📄 ফেরআউনের মৃতদেহ সংরক্ষিত থাকবে
আল কুরআনের সূরা ইউনুসের ৯০-৯২ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আমি বনি ইসরাইলদিগকে সমুদ্র পার করলাম এবং ফেরাউন ও তার সৈন্যবাহিনী যখন তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল তখন আমি তাদের সমুদ্রে নিমজ্জিত করলাম। পরিশেষে যখন সে নিমজ্জিত হল তখন বলল, আমি ঈমান আনলাম, কোন ইলাহ নেই সেই আল্লাহ ছাড়া যে আল্লাহর উপর বনি ইসরাইলগণ বিশ্বাসী এবং আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত হলাম। (আল্লাহ উত্তর দিলেন) এখন! পূর্বে তো তুমি ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে; আজ আমরা কেবল তোমার (মৃত) দেহকে রক্ষা করব যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পার।”
ঐ আল কুরআনে বর্ণিত একটি বিখ্যাত ভবিষ্যদ্বাণী এবং অত্যাচারীর জন্য স্থায়ী ঘটনা।
খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০ অব্দের কাছাকাছি সময়ে মিসর থেকে পলায়নরত হযরত মূসা (আঃ) এর সাথে যে ফেরাউন সম্ভ্রান্ত বা ফেরাউনের সংঘাতে লিপ্ত হয় তার পবিত্র কুরআনে দেওয়া হয়নি।
পবিত্র কুরআনে ‘ফেরাউন’ নামটি অসংখ্যবার এসেছে। ‘ফেরাউন’ কোন একজন ব্যক্তির নাম নয়। এটি একটি রাজবংশের (Dynasty) নাম। ফেরাউনরা ছিল তৎকালীন মিশরের গোষ্ঠি প্রতিপত্তিশালী শাসকদের। এরা মিশরীয় সভ্যতা বিনির্মাণে অনেক অবদান রাখে।
মিশরতবুও ও গবেষণাকর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, হযরত মূসা (আঃ) এর সমকালের ফেরাউন নাম ছিল ‘মারনেপতাহ’। মূসা (আঃ) ও তাঁর অনুসারীদের পশ্চাদ্ধাবন করতে গিয়ে যিনি সেনাবাহিনীসহ সাগরে নিমজ্জিত হয়ে প্রাণ হারান। এই ফেরাউন এতই প্রতিপত্তিশালী ও ক্ষমতাধর ছিল যে, সে নিজেকে প্রভু হিসেবে ঘোষণা করে এবং জনগণকে তা মানতে বাধ্য করত। পবিত্র কুরআনে ফেরাউনকে কথাকে এভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে, “আনা রাব্বুকুল আলা”-“আমি তোমাদের বড় প্রভু।” (সূরা ত্ব-হা, আয়াতঃ ২৪)
আল কুরআনের নানা স্থানে ফেরাউনের কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। ফেরাউন তার ক্ষমতাকে নিরংকুশ করার জন্য বিরোধী বনি ইসরাইলী পুরুষদেরকে নির্বিচারে হত্যা করতো এবং নারীদেরকে জীবিত রেখে দাসী বানাতো। তার বাড়াবাড়ি যখন সীমা লংঘন করল তখন আল্লাহ তা’আলা হযরত মূসা (আঃ) কে তার কাছে পাঠালেন। “ইযহাব ইলা ফিরাউনা ইন্নাহু ত্বগা” অর্থাৎ “ফেরাউনের কাছে যাও সে অত্যন্ত বেড়ে গেছে।”
সবাই জানি, এই ফেরাউনের প্রশাসনেই শিশু মূসা (আঃ) লালিত পালিত হন। গণকদের ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ফেরাউন যখন নির্মমভাবে শিশুপুত্রকে হত্যা করতে লাগলো তখন শিশু মূসা (আঃ) কে তার মা আল্লাহর আদেশে একটি কাষ্ঠ বাক্সে করে সাগরে ভাসিয়ে দেন। ভাসতে ভাসতে এসে শিশু মূসা (আঃ) ফেরাউনের প্রাসাদেই আশ্রয় লাভ করেন। পরবর্তীকালে হযরত মূসা (আঃ) যখন ফেরাউনের বিপক্ষাচরণ করেন তখন শিশু হয়ে ফেরাউনে তাঁকে হত্যা করার আদেশ দেন। হযরত মূসা (আঃ) মিশর থেকে পালিয়ে গিয়ে মাদায়েন শহরে হযরত শুয়াইব (আঃ) এর নিকট আশ্রয় নেন। উল্লেখ্য ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া ছিলেন হযরত মূসা (আঃ) এর অনুসারী এবং পরবর্তী মহিলারা হাদীসে এসেছে, পূর্ণতা প্রাপ্ত শ্রেষ্ঠ নারীর মধ্যে একজন হলেন হযরত আসিয়া।
আল-কুরআনের এই ভবিষ্যদ্বাণী সর্বযুগে আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়েছে হযরতের বছর চারেক পূর্বে। তখন ফেরাউনের মৃতদেহ সম্পর্কে শাস্ত্রে ছিল মিশরের রাজধানী কায়রো থেকে ৭/৮ কিলোমিটার দক্ষিণে নীল নদের পাড়ে অবস্থিত যাদুঘরে সমাধিক্ষেত্র। তখনকার দিনে এসব মৃতদেহ সম্পর্কে আরববাসীদের তো দূরের কথা বিশ্বের কিছু জানা ছিল না। জানা সম্ভবও ছিল না।
ফেরাউনের মৃতদেহের মমি আবিষ্কৃত হয় ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে। সেনাপতিদের অন্যান্যদের মতই ফেরাউনের লাশও সমুদ্রের গভীরে বিনষ্ট হতে পারতো কিংবা হাঙর-কুমিরে খেয়ে ফেলতে পারতো। সেরকম হওয়াই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় ফেরাউনের মৃতদেহ উদ্ধারপ্রাপ্ত হয়ে রাজারাজীর প্রথমতে মমিকৃত হবার সুযোগ পেয়েছিল এবং পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হিসাবে সংরক্ষিত হবার সুযোগ পেয়েছিল।
ফ্রান্সের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. মরিস বুকাইলি তার সাড়া জাগানো “The Bible The Quran and The Science.” গ্রন্থে লিখেছেন, “১৮৭৫ সালের জুন মাসে মিশরীয় কর্তৃপক্ষ অনুগ্রহ করে আমাকে (ড. বুকাইলিকে) মমিটির শরীকে বিভিন্ন অংশে পরীক্ষা করে দেখার অনুমতি দেন। মমিটির শরীরের বিভিন্ন অংশ ছবি তোলারও অনুমতি দিয়েছিলেন। এতদিন যাবৎ মমিটির শরীরের বিভিন্ন অংশ কাপড়ে ঢাকা পড়ে ছিল।
আমার পরামর্শক্রমে ১৮৭৫ সালের জুন মাসে মমিটিকে পরীক্ষা করা জন্য একটি টিম গঠন করা হয়। ড. এল মিলিনাই এবং ড. রামযিয়াস এর দ্বারা মমিটির উপর চমৎকারভাবে রেডিওগ্রাফী স্টাডি পরিচালিত হয়। দেখা গেছে মমিটির হাড়ে একাধিক ক্ষত বিদ্যমান। সেলুলিতে নিকৃষ্ট রকমের বড় বড়। পরীক্ষা করে আরও যা পাওয়া গেছে তাতে প্রমান মেলে যে, ফেরাউনের মৃত্যু ঘটেছে পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে বা ডুবে যাওয়ার প্রাক্কালে নিদর্শন হিসেবে শিলা করতে।
ইতিহাসের নিদর্শন সংরক্ষণ সবারই কাম্য। কিন্তু এখানে যে মমিটির সংরক্ষণের কথা বলা হচ্ছে তা শুধু নিছক কোন ঐতিহাসিক নিদর্শন নয়; এ মমিটির শরীরে যে অনেক আঘাত রয়েছে তা এখন অনেকে দেখেছে যার সাথে হযরত মূসা (আঃ) এর পরিচয় হয়েছিল, যে মানুষটি হযরত মূসার জ্ঞান প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং হযরত মূসা (আঃ) যখন বনী ইসরাইলদেরকে নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন তখন এই লোকটিই তাদের পিছু ধাওয়া করেছিল। আর পিছু ধাওয়া করতে গিয়েই পড়েছিল সমুদ্রের পানিতে ডুবে। আল্লাহর ইচ্ছায় তার মৃতদেহ রক্ষার জন্য তা নিদর্শন হিসাবে সংরক্ষিত রাখা হয়েছে আগামী দিনের মানব জাতির জন্য।
এ যুগে অনেকেরই আধুনিক তথ্য প্রমাণের আলোয় বিভিন্ন বর্ণের সম্পর্কে যুদ্ধের ব্যাপারে রায়ানল মমিজ বক্ষে সংরক্ষিত এই মমিটি দেখে আসেন। তাহলেই বুঝতে পারবেন কুরআনে আয়াতের ফেরাউনের মৃতদেহ সংরক্ষণে সম্পর্কে যে ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে- তার বাস্তব উদাহরণ কত উজ্জ্বলমান।
📄 ইসলামী খেলাফতের মেয়াদ হবে ৩০ বছর
হাদীস: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, আমার উম্মতের খেলাফতের মেয়াদ হবে ৩০ বছর। তারপর শুরু হবে রাজতন্ত্র। (তিরমিযী শরীফ, ৪র্থ খন্ড, ২১৯৩ নং হাদীস, বাংলাদেশ ইসলামি সেন্টার কর্তৃক প্রকাশিত)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ইন্তেকালের পর তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী খেলাফত পরিচালনা করেন খুলাফায়ে রাশেদীন। খুলাফায়ে রাশেদীন হলেন সত্য পথ প্রাপ্ত চারজন শ্রেষ্ঠ সাহাবী হযরত আবু বকর (রাঃ), হযরত উমর (রাঃ), হযরত উসমান (রাঃ) এবং হযরত আলী (রাঃ)। এই চারজন খুলাফায়ে রাশেদীনের খেলাফতের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ ২৯ বছর ৬ মাস। হযরত হাসান ইবনে আলী (রাঃ) ৬ মাস খেলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। ছয় মাস পর তিনি হযরত মুয়াবিয়া (রাঃ) এর অনুকূলে খেলাফতের দায়িত্ব ত্যাগ করেন। হযরত মুয়াবিয়া (রাঃ) এর শাসনকাল থেকে ইসলামী খেলাফতের স্বর্ণ যুগ রাজতন্ত্রের সূচনা হয়। এ ব্যাপারে উম্মতে মুহাম্মাদীর আলেম সমাজ একমত। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর হাদীস অনুযায়ী ইসলামী খেলাফতের মেয়াদ ছিল পুরোপুরি ৩০ বছর। আর পৃথক ভাবে খলিফাদের খেলাফতের মেয়াদকাল ছিল এরূপঃ হযরত আবুবকর (রাঃ)- ২ বছর ৩ মাস (৬৫২-৬৫৪ খ্রি.); হযরত ওমর (রাঃ):- ১০ বছর (৬৫৪-৬৪৪ খ্রিঃ); হযরত উসমান (রাঃ) - ১২ বছর (৬৪৪-৬৫৬ খ্রিঃ); হযরত আলী (রাঃ) ও হযরত হাসান (রাঃ)-৬ বছর (৬৫৬-৬৬১ খ্রিঃ)।
📄 একশত বছর পর এখনকার কেউ জীবিত থাকবে না
হাদীস: আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর জীবনের শেষ দিকে আমাদেরকে নিয়ে এশার নামায আদায় করেন। সালাম ফিরানোর পর শয্যা দিয়ে দাঁড়িয়ে তিন বেলা বলেন, তোমরা কি লক্ষ্য করেছ আজকের এই রাতের প্রতি? যারা এখন জীবিত আছে তার একশত বছর পর পৃথিবীর বুকে জীবিত থাকবে না। (তিরমিযী শরীফ, ৪র্থ খণ্ড, ২১৬৭ নং হাদীস, বাংলাদেশ ইসলামি সেন্টার কর্তৃক প্রকাশিত)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তাঁর ইন্তেকালের একমাস পূর্বে উপরোক্ত কথা বলেছিলেন। তার বক্তা অনুযায়ী ঠিক একশত বছরের মাথায় তার সাহাবাগণের মধ্যে কেউ জীবিত ছিলেন না। ১১০ হিজরীতে তার সর্বশেষ সাহাবী আবুত তুফাইল আমের ইবনে ওয়াসিলা ইন্তেকাল করেন। এদিকে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর এই ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়।
📄 রোম পারস্যের উপর বিজয়ী হবে
আল কুরআনে তিরিশ নম্বর সুরার নাম ‘রোম’ (আরবী উচ্চারণ রম)। রোম সাম্রাজ্য এবং পারস্য সাম্রাজ্য বিশ্বের দুটি বৃহৎ পরাশক্তি। এই রোম নামটি সূরা রুমের মধ্যে রয়েছে। সূরা রুমের প্রাথমিক আয়াতগুলোতে যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে তা আল কুরআন আল্লাহর তাআলার বাণী হওয়ার এবং মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ) আল্লাহর সত্য নবী হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণগুলোর অন্যতম। এ আয়াতগুলোতে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে কয়েক বছরের মধ্যেই পারস্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রোম বিজয়ী হবে।
এ কথার মধ্যে দুটি ভবিষ্যত বাণী ছিল। এক-রোমান্স বিজয় লাভ করবে। দুই-মুসলমানদেরও সে সময় বিজয় সূচিত হবে। মূলতঃ এ দুটি ভবিষ্যদ্বাণী সফল হওয়ার কোন লক্ষণই তখন দেখা যাচ্ছিল না। একদিকে ছিল মুসলিমরা যখন মক্কায় নিষ্পেষিত-নির্যাতিত হচ্ছিল। অপরদিকে রোমানদের পরাজয় দিন দিন বেড়েই যাচ্ছিল। কারণ তৎকালীন সময়ে পারস্য সাম্রাজ্য ছিল রোমান সাম্রাজ্যের চেয়ে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী।
৬২৩ খ্রিস্টাব্দে পারস্য বাহিনী দামেষ্ক জয় করে। শহর বছর তারা জেরুজালেম জয় করে খ্রিস্টানদের উপর অকথ্যভাবে অত্যাচার শুরু করে। এ শহরের নগরই হাজার হাজার খ্রিস্টানকে হত্যা করে। এরপর এক এক বিজয় পারস্য পারস্যকে জয়লাভ করতে করতে পারছিল তার আশার পাওয়া যায় তার কোন পথ রোমান সম্রাট হেরাক্লিয়াস (কায়সার) কাছে পাঠান। তাতে তিনি লেখেনঃ “সকল খোদার বড় খোদা, সারা জাহানের মালিক খসরুর পক্ষ থেকে এ হীন এবং কাজ্জাবধান বাণী হেরাক্লিয়াস প্রতি। তুই বলিস যে, তোর খোদার উপর তোর পূর্ণ আশা আছে। তাহলে কেন তোর খোদা জেরুজালেমকে আমার হাত থেকে রক্ষা করল না?”
সে সময় রোমের উপর পারস্যের বিজয়ের চর্চা সবার মুখে মুখে শুনে যেত। মক্কার মুশরিকরা আনন্দে নাচতো এবং মুসলমানদেরকে বলতো, “দেখ, পারস্য অগ্নিপূজারীরা জরাথ্রুষ্ট এবং ও রিসালাতে বিশ্বাসী রোমানরা পরাজিত হয়েছে। এমনিভাবে আমরা অগ্নিপূজা তোমাকে নির্মূল করে দিব।” ইতিহাসবিদেরা ভাষায় কুরআন মজীদের এই ভবিষ্যদ্বাণীর পর সাত-আট বছর পরও এমন অবস্থা চলছিল, কেউই এ ঘটনাকে অবাস্তব মনে করতো পারতো না যে, রোমান ইরানীদের উপর বিজয় হবে। (* Gibbon – Decline and Fall of the Roman Empire, Vol- 11, Page – 788. Modern Library, New York)
কুরআনের এ আয়াতগুলো যখন নাযিল হয় তখন মক্কার কাফেররা এ নিয়ে খুব বিদ্রুপ-উপহাস করতে থাকে। হযরত আবু বকর (রাঃ) যখন আয়াতগুলোতে বর্ণিত ভবিষ্যদ্বাণীর কথা জানতে পারেন তখন তিনি তা মক্কার কুরাইশ কাফেরদের কাছে ঘোষণা করতে লাগিলেন। মক্কায় বিশিষ্ট ধনী কুরাইশ নেতা উবাই ইবনে খালফ হযরত আবু বকর (রাঃ) এর সাথে এ বিষয়ে বাজি রেখে বলল, যদি তিন বছরের মধ্যে রোমান্যণ বিজয়ী হয় তো আমি দশটি উট দিতে বাধ্য থাকব। এ বাজি রাখার পর মুহাম্মদ (সাঃ) কাছে গেলে তিনি বলেন, দশ বছরের মধ্যে সময়কালের শর্ত এর উপর উটের সংখ্যা বাড়িয়ে একশ কর। হযরত আবু বকর (রাঃ) উবাই এর সাথে দেখা করলেন এবং নতুন করে এ শর্ত স্থিরকৃত হল যে, দশ বছরের মধ্যে যার কথা মিথ্যা প্রমাণিত হবে তাকে একশত উট দিতে হবে।
৬২২ খ্রিস্টাব্দে নবী (সাঃ) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেন। ওদিকে একই বছরে রোমান সম্রাট কায়সার পারস্যের উপর আক্রমণ করার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ৬২৩ খ্রিস্টাব্দে আজারবাইজানে দখল করে পারস্যের এক যুদ্ধে পারস্পরিক শক্তি পুলিশিং করে দেয়। আল্লাহর কুদরতের लीला এই যে, একই বছর বদরের যুদ্ধে প্রথমবারের মত মুসলমানগণও কাফেরদের উপর বিজয় লাভ করে। এই ভাবে সূরা রোমে বর্ণিত আল্লাহ তায়ালার ভবিষ্যদ্বাণী কার্যকর হয়।