলবে, 'তোমরা আল্লাহওয়ালা-রাব্বানী হয়ে যাও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দান কর এবং যেহেতু তোমরা অধ্যয়ন কর। আর সে তোমাদের নির্দেশ দিবে না যে, তোমরা ফিরিশতাগণ এবং নবীগণকে আল্লাহর পরিবর্তে রাব্ব হিসেবে গ্রহণ কর। তোমাদের মুসলিম হওয়ার পরে কি সে তোমাদেরকে কুফরীর নির্দেশ দিবে?" অন্যান্য স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহর প্রিয় কোনো বান্দাও যদি কোনোভাবে নিজেকে ইলাহ বলে দাবি করে বা কোনো মানুষের ইবাদত বা চূড়ান্ত ভক্তি গ্রহণে আগ্রহী হয় তবে আল্লাহ তাকে কঠোর শাস্তি প্রদান করবেন। মহান আল্লাহ বলেন:
وَقَالُوا اتَّخَذَ الرَّحْمَنُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ بَلْ عِبَادٌ مُكْرَمُونَ لَا يَسْبِقُونَهُ بِالْقَوْلِ وَهُمْ بِأَمْرِهِ يَعْمَلُونَ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يَشْفَعُونَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضَى وَهُمْ مِنْ خَشْيَتِهِ مُشْفِقُونَ. وَمَنْ يَقُلْ مِنْهُمْ إِنِّي إِلَهُ مِنْ دُونِهِ فَذَلِكَ نَجْزِيهِ جَهَنَّمَ كَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ "তারা বলে, 'দয়াময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।' তিনি পবিত্র, মহান! তারা তো তাঁর সম্মানিত বান্দা। তারা আগে বেড়ে কথা বলে না; তারা তো তাঁর আদেশ অনুসারেই কাজ করে থাকে। তাদের সম্মুখে ও পশ্চাতে যা কিছু আছে তা তিনি অবগত। তিনি যাদের প্রতি সন্তুষ্ট তাদের ছাড়া আর কারো জন্য তারা সুপারিশ করে না এবং তারা তাঁর ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত। তাদের মধ্যে যে বলবে 'আমিই ইলাহ আল্লাহ ব্যতীত', তাকে আমি প্রতিফল দিব জাহান্নাম; এভাবেই আমি জালিমদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00