📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 জীবজন্তুর অঙ্গ বিকৃতি ঘটাতে নিষেধ করেছেন

📄 জীবজন্তুর অঙ্গ বিকৃতি ঘটাতে নিষেধ করেছেন


আব্দুল্লাহ বিন জাফর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল মানুষের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন, কিছু লোক তির নিক্ষেপ করছে একটি ভেড়ার দিকে। এ কাজটা তাঁর বেজায় অপছন্দ হলো। তিনি বললেন, "তোমরা পশুদের তির নিক্ষেপের লক্ষ্যবস্ত বানিও না” বা বললেন, "এভাবে তাদের অঙ্গবিকৃতি করো না।"৯৩৮

টিকাঃ
৯৩৮. সুনানুন নাসায়ি: ৪৪৪০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বিনা প্রয়োজনে পশু ধাওয়া করতে নিষেধ করেছেন

📄 বিনা প্রয়োজনে পশু ধাওয়া করতে নিষেধ করেছেন


ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া ও চতুষ্পদ জন্তু খাসি করতে নিষেধ করেছেন। '৯৩৯

ইমাম কুরতুবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'বিনা প্রয়োজনে পশু খাসি করা নিষিদ্ধ। তবে গোশতের পরিশুদ্ধি বা পশুর কোনো ক্ষতি প্রতিরোধে প্রয়োজনে খাসি করা জায়িজ। '৯৪০

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'অভক্ষণযোগ্য পশুর খাসি করা হারাম। ভক্ষণযোগ্য পশু ছোট থাকতে খাসি করা যায়, বড় হয়ে গেলে আর জায়িজ নেই। '৯৪১

আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ও আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কুরবানি করার ইচ্ছে করতেন, তিনি দুটি বড়, মোটাতাজা, শিংযুক্ত, ধূসর ও খাসিকৃত মেষ কিনতেন। এরপর একটিকে জবাই করতেন তাঁর উম্মতের সে সদস্যের পক্ষ থেকে, যে তাওহিদের সাক্ষ্য দিয়েছে এবং নবুওয়াতের সাক্ষ্য দিয়েছে। আর অপরটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জবাই করতেন। '৯৪২

টিকাঃ
৯৩৯. মুসনাদু আহমাদ: ৪৭৫৫।
৯৪০. আল-মুফহিম লিমা উশকিলা মিন তালখিসি কিতাবি মুসলিম: ১২/১২৭।
৯৪১. ফাতহুল বারি: ৯/১১৯।
৯৪২. সুনানু ইবনি মাজাহ: ৩১২২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নিরীহ জীবজন্তু হত্যা করতে নিষেধ করেছেন

📄 নিরীহ জীবজন্তু হত্যা করতে নিষেধ করেছেন


আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার পশু হত্যা করতে নিষেধ করেছেন-পিঁপড়া, মৌমাছি, হুদহুদ ও সারদ৯৪৩ পাখি। '৯৪৪.

সেসব পিঁপড়া হত্যা করা নিষেধ, যেগুলো কোনো ক্ষতি করে না। মৌমাছি তো উপকারী আমাদের জন্য। মৌচাক থেকে আমরা মধু পাই, মোমবাতি তৈরির উপাদান পাই। অন্যদিকে হুদহুদ ও সারদের গোশত হারাম হওয়ার কারণে এগুলো হত্যা করা হারাম। হুদহুদ দুর্গন্ধময়। আর সারদকে জাহিলি যুগে কুলক্ষণে ভাবা হতো। সারদ ও সারদের আওয়াজকে কুলক্ষণে মনে করত আরবরা। তাদের মন থেকে এ কুসংস্কার নির্মূল করার জন্য তাদের হত্যা করা নিষেধ করা হয়েছে। ৯৪৫

টিকাঃ
৯৪৩. সারদ হচ্ছে, বড় মাথা ও ঠোঁটওয়ালা পাখি। এ পাখির পালকের অর্ধেক সাদা ও অর্ধেক কালো হয়ে থাকে। -আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩/২১। 'এ পাখির ইংরেজি নাম: Sparrow-Hawk'
৯৪৪. সুনানু আবি দাউদ: ৫২৬৭।
৯৪৫. মিরকাতুল মাফাতিহ ৭/২৬৮১, আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যা: ১৭/২৮৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 ক্ষতিকর জীবজন্তু হত্যার আদেশ দিতেন

📄 ক্ষতিকর জীবজন্তু হত্যার আদেশ দিতেন


আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'পাঁচটি পশুপাখি পঙ্কিল-পাপাচারী (ফাসিক)। এসব হারামের সীমার ভেতর ও বাইরে হত্যাযোগ্য: কাক, চিল, হিংস্র কুকুর, বিচ্ছু ও ইঁদুর। '৯৪৬

সহিহ মুসলিমের অপর এক বর্ণনায়, 'বিচ্ছু'র পরিবর্তে 'সাপ'-এর কথা উল্লেখ আছে। আরেকটি বর্ণনায়, কাকের সাথে সাদা-কালো বিশেষণ উদ্ধৃত হয়েছে।

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আলিমদের ঐকমত্য অনুযায়ী এসব পশুপাখিকে হারাম..এলাকার ভেতরে ও বাইরে এবং ইহরাম পরিধানকৃত অবস্থায়ও হত্যা করা জায়িজ। আরবি ফাসিক শব্দটির অর্থ-বের হয়ে যাওয়া। যে বের হয়ে যায়, তাকে ফাসিক বলে। ফাসিক যেহেতু আল্লাহর আদেশ ও আনুগত্য থেকে বের হয়ে পাপকর্ম করে বসে, তাই তাকে ফাসিক বলা হয়। আর এখানে এ পাঁচ পশুপাখিকে ফাসিক বলার কারণ হচ্ছে, এগুলো ক্ষতি ও অনিষ্ট করে সাধারণ পশুত্বের বাইরে চলে গেছে।'

সাদা-কালো কাক হলো সে কাক, যে কাকের পেটে ও পিঠে সাদা দাগ আছে। '৯৪৭

সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টিকটিকি/গিরগিটি হত্যার আদেশ দিয়েছেন এবং "ছোট ফাসিক” বলে তার নামকরণ করেছেন। '৯৪৮

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি প্রথম আঘাতেই একটি টিকটিকি/গিরগিটি হত্যা করবে, তার জন্য এ এ পুণ্য রয়েছে। আর যে ব্যক্তি দুই আঘাতে হত্যা করবে, তার জন্য প্রথমজনের চেয়ে কম এ এ পুণ্য রয়েছে। আর যে ব্যক্তি তৃতীয় প্রহারে হত্যা করবে, তার জন্য দ্বিতীয় জনের চেয়ে কম এ এ পুণ্য রয়েছে। "৯৪৯

উম্মে শুরাইক (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম টিকটিকি/গিরগিটি হত্যার আদেশ করেছেন এবং বলেছেন, "সে ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর আগুনে ফুঁ দিয়েছিল।"৯৫০

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আলিমদের ঐকমত্যে টিকটিকি/গিরগিটি ক্ষতিকর কীট। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটাকে হত্যার আদেশ দিয়েছেন এবং হত্যা করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। কারণ, তা একটি ক্ষতিকর প্রাণী। '৯৫১

টিকাঃ
৯৪৬. সহিহুল বুখারি: ১৮২৯, সহিহু মুসলিম: ১১৯৮।
৯৪৭. ফকিহদের ঐকমত্য অনুসারে, কাক দূরাচারী। কিন্তু হানাফি ফাকিহগণ নাপাক খায় এমন কাককে দূরাচারী কাকদের মাঝে গণ্য করেছেন। তাদের মতে, ফল-ফসল খেয়ে জীবনধারণকারী সাধারণ কাক এ শ্রেণিতে পড়ে না। মালিকিগণ সাধারণভাবে সকল কাককে দূরাচারী কাকের পর্যায়ে গণ্য করেছেন; চাই সে কাক পূর্ণ কালো হোক বা সাদা-কালো মিশ্রিত কাক হোক। শাফিয়িদের মতে, কাকের কয়েকটি প্রকার রয়েছে। এক. কিছু কাক আছে সাদা-কালো মিশ্রিত। এসব কাক দূরাচারী এবং অপবিত্র; এ বিষয়ে কোনো মতানৈক্য নেই। দুই. কিছু কাক আছে কালো ও বড়। অধিক বিশুদ্ধ মতানুযায়ী, এসব কাক হারাম। তিন, শস্যদানা খাওয়া কাক অধিক বিশুদ্ধ মতানুযায়ী হালাল।... হাম্বলি ফকিহগণ বলেন, যেসব কাকের গোশত বৈধ, সেসব কাক দূরাচারী নয়। যেসব কাকের গোশত বৈধ নয়, সেসব কাক হচ্ছে, লম্বা লেজের কাক (Magpic); ধূসর রংয়ের শরীর ও কালো রঙয়ের মাথা, পাখা ও লেজবিশিষ্ট এবং লম্বা গলাবিশিষ্ট জলচর কাক; গুরাবুল বাইন বা অর্ধেক সাদা অর্ধেক কালো কাক; পেটে-পিঠে সাদা ও শরীরের বাকি অংশ কালো এমন সাদা-কালো ছোপযুক্ত কাক। -আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়‍্যা: ৩২/২১৮।
৯৪৮. সহিহুল বুখারি: ৩৩০৬, সহিহু মুসলিম: ২২৩৮।
৯৪৯. সহিহু মুসলিম: ২২৪০।
৯৫০. সহিহুল বুখারি: ৩৩৫৯, সহিহু মুসলিম: ২২৩৭।
৯৫১. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৪/২৩৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00