📘 Mojeja > 📄 মুশরিক কুরাইশরা বেশি দিন টিকে থাকবে না

📄 মুশরিক কুরাইশরা বেশি দিন টিকে থাকবে না


“এ ভূখন্ড থেকে তোমাকে উৎখাত করে এখন থেকে बहिष्कार করার জন্যে তারা তৎপর হয়েছিল। কিন্তু যদি তারা এরূপ করে তাহলে তোমার পরে তারা এখানে বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না”। (সূরা বনী ইসরাইল : ৭৬)

এ সুস্পষ্ট ভবিষ্যদ্বাণী সম্বলিত আয়াতগুলো যখন অবতীর্ণ হয় তখন তা বাস্তব রূপ লাভ করার কোন আলামতই দেখা যাচ্ছিল না; কিন্তু দশ বছরের মধ্যে তা অক্ষরে অক্ষরে সত্যে পরিণত হয়। মুষ্টিমেয় ঈমানদারদের উপর কুরাইশদের অত্যাচার তখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। অত্যাচার, নির্যাতনের কারণে অনেককেই কিয়ামত পর্যন্ত হতে হচ্ছে। এ সূরা নাযিল হবার এক বছর পর নবী (সঃ) কে তারা মক্কা থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করে। বের করে দিয়েই তারা ক্ষান্ত হয়নি। নবী (সঃ) ও তাঁর আন্দোলনকে চিরতরে নির্মূল করার জন্য সমগ্র আরবের মুশরিকরা জোটবদ্ধ হয়ে সর্বশক্তি নিয়োগ করে। এতদসত্ত্বেও তাদের আন্দোলন ব্যর্থ হয়। মক্কা থেকে বের হয়ে যাবার পর আট বছরকাল তাদের সাথে নবী (সঃ) বিজয়ীর বেশে মক্কায় প্রবেশ করেন। তারপর দু’বছরের মধ্যেই সমগ্র আরব ভূখন্ড থেকে মুশরিকদের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়। যারাই তখন সেখানে অবস্থান করছিল মুসলিম হিসেবেই করছিল। মুশরিকদের কোন স্থানই সেখানে ছিল না।

📘 Mojeja > 📄 পূর্ণ নিরাপত্তার যুগ আসবে

📄 পূর্ণ নিরাপত্তার যুগ আসবে


হযরত খাব্বাব ইবনুল আরাত (রাঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কাবা ঘরের ছায়ায় বসেছিলেন। আমি তাঁর কাছে হাজির হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ), জুলুম অত্যাচারের আর অন্ত নেই। আপনি কি আল্লাহর দরবারে দোয়া করছেন না?

এ কথা শুনে তাঁর চেহারা মোবারক রক্তিম বর্ণ ধারণ করল। তিনি বললেন, তোমাদের পূর্বে যারা ঈমানদার ছিলেন তাদের উপর এর চেয়ে ঢের বেশি নির্যাতন হয়েছে। লোহার চিরুনী দিয়ে তাদের শরীরের মাংস ভিন্ন ভিন্ন করা হতো, তাদের মাথার উপর করাত রেখে চিরে ফেলা হতো, তথাপি তারা সত্য দ্বীন থেকে সরে পড়েনি। নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আল্লাহ এ কাজ সম্পূর্ণ করেই ছাড়বেন। এমন এক সময় আসবে যখন এক ব্যক্তি সা’নআ’ থেকে হাজরামাউত পর্যন্ত নির্ভয়ে সফর করবে এবং আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকে ভয় করবে না। কিন্তু তোমরা বড়ই তাড়াহুড়ো করছো।–(বুখারী)

পরবর্তকালে ইতিহাসের সবার জানা আছে। ইসলামের স্বর্ণযুগ এমন একটি শান্তি ও নিরাপত্তা সমাজ উপহার দিয়েছিল যা পৃথিবীর ইতিহাসে দ্বিতীয়টি নেই। অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়ে ইসলামের সোনালী যুগের আবির্ভাবের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর এই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়।

ইসলামের স্বর্ণ যুগে পরিপূর্ণ শান্তি ও নিরাপত্তার যে সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তার কিছু দৃষ্টান্ত এখানে উল্লেখ করা হলঃ

‘আইনের চোখে সবাই সমান’

হজ্জ করার সময় ভিক্ষুর মধ্যে আরবের পার্শ্ববর্তী এক রাজার চাদর এক দাসের পায়ে জড়িয়ে যায়। বিরক্ত ও ক্রুদ্ধ হয়ে রাজা ‘জাবালা’ সেই দাসের গালে চড় বসিয়ে দিলেন। লোকটি খলিফা উমরের (রাঃ) নিকট সুবিচার প্রার্থনা করে নালিশ করে। জাবালাকে তৎক্ষণাৎ ডেকে পাঠানো হলো। অভিযোগ সত্য কিনা জিজ্ঞাসা করায় জাবালা ক্রুদ্ধ ভাষায় উত্তর দিলেন, “অভিযোগ সত্য”। এই লোকটি আমার চাদর মাড়িয়ে যায় কারণ ঘরের ধুয়ে।

“কিন্তু কাজটি কি ইচ্ছাকৃত নয়, ঘটনাক্রমে হয়ে গেছে”- রুক্ষস্বরে বাধা দিয়ে বললেন খলিফা। উদ্ধত ভাবে জাবালা বললেন,“ তাতে কিছু আসে যায় না-এ মাসটা যদি পবিত্র হজ্জের মাস না হতো তবে আমি লোকটিকে মেরেই ফেলতাম।” জাবালা ছিলেন ইসলামী সাম্রাজ্যের একজন শক্তিশালী মিত্র ও খলিফার ব্যক্তিগত বন্ধু।

বিখ্যাত ভিক্ষুর উত্তর দিলেন জাবালা, “কিন্তু আমি যে রাজা আর ও যে একজন দাস।” উত্তর শুনে উমর (রাঃ) বললেন, “তোমরা দু’জনই মুসলমান এবং আল্লাহর চোখে দু’জনই সমান।” পবিত্র রাজার অহংকারে চুর হয়ে গেল।

মুভির নাকের অঙ্গুলী মানুষের নাক

একদিন থেকে আফ্রিকার খলিফার খ্রিস্টান পাঠিয়ে যে কে একজন দূত আসে। ঐ দূতকে এক বৃদ্ধের ভাঙা প্রতিষ্ঠিতর নাম করে নেত্রে ফেলছে। খ্রিস্টানরা উত্তেজিত হয়ে উঠেছে। ঘরে মিল তা, এটা একজন মুসলমানেরই কাজ। খ্রিস্টান নেতারা মুসলিম সেনাপতি আমর ইবনুল আস এর কাছে এলে বিচার ও অন্যায়ের কাজির প্রতিবাদ দাবি করল। সেনাপতি আমর সব শুনে অত্যন্ত দুঃখিত হলেন। ক্ষতিপূরণ স্বরূপ তিনি প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণ নতুন করে তৈরি করে দিতে চাইলেন। কিন্তু খ্রিস্টান নেতারা প্রতিশোধ নেবার বাসা ছিল অন্য রূপ। তারা শুধু প্রকাশ করে বললেন, ঐ খ্রিষ্টান এটা বললো, “বড় খ্রিষ্টানে আমরা প্রান্তর পরে বসে মনে করি। তার প্রতিমূর্তির এরূপ অপমান হওয়াতে আমরা অত্যন্ত আঘাত পেয়েছি। অর্থাৎ এর প্রতিশোধ নয়। আমরা চাই এই অপমানের দ্বারা আমরা যতটুকু তৈরি করে ঠিক তেমনি আমি চাই এই অপমান।” এ কথা শুনে রাকদের মত জ্বলে উঠলেন আমর ইবনুল আস। তীক্ষ্ণ চোখে মুখমণ্ডল উত্তীত হয় উঠলো। কিছুক্ষণ নীরব থেকে নিজেকে সংযত করে নিয়ে তিনি খ্রিস্টান বিপণকে লক্ষ্য করে বললেন, “আমার অনুরোধ, এ প্রস্তাব ছাড়া অন্য কোন একস্থানের কাছে কেউ আমি আপনাদের দিতে প্রস্তুত, যার নাক আপনাদের চান।” খ্রিস্টান নেতারাও সকলেই এ প্রস্তাবে সম্মত হলো। পরদিন খ্রিস্টান ও মুসলমান বিরাট এক ময়দানে জমায়েত হলো। মিশরের শাসক সেনাপতি আমর ইবনুল আস (রাঃ) সবার সামনে হাজির হয়ে বিপদে বললেন,“ আদেশ শাসকের দায়িত্ব আমার। যে অপমান আজ আপনাদের তাতে আমার দুর্বলতাই প্রকাশ পেয়েছে। তাই তরবারি গ্রহণ এবং আপনিই আমার নাসিকা ছেদন করুন।”

এ কথা বলেই তিনি বিপক্ষকে একখানি তরবারি হাতে দিলেন। জনতা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, খ্রিস্টানরা স্তব্ধ। চারদিকে থম থমে ভাব। সে নিরাবতায় নিঃশব্দতা ভঙ্গ করে ভয় হয়। সহসা সেই নীরবতা ভঙ্গ করে একজন মুসলিম সৈন্য এগোলো। চিৎকার করে বলল, “আমিই দোষী- আমার মাযহাবের আমার কোন অপরাধ নেই। আমিই মূর্তির নাসিকা কর্তন করেছি, এই তো আমার হাতেই আছে।” সেনাপতি এদিকে এসে বিপক্ষের তরবারির নিতে নিজের নাসিকা পেতে দিল। প্রতি বিশব। প্রতি বিশব। বিশপের অন্তরে রোমাঞ্চিত হয়ে উঠল। তরবারি ছুড়ে ফেলে দিয়ে বিশপ বললেন, “ধন্য সেনাপতি, ধন্য এই বীর সৈনিক, আর ধন্য আপনাদের মুহাম্মদ (সঃ) যাঁর মহান আদর্শে আপনাদের মত মহৎ, উদার, নির্ভীক ও শক্তিমান ব্যক্তি পড়ে উঠেছে। খ্রিষ্টের প্রতিকৃতির অপমানে কথা অন্যায়ের হয়েছে সন্দেহ নেই, কিন্তু ভয় চাইতেও অন্যায়ে যা যদি আমি এই সুন্দর ও জীবন্ত দেহের অবমাননা করি। সেই মহান ও আদর্শ নবীকেও আমার সালাম জানাই।”

📘 Mojeja > 📄 বাইতুল্লাহর এই চাবি এক সময় আমার হাতেই দেখবে

📄 বাইতুল্লাহর এই চাবি এক সময় আমার হাতেই দেখবে


ইসলাম-পূর্বকালেও কাবা ঘরের সেবাকে এক বিশেষ মর্যাদার কাজ মনে করা হত। এ কাজের জন্য যারা নির্বাচিত হত তারা গোটা সমাজ তথা জাতির মাঝে সম্মানিত ও বিশিষ্ট বলে পরিগণিত হতো। জাহেলিয়াতের আমলে পেছনের হজ্জের মৌসুমে পানি পান করানোর দায়িত্ব ছিল মহানবী (সাঃ) এর চাচা আব্বাস (রাঃ) এর উপর। একে বলা হত ‘সেকায়া’। এ কাজের জন্য আরও কিছু সেবার দায়িত্ব এবং আরও অন্য চাচা আবু তালেবের উপর এবং কাবা ঘরের চাবি কাছে রাখা এবং যথাসময়ে তা খুলে দেয়া ও বন্ধ করার ভার ছিল উসমান ইবনে তালহার উপর।

এ ব্যাপারে স্বয়ং উসমান ইবনে তালহা তাঁর ভয় এই যে, জাহেলিয়াতের যুগে আমরা সোমবার ও বৃহস্পতিবার কাবা ঘরের দরজা খুলে দিতাম এবং মানুষ তাতে প্রবেশ লাভের সৌভাগ্য অর্জন করত। হিয়রতের পূর্বে একবার মহানবী (সাঃ) কাবার ভেতরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করলেন। উসমান ইবনে তালহা তাঁকে ভেতরে প্রবেশে বাধা দিলেন এবং অত্যন্ত কর্কশ ভাষায় প্রকাশ করলেন। মহানবী (সাঃ) অত্যন্ত ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতার সাথে অমারিক কার্যকলাপসমূহ সহ্য করে নিলেন।

অতঃপর বললেন, হে উসমান! হয়তো তুমি এক সময় এই চাবি আমার হাতেই দেখতে পাবে। তখন যাকে ইচ্ছা এই চাবি অর্পণ করার অধিকার আমারই থাকবে। উসমান ইবনে তালহা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বললো, যেদিন কুরাইশরা অপমানিত, অসহায় হয়ে পড়বে (সাঃ) বললেন, না, না। বরং তখন কুরাইশরা সম্মানিত হবে, তারা হবে যথাৰ্থ সম্মানে সম্মানিত। এ কথা বলতে বলতে তিনি বাইতুল্লাহর ভিতরে তশরীফ নিয়ে গেলেন। (উসমান বলেন,) অতঃপর আমি যখন আমার মনের ভেতর অনুসন্ধান করলাম তখন আমার যেন নিশ্চিত বিশ্বাস হয়ে গেল যে, তিনি যা কিছু বলেছেন, তা অবশ্যই ঘটবে। সে মুহূর্তে আমি মুসলমান হয়ে যাবো সকল প্রকার নিন্দনীয়। কিন্তু আমি আমার সম্প্রদায়ের কঠোর মনোভাবের কারণে সংকল্প বাস্তবায়িত করতে পারলাম না।

অতঃপর মক্কা বিজয়ের পর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সেখানে নামাজ আদায়ের পর মহানবী (সাঃ) উসমানকে ডেকে বাইতুল্লাহর চাবি চাইলেন। আমি তা সবিনয়ে পেশ করে দিলাম।

কোন কোন বর্ণনায় আছে, মক্কা বিজিত হলে উসমান ইবনে তালহা বাইতুল্লাহর উপরে উঠে গেলেন। তখন হযরত আলী (রাঃ) মহানবী (সাঃ) এর নির্দেশ পালনার্থে তার নিকট থেকে জোরপূর্বক চাবি ছিনিয়ে নিয়ে হজ্জ (সাঃ) এর হাতে অর্পণ করলেন। যাহোক, বাইতুল্লাহর প্রবেশ ও এর সেখানে নামাজ আদায়ের পর মহানবী (সাঃ) যখন বাইরে বেরিয়ে এলেন তখন পুনরায় সে চাবি আমার হাতেই ফিরিয়ে দিলেন এবং বললেন, এই নাও, এখন থেকে এ চাবি কেয়ামত পর্যন্ত তোমার বংশধরদের হাতেই থাকবে। অন্য যে কেউ তোমাদের হাত থেকে এ চাবি ফিরিয়ে নিতে চাইবে সে হবে জালিম, অত্যাচারী।

উসমান ইবনে তালহা বললো, উসমান! আমি যা বলিতেছিলে তখন আপনি আমার সে কথাটি মনে হলো পেল ফিরতের পূর্বে যা তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, “হয়তো এ চাবি একদিন আমার হাতেই দেখতে পাবে।” তখন আমি নিদর্শন করলাম, নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর বাণী বাস্তবায়নকারী হয়েই। আর তখনি আমি কালেমা পড়ে মুসলমান হয়ে গেলাম। (তাফসীরে মারিফুল কুরআন)।

📘 Mojeja > 📄 রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর স্মরণ ও সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে

📄 রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর স্মরণ ও সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে


আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর তোমার জন্য তোমার জিকিরের আওয়াজ বুলন্দ করে দিয়েছি।” (সূরা ইনশিরাহঃ ৪)

এ আয়াতটি এমন এক সময় অবতীর্ণ হয়েছিল যখন কেউ একথা চিন্তাই করতে পারত না যে, এ ব্যক্তির সাথে মাত্র গুটি কয়েক লোক রয়েছে এবং মক্কা নগরীতেই যাওয়া সীমাবদ্ধ, সে ব্যক্তির আওয়াজ কিভাবে সমগ্র দুনিয়া बुलंद হয়ে এবং যেমন করে তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়তে পারে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর বড় সাহেবযাদা ছিলেন কাসেম (রাঃ)। তার ছোট হযরত যায়নাব (রাঃ), তার ছোট হযরত আব্দুল্লাহ (রাঃ) তারপর তিন মেয়ে উম্মে কুলসুম (রাঃ) হযরত ফাতেমা (রাঃ) এবং রুকাইয়া (রাঃ)। হযরত যয়নবের (রাঃ) এর পরে হযরত আবদুল্লাহ্ (রাঃ) ইন্তেকাল করেন। এ কথা শুনে কুরাইশ নেতা আস ইবনে ওয়ায়েল বলে, তাঁর বংশ খতম হয়ে গেল। এখন তিনি ‘আবতার’ বা ছিন্নমূল। তাঁর কোন পুত্র সন্তান নেই যে, তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে তাঁর দুনিয়া থেকে মুছে যাবে। তখন তোমরা তাঁর থেকে নিশ্চিন্ত লাভ করবে। হুজুর (সাঃ) এর পুত্র শোকে কাতর সময় তাঁর চাচা আবু লাহাব, আবু জাহেল এবং আরও অনেকে এ ধরণের বিদ্রূপের পরিচয় দেয়। নবুওয়াতের প্রাথমিক পর্যায়ে নবী করীম (সঃ) চরম প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। গোটা জাতি তাঁকে নির্মূল করতে উঠে পড়ে লাগে। তাঁর মুষ্টিমেয় সঙ্গী সাথীদের সাফল্যের কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল না। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা এ অবস্থায় তার নবীকে (সঃ) এ সুসংবাদ দিলেন এবং आश्चर्यजनकভাবে তা বাস্তবায়িত করলেন।

নবী (সঃ) স্মরণ ও সুখ্যাতি আজ যুগের পর যুগ শোহনার কাজ তিনি স্বয়ং নবী দুশমনদের দ্বারাই শুরু করালেন। মক্কার কাফেরগণ নবী (সঃ) কে বিপদে ফেলার জন্য যে পন্থা অবলম্বন করেছিল তার মধ্যে একটি ছিল এই যে, হজ্জের মৌসুমে গোটা আরবের লোক মক্কায় পৌঁছাতো, তখন কাফেরদের এক একটি প্রতিনিধি দল হাজীদের শিবিরে শিবিরে হাজির হতো। তাদেরকে সতর্ক করে দিয়ে বলতো, মুহাম্মদ নামে একটি মারাত্মক লোক মক্কায় এদের এমন এমন যাদ করতে। পিতা-পুত্র, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করেছে। সুতরাং তার থেকে সাবধান হয়ে থাকবে। এ ধরণের প্রচারণা দ্বারা তারা ঐসব লোকের কাছেও রাসূলের হাক্ব ও জিয়ারত বা কোন ব্যবসা উপলক্ষে মক্কায় আসতো। এভাবে যদিও তারা নবীপাক (সঃ) এর কুৎসা উটনা করতো যে তাঁর দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে পারতো না। কিন্তু ফল হল উল্টো যে, আরবের গ্রামে-গঞ্জে অতি সহজেই তাঁর নাম পৌঁছে যায়। এভাবে দুশমনেরা তাঁর নাম মক্কার নির্ভুত স্থান থেকে সারা দেশের সকল গোত্রের কাছে পৌঁছে দেয়। তারপর তারা স্বাভাবিকভাবেই জানতে চাইতো, সে লোকটি কে, কি বলে, কেমন লোক সে, কারা তার যাদুর দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে এবং যাদের কোন ধরণের প্রতিক্রিয়া তাদের উপর পড়ছে।

মক্কার কাফেরদের প্রচারণা যতই বাড়ছিল, মানুষের মনে প্রথম जिज्ञासा বাড়ছিল। এ जिज्ञासा ও ঔৎসুক্যের ফলে নবীপাক (সঃ) এর চরিত্র ও তাওহীদ-আখিরাত সম্পর্কে জানতে পারলো। তারা কুরআন শুনে পেয়েছিল এবং নবীপাক (সঃ) শিক্ষা সম্পর্কে জানতে পারলো। তারা জীবন ধারণ করলো যে, যে জিনিসকে জাদু বলা হচ্ছে তা আসলে সাধারণ আদর্শবাদীদের জীবন ধারার চেয়ে সাধারণ সৃষ্টিতে হচ্ছে। এর ফলে নবীর কুৎসা তাঁর সুখ্যাতিতে পরিণত হতে লাগলো। তারপর হিজরতের পূর্বে অবস্থা এমন হল যে, দূর ও নিকট আরবের গোত্রগুলো এমন একটিও ছিল না যার মধ্যে কেউ না কেউ ইসলাম গ্রহণ করেনি এবং যাদের মধ্যে কিছু লোক নবী (সঃ) ও তাঁর দাওয়াতের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে পড়েছিল। এ হচ্ছে হুজুর (সঃ) এর চচা গুলুন্দর হওয়ার প্রথম পর্যায়।

অতঃপর হিজরতের পর দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়। এ সময় একদিকে মুনাফিক দল, ইহুদী এবং সমগ্র আরবের মুশরিকরা নবী (সঃ) এর বিরোধিতায় উঠেপড়ে লেগেছিল। অপরদিকে মদীনার নবীর ইসলামী রাষ্ট্র রায়াহটিত, চারিত্রিক পবিত্রতা, সুন্দর সমাজ ব্যবস্থা, ন্যায়পরায়ণতা, উদার হস্তে দান, গরীবদের প্রতিদান, দরিদ্রের সংবর্দ্ধনা, সৌন্দর্য ও ন্যায়-কারবারের সততা প্রভৃতির অবদান অনুপম তুলনামূলক তুলনা করা যাচ্ছিল যে মানুষের হৃদয় জয় করছিল। নবী (সাঃ) এর নেতৃত্বে ধ্রুবতারা এমন একটি সমাজ ও জাতীয়তাবাদ তৈরি হয়েছিল যে, তারা তাদের নিয়ম শৃংখলা, ধার্মিক জীবন ও মৃত্যুর প্রতি উপেক্ষা, যুদ্ধের মাঝেও চারিত্রিক সীমারেখা রক্ষার মাধ্যমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান করতে আনন্দ প্রদান করেন যে, সমগ্র আরব তাদের বশ্যতা স্বীকার করে নেয়। দশ বছরের মধ্যে হুজুর (সঃ) এর চচা ও মহিমা এতোটা প্রবল হলো যে, বিরোধীরা যে দিকে তাকে বদনাম করার জন্য সর্ব শক্তি নিয়োগ করেছিল, সে দেশের সর্বশ্রেণির আকাশ-বাতাস মুখরিত করে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ্’ বাণী গুঞ্জরিত হতে থাকলো।

অতঃপর তৃতীয় পর্যায় শুরু হল খেলাফতে রাশেদার যুগ থেকে; যখন নবী (সঃ) এর নাম সারা দুনিয়ায় बुलंद হয়ে লাগলো। এর ধারাবাহিকতা আজ পর্যন্ত বেড়েই চলছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত বেড়েই চলবে। আজ দুনিয়ায় এমন কোন স্থান নেই যেখানে মুসলমানদের কোন বসতি নেই এবং যেখানে পাঁচবার আযানের মাধ্যমে উচ্চ স্বরে, মুহাম্মদ (সঃ) এর রিসালাতের ঘোষণা করা হয় না, নামাযের মধ্যে নবীর (সাঃ) প্রতি দরূদ পড়া হয় না এবং জুমআর খুতবায় তাঁকে স্মরণ করে মহৎ কামনা করা হয় না। বছরের মধ্যে আজ এমন কোন দিন এবং দিনের চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে এমন কোন সময় নেই-যখন দুনিয়ার কোথাও না কোথাও নবীপাক (সঃ) এর মোবারক জিকির হয় না।

ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেক মুসলমান সারা জীবনে লক্ষ-কোটিবার নবী (সঃ) এর প্রতি দরূদ পড়ে থাকে। এমন কোন দিন যায় না যেদিন তার মুখ থেকে নবীর (সঃ) এর মঙ্গল কামনায় সালাম প্রেরণ করা হয় না। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের মুখে প্রতি মুহূর্তে কোটি কোটি বার তাঁর মোবারক নাম উচ্চারিত হচ্ছে। হাজার বছর ধরে এ নাম মানুষের সাথে উচ্চারিত হচ্ছে এবং পৃথিবীর ইতিহাসে এমন আশ্চর্যজনক খুঁজে পাওয়া যাবে না যার নাম এতবার স্মরণ করা হয়।

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে নবী (সঃ) বলেছেন, জিব্রাইল আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমার এবং আপনার রব জিজ্ঞাসা করেন, কিভাবে তিনি আপনার নাম ও জিকির বুলন্দ করেন। নবী (সঃ) বলেন, আল্লাহই তা’আলা ভাল জানেন। জিব্রাইল বলেন, আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, যখন আমার জিকির করা হয় তখন আমার সাথে তোমার (নবীর) নাম জিকির করা হয়।

পরবর্তীকালের গোটা ইতিহাস সাক্ষী দিচ্ছে যে, একথা অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00