📄 নবী-রাসূলগণের নাম
কুরআনে ২৫ জন নবীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে: আদম, ইদরিস, নূহ, হুদ, সালিহ, ইবরাহীম, নূত, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকূব, ইউসূফ, আইয়ূব, শুয়াইব, মুসা, হারুন, ইউনূস, দাউদ, সুলাইমান, ইলয়াস, ইয়াসা', যুলকিফল, যাকারিয়া, ইয়াহইয়া, ঈসা, মুহাম্মাদ (عليهم الصلاة والسلام)
কুরআন কারীমে উল্লেখ করা হয়েছে যে, উযাইরকে ইহূদীগণ আল্লাহর পুত্র বলে দাবি করত। কিন্তু তাঁর নবুয়ত সম্পর্কে কিছুই বলা হয় নি। আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
مَا أَدْرِي أَعُزَيْرٌ نَبِيٌّ هُوَ أَمْ لَا "আমি জানি না যে, উযাইর নবী ছিলেন কি না।"
মূসার (আ) খাদিম হিসাবে ইউশা ইবনু নূন-এর নাম হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণিত কোনো সহীহ হাদীসে অন্য কোনো নবীর নাম উল্লেখ করা হয় নি। কোনো কোনো যয়ীফ হাদীসে আদম (আ) এর পুত্র "শীস”-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কালুত, হাযকীল, হাযালা, শামূয়েল, জারজীস, শামউন, ইরমিয়, দানিয়েল প্রমুখ নবীর নাম, জীবণবৃত্তান্ত ইত্যাদি বিষয়ে যা কিছু বলা হয় সবই মূলত ইসরাঈলীয় বর্ণনা ও সেগুলির ভিত্তিতে মুফাসসির ও ঐতিহাসিকগণের মতামত।
কুরআন কারীমে উল্লিখিত নবী-রাসূলগণকে আমরা নির্দিষ্টভাবে আল্লাহর মনোনীত নবী হিসেবে বিশ্বাস করি। এঁদের সবাইকে আমরা ভালবাসি ও শ্রদ্ধা করি। আমরা বিশ্বাস করি যে, তারা সবাই নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী পবিত্র মানুষ ছিলেন। তাঁরা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতি প্রদত্ত দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালন করেছেন। তাঁরা সবাই আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও নবী ছিলেন। এঁদের নবুয়ত বা রিসালত আমরা অস্বীকার করিনা। কেউ যদি এঁদের কারো নবুয়ত বা রিসালাত অস্বীকার করেন, অথবা এঁদের ঘৃনা বা অবমাননা করেন তিনি অবিশ্বাসী বা কাফির বলে গণ্য হবেন।
কুরআন-হাদীসে যাদেরকে নবী হিসেবে উল্লেখ করা হয় নি তাদের কাউকে আমরা নির্দিষ্টরূপে আল্লাহর মনোনীত নবী বলতে পারিনা। অন্য কোনো মানুষের সম্পর্কেই আমরা বলতে পারিনা যে, তিনি আল্লাহর নবী ছিলেন। তবে আমরা বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ যুগে যুগে আরো অনেক নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন, যারা আল্লাহর মনোনীত প্রিয় পুত-পবিত্র, নিষ্কলুষ চরিত্রের অধিকারী বান্দা ছিলেন। তাঁরা তাঁদের প্রতি প্রদত্ত দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করেছেন। তাঁদের নাম বা বিবরণ আমরা জানিনা।
📄 নবী-রাসূলগণের জীবন-বৃত্তান্ত
কুরআনে বর্ণিত ২৫জন নবীর মধ্যে কারো-কারো বিষয়ে আল্লাহ বিস্তারিত কিছু বর্ণনা দান করেছেন। যেমন, নূহ, ইব্রাহিম, মূসা, ইউসূফ, ঈসা, হুদ, সালেহ, ও লুত। আর কারো কারো সম্পর্কে শুধুমাত্র নবৃয়তের উল্লেখ করেছেন, যেমন যুলকিফল, ইলইয়াস, ইলইয়াসা' (আলাইহিমুস সালাম)।
সকল নবীর ক্ষেত্রে কুরআনের বর্ণনা ও বিবরণ থেকে আমরা লক্ষ্য করি যে, কখনোই তাদের ব্যপারে ঐতিহাসিক বা ভৌগলিক তথ্য প্রদানের বিষয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাদের বংশ বিবরণ, দেশ, যুগ, বয়স, ভাষা ইত্যাদি সম্পর্কে সাধারণভাবে কোনো কিছুই বলা হয়নি।
কুরআন কারীমে নূহ (আ)-এর বিষয়ে বলা হয়েছে যে, তিনি ৯৫০ বৎসর জীবিত ছিলেন। এছাড়া অন্য কোনো নবীর আয়ুষ্কাল কুরআন কারীমে উল্লেখ করা হয় নি। আদম (আ) এর আয়ুষ্কাল ১ হাজার বৎসর বলে একটি হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ক আর কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।
মূলত কুরআন কারীমে নবী-রাসূলগণের বর্ণনার ক্ষেত্রে কেবলমাত্র আলোচনা করা হয়েছে তাঁদের প্রতি আল্লাহর করুণা, সাহায্য, তাঁদের দাওয়াত বা তাঁদের জাতির প্রতি তাঁদের শিক্ষা ও আহবান কি ছিল, তাঁদের আহবানে তাদের জাতির প্রতিক্রিয়া কিরূপ ছিল, তাঁদের ডাকে যারা সাড়া দিয়েছেন এবং যারা অবিশ্বাস করেছেন তাঁদের প্রতি তাদের কি বক্তব্য ছিল, বিশ্বাসী অবিশ্বাসীদের মধ্যের বিরোধ ও দ্বন্ধ, তাদের কর্মের ফলাফল কি হয়েছিল ইত্যাদি সম্পর্কে। এ সকল বিষয়ের প্রয়োজনে কখনো কখনো কোনো কোনো নবীর পিতা বা মাতার নাম বা জন্মবৃত্তান্ত বা জীবনের কিছু ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, অন্যথায় এসকল বিষয় সম্পূর্নরূপে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। যেমন: ঈসা (আ)-এর জন্মবৃত্তান্ত ও তাঁর মাতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মুসা (আ)-এর জন্মবৃত্তান্ত ও দেশের উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ নবী, যেমন নূহ, লুত, হুদ, সালেহ, আইয়ূব, মূল-কিফ্ল ইলইয়াস প্রমুখ নবীর (আ) ক্ষেত্রে তাঁদের পিতা, মাতা, যুগ বা দেশের কোনো উল্লেখ করা হয়নি।
📄 নবী-রাসূলগণ আল্লাহর বান্দা, মানুষ ও পুরুষ ছিলেন
কুরআন কারীম বারংবার উল্লেখ করেছে যে, নবী-রাসূলগণ সকলেই আল্লাহর বান্দা ও মানুষ ছিলেন। তাঁরা সকলেই পুরুষ ছিলেন। আমরা ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, পূর্ববর্তী নবীগণের নুবুওয়াত অস্বীকার করার ক্ষেত্রে কাফিরগণের বড় 'দলিল' ছিল যে, নবীগণ তাদের মতই মানুষ, কাজেই তাঁরা নবী হতে পারেন না। অপরদিকে কোনো কোনো বিভ্রান্ত সম্প্রদায় তাদের নবীদের অলৌকিক কর্মকাণ্ড, আয়াত বা মুজিযাকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে তাঁদেরকে আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত বা উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহর বিশেষ বান্দা হওয়ার কারণে তাদেরকে 'আল্লাহর পুত্র' বা 'আল্লাহর সন্তান' বলে আখ্যায়িত করেছে। কুরআন কারীমে সকল
বিভ্রান্তির অপনোদন করে বারংবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবীগণ মানুষ ছিলেন, তবে তাঁর আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত ও ওহীপ্রাপ্ত মানুষ ছিলেন। তাঁরা কোনো 'ঐশ্বরিক ক্ষমতা' বা কারো কল্যাণ বা অকল্যাণ করার অধিকারী ছিলেন না। তাঁদের মর্যাদা আল্লাহর প্রিয়তম বান্দা ও রাসূল হওয়ায়; আল্লাহর ক্ষমতা, গুণাবলি বা ইবাদত পাওয়ার বিষয়ে আল্লাহর শরীক হওয়ায় নয়।
তাঁদের মানবত্ব প্রমাণের জন্য মহান আল্লাহ মাঝে মাঝে তাঁদের মানবীয় দিকগুলি উল্লেখ করেছেন, যেমন তাঁদের খাদ্যগ্রহণ, বাজার করা, বিবাহ-শাদি, সন্তান গ্রহণ, মৃত্যুবরণ, মানবীয় সীমাবদ্ধতা, কল্যাণ-অকল্যাণে অক্ষমতা, আল্লাহর ইচ্ছা ও নির্দেশের বাইরে কোনো অলৌকিক কর্ম করতে না পারা ইত্যাদি। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেন:
قَالُوا إِنْ أَنْتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا تُرِيدُونَ أَنْ تَصُدُّونَا عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا فَأْتُونَا بِسُلْطَانٍ مُبِينٍ. قَالَتْ لَهُمْ رُسُلُهُمْ إِنْ نَحْنُ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَمُنُّ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَمَا كَانَ لَنَا أَنْ نَأْتِيَكُمْ بِسُلْطَانٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ "তারা (কাফিরগণ) বলত: 'তোমরা (নবীগণ) তো আমাদেরই মত মানুষ। আমাদের পিতৃপুরুষগণ যাদের ইবাদত করত তোমরা তাদের ইবাদত থেকে আমাদেরকে বিরত রাখতে চাও। অতএব তোমরা আমাদের নিকট কোনো অকাট্য প্রমাণ (অলৌকিক চিহ্ন বা মুজিযা) উপস্থিত কর। তাদের রাসূলগণ তাদেরকে বলতেন: সত্য বটে আমরা তোমাদের মত মানুষই, কিন্তু আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন। আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তোমাদের নিকট প্রমাণ (মুজিযা) উপস্থিত করা আমাদের কাজ নয়। মুমিনগণের আল্লাহরই উপর নির্ভর করা উচিত।" অন্যত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন:
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًا نُوحِي إِلَيْهِمْ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى "আপনার পূর্বে জনপদবাসীদের মধ্য থেকে পুরুষ মানুষগণকে ছাড়া কাউকে প্রেরণ করি নি (রিসালাত-নুবওয়াতের দায়িত্ব প্রদান করি নি), যাদেরকে আমি ওহী প্রদান করেছিলাম।" মহান আল্লাহ আরো বলেন:
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ فَيُضِلُّ اللَّهُ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ "আমি প্রত্যেক রাসূলকেই তার স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি, তাদের নিকট পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য; অতঃপর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন এবং তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।" অর্থাৎ নবী-রাসূলগণের দায়িত্ব তাদের সম্প্রদায়ের বোধগম্য ভাষায় দীনের কথা প্রচার ও ব্যাখ্যা করা। হেদায়াত করা বা না করা তাদের দায়িত্ব নয়, বরং তা আল্লাহর দায়িত্ব। আল্লাহ আরো বলেন:
وَمَا أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا إِنَّهُمْ لَيَأْكُلُونَ الطَّعَامَ وَيَمْشُونَ فِي الْأَسْوَاقِ "তোমার পূর্বে আমি যে সব রাসূল প্রেরণ করেছি তার সকলেই তো আহার করত এবং হাটে বাজারে চলাফেরা করত।" মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেন:
مَا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ وَأُمُّهُ صِدِّيقَةٌ كَانَا يَأْكُلَانِ الطَّعَامَ "মারয়াম তনয় মসীহ তো একজন রাসূল মাত্র, তার পূর্বে বহু রাসূল গত হয়েছে, এবং তার মাতা সত্যনিষ্ঠ ছিল। তারা উভয়ে খাদ্যাহার করত।" অন্যত্র তিনি বলেন:
وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ "মুহাম্মাদ একজন রাসূল মাত্র; তার পূর্বে রাসূলগণ গত হয়েছে। সুতরাং যদি সে মৃত্যু বরণ করে অথবা নিহত হয় তবে কি তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করবে?" মহান আল্লাহ আরো বলেন:
وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً وَمَا كَانَ لِرَسُولٍ أَنْ يَأْتِيَ بِآيَةٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ لِكُلِّ أَجَلٍ كِتَابٌ "তোমার পূর্বেও অনেক রাসূল প্রেরণ করেছিলাম এবং তাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দিয়েছিলাম। আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত
কোনো নিদর্শন (মুজিযা) উপস্থিত করা কোনো রাসূলের কাজ নয়। প্রক্যেক বিষয়ে নির্ধারিত কাল লিপিবদ্ধ।" অন্যত্র বলা হয়েছে:
إِلَّا قَوْلَ إِبْرَاهِيمَ لِأَبِيهِ لأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ وَمَا أَمْلِكُ لَكَ مِنَ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ "তবে ইবরাহীম তার পিতাকে বলেছিল: আমি নিশ্চয় তোমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করব এবং আমি তোমার ব্যাপারে আল্লাহর নিকট কোনো অধিকার রাখি না।" ইতোপূর্বে তৃতীয় অধ্যায়ে রাসূলুল্লাহ-এর ইলম ও ক্ষমতা বিষয়ক আলোচনায় আমরা এ অর্থে কয়েকটি আয়াত দেখতে পেয়েছি।
📄 সকল নবী-রাসূলের দাও‘আত এক
নবী রাসূলদের বিষয়ে কুরআন কারীমের বিবরণের আলোকে আমরা বুঝতে পারি যে, তাঁদের সকলের দা'ওয়াত এর বিষয় মূলত: এক ছিল। তাঁরা সবাই মানুষদেরকে তাওহীদ বা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করতে আহবান করেছেন এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করতে নিষেধ করছেন। মানুষদেরকে দুনিয়ার জীবনে আল্লাহর শিখানো পথে চলতে এবং সকল মানুষের জন্য কল্যাণময় সামাজিক জীবনে বাস করতে পথ নির্দেশ দিয়েছেন। যে কর্ম বা আচরণ মানুষের অকল্যাণ করে বা মানুষের কাছে তার মহান স্রষ্টার সম্পর্কে ক্ষতি করে তা থেকে তারা মানুষদের কে নিষেধ করেছেন। তাদের মূল দাওয়াত ও ধর্ম ছিল এক ও অভিন্ন ইসলাম, তবে তাদের বিস্তারিত শরীয়াত বা বিধানাবলী ছিল যুগ ও সমাজ অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন। মানুষদেরকে কল্যাণের পথে আহবান করা, পথের নির্দেশ দেওয়াই ছিল তাদের দায়িত্ব। তাদের আহবানে সাড়া দেওয়া বা না দেওয়া ছিল মানুষের এখতিয়ার।