📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মা পাখি ও তার ছানার মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে নিষেধ করেছেন

📄 মা পাখি ও তার ছানার মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে নিষেধ করেছেন


ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম একটি সফরে। তিনি তাঁর প্রয়োজন সারতে আমাদের থেকে আলাদা হলেন। এ সময় আমরা হুম্মারা পাখির ৯২৭ সাথে দুটি ছানা দেখলাম। ছানাদুটি নিয়ে। নিলাম আমরা। পাখিটি এসে তখন ডানা ঝাপটাতে শুরু করল।'

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে এ অবস্থা দেখলেন। তিনি বললেন, "এ পাখিটির সাথে তার সন্তানদের বিচ্ছেদ ঘটাল কে? তোমরা তার ছানাগুলো তাকে ফিরিয়ে দাও।"

এরপর তিনি দেখলেন, পিঁপড়ার একটি ঢিবি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "এটি কে পোড়াল?"

সাহাবিগণ উত্তর দিলেন, "আমরা।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আগুনের রব ছাড়া আগুন দিয়ে শাস্তি দেওয়ার অন্য কারও অধিকার নেই।"৯২৮

খাত্তাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ হাদিস প্রমাণ করে ভীমরুলের বাসা পোড়ানোও শরিয়তের দৃষ্টিতে মাকরুহ। কারণ, এর তেমন প্রয়োজনীয়তা নেই। পোড়ানো ছাড়াই অন্যভাবে ভীমরুল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।'

পিঁপড়া দুই ধরনের হয়ে থাকে। ক্ষতিকর পিঁপড়া মারা স্বাভাবিকভাবে জায়িজ। কিন্তু যে পিঁপড়া ক্ষতিকর নয়, সেগুলো মারা জায়িজ নয়। এ পিঁপড়াগুলোর পা লম্বা লম্বা হয়ে থাকে। '৯২৯

টিকাঃ
৯২৭. হুম্মারা চড়ুই'র মতো ছোট জাতের পাখি।
৯২৮. সুনানু আবি দাউদ: ২৬৭৫।
৯২৯. আওনুল মাবুদ: ৭/২৪০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তির বা অন্য কিছু দিয়ে গৃহপালিত জন্তু মারতে নিষেধ করেছেন

📄 তির বা অন্য কিছু দিয়ে গৃহপালিত জন্তু মারতে নিষেধ করেছেন


হিশাম বিন জাইদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে আমি হিকাম বিন আইউব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বাড়িতে এলাম এবং দেখলাম, কিছু কিশোর বা তরুণ ছেলে একটি মুরগি বেঁধে তার দিকে তির তাক করে আছে মারার জন্য।' এ দেখে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্তুদের বেঁধে তাদের দিকে তির নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন। '৯৩০

আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একবার ইয়াহইয়া বিন সাইদ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাছে গেলেন। সেখানে দেখতে পেলেন ইয়াহইয়া-এর পরিবারের এক ছেলে একটি মুরগিকে বেঁধে তির নিক্ষেপ করছে। ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এগিয়ে এসে মুরগিটিকে ছাড়িয়ে নিলেন। এরপর মুরগি ও ছেলেকে সাথে করে নিয়ে আসলেন। বললেন, 'তোমরা পশুপাখিদের এভাবে বেঁধে হত্যা করার জন্য তির নিক্ষেপ করতে তোমাদের ছেলেদের নিষেধ করবে। কারণ, পশুপাখি প্রভৃতিকে বেঁধে তির নিক্ষেপে হত্যা করার ব্যাপারে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিষেধাজ্ঞা শুনেছি আমি। '৯৩১

সাইদ বিন জুবাইর (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কিছু কুরাইশ তরুণের পাশ দিয়ে গমন করছিলেন। তখন তিনি দেখতে পেলেন, ছেলেরা একটি পাখিকে বেঁধে রেখে তার দিকে তির নিক্ষেপ করছে। প্রতিটি ব্যর্থ নিশানার পরিবর্তে তারা পাখির মালিককে একটি করে তির দিচ্ছে। ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে দেখে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তখন তিনি বলেন, "এ কাজটা কে করেছে? যে এ কাজ করেছে, তার ওপর আল্লাহর অভিশাপ। প্রাণ আছে, এমন কিছুকে তির-নিশানাবাজির লক্ষ্যবস্তু বানায় যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে অভিশাপ দিয়েছেন। "৯৩২

অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'যে ব্যক্তি জীবজন্তুকে লক্ষ্যভেদের উপকরণ বানায়, তার প্রতি আল্লাহর অভিশাপ। '৯৩৩

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'অর্থাৎ যেভাবে তোমরা চামড়া ও অন্যান্য বস্তুকে লক্ষ্যভেদের অনুশীলনের জন্য লক্ষ্যস্থল হিসেবে ব্যবহার করো, জীবজন্তুকে সেভাবে লক্ষ্যস্থল হিসেবে ব্যবহার কোরো না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ নিষেধাজ্ঞা হারামের অর্থে। এ জন্যই ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনায় এমন কর্মের কর্তার প্রতি আল্লাহর অভিশাপ দেওয়া হয়েছে। কারণ, এমন কর্ম জীবজন্তুকে শাস্তি দেওয়ার নামান্তর। এমন করলে সামনে থাকা প্রাণীটির জীবন বিপন্ন হয়। এমন কর্ম সম্পদের অপচয়। তির নিক্ষেপের পর জবাই না করা গেলে হালাল খাবারের একটা উৎস নষ্ট হয়ে গেল। আর যদি জবাই যোগ্য না হয়, তবে এ জীবের উপকার থেকে বঞ্চিত হতে হলো। '৯৩৪

টিকাঃ
৯৩০. সহিহুল বুখারি: ৫৫১৩, সহিহু মুসলিম: ১৯৫৬।
৯৩১. সহিহুল বুখারি: ৫৫১৪।
৯৩২. সহিহুল বুখারি: ৫৫১৫, সহিহু মুসলিম: ১৯৫৮।
৯৩৩. সুনানুন নাসায়ি: ৪৪৪২।
৯৩৪. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৩/১০৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 পশুর মুখে চিহ্ন আঁকতে এবং প্রহার করতে নিষেধ করেছেন

📄 পশুর মুখে চিহ্ন আঁকতে এবং প্রহার করতে নিষেধ করেছেন


জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশ দিয়ে কিছু গাধা হেঁটে গেল। সেগুলোর গালে চিহ্ন আঁকা ছিল। এ দেখে তিনি বললেন, "যে লোক এ চিহ্ন এঁকেছে, আল্লাহ তাকে অভিশপ্ত করুন। "৯৩৫

দ্বিতীয় এক বর্ণনায় এসেছে, 'গাধাগুলোকে দেখার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যে ব্যক্তি পশুর মুখে দাগ অঙ্কন করে অথবা পশুর মুখে প্রহার করে, আমি তাকে অভিশাপ দিয়েছি-তোমাদের কাছে কি এ সংবাদ পৌঁছেনি?"৯৩৬

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'মানুষ, গাধা, ঘোড়া, উট, খচ্চর, ছাগলসহ অন্যান্য সম্মানযোগ্য প্রাণীর মুখে আঘাত করা নিষিদ্ধ। তবে তো মানুষের মুখে আঘাত করা আরও মারাত্মক পাপ। কারণ, মানুষের সৌন্দর্য তার মুখে নিহিত। চেহারায় আঘাত করা বড়ই স্পর্শকাতর একজন মানুষের জন্য। কারণ, চেহারায় প্রহার করলে প্রহারের প্রভাব স্পষ্ট দেখা যায়। কখনো তা লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় প্রহৃত ব্যক্তির জন্য। কখনো-বা ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে প্রহৃত ব্যক্তির দেহের কোনো প্রত্যঙ্গের জন্য।'

অন্যদিকে উল্লেখিত হাদিসগুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত যে, পশুর চেহারায় দাগ দেওয়া নিষিদ্ধ কর্ম। মানুষের সম্মানের জন্য মানুষের মুখে দাগ আঁকাও হারাম। আর এমন কাজের কোনো প্রয়োজনও নেই। তাই মানুষের মুখে দাগ এঁকে তাকে কষ্টে ফেলা জায়িজ নেই।'

মানুষ ভিন্ন অন্য প্রাণীগুলোর ক্ষেত্রে আমাদের মাজহাবের একদল আলিম বলেন, 'এমন কাজ মাকরুহ।' ইমাম বাগাবি (রাহিমাহুল্লাহ) 'এমন কাজ জায়িজ নেই' বলে দলিল উল্লেখ করে হারাম হওয়া সাব্যস্ত করেন। আর হারাম হওয়াই অধিক স্পষ্ট। কারণ, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কাজকারীকে অভিশাপ দিয়েছেন। আর কোনো কাজের কারণে অভিশাপ দেওয়া, সে কাজটি হারাম হওয়া প্রমাণিত করে।'

অন্যদিকে, জীবজন্তুর মুখ ছাড়া দেহের অন্য জায়গায় দাগ আঁকা আমাদের মতে কোনো মতানৈক্য ছাড়াই জায়িজ। তবে জাকাত ও জিজিয়ার পশুগুলোকে চিহ্নিত করার জন্য দাগ এঁকে দেওয়া মুসতাহাব। এ ছাড়া অন্য কাজের পশুগুলোর মুখভিন্ন অন্য অঙ্গে চিহ্ন আঁকা মুসতাহাবও নয়, আবার নিষিদ্ধও নয়।'

অভিধান-প্রণেতাদের মতে, দাগ আঁকার অর্থ হচ্ছে, সেঁক দিয়ে চিহ্ন দেওয়া। ৯৩৭

টিকাঃ
৯৩৫. সহিহু মুসলিম: ২১১৭।
৯৩৬. সুনানু আবি দাউদ: ২৫৬৪।
৯৩৭. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৪/৯৭।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 জীবজন্তুর অঙ্গ বিকৃতি ঘটাতে নিষেধ করেছেন

📄 জীবজন্তুর অঙ্গ বিকৃতি ঘটাতে নিষেধ করেছেন


আব্দুল্লাহ বিন জাফর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদল মানুষের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন, কিছু লোক তির নিক্ষেপ করছে একটি ভেড়ার দিকে। এ কাজটা তাঁর বেজায় অপছন্দ হলো। তিনি বললেন, "তোমরা পশুদের তির নিক্ষেপের লক্ষ্যবস্ত বানিও না” বা বললেন, "এভাবে তাদের অঙ্গবিকৃতি করো না।"৯৩৮

টিকাঃ
৯৩৮. সুনানুন নাসায়ি: ৪৪৪০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00