📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 পশুর মুখে চিহ্ন আঁকতে এবং প্রহার করতে নিষেধ করেছেন

📄 পশুর মুখে চিহ্ন আঁকতে এবং প্রহার করতে নিষেধ করেছেন


জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে কিছু গাধা হেঁটে গেল। সেগুলোর গালে চিহ্ন আঁকা ছিল। এ দেখে তিনি বললেন, "যে লোক এ চিহ্ন এঁকেছে, আল্লাহ তাকে অভিশপ্ত করুন। "৯৩৫

দ্বিতীয় এক বর্ণনায় এসেছে, 'গাধাগুলোকে দেখার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যে ব্যক্তি পশুর মুখে দাগ অঙ্কন করে অথবা পশুর মুখে প্রহার করে, আমি তাকে অভিশাপ দিয়েছি-তোমাদের কাছে কি এ সংবাদ পৌঁছেনি?"৯৩৬

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'মানুষ, গাধা, ঘোড়া, উট, খচ্চর, ছাগলসহ অন্যান্য সম্মানযোগ্য প্রাণীর মুখে আঘাত করা নিষিদ্ধ। তবে তো মানুষের মুখে আঘাত করা আরও মারাত্মক পাপ। কারণ, মানুষের সৌন্দর্য তার মুখে নিহিত। চেহারায় আঘাত করা বড়ই স্পর্শকাতর একজন মানুষের জন্য। কারণ, চেহারায় প্রহার করলে প্রহারের প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায়। কখনো তা লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় প্রহৃত ব্যক্তির জন্য। কখনো-বা ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে প্রহৃত ব্যক্তির দেহের কোনো প্রত্যঙ্গের জন্য।'

অন্যদিকে উল্লেখিত হাদিসগুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত যে, পশুর চেহারায় দাগ দেওয়া নিষিদ্ধ কর্ম। মানুষের সম্মানের জন্য মানুষের মুখে দাগ আঁকাও হারাম। আর এমন কাজের কোনো প্রয়োজনও নেই। তাই মানুষের মুখে দাগ এঁকে তাকে কষ্টে ফেলা জায়িজ নেই।'

মানুষ ভিন্ন অন্য প্রাণীগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের মাজহাবের একদল আলিম বলেন, 'এমন কাজ মাকরুহ।' ইমাম বাগাবি (রাহিমাহুল্লাহ) 'এমন কাজ জায়িজ নেই' বলে দলিল উল্লেখ করে হারাম হওয়া সাব্যস্ত করেন। আর হারাম হওয়াই অধিক স্পষ্ট। কারণ, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কাজকারীকে অভিশাপ দিয়েছেন। আর কোনো কাজের কারণে অভিশাপ দেওয়া, সে কাজটি হারাম হওয়া প্রমাণিত করে।'

অন্যদিকে, জীবজন্তুর মুখ ছাড়া দেহের অন্য জায়গায় দাগ আঁকা আমাদের মতে কোনো মতানৈক্য ছাড়াই জায়িজ। তবে জাকাত ও জিজিয়ার পশুগুলোকে চিহ্নিত করার জন্য দাগ এঁকে দেওয়া মুসতাহাব। এ ছাড়া অন্য কাজের পশুগুলোর মুখভিন্ন অন্য অঙ্গে চিহ্ন আঁকা মুসতাহাবও নয়, আবার নিষিদ্ধও নয়।'

অভিধান-প্রণেতাদের মতে, দাগ আঁকার অর্থ হচ্ছে, সেঁক দিয়ে চিহ্ন দেওয়া। ৯৩৭

টিকাঃ
৯৩৫. সহিহু মুসলিম: ২১১৭।
৯৩৬. সুনানু আবি দাউদ: ২৫৬৪।
৯৩৭. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৪/৯৭।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 জীবজন্তুর অঙ্গ বিকৃতি ঘটাতে নিষেধ করেছেন

📄 জীবজন্তুর অঙ্গ বিকৃতি ঘটাতে নিষেধ করেছেন


আব্দুল্লাহ বিন জাফর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল মানুষের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন, কিছু লোক তির নিক্ষেপ করছে একটি ভেড়ার দিকে। এ কাজটা তাঁর বেজায় অপছন্দ হলো। তিনি বললেন, "তোমরা পশুদের তির নিক্ষেপের লক্ষ্যবস্ত বানিও না” বা বললেন, "এভাবে তাদের অঙ্গবিকৃতি করো না।"৯৩৮

টিকাঃ
৯৩৮. সুনানুন নাসায়ি: ৪৪৪০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বিনা প্রয়োজনে পশু ধাওয়া করতে নিষেধ করেছেন

📄 বিনা প্রয়োজনে পশু ধাওয়া করতে নিষেধ করেছেন


ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া ও চতুষ্পদ জন্তু খাসি করতে নিষেধ করেছেন। '৯৩৯

ইমাম কুরতুবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'বিনা প্রয়োজনে পশু খাসি করা নিষিদ্ধ। তবে গোশতের পরিশুদ্ধি বা পশুর কোনো ক্ষতি প্রতিরোধে প্রয়োজনে খাসি করা জায়িজ। '৯৪০

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'অভক্ষণযোগ্য পশুর খাসি করা হারাম। ভক্ষণযোগ্য পশু ছোট থাকতে খাসি করা যায়, বড় হয়ে গেলে আর জায়িজ নেই। '৯৪১

আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ও আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কুরবানি করার ইচ্ছে করতেন, তিনি দুটি বড়, মোটাতাজা, শিংযুক্ত, ধূসর ও খাসিকৃত মেষ কিনতেন। এরপর একটিকে জবাই করতেন তাঁর উম্মতের সে সদস্যের পক্ষ থেকে, যে তাওহিদের সাক্ষ্য দিয়েছে এবং নবুওয়াতের সাক্ষ্য দিয়েছে। আর অপরটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জবাই করতেন। '৯৪২

টিকাঃ
৯৩৯. মুসনাদু আহমাদ: ৪৭৫৫।
৯৪০. আল-মুফহিম লিমা উশকিলা মিন তালখিসি কিতাবি মুসলিম: ১২/১২৭।
৯৪১. ফাতহুল বারি: ৯/১১৯।
৯৪২. সুনানু ইবনি মাজাহ: ৩১২২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নিরীহ জীবজন্তু হত্যা করতে নিষেধ করেছেন

📄 নিরীহ জীবজন্তু হত্যা করতে নিষেধ করেছেন


আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার পশু হত্যা করতে নিষেধ করেছেন-পিঁপড়া, মৌমাছি, হুদহুদ ও সারদ৯৪৩ পাখি। '৯৪৪.

সেসব পিঁপড়া হত্যা করা নিষেধ, যেগুলো কোনো ক্ষতি করে না। মৌমাছি তো উপকারী আমাদের জন্য। মৌচাক থেকে আমরা মধু পাই, মোমবাতি তৈরির উপাদান পাই। অন্যদিকে হুদহুদ ও সারদের গোশত হারাম হওয়ার কারণে এগুলো হত্যা করা হারাম। হুদহুদ দুর্গন্ধময়। আর সারদকে জাহিলি যুগে কুলক্ষণে ভাবা হতো। সারদ ও সারদের আওয়াজকে কুলক্ষণে মনে করত আরবরা। তাদের মন থেকে এ কুসংস্কার নির্মূল করার জন্য তাদের হত্যা করা নিষেধ করা হয়েছে। ৯৪৫

টিকাঃ
৯৪৩. সারদ হচ্ছে, বড় মাথা ও ঠোঁটওয়ালা পাখি। এ পাখির পালকের অর্ধেক সাদা ও অর্ধেক কালো হয়ে থাকে। -আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩/২১। 'এ পাখির ইংরেজি নাম: Sparrow-Hawk'
৯৪৪. সুনানু আবি দাউদ: ৫২৬৭।
৯৪৫. মিরকাতুল মাফাতিহ ৭/২৬৮১, আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যা: ১৭/২৮৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00