📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ভালোবাসার কারণে সাফিনাকে সাহায্য করেছিল একটি সিংহ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আজাদকৃত দাস সাফিনা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নৌকায় চড়ে আমি সমুদ্রযাত্রা করছিলাম। কিন্তু সাগরেই নৌকাটি ভেঙে গেল। আমি তখন একটি কাঠের টুকরোতে উঠে পড়লাম। কাঠের টুকরোটি ভাসাতে ভাসাতে আমাকে একটি জঙ্গলে নিয়ে আসলো। সে জঙ্গলে সিংহ ছিল। একটি সিংহ আমাকে দেখে ফেলল। আমি তাকে বললাম, “হে সিংহ, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাস।” আমার কথা শুনে সিংহ মাথা নত করে ফেলল। সিংহটি তার কাঁধ দিয়ে আমাকে ইশারা করে যাচ্ছিল। এভাবে সে আমাকে দিক-নির্দেশনা দিয়ে দিয়ে একটি রাস্তায় আনল। এরপর সে গোঁ গোঁ করতে থাকল। আমার ধারণা হলো, সে আমাকে বিদায় জানাচ্ছে। '৯৬৮
ইবনে মুনকাদির (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণনায় এসেছে, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাস সাফিনা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মুসলিম সৈন্যের সাথে রোমানদের ভূমিতে ছিলেন তখন। তিনি মুসলিম সেনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তাদের হারিয়ে ফেলেছিলেন অথবা বন্দী হয়ে গিয়েছিলেন রোমানদের হাতে। এরপর যখন বন্দিত্ব থেকে পালিয়ে তিনি মুসলিম সেনাদলের খোঁজ করছিলেন, তখন তিনি সিংহের সামনে পড়েন।'
তখন তিনি সিংহকে বললেন, "ওহে সিংহ, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাস। আমার সাথে এমন এমন ঘটেছে।"
সাফিনা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা শুনে সিংহটি লেজ নেড়ে নেড়ে তাঁর পাশে এসে দাঁড়াল। সিংহ যখনই একটা শব্দ শুনত সাথে সাথে সেদিকে যেত এরপর সাফিনা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে আসত। এভাবে সাফিনা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মুসলিম সৈন্যের কাছে পৌঁছালেন। অতঃপর সিংহটি ফিরে গেল। ৯৬৯
টিকাঃ
৯৬৮. মুসতাদরাকুল হাকিম ৪২৩৫। হাদিসটি সহিহ হওয়ার ব্যাপারে ইমাম জাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ)-ও একাত্মতা পোষণ করেছেন।
৯৬৯. মুসান্নাফু আব্দির রাজ্জাক ২০৫৪৪, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ৯/১৩০।
📄 শেষ কথা
পশুকল্যাণ সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বহুকাল পূর্বে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠমানব, মহান রবের রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুদের কল্যাণ ও অধিকারের কথা বলে গেছেন। আল্লাহ তাআলা মানুষের উপকারের জন্য সৃষ্টি করেছেন এসব জীবজন্তু। কিছু পশুপাখি আমাদের আহার, কিছু পশুপাখির চামড়া আমাদের ব্যবহার্য। এভাবে প্রতিটি পশু থেকেই আমরা উপকৃত হই। কিন্তু আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ, আমরা যেন পশুপাখির প্রতি হিংস্র না হই; বরং ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে, আমরা যেন এগুলোর প্রতি সদয় হই।
যতদিন না আমরা জীবজন্তুর ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ অনুসরণসহ অন্য সকল ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করব, ততদিন এ পৃথিবীতে শান্তি ব্যাহত হতে থাকবে। না কোনো জীবের অধিকার সংরক্ষিত হবে, না কোনো জন্তুর। তাই পৃথিবীকে সুন্দর করতে হলে, এ ধরাকে বাসযোগ্য আখিরাতের উত্তম শস্যখেত বানাতে হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শই আমাদের অনুসরণীয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শই আমাদের একমাত্র আদর্শ।