📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 ইলমুত তাওহীদ

📄 ইলমুত তাওহীদ


ইসলামী ঈমান বা বিশ্বাসকে অনেক সময় 'তাওহীদ' বলে আখ্যায়িত করা হয় এবং এ বিষয়ক জ্ঞানকে 'ইলমুত তাওহীদ' বা তাওহীদের জ্ঞান বলা হয়। ইমাম আবূ হানীফা (রাহ) আল-ফিকহুল আকবার গ্রন্থে 'ইলমুল আকীদা'-কে 'ইলমুত তাওহীদ' নামে অভিহিত করেছেন। পরবর্তী অধ্যায়ে আমরা দেখব যে, তাওহীদ বা আল্লাহর একত্বই ইসলামী ঈমান বা আকীদার মূল ভিত্তি। ঈমানের অন্য সকল বিষয় তাওহীদের সাথে জড়িত ও তাওহীদেরই অংশ। এজন্যই ইমাম আবূ হানীফা (রাহ) ইলমুল আকীদা বুঝাতে ইলমুত তাওহীদ পরিভাষা ব্যবহার করেছেন।

এ পরিভাষাটিও দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শতকে বিশেষ পরিচিত লাভ করে। এ নামে আকীদা বিষয়ক কিছু গ্রন্থ রচনা করা হয়। এগুলির মধ্যে রয়েছে চতুর্থ হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস আবূ বাক্স মুহাম্মাদ ইবনু খুযাইমা (৩১১ হি) রচিত 'কিতাবুত তাওহীদ' এবং অষ্টম হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ আলিম আব্দুর রাহমান ইবনু আহমদ ইবনু রাজাব হাম্বালী (৭৯৬ হি) রচিত 'কিতাবুত তাওহীদ'।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 আস-সুন্নাহ

📄 আস-সুন্নাহ


তৃতীয় হিজরী শতক থেকে ধর্ম-বিশ্বাস ও এ বিষয়ক মূলনীতিসমূহ বুঝাতে 'আস-সুন্নাহ' শব্দটির ব্যবহার ব্যাপকতা লাভ করে।

'সুন্নাহ' বা 'সুন্নাত' শব্দের আভিধানিক অর্থ: মুখ, ছবি, প্রতিচ্ছবি, প্রকৃতি, জীবন পদ্ধতি, কর্মধারা ইত্যাদি। ইসলামী শরীয়তে 'সুন্নাত' অর্থ রাসূলে আকরাম (স)-এর কথা, কর্ম, অনুমোদন বা এক কথায় তাঁর সামগ্রিক জীবনাদর্শ।” সুন্নাহ শব্দের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ ও ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছি 'এহইয়াউস সুনান' গ্রন্থে। বিদগ্ধ পাঠককে গ্রন্থটি পাঠ করার জন্য অনুরোধ করছি।

আমরা উল্লেখ করেছি যে, সাহাবীগণের পরবর্তী প্রজন্ম থেকে ঈমান বা ধর্ম-বিশ্বাস বিষয়ক কিছু বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়। যুক্তি,

তর্ক, দর্শন ইত্যাদির মাধ্যমে বিশ্বাস বিষয়ক কুরআন ও হাদীসের নির্দেশাবলি বিচার করে কোনোটি গ্রহণ ও কোনোটি ব্যাখ্যার বর্জন করতে শুরু করলেন কোনো কোনো নতুন মুসলমান। এ বিষয়ে তারা কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও কোনো কোনো হাদীস প্রমাণ পেশ করতে লাগলেন ও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও সাহাবীগণের মূলনীতির সমালোচনা করতে লাগলেন। তৃতীয় শতাব্দী থেকে অনেক ইমাম ও আলিম ‘আস-সুন্নাহ’ নামে আকীদা বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করেন।

এদের অন্যতম ছিলেন ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল (২৪১ হি.)। তিনি ‘আস-সুন্নাহ’ নামে আকীদা বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেন। একই নামে আকীদা বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেন তাঁর প্রসিদ্ধ ছাত্র ইমাম আবূ বকর আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু হারুন আল-আসরাম (২৭৩হি.), ইমাম আবূ হালীল হামযা ইবনু ইসহাক ইবনু হাম্মাদ আল-শাইবানী (২৭৩হি.), ইমাম আবূ মুহাম্মাদ ইবনু আলী আল-সিজিস্তানী (২৯৫ হি.), ইমাম আবূ বকর আহমদ ইবনু আমর আবী আসিম আদ-দাহ্হাক আল-শাইবানী (২৮৭ হি.), ইমাম আবূ জা’ফার মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু হারুন আল-বাগদাদী আল-খায়য়াল (৩১১ হি), ইমাম আবূ বকর আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ জারীর তাবারী (৩১১ হি), ইমাম তাবারানী আবুল কাসিম সুলাইমান ইবনু আহমাদ (৩৬০হি.), ইমাম আবূশ শাইখ আবূ মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু জাফর ইবনু হাইয়ান আল-আসপাহানী (৩৬৯ হি.), ইমাম ইবনু শাহীন আবূ হাফস উমার ইবনু আহমাদ ইবনু উসমান আল-বাগদাদী (৩৮৫হি), ইমাম আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক ইবনু মান্দাহ আল-ইসপাহানী (৩৯৫ হি.) ও আরো অনেক প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ও ফকীহ।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 আশ-শারী‘আহ

📄 আশ-শারী‘আহ


‘শারীয়াত’ বা ‘শারীআহ্’ অর্থ নদীর ঘাট, জলাশয়ে পানি পানের স্থান, পথ ইত্যাদি। ইসলামের পরিভাষায় ‘শারীআহ’ শব্দটির বিভিন্ন অর্থ রয়েছে। সেগুলির মধ্যে একটি অর্থ “ধর্ম বিশ্বাস” বা বিশ্বাস বিষয়ক মূলনীতিসমূহ। তৃতীয় শতকের কোনো কোনো ইমাম ‘আশ-শারীআহ্’ নামে আকীদা বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেন। যেমন ইমাম আবূ বকর মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন আল-আজুররী (৩৬০ হি.) রচিত ‘আশ-শারীআহ্’ গ্রন্থ।

📘 কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা > 📄 উসূলুদ্দীন বা উসূলুদ্দিয়ানাহ

📄 উসূলুদ্দীন বা উসূলুদ্দিয়ানাহ


(أصول الدين) বা উসূলুদ্দিয়ানাহ্ (أصول الديانة) (অর্থ দীনের ভিত্তি সমূহ)। চতুর্থ শতক থেকে কোনো কোনো আলিম ‘ঈমান’ বা আকীদা বুঝাতে এই পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন চতুর্থ হিজরী শতকের প্রসিদ্ধ আলিম ইমাম আবুল হাসান আলী ইবনু ইসমাঈল আল-আশ’আরী (৩২৪ হি.)। ‘আল-ইবানাতু ‘আন উসূলিদদিয়ানাহ্’ নামে এ বিষয়ক তাঁর গ্রন্থটি সুপ্রসিদ্ধ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00