📄 ঈসা (আঃ) ও ইমাম মাহদী আবির্ভূত হবেন
আলোচ্য ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর মধ্যে এই ভবিষ্যদ্বাণীটি এখনো কার্যকর হয়নি। কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ইসলাম ও মুসলমানদের উপর ইহুদী-খৃস্টান-মুশরিকদের অত্যাচার ও নির্যাতন যখন চরম পর্যায়ে পৌঁছবে তখন ঈসা (আঃ) পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং ইমাম মাহদী আত্ম প্রকাশ করবেন। এ সময় ইহুদী নেতা দাজ্জালের আবির্ভাব হবে।
এদের কবল থেকে মুসলমানদের উদ্ধার করার হযরত ঈসা (আঃ) মক্কার মদীনা থেকে পৃথিবীর বুকে ইসলামিক পুন: প্রতিষ্ঠা করবেন যাকে হযরত রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর যুগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তখন পৃথিবীতে ইহুদী, খ্রিস্টান, মুশরিক বা কোন অমুসলিম থাকবে না। সবাই ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়ে মুসলিম হয়ে যাবে। তখন পৃথিবীতে কোন অশান্তি ও অভাব অনটন থাকবে না। থাকবে শুধু শান্তি আর শান্তি।
তবে এ শান্তি ও বিজয় অতি সহজে অর্জিত হয়ে যাবে না। কোন কাজ-যন্ত্র ব্যতীত শুধু মুসলমানগণ আরও একাগ্র থেকে একে একে তাদের পরাধীনতা থেকে পঙ্কলিখিত করে অমুসলিমদের সাথে লড়াই করা হবে। এ লড়াই এর অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে একাধিক হাদীসে বর্ণনা রয়েছে। এ যুগে যেসব মুসলমান অংশ নিতে পারবে একাদশ শতকে যাবে; জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। এ যুগের শহীদদের মর্যাদা প্রথম যুগের শহীদদের মত হবে। এতদসংশ্লিষ্ট অসংখ্য হাদীসের মধ্যে থেকে দুটি হাদীস এখানে উদ্ধৃত করা হলঃ
ক) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আমার উম্মতের দু’টি সেনাদলকে আল্লাহ তায়ালা দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করবেন। (১) যার হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে এবং (২) যারা ঈসা (আঃ) সাথে থাকবে এবং ইহুদীদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। (মুসনাদে আহমাদ)
খ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, মধ্য যামামার মধ্যে, যখন চেহারা ও উঁচু নাকি বিশিষ্ট। তিনি (ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা) ন্যায় ইনসাফ দ্বারা এমনভাবে জানাবে পূর্ণ করবে যেমন ভাবে তা জুলুম ও অত্যাচারে পরিপূর্ণ ছিল। তিনি সাত বছর শাসন ক্ষমতায় থাকবেন।
গ) নবী (সঃ) বলেছেন, আমি ও তার (ঈসা) এর মাঝে কোন নবী নেই। তিনি নাযিল হবেন। যখন তোমরা তাঁকে দেখবে তখন তাঁকে চিনে নিও। তিনি হবেন মাঝারি আকৃতির লোক। লাল ও সাদা মিশ্রিত রত্ন হবে তাঁর। তিনি ইসলামের জন্য জিহাদ করবেন। ক্রুশ ছিন্নভিন্ন করবেন। শুকর ধ্বংস করবেন। জিজিয়া কর রহিত করবেন। আল্লাহ তায়ালা ইসলাম ছাড়া সব মতবাদপন্থী জাতি ধ্বংস করবেন। তিনি (ঈসা আঃ) দাজ্জালকে হত্যা করবেন। তিনি চল্লিশ বছর দুনিয়ায় থাকবেন। অতঃপর তাঁর ইন্তেকাল হলে মুসলমানগণ তাঁর জানাযার নামায পড়বে। (আবু দাউদ)
ঈসা (আঃ) ও মাহদী সম্পর্কে বহু বর্ণনামূলক কুরআন, হাদীস ও উম্মতের ইজমা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। এগুলো অস্বীকার করা ঈমানের পরিপন্থী। কেউ অস্বীকার করলে সে মুসলমান থাকবে না।
📄 বাহিনী ধ্বংস যাবে
উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একটি সামরিক বাহিনী সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। উম্মু সালমা (রাঃ) বলেন, হয়তো একটি বাহিনী ভূমিতে ধ্বংস হয়ে যাবে। উম্মু সালামা (রাঃ) বললেন, হয়তো সে দলে জবরদস্তি করে হয়ে থাকবে। তাদেরকে তাদের নিয়ত অনুযায়ী পুনরুত্থান করা হবে। (তিরমিযী)
এ ভবিষ্যদ্বাণীটি এখনো কার্যকর হয়নি। অর্থাৎ এরকম বিশাল কোন সেনাবাহিনী ভূমিতে ধ্বংস হয়ে যায়নি। পৃথিবীতে পুনরায় ইসলাম ও মুসলমানদের বিজয়ের প্রাক্কালে মুসলিম বিরোধী কোন বিশাল সেনাবাহিনীর ভূমিতে ধসে যাওয়ার ইঙ্গিত এ হাদীসটিতে রয়েছে।
📄 তুমি তার সমস্ত সম্পদ উদগীরণ করে দিবে
হাদীস: আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (এমন এক সময় আসবে) যখন জমিন তার সোনা রূপার সমস্ত খনিজ ভাণ্ডার কলিজার টুকরার মত স্তুপাকার করে বের করে দিবে। তখন চোর এসে বলবে, এ সম্পদের কারণেই তো আমার হাত কাটা গেছে। ঘাতক (হন্তা) এসে বলবে, এ সম্পদের জন্যই তো আমি হত্যা করেছি। আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী এসে বলবে, এ সম্পদের কারণেই তো আমি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। অতঃপর তারা এ সম্পদ ছেড়ে যাবে, তা থেকে কিছুই নেবে না।
এ ভবিষ্যদ্বাণী টি সত্য হবে হযরত ঈসা (আঃ) ও ইমাম মাহদী আসার পর পৃথিবীতে যখন ইসলাম পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং নবুয়াতের পদ্ধতিতে ইসলামিক শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত হবে।
📄 হিন্দুস্থানে জেহাদ হবে
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর খায়বাকৃত দাস হযরত সাওবান (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, “আমার উম্মতের দুটি সেনাদলকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দোযখের আগুন থেকে রক্ষা করবেন- একটি সেনাদল যারা হিন্দুস্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে অপর দলটি হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.) এর সাথে থাকবে।”
অপর একটি হাদীস হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ (স.) আমাদেরকে হিন্দুস্থান অভিযানের ওয়াদা করিয়েছিলেন। যদি আমি এই যুদ্ধে তা ঘটে তবে যেন আমার জান ও মাল ব্যয় করি। যদি আমি এই যুদ্ধে নিহত হই তাহলে আমি শ্রেষ্ঠ শহীদ হিসেবে পরিগণিত হবো। আর যদি জীবিত অবস্থায় ফিরে আসি তাহলে আমি জাহান্নাম থেকে মুক্ত আবু হুরাইরা হয়ে যাব।”
উপরোক্ত হাদীস দুটি সহীহ আন নাসায়ী ও মুসনাদে আহমাদ গ্রন্থে রয়েছে। পৃথিবীর মানচিত্রে ও ইতিহাসে হিন্দুস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। একারণেই হযরত রাসূল আকরাম (সা.) এর পবিত্র জবান থেকে আমাদের হিন্দুস্থানের উষ্ম জিহাদের কথা ঘোষিত হয়েছিল। সে যুগে হযরত আকরাম (স.) এর নিকটও হিন্দুস্থান সুপরিচিত ছিল। আরও দূরবর্তীতে হাদীসে তিনি নাম উল্লেখ করেন।
পৃথিবীর প্রায় চার ভাগের এক ভাগ মানুষের বসতি এই হিন্দুস্থান যার আর একদিক থেকে অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্থাৎ মুশরিক মিশ্রিত ভারত নিকট একটি বড় বিপর্যয়। আল্লাহ সব জ্ঞানী করেন কিন্তু শিরকের গুনাহ ক্ষমা করেন না। এত বিশাল সংখ্যক মুশরিকের পাশাপাশি এই এলাকায় বাস করে প্রায় সমসংখ্যক মুসলিম। এদের মধ্যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আছে বহু আলেম, মুহাদ্দিস, শহীদ, গাজী ও আল্লাহর ওলিদের। হযরত শাহজালাল, শাহমাখদুম, বাহাউদ্দিন চিশতি, সাইয়েদ আহমদ বেরলবী, শাহ ইসমাইল উর্যাইজ, মাওলানা মওদুদীর মত আলেম দ্বীন, প্রত্যেক মওলানা, মুজাহিদ, শহীদ ও অলীর পদভারে প্রকপিত হয়েছে এহানকার মাটি। হাজার হাজার শহীদের রক্তে সিঞ্চিত ও উর্বর হয়েছে এহানকার পুণ্যভূমি, ধন্য হয়েছে এহানকার আকাশ-বাতাস, মাটি ও মানুষ। একারণেই এক বিশেষ বৈশিষ্ট্যের দাবিদার এই হিন্দুস্থান।
যেখানে দ্বীনের যেখানে যত জোরদার হয় সেখানে শয়তানের বাধা তত প্রবল হয়। যেখানে মূসা সেখানে ফেরাউন; যেখানে ইবরাহীম সেখানে নমরূদ। ইতিহাসের এ অমোঘ নিয়ম। এর কোন ব্যতিক্রম হয় না। ইসলাম কখনো বাধাগ্রস্ত থাকে না। স্বাভাবিকভাবেই হিন্দুস্থানে ইসলামের প্রসার হয়েছিল প্রবল বাধারাপে অতিক্রম করে। যারা এখানে যত বেশি ইসলামে খেদমত করেছেন তাদেরকে তত বেশি প্রতিরোধ, নির্যাতন, নিপড়ন সইতে হয়েছে, এখানে সইতে হবে এবং ভবিষ্যতেও সইতে হবে।
মানব জাতির মধ্যে মুসলমানদের পর ইহুদী ও মুশরিকরা। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের সূরা ইসরাইলের ৮২ নং আয়াতে বলেন, “মানবজাতির মধ্যে ইহুদী ও মুশরিকরাই ঈমানদারদের প্রতি সবচে’ বেশি শত্রুতা পোষণ করে”।
বর্তমানে সবচে’ বেশি সংখ্যক ইহুদী বাস করে মধ্যপ্রাচ্যের ইসরাইলে এবং বিপুল সংখ্যক মুশরিক বাস করে হিন্দুস্থানে। হাদীসের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী হিন্দুস্থানে মুসলমানদের প্রতি শরিয়ত ধর্ম তথা আজ থেকে ইসলামের চূড়ান্ত বিজয় হওয়ালাইন মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (স) ওমাজলুছ (সা) ওমাজুল ছিল)। নাম শক্তিকে ইসলামকে যুগে যুগে বিশ্বব্যাপী ইসলামের চূড়ান্ত বিজয় হওয়া (গাজওয়াতুল হিন্দ)। ইমাম মাহদীর নেতৃত্বে যে যুদ্ধ مسلمانوں বিজয় হবে, ফিলিস্তিনে হবে। একই সময়ে হযরত ঈসা (আঃ) এর নেতৃত্বে আরব থেকে যারা দাজ্জালের আবির্ভাব হবে এবং খ্রীস্টানদের নেতৃত্ব দিবে। মুসলমানদের এলাকাকে পরাজিত করে চূড়ান্ত বিজয় লাভ করবে। মুসলমানদের ইহুদীপ্রীতিতে অমনোযোগ নিবিষ্ট হলে সে যুগে হযরত আকরাম (স.) আমাদের জন্য জিহাদে অংশগ্রহণ কারীদের অংশীদার হওয়ার জন্য সুসংবাদ রয়েছে।
যে যুগে দ্বীনে যা পৃথিবীতে তখন তার আর কোন অস্তিত্ব থাকবে না। হাদীস শরীফে এসেছে, “এমনকি গাছ, পাথরও মুসলমানদেরকে ডেকে বলবে, এই যে এখানে ইহুদী লুকিয়ে আছে, এদেরকে হত্যা কর।”
ঈসা (আ.), দাজ্জাল ও ইমাম মাহদী সম্পর্কে বিপুল সংখ্যক সহীহ হাদীস রয়েছে। এ সকল হাদীস থেকে আরও জানা যায় যে, হিন্দুস্থান বিজয়ের পর ইমাম মাহদী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে মার্চ করবেন এবং হযরত ঈসা (আ.) এর সাথে মিলিত হবেন। তখন সারা বিশ্ব থেকে কুফরী শক্তি নিশ্চিহ্ন হবে। গোটা বিশ্বে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে। ইমাম মাহদীর নেতৃত্বে বেশ কিছু বছর ধরে এই বিশ্ব-বিজয়ী পৃথিবীতে পর্যাপ্ত শান্তি ফিরে আসবে। কোথাও কোন অন্যায়, অত্যাচার অশান্তি, অভাব-অভিযোগ থাকবে না। থাকবে শুধু শান্তি আর শান্তি।
হিন্দুস্থানের জিহাদের সবচে’ উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই যে যুগে গ্রহণ করবে যারা ঈসা (আঃ) এর তারাই মেহেদীতে যেতে যাবে। যেখানে আগুন তাদের জন্য জ্বালাবে তারপরে যদি শহীদ হয় তবুও। আর কোন যুদ্ধে অংশ গ্রহণের জন্য এ রকম সুসংবাদ দেওয়া হয় নাই। যুগে ইসলামের জন্য যত জেহাদ হয়েছে সে সব যুদ্ধের কেবল শহীদদের জন্যই দোযখের আগুন হারাম হওয়া বা বেহেস্ত পাওয়ার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে; জিহাদে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর জন্য নয়।
রাসূলুল্লাহ (স.) এর অত্যধিক প্রিয় ও মর্যাদাবান সাহাবী হযরত আবু হুরাইরাহ (রা.) হিন্দুস্থানে জিহাদ সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে এই যুদ্ধ অংশ গ্রহণ করার প্রকাশ প্রকাশ করেছেন।
চৌদ্দশ' বছর আগেই যদি রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবীগণ হিন্দুস্থানের জিহাদে অংশ গ্রহণের আশা পোষণ করে থাকতে পারেন তাহলে আমরা কেন আশা পোষণ করব না-যখন অবস্থাটা মনে হয় হিন্দুস্থানের জিহাদ অত্যাসন্ন এবং হিন্দুস্থান আমাদের অতি নিকটে। হিন্দুস্থান মূলত আমাদেরই। পরিস্থিতি যেভাবে এগুচ্ছে তাতে আমাদের জীবদ্দশায়ই প্রতিষ্ঠিত হিন্দুস্থানের জিহাদ সংঘটিত হতে পারে।
ভারত পাকিস্তান এ উপমহাদেশের দুটি তৈরি প্রতিবেশী দেশ। এদের একটি মুশরিক অপরটি মুসলিম দেশ। দুটি দেশই সামরিক শক্তিতে অগ্রগন্য এবং পারমাণবিক শক্তির অধিকারী। সুতরাং হিন্দুস্থানের যুদ্ধ বাধলে তা যে ঘোরতর হবে তাতে সন্দেহ নাই।