📄 লোকাচার, সামাজিক প্রচলন বা ব্যক্তিগত পছন্দ
বিশ্বাস বিষয়ক বিভ্রান্তির মূল কারণ বিশ্বাসের বিষয়ে ওহী ছাড়া অন্যান্য উৎসেরর উপর নির্ভর করা। এ সকল ওহী-অতিরিক্ত বিষয়াদির মধ্যে রয়েছে: লোকাচার, ব্যক্তিগত পছন্দ, ওহীর ব্যাখ্যা, ওহী-ভিত্তিক যুক্তি, ধর্মগুরুদের মতামত, ইলকা, ইলহাম বা কাশফ, আকল বা মানবীয় জ্ঞান ইত্যাদি।
আমরা দেখেছি যে আরবের কাফিরগণ মূলত ওহীর অস্তিত্ব অস্বীকার করত না। তবে তারা বিভিন্ন ওজুহাতে মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপর ওহী নাযিল হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করত। তাদের ধর্মবিশ্বাসের ভিত্তি ছিল লোকাচার, সামাজিক প্রচলন বা তাদের নিজস্ব পছন্দ। এ সকল লোকাচারকে তারা পিতাপিতামহের মাধ্যমে প্রাপ্ত ইবরাহীম ও ইসমাঈল (আ)-এর ধর্মবিশ্বাস বলে বিশ্বাস করত। এগুলির ভিত্তিতেই তাঁরা রাসূলুল্লাহ-এর দাও'আত অস্বীকার করে। তাদের নিকট ইবরাহীম (আ) ও ইসলামঈল (আ)-এর প্রতি অবতীর্ণ কোনো ওহী তাদের নিকট সংরক্ষিত ছিল না, বরং বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তারা প্রচলনের উপরেই নির্ভর করত। বিভিন্ন মুসলিম সমাজের অধিকাংশ বিভ্রান্তিও এরূপ লোকাচারের ভিত্তিতে প্রসার লাভ করেছে। পূর্ববর্তী ধর্মের প্রভাব, বিশেষ কোনো ব্যক্তি মতামত, নিজের পছন্দ ইত্যাদির ভিত্তিতে কোনো একটি 'আকীদা' বা বিশ্বাস গড়ে ওঠে এবং ক্রমান্বয়ে তা প্রসার লাভ করে।
📄 ওহীর তাফসীর ও ওহী ভিত্তিক যুক্তি
কুরআনের আলোকে আমরা জানতে পারি যে, আরবের কাফিরগণ ও ইহুদী-খৃস্টানদের শিরক ও কুফরের একটি বিশেষ কারণ ছিল ওহীর ব্যাখ্যা ও ওহী-ভিত্তিক বিভিন্ন যুক্তিকে ওহীর সম্পূরক বিষয় হিসেবে বিশ্বাসের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা। এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন উদাহরণ পরবর্তী অধ্যায়গুলি দেখব, সেগুলির মধ্যে রয়েছে (১) তাকদীর সম্পর্কে কাফিরদের বিশ্বাস এবং (২) ঈসা (আ) ও ত্রিত্ববাদ সম্পর্কে খৃস্টানদের বিশ্বাস। ওহী এবং ওহীর তাফসীরের মধ্যে পার্থক্য অনুধাবনের জন্য নিম্নে কয়েকটি উদাহরণ আলোচনা করছি। মহান আল্লাহ কুরআন কারীমে বলেছেন: إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ "তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং যারা ঈমান গ্রহণ করেছে, যারা সালাত কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে এবং তারা রুকু-রত।"৭৭
এ আয়াতের তাফসীরে আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা), আলী ইবনু আবী তালিব (রা), আম্মার ইবনু ইয়াসার (রা), মুজাহিদ ইবনু জাবর প্রমুখ সাহাবী ও তাবিয়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আয়াতটি আলী (রা)-এর সম্পর্কে অবতীর্ণ। এ বিষয়ক বর্ণনাগুলির অধিকাংশ সনদই অত্যন্ত দুর্বল। এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলির সার সংক্ষেপ এই যে, একজন ভিক্ষুক মসজিদের মধ্যে ভিক্ষা চান। কেউ তাকে কোনো ভিক্ষা প্রদান করেন না। আলী (রা) তখন মসজিদের মধ্যে নফল সালাত আদায়ে রত ছিলেন। তিনি এ সময় রুকুরত অবস্থায় ছিলেন। এ অবস্থাতেই তিনি ইশারায় ভিক্ষুককে ডাকেন এবং নিজের হাতের আংটি খুলে ভিক্ষককে প্রদান করেন। ভিক্ষুক রাসূলুল্লাহ-এর নিকট আগমন করে বিষয়টি জানান। তখন মহান আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন। রাসূলুল্লাহ আয়াতটি পাঠ করে বলেন, "আমি যার বন্ধু আলীও তার বন্ধু। হে আল্লাহ, আলীকে যে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে তাকে আপনি বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করুন এবং আলীর সাথে যে শত্রুতা করে আপনি তার সাথে শত্রুতা করুন।"৭৮
উপরের তাফসীরকে শীয়াগণ তাদের আকীদার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তারা বলেন, এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আলীকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা বা তাঁর দলভুক্ত হওয়া ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাজেই মু'আবিয়া (রা) ও অন্যান্য সকল সাহাবী
(রা) যারা আলী (রা)-এর সাথে শত্রুতা করেছেন, বা তাঁকে ক্ষমতা দেন নি এবং তাঁদের যারা অনুসরণ করেন বা তাঁদেরকে ভালবাসেন তাঁরা সকলেই কুরআনের নির্দেশ অস্বীকার করার কারণে কাফির বা মুরতাদ বলে গণ্য (নাউযূ বিল্লাহ!)।
এখানে কুরআন ও তাফসীরের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করুন। কুরআনের নির্দেশ যা তার স্পষ্ট অর্থ থেকে বুঝা যায়, তা হলো, মুমিনদেরকে অবশ্যই আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং সালাত কায়েমকারী ও যাকাত প্রদানকারী মুমিনগণকে সামগ্রিকভাবে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আলী (রা) ও সকল সাহাবী ও অন্যান্য মুমিন এর অন্তর্ভুক্ত। আলী (রা)-এর বিশেষত্ব কুরআন দ্বারা প্রমাণিত নয়, বরং কোনো কোনো যয়ীফ বা খাবারু ওয়াহিদ পর্যায়ের হাদীসে বর্ণিত এবং কোনো কোনো মুফাস্সিরের মত। এ সকল মত দ্বারা আলী (রা)-এর মর্যাদা জানা যায়, তবে কখনোই বিষয়টিকে মুমিনের বিশ্বাস বা আকীদার অংশ বানানো যায় না। এজন্য যে কোনো ভাবে আল্লাহ বা তাঁর রাসূলের (ﷺ) বিরোধিতা বা বিদ্বেষপোষণ ঈমান বিনষ্টকারী, কিন্তু জাগতিক বা ইজতিহাদী কারণে আলী (রা)-এর বিরোধিতা করা বা অন্য কোনো মুমিনের বিরোধিতা করা তদ্রূপ নয়। কিন্তু শীয়াগণ তাফসীরকে বিশ্বাসের অংশ বানিয়েছেন। অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন:
وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً “যখন তোমার প্রতিপালক মালাকগণকে বললেন: আমি পৃথিবীতে 'স্থলাভিষিক্ত' সৃষ্টি করছি।"৭৯ খলীফা অর্থ 'স্থলাভিষিক্ত' বা 'গদ্দিনশীন', যিনি অন্যের অনুপস্থিতিতে তার স্থলে অবস্থান বা কর্ম করেন। এখানে মহান আল্লাহ বলেছেন যে, তিনি আদমকে পৃথিবীতে 'খলীফা' বা স্থলাভিষিক্ত হিসেবে প্রেরণ করবেন। কার স্থলাভিষিক্ত তা আল্লাহ বলেন নি। মুফাস্সিরগণ থেকে তিনটি মত প্রসিদ্ধঃ (১) ইবনু আব্বাস (রা), ইবনু মাসউদ (রা) প্রমুখ সাহাবীর মতে এখানে 'স্থলাভিষিক্ত' বলতে পূর্ববর্তী জিন্ন জাতির স্থলাভিষিক্ত বুঝানো হয়েছে। (২) ইবনু যাইদ ও অন্যান্য কোনো কোনো মুফাস্সিরের মতে এখানে 'খলীফা' বা স্থলাভিষিক্ত বলতে বুঝানো হয়েছে যে, আদম সন্তানগণ এক প্রজন্মের পর আরেক প্রজন্ম পৃথিবীতে বসবাস করবে এবং পরবর্তী প্রজন্ম পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত হবে। (৩) ইমাম তাবারী ও অন্যান্য কতিপয় মুফাস্সির বলেন যে, এখানে খলীফা অর্থ আল্লাহর খলীফাও হতে পারে। অর্থৎ আদম ও তাঁর সন্তানগণ পৃথিবীতে আল্লাহর নিয়ম-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁরই স্থলাভিষিক্ত।৮০
খলীফা শব্দ, এর বহুবচন এবং এর ক্রিয়াপদ কুরআন কারীমে প্রায় ২০ স্থানে ব্যবহৃত হয়েছে। এ সকল ব্যবহারের আলোকে সুস্পষ্ট যে, খলীফা বলতে পূর্ববর্তী প্রজন্মের স্থলাভিষিক্ত বুঝানো হয়। এজন্য কুরআনের ব্যবহারের আলোকে প্রথম ও দ্বিতীয় মতই অধিক গ্রহণযোগ্য। তৃতীয় মতটির বিষয়ে প্রথম যুগের অনেক আলিম আপত্তি করেছেন। তাঁরা বলেছেন যে, মানুষকে আল্লাহর খলীফা বলা ইসলামী বিশ্বাসের পরিপন্থী। কারণ, কারো মৃত্যু, স্থানান্তর বা অবিদ্যমানতার কারণেই তার স্থলাভিষিক্ত, গদ্দিনশীন বা খলীফার প্রয়োজন হয়। আর মহান আল্লাহ তো এরূপ কোনো প্রয়োজনীয়তা থেকে মহা পবিত্র। কুরআন বা হাদীসে মানুষকে আল্লাহর খলীফা বলা হয় নি, বরং হাদীস শরীফে বলা হয়েছে যে, আল্লাহই মানুষের খলীফা বা স্থলাভিষিক্ত হন। যেমন সফরের দু'আয় রাসূলুল্লাহ ﷺ বলতেন: "আপনিই সফরে (আমাদের) সাথী এবং পরিবারে (আমাদের) খলীফা বা স্থলাভিষিক্ত।"৮১ একব্যক্তি আবূ বাকর (রা)-কে সম্বোধন করে বলেন, হে আল্লাহর খলীফা। তখন তিনি বলেন, "আমি আল্লাহর খলীফা নই, বরং আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খলীফা বা স্থলাভিষিক্ত।"৮২
এতদসত্ত্বেও পরবর্তীকালে এ আয়াতের তাফসীরে এই তৃতীয় মতটিই প্রসিদ্ধি লাভ করে। শীয়াগণ এ তাফসীরকে ওহীর সমতুল্য এবং ওহীর সম্পূরক বলে গণ্য করে একে তাদের আকীদার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারা দাবি করেন যে, মানুষ আল্লাহর খলীফা এবং এ খিলাফাতের চূড়ান্ত রূপ নবীগণ ও আলী বংশের ইমামগণের মধ্যে বিরাজমান। আর কারো খলীফা বা স্থলাভিষিক্ত হতে হলে অবশ্যই তাকে তার মত ক্ষমতা ও শক্তির অধিকারী হতে হবে। এ যুক্তিতে তারা দাবি করেন যে, আলী বংশের ইমামগণ মহান আল্লাহর মতই অলৌকিক গাইবী জ্ঞান, ও অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী, তা না হলে তাঁরা আল্লাহর খিলাফত কিভাবে চালাবেন? এভাবে তারা একটি তাফসীরকে ওহী হিসেবে গণ্য করে তার উপরে কিছু যুক্তি তর্ক দিয়ে একটি আকীদা বা বিশ্বাস তৈরি করেছেন, যা কুরআন বা হাদীসে কখনো কোথাও এভাবে বলা হয় নি।
এখানে ওহী ও তাফসীরের পার্থক্য লক্ষ্য করুন। ওহীর নির্দেশনা যে, আদমকে মহান আল্লাহ পৃথিবীতে 'খলীফা' হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এতটুকু বিশ্বাস করা মুমিনের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। কেউ যদি তা অস্বীকার করে তবে তা অবিশ্বাস বলে গণ্য। তবে কার খলীফা তা আল্লাহ সুস্পষ্টভাবে কোথাও বলেন নি। এ বিষয়ে মুফাস্সিরগণের মতামত ইলমী আলোচনা বটে, কিন্তু ওহীর সমতুল্য নয়।
এভাবে আমরা দেখছি যে, উপরের তাফসীরগুলি গ্রহণযোগ্য এবং সাহাবী, তাবিয়ী বা পরবর্তী যুগের প্রসিদ্ধ মুফাস্সিরগণ থেকে বর্ণিত হলেও এগুলি কুরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশনার মত বিশ্বাসের ভিত্তি নয়। এগুলি ইলমী ও ফিকহী আলোচনার সূত্র হলেও আকীদার উৎস নয়। এরূপ গ্রহণযোগ্য তাফসীরের পাশাপাশি তাফসীর নামে অনেক উদ্ভট ও আজগুবি কথাও পাঠক অনেক গ্রন্থে দেখবেন, যেগুলির সাথে কুরআনের বাণীর কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলি তাফসীরের নামে বিকৃতি বৈ কিছুই নয়। যেমন সূরা
ফাতিহার শেষ আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন "যারা ক্রোধে নিপতিত নয় এবং পথভ্রষ্টও নয়"৮৩। এর তাফসীরে কোনো কোনো শীয়া মুফাস্সির বলেছেন যে, ক্রোধে নিপতিত অর্থ যারা আলীর সাথে যুদ্ধ করেছেন এবং পথভ্রষ্ট অর্থ যারা নিরপেক্ষ থেকেছেন বা উভয়দলকে ভাল বলেছেন। সূরা রাহমানে মহান আল্লাহ বলেন: "দয়াময় আল্লাহ, তিনিই শিক্ষা দিয়েছেন কুরআন। তিনিই সৃষ্টি করেছেন মানুষ এবং শিক্ষা দিয়েছেন তাকে বর্ণনা।"৮৪ এর তাফসীরে (!) এরূপ কেউ কেউ বলেছেন যে, মানুষ সৃষ্টি করেছেন অর্থ মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে সৃষ্টি করেছেন এবং বর্ণনা শিক্ষা দিয়েছেন অর্থ আল্লাহর সকল গাইবী জ্ঞান তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন। আর এ জ্ঞান তাঁর থেকে আলী বংশের ইমামগণ লাভ করেছেন!!!
পরবর্তী আলোচনায় আমরা দেখব যে, মুসলিম উম্মাহর অধিকাংশ বিভ্রান্তির পিছনে এ কারণটি বিদ্যমান। কুরআনের অমুক আয়াতের তাফসীরে অমুক মুফাস্সিরের বক্তব্য, অমুক হাদীসের ব্যাখ্যায় অমুক মুহাদ্দিসের বক্তব্য ইত্যাদিকে 'আকীদা'র ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার ফলে বিভিন্ন প্রকারের বিভ্রান্তি জন্ম নিয়েছে। ওহীর ব্যাখ্যায় আলিমগণের মতামতের মূল্য রয়েছে, তবে তা অবশ্যই মানবীয় মতামত মাত্র। কখনোই তা ওহীর সমতুল্য বা ওহীর সম্পূরক নয়।
📄 ধর্মগুরুগণ বা আলিমগণের মতামত
সকল ধর্মেই আলিমগণ বা ধর্মগুরুগণ ধর্মের ব্যাখ্যা প্রদান করেন এবং ধর্মের বিধিবিধান ও ধর্মবিশ্বাস শিক্ষা প্রদান করেন। তবে ইহুদী-খৃস্টান সম্প্রদায়, বিশেষত খৃস্টান সম্প্রদায় ধর্মগুরু বা বুজুর্গদের ইসমাত বা অভ্রান্ততা ও পবিত্র-আত্মা থেকে প্রাপ্ত কাশফ-ইলহামে বিশ্বাস করে তাদের মতামতকেই দীনের চূড়ান্ত সত্য বলে গ্রহণ করেছে। তাদের বুজুর্গি, কারামত, কাশফ ও বিশেষ জ্ঞানের উপর নির্ভর করে তাদের মতামতকে তারা ওহীর মতই মর্যাদা দান করেছে। বরং ওহীর আর বিশেষ কোনো মূল্য থাকে নি। এ সকল ধর্মগুরু ওহীর যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাই চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হয়েছে। তাদের বক্তব্যের সারকথা ছিল, ওহীর বক্তব্য আমরা বুঝব না, এগুলি সাধারণ মানুষদের জন্য নয়, পবিত্র আত্মায় পূর্ণ হয়ে কাশফ, ইলহাম ও বিশেষ জ্ঞানের মাধ্যমে ধর্মগুরু, পাদরি বা পোপ যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেটিই ওহীর একমাত্র ব্যাখ্যা বলে গণ্য হবে। মহান আল্লাহ কুরআন কারীমে এরূপ বিশ্বাসকে শিরক বলে আখ্যায়িত করেছেন। পরবর্তীকালে আমরা তা বিস্তারিত আলোচনা করব।
মুসলিম উম্মাহর আকীদাগত বিভক্তি ও বিভ্রান্তির অন্যতম কারণ পরবর্তী আলিমগণের বক্তব্যকে আকীদার উৎস হিসেবে গ্রহণ করা। মূলত শীয়া ফিরকার অনুসারীগণই প্রথমত ইমাম ও নেককারদের ইসমাত ও তাদের ইলমু লাদুন্নী, কাশফ, ইলহাম ইত্যাদির অভ্রান্ততার বিশ্বাস প্রচার করে। পরবর্তীকালে মুসলিম উম্মাহর রাজনৈতিক দুর্বলতার দিনগুলিতে কারামিতা, ফাতিমিয়্যাহ, ইসামঈলিয়্যাহ, বাতিনিয়্যাহ, নুসাইরিয়্যাহ, দুরুষ ইত্যাদি শীয়া ফিরকা সকল মুসলিম সমাজে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। অনেক সাধারণ নেককার মানুষও তাদের মতামত দ্বারা প্রভাবিত হন। ফলে আলিম-বুজুর্গগণের মতামতকেই আকীদার মূল ভিত্তি ধরা হয়। অমুক আলিম অমুক কথা বলেছেন, তিনি কি কিছুই জানতেন না? কাজেই কথাটি ঠিক এবং শুধু ঠিকই নয়, এর বিপরতীত কথা বিভ্রন্তি।
নিঃসন্দেহে ইসলামে আলিম ও নেককারগণের মর্যাদা রয়েছে। তবে তাঁরা মা'সূম নন, তাদের মতামত কুরআন সুন্নাহর আলোকে বিচার করে গ্রহণ করতে হবে। ভুলের কারণে যেমন কোনো নেককার ব্যক্তি বিষয়ে কু-ধারণা পোষণ করা যায় না, তেমনি কোনো নেককার বলেছেন বলেই তা অভ্রান্ত বলে বিশ্বাস করা যায় না।
আমরা উপরে দেখেছি যে, কুরাআন ও হাদীসের পরে ইসলামের প্রথম তিন প্রজন্মকে কুরআন ও হাদীসে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যে কথা কুরআনে বা প্রথম তিন যুগে প্রসিদ্ধ ইমামগণ কর্তৃক গৃহীত সহীহ হাদীসে নেই সে কথা আকীদার অংশ হতে পারে না, ইলমী আলোচনার বিষয় হতে পারে। আকীদা একমাত্র কুরআন ও হাদীস থেকেই শিখতে হবে। যদি কুরআন বা হাদীসের কোনো নির্দেশন সুস্পষ্টতই পরস্পর বিরোধী হয় অথবা সে বিষয়ে মতভেদের সষ্টি হয় এবং ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় তবে সে বিষয়ে ব্যাখ্যার অধিকার সাহাবীগণের। তাঁরা যদি কিছু না বলেন তবে আমাদের কিছু বলার আর প্রয়োজন নেই। যে বিষয়ে যতটুকু বলে অথবা কিছু না বলে সাহাবীগণের ঈমান সঠিক থেকেছে সে বিষয়ে ততটুকু বললে অথবা কিছু না বললে আমাদের ঈমানও সঠিক থাকবে।
পরবর্তী যুগের আলিমগণ অনেক কথা বলেছেন। প্রথম তিন মুবারক শতাব্দীর পরে, এবং বিশেষত, ক্রুসেড যুদ্ধে আক্রান্ত এবং পরে তাতার আক্রমনে পরাজিত ছিন্নভিন্ন মুসলিম সমাজগুলিতে অনেক আলিম, বুজুর্গ অনেক কথা বলেছেন, তাদের বিপরীতেও অনেকে অনেক কথা বলেছেন। আমাদের দেখতে হবে, এ সকল কথা কি সাহাবীগণ বলেছেন? যদি তাঁরা কিছু না বলেন তবে আমাদের মুক্তির পথ হলো কিছু না বলা। কিছু বললে তা অলস ইলমী বিতর্ক হতে পারে, তবে আকীদার বিষয় হতে পারে না। উম্মাতের সকল আলিম ও বুজুর্গই সম্মানিত। তাদের সম্মান করা মুমিনের দায়িত্ব। তাদের মাধ্যমেই দীন আমরা পেয়েছি। তবে সম্মান করা এবং অভ্রান্ততায় বিশ্বাস করা এক নয়। উম্মাতের পরবর্তী যুগের আলিমগণ অনেক কথা বলেছেন, তাদের মতামতের সম্মান করতে হবে এবং কোনো মত বাহ্যত সুন্নাতের বিপরীত হলে তার ভাল ব্যাখ্যা করতে হবে। তবে কখনোই তাকে আকীদার মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা যায় না বা এরূপ মতের ভিত্তিতে কুরআন বা সুন্নাতের নির্দেশনার ব্যাখ্যা করা যায় না।
📄 মানবীয় জ্ঞান-বুদ্ধি ও যুক্তি-কিয়াস
'আকীদা' বা ধর্মবিশ্বাসের ক্ষেত্রে 'আকল' বা মানবীয় জ্ঞানবুদ্ধির অবস্থান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে দ্বিমুখি বিভ্রান্তি বিদ্যমান। কিছু মানুষ 'ধর্মবিশ্বাসের বিষয়ে 'আকল'-কে একেবারে বাতিল করে দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন যে, অতিন্দ্রীয় বা গাইবী বিষয়ে ওহীর মাধ্যমে যা
কিছু বলা হবে তাই বিশ্বাস করতে হবে, তা যতই জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক হোক। এ কারণে মানবীয় জ্ঞান ও বুদ্ধি-বিবেকের সাথে সাংঘর্ষিক আজগুবি ও উদ্ভট বিষয়াদি ধর্মবিশ্বাস বা আকীদা নামে প্রচার করেছেন। এদের মধ্যে অন্যতম ইহুদী ও খৃস্টান ধর্মের পরবর্তী ধর্মগুরুগণ। বিশেষত বিকৃত খৃস্টধমের মূল বিশ্বাস মানবীয় জ্ঞানের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। মহান আল্লাহর একত্ব ও ত্রিত্বে বিশ্বাস এমনই। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, মহান আল্লাহর সত্তা তিনজন ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত। এ তিন ব্যক্তি সম্পূর্ণ পৃথক ও প্রত্যেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ঈশ্বর, কিন্তু তারা তিন ঈশ্বর নন, বরং এক ঈশ্বর। ঈশ্বর প্রকৃতই তিন এবং প্রকৃতই এক। এরূপ উদ্ভট কথাকে তারা বিভিন্নভাবে যুক্তিগ্রাহ্য করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত বলেন: বিষয়টি অযৌক্তিক ও অবাস্তব, তবে যেহেতু ধর্মগ্রন্থে রয়েছে তাই আমরা বিশ্বাস করি (an irrational truth found in revelation)।
তাদের এ কথাটি প্রতারণা মাত্র। প্রথমত, কখনোই কোনো ধর্মগ্রন্থে ত্রিত্ববাদের এ কথাগুলি নেই। প্রচলিত বিকৃত বাইবেলের মধ্যেও কোথাও ত্রিত্ববাদ (Trinity) শব্দটিই নেই, এর সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা তো অনেক দূরের কথা। দ্বিতীয়ত, যদি কোনো ধর্মগ্রন্থে এরূপ কথা থাকে তবে তা প্রমাণ করবে যে, তা মহান আল্লাহর দেওয়া ওহী নয়; কারণ ওহী ও মানবীয় জ্ঞান উভয়ই একই উৎস থেকে আগত, কাজেই উভয়ের মধ্যে ব্যতিক্রম থাকতে পারে, তবে সংঘর্ষ থাকতে পারে না।
প্রচলিত খৃস্টীয় ধর্মবিশ্বাসের আরেকটি মূল বিষয় প্রায়শ্চিত্তবাদ। তারা বিশ্বাস করেন যে, আদমের ফল ভক্ষণের কারণে তার সকল সন্তানই পাপী ও চিরস্থায়ী জাহান্নামী। এ পাপ মোচনের জন্য একটি কুরবানী বা উৎসর্গ প্রয়োজন। আর এজন্য যীশু ক্রুশে মৃত্যুবরণ করে সকল আদম সন্তানের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেন। নিঃসন্দেহে বিষয়টি মানবীয় জ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক। একের পাপে অন্যের জাহান্নাম পাওনা হওয়া যেমন উদ্ভট, তেমনি একের জাহান্নামমুক্তির জন্য নিরপরাধ অন্য আরেকজনের শাস্তি দেওয়াও উদ্ভট। এ বিষয়ে মেজর ইয়েটস ব্রাউন নামক জনৈক খৃস্টান পণ্ডিত বলেন:
"No heathen tribe has conceived so grotesque an idea, involving as it does the assumption, that man was born with a hereditary stain uopn him, and that this stain (for wihch he was not personally responsible) was to be atoned for, and that the creator of all things had to sacrifice His only begotten son to neutralise this mysterious curse."
অন্য আরেক দল মানুষ ঠিক এর বিপরীত অবস্থান নিয়েছেন। তারা ওহীর অস্তিত্ব স্বীকার করলেও বিশ্বাসের ক্ষেত্রে আকলকেই প্রধান বলে গণ্য করেছেন। তাদের মতে ওহীর বিষয়টি সকলের জন্য বোধগম্য নয়, কাজেই ওহীর কোন্ বক্তব্য সঠিক এবং কোন্টি ভুল বা রূপক তা আকল দিয়ে নির্ধারণ করতে হবে। এ যুক্তিতে তারা মানবীয় আকলকে গাইবী জগতের স্বরূপ নির্ণয়ে পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেন। এদের মধ্যে রয়েছেন দার্শনিকগণ এবং মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন ফিরকা। এরা ওহীর বিচারে মানবীয় আকলকে চূড়ান্ত স্বাধীনতা প্রদান করেন। ফলে প্রত্যেক মানুষ আকলের নামে নিজ নিজ পছন্দ, অনুভূতি ও মতামত আকীদা বানিয়ে ফেলে।
ইসলামের নির্দেশনা এর মাঝামাঝি ও সমন্বয়মূলক। ওহীর শিক্ষা জ্ঞানের সঠিকত্ব প্রমাণ করে এবং জ্ঞানের নির্দেশনা ওহীর সঠিকত্ব প্রমাণ করে। গাইবী বা বিশ্বাসের বিষয়ে ওহী বিস্তারিত নির্দেশনা প্রদান করে এবং মানবীয় জ্ঞানের আয়ত্বাধীন বিষয়ে ওহী বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে না, বরং মৌলিক দিক নির্দেশনা দেয়। পক্ষান্তরে ইন্দ্রিয়াধীন বিষয়ে মানবীয় জ্ঞান বিস্তারিত তথ্য প্রদান করে এবং গাইবী বিষয়ে সাধারণ দিক নির্দেশনার মধ্যে সীমিত থাকে। মানবীয় জ্ঞান, বুদ্ধি বা বিবেক ওহীর যৌক্তিকতা বিচার করবে। কুরআন কারীমে মহান আল্লাহ বারংবার 'আকল' বা মানবীয় জ্ঞানবুদ্ধির মাধ্যমে বিশ্বাসের যৌক্তিকতা অনুধাবন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। পক্ষান্তরে 'আকল'-এর নামে মনমর্জি বা 'হাওয়া' (الهوى)-র অনুসরণ করার ধ্বংসাত্মক পরিণতির কথা বারংবার জানিয়েছেন।
মানবীয় জ্ঞান-বুদ্ধি মহান আল্লাহর অন্যতম নিয়ামত। মহান আল্লাহ মানুষকে এ নিয়ামত দিয়েই সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রদান করেছেন। যেহেতু আকল ও ওহী দুটিই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত নেয়ামত সেহেতু এ দুয়ের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য থাকতে পারে না। তবে এ দুয়ের বিচরণ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ পৃথক।
একটি উদাহরণ থেকে আমরা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারব। ওহীর নামে যদি বলা হয় স্রষ্টা নরমাংস ভক্ষণ পছন্দ করেন, অথবা নরববলিতে স্রষ্টা খুশি হন, অথবা স্রষ্টা মানুষের মনের কথা জানেন না, অথবা তিনি অনেক বিষয় দেখতে পান না, অথবা স্রষ্টাকে কোনোভাবে প্রতারণা করে তাঁর বরলাভ বা জান্নাত লাভ সম্ভব... তবে তা মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে প্রদত্ত শিক্ষা নয় বলেই প্রমাণিত হবে। কারণ এ সকল বিষয় মানবীয় বুদ্ধি বিবেকের সাথে সাংঘর্ষিক।
পক্ষান্তরে যদি বলা হয় যে, মহান আল্লাহ ক্ষমাশীল-করুণাময় এবং তিনি ন্যায়বিচারক ও শাস্তিদাতা তবে উভয় বিষয়ই মানবীয় জ্ঞানে সম্ভব ও যৌক্তিক। যেহেতু বিষয়দুটিই যৌক্তিক ও বুদ্ধিগ্রাহ্য, সেহেতু এ বিষয়ে ওহীর নির্দেশাবলি সরল অর্থে বিশ্বাস করাই মুমিনের দায়িত্ব। এখন যদি কেউ নিজের বুদ্ধি দিয়ে উভয় বিশেষণের মধ্যে বৈপরীত্য অনুভব করে তার সমাধানকল্পে বিভিন্ন মতামত তৈরি করেন এবং এরূপ তৈরি করা মতামতের ভিত্তিতে ওহীর শিক্ষা বাতিল বা ব্যাখ্যা করেন তবে তা নিঃসন্দেহে বিভ্রান্তি। যেমন কেউ বলেন, যেহেতু আল্লাহ ন্যায় বিচারক সেহেতু তিনি কোনো পাপী মুসলিমকে শাস্তি ছাড়া ক্ষমা করতে পারেন না, কাজেই যে সকল আয়াত বা হাদীসে পাপী মুমিনকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়েছে তা বাতিল বা তার অন্য ব্যাখ্যা রয়েছে। এর বিপরীতে অন্যরা বললেন, মহান আল্লাহ যেহেতু ক্ষমাশীল, সেহেতু তিনি কোনো মুমিনকে শাস্তি দিতে পারেন না, অতএব পাপী মুমিনের শাস্তি বিষয়ক সকল আয়াত ও হাদীস স্বাভাবিক
সরল অর্থে গ্রহণ না করে ব্যাখ্যা করে বাতিল করতে হবে। এরূপ সকল মতামতই বিভ্রান্তিকর। পরবর্তী আলোচনায় আমরা দেখব যে, আল্লাহর বিশেষণ ও কর্ম বিষয়ক সকল বিভ্রান্তির উৎস ছিল গাইবী বিষয়ের সকল কিছু জ্ঞান দিয়ে চূড়ান্তভাবে জেনে নেওয়ার অপচেষ্টা করা।
আকীদার ক্ষেত্রে কিয়াস-ইজতিহাদ ও যুক্তিনির্ভরতার বিষয়ে ইমাম আবূ ইউসূফ (১৮২ হি) বলেন: لَيْسَ التَّوْحِيدُ بِالْقِيَاسِ .... لِأَنَّ الْقِيَاسَ يَكُونُ فِي شَيْءٍ لَهُ شَبَهُ وَمَثَلٌ، فَاللَّهُ تَعَالَى وَتَقَدَّسَ لَا شَبَهَ لَهُ وَلَا مِثْلَ لَهُ... فَقَدْ أَمَرَكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ تَكُونَ تَابِعًا سَامِعًا مُطِيعًا وَلَوْ يُوَسِّعُ عَلَى الْأُمَّةِ الْتِمَاسَ التَّوْحِيدِ وَابْتِغَاءَ الْإِيمَانِ بِرَأْيِهِ وَقِيَاسِهِ وَهَوَاهُ إِذَنْ لَضَلُّوا، أَلَمْ تَسْمَعْ إِلَى قَوْلِ اللَّهِ: لَوْ اتَّبَعَ الْحَقُّ أَهْوَاءَهُمْ لَفَسَدَتْ السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ وَمَنْ فِيهِنَّ فَافْهَمْ مَا فُسِّرَ بِهِ ذَلِكَ. "তাওহীদ বা আকীদা কিয়াস দ্বারা শেখা যায় না। কারণ কিয়াস তো চলে এমন বিষয়ে যার তুলনা আছে ও নমুনা আছে। আর মহান মহাপবিত্র আল্লাহর তো কোনো তুলনাও নেই এবং নমুনাও নেই। মহান আল্লাহ তোমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যে তুমি অনুসরণ করবে, শুনবে ও আনুগত্য করবে। যদি উম্মাতকে তাওহীদ সন্ধান ও ঈমান অর্জনের জন্য নিজস্ব মতামত, কিয়াস ও পছন্দের সুযোগ দেওয়া হয় তবে সবাই বিভ্রান্ত হয়ে যাবে। তুমি কি শুন নি? মহান আল্লাহ বলেছেন: 'সত্য যদি এদের মতামত- পছন্দের অনুগত হতো তবে বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সকল কিছু।' কাজেই এ আয়াতের তাফসীর ভাল করে হৃদয়ঙ্গম কর।"৮৫