📄 খেলাচ্ছলে অনর্থক প্রাণী হত্যা করতে নিষেধ করেছেন
আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "অন্যায়ভাবে যে একটি চড়ুইও হত্যা করবে, কিয়ামতের দিন তাকে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করতে হবে।"
বলা হলো, "ন্যায়সংগত উপায়ে হত্যার ধরন কী?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "খাওয়ার জন্য জবাই করা।"৯৫২
টিকাঃ
৯৫২. সুনানুন নাসায়ি: ৪৪৪৫, মুসতাদরাকুল হাকিম: ৭৫৭৪।
📄 পশুপাখির প্রতি সদয় হতে উৎসাহিত করেছেন
আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি জবাইকৃত চড়ুইয়ের প্রতি দয়া করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দয়া করবেন।"৯৫৩
মুআবিয়া বিন কুররা (রাহিমাহুল্লাহ) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, 'এক লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশে বলল, “হে আল্লাহর রাসুল, ছাগল জবাইয়ের সময়ও কি আমি সদয় হব?" অথবা বলেছে, "যখন আমি ছাগল জবাই করি, তখনো কি সদয় হব?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "যদি ছাগলের প্রতি তুমি দয়া করো, তবে আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করবেন। "৯৫৪
টিকাঃ
৯৫৩. তাবারানি কৃত আল-কাবির: ৭৯১৫।
৯৫৪. মুসনাদু আহমাদ: ১৫১৬৫।
📄 পশুপাখিকে গালি দিতে নিষেধ করেছেন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পশুপাখিদের গালি দিতে নিষেধ করতেন; বিশেষ করে মোরগকে গালি দিতে নিষেধ করতেন। জাইদ বিন খালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমরা মোরগকে গালি দিয়ো না। কেননা, মোরগ সালাতের জন্য জাগিয়ে দেয়।"৯৫৫
মোরগ তাহাজ্জুদের সময় ডাক দিয়ে জাগতে সাহায্য করে। তাই যে আল্লাহর ইবাদতে সাহায্য করে, সে প্রশংসার যোগ্য, নিন্দার নয়।
মুনাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'মোরগের অভ্যাসই এ রকম। যখন ফজর ঘনিয়ে আসে, তখন মোরগ একনাগাড়ে ডাকতে থাকে। আবার যখন সূর্য হেলে পড়ে, তখনো ডাকতে থাকে। এটাই মোরগের স্বভাব, যার ওপর আল্লাহ তাকে সৃষ্টি করেছেন।'
হালিমি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ হাদিস থেকে আমরা জানতে পেলাম, যে প্রাণী উপকারী, তাকে গালি দেওয়া ঠিক নয়। তাকে হেয় করাও উচিত নয়; বরং উচিত হচ্ছে, সে প্রাণীর কদর করা এবং তার প্রতি সদয় হওয়া। '৯৫৬
ইমরান বিন হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো এক সফরের কথা। সে সফরে এক আনসার নারীও ছিল। উটের ওপর সওয়ার হয়ে সফর করছিল সে নারী। উটের আচরণে বিরক্ত হয়ে উটকে অভিসম্পাত করল সে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনে বললেন, "উটের ওপর যা আছে, তা তোমরা নিয়ে নাও। আর উটটিকে ছেড়ে দাও। কারণ, উটটি অভিশপ্ত।"
ইমরান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'মনে হচ্ছে আমি এখনো মানুষের মাঝে ঘোরাফেরা করতে দেখছি সে উটটিকে। কিন্তু কেউই তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করছে না।'৯৫৭
আবু বারজাহ আসলামি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, এক বালিকা উটে উপবিষ্ট ছিল। তার গোত্রের কিছু মালামালও সে উটের ওপর ছিল। হঠাৎ করে সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেল। ঠিক তখনই পাহাড়ের সংকীর্ণ পথ এসে পড়ল। তখন বালিকাটি উটকে বলল, "হাল ৯৫৮, হে আল্লাহ, একে অভিশপ্ত করুন।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, "যে উটকে অভিশাপ দেওয়া হয়েছে, সে উট যেন আমাদের সাথে না চলে। "৯৫৯
ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'সে বালিকা ও অন্যদের প্রতি ধমক হিসেবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটি বলেছেন। কারণ, এর আগেও তিনি উট ও অন্যান্য পশুকে অভিশাপ দিতে নিষেধ করেছেন। একবার উটকে অভিশাপ দেওয়ার কারণে সেটিকে ছেড়ে দেওয়ার শাস্তি দিয়েছিলেন।'
এ হাদিসে নিষেধাজ্ঞা সে উটে চড়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে পথ চলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে। অন্যথায় সে উট বিক্রি করা, জবাই করা এবং সে উটে চড়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া অন্য কারও সাথে পথ চলা নিষেধ করা হয়নি। আগের মতোই উটের এ ব্যবহারগুলো জায়িজ ছিল। এ হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার উদ্দেশ্য ছিল, উটের ওপর যা রসদ, সরঞ্জাম আছে, তা নিয়ে নাও। '৯৬০
টিকাঃ
৯৫৫. সুনানু আবি দাউদ: ৫১০১।
৯৫৬. আওনুল মাবুদ: ১৪/৫।
৯৫৭. সহিহু মুসলিম: ২৫৯৫।
৯৫৮. উট চলতে না চাইলে এ শব্দ করে উটকে শাসানো হয়।
৯৫৯. সহিহু মুসলিম: ২৫৯৬।
৯৬০. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৬/১৪৮।
📄 দুর্বল জন্তু ছাগল জবাই করতে অনুৎসাহিত করতেন
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক আনসারির কাছে এলেন মেহমান হয়ে। আনসার লোকটা ছাগল জবাইয়ের জন্য একটি ছুরি নিল হাতে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "দুধালো ছাগল জবাই করবে না।"৯৬১
টিকাঃ
৯৬১. সহিহু মুসলিম: ২০৩৮।