📄 জন্তুকে কষ্ট দেওয়া জাহান্নামে প্রবেশের কারণ
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'জন্তুকে কষ্ট দেওয়াটা অনেক সময় জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে।'
আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "একটি বিড়ালকে কষ্ট দেওয়ার কারণে এক নারীকে আজাব দেওয়া হয়েছে। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। না তাকে খাবার দিয়েছিল, না পানি দিয়েছিল। জমিনের কীটপতঙ্গ খেয়ে বাঁচার জন্য তাকে একটু ছেড়েও দেয়নি। ফলে বিড়ালকে কষ্ট দেওয়ার কারণে সে জাহান্নামে প্রবেশ করেছে। "৯২১
ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ হাদিস প্রমাণ করে, বিড়াল হত্যা করা হারাম এবং খাদ্য-পানীয় না দিয়ে বিড়ালকে আটকে রাখাও হারাম। '৯২২
টিকাঃ
৯২১. সহিহুল বুখারি: ৩৪৮২, সহিহু মুসলিম: ২২৪২।
৯২২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৪/২৪০।
📄 পশুপাখির প্রতি সদয় হওয়া জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'পশুপাখির প্রতি সদয় হওয়া জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম।' আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "একদা এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ভীষণ পিপাসার্ত হয়ে পড়ল। সে একটি কূপ দেখে সেখানে নেমে পানি পান করে আবার ওপরে উঠে আসলো। তখন লোকটি দেখতে পেল, একটি কুকুর হাঁপাচ্ছে আর পিপাসার জ্বালায় মাটি খাচ্ছে। সে নিজে নিজে বলে উঠল, পিপাসার তাড়নায় আমার যেই অবস্থা হয়েছিল, এই কুকুরটিরও একই অবস্থা হয়েছে। অতঃপর সে পুনরায় কূপে নেমে তার মোজার মধ্যে পানি ভরে নিল। মুখে পানিভর্তি মোজা ধরে নিয়ে কূপ থেকে উঠে এল। এরপর কুকুরকে পানি পান করিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করল।'
কুকুরটি আল্লাহর কাছে লোকটির জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করল এবং আল্লাহ তাআলা এই অসিলায় লোকটিকে মাফ করে দিলেন।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শুনে সাহাবায়ে কিরাম বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, চতুষ্পদ জন্তুর উপকার করলে আমাদের জন্য কোনো প্রতিদান আছে?"
উত্তরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “প্রত্যেক তাজা কলিজার অধিকারীর (জীবিত প্রাণী) ক্ষেত্রেই প্রতিদান রয়েছে।"৯২৩
অর্থাৎ প্রতিটি জীবিত প্রাণীকে পান করানো, আহার করানোসহ প্রভৃতি কল্যাণময় কাজে প্রতিদান রয়েছে। হাদিসে তাজা কলিজার অধিকারী বলার কারণ হচ্ছে, জীব মারা গেলে তার দেহ ও কলিজা শুকিয়ে যায়।
দাউদি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'তাজা কলিজার অধিকারী অর্থাৎ প্রতিটি জীবিত প্রাণীর উপকার করলে প্রতিদান রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে। এ কথাটি সকল প্রাণীর ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য।'
ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'প্রাণীদের উপকার করার এ ব্যাপকতার সীমা সম্মানযোগ্য প্রাণীগুলোর সাথে বিশেষায়িত। আর এগুলোকেও ততক্ষণ পর্যন্ত মারা হবে না, যতক্ষণ না শরয়ি কোনো কারণ পাওয়া যায়। এসব প্রাণী চাই নিজের মালিকানাধীন হোক বা অন্য কারও মালিকানাধীন কিংবা মালিকানাহীন হোক—সর্বাবস্থায়ই এগুলোকে পানি পান করানো, কিছু খেতে দেওয়াসহ প্রভৃতি উপায়ে এগুলোর প্রতি সদাচরণ করা সাওয়াবের কাজ। '৯২৪
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "একটি কুকুরের পিপাসায় জান যায় যায় অবস্থা। বেচারা একটি কুয়ার পাশে ঘোরাঘুরি করছে তৃষ্ণায় কাতর হয়ে। তখন বনি ইসরাইলের পতিতাদের এক পতিতা তাকে দেখতে পেল। সে নিজের মোজা কুয়াতে ফেলে পানি তুলে আনল। আর কুকুরটিকে পানি পান করতে দিল। তার এ সদাচরণ দেখে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হলো।"৯২৫
টিকাঃ
৯২৩. সহিহুল বুখারি: ২৩৬৩, সহিহু মুসলিম: ২২৪৪।
৯২৪. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৪/২৪১।
৯২৫. সহিহুল বুখারি: ৩৪৬৭, সহিহ মুসলিম: ২২৪৫।
📄 জীবজন্তুকে খাওয়ালে কল্যাণ রয়েছে
আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কোনো মুসলিম চারা রোপণ করলে বা ফসল ফলালে তা থেকে পাখি, মানুষ বা চতুষ্পদ জন্তু খেলে রোপণকারীর জন্য তা সাদাকা হবে।"৯২৬
টিকাঃ
৯২৬. সহিহুল বুখারি: ২৩২০, সহিহু মুসলিম: ১৫৫৩।
📄 মা পাখি ও তার ছানার মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে নিষেধ করেছেন
ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম একটি সফরে। তিনি তাঁর প্রয়োজন সারতে আমাদের থেকে আলাদা হলেন। এ সময় আমরা হুম্মারা পাখির ৯২৭ সাথে দুটি ছানা দেখলাম। ছানাদুটি নিয়ে। নিলাম আমরা। পাখিটি এসে তখন ডানা ঝাপটাতে শুরু করল।'
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে এ অবস্থা দেখলেন। তিনি বললেন, "এ পাখিটির সাথে তার সন্তানদের বিচ্ছেদ ঘটাল কে? তোমরা তার ছানাগুলো তাকে ফিরিয়ে দাও।"
এরপর তিনি দেখলেন, পিঁপড়ার একটি ঢিবি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "এটি কে পোড়াল?"
সাহাবিগণ উত্তর দিলেন, "আমরা।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আগুনের রব ছাড়া আগুন দিয়ে শাস্তি দেওয়ার অন্য কারও অধিকার নেই।"৯২৮
খাত্তাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ হাদিস প্রমাণ করে ভীমরুলের বাসা পোড়ানোও শরিয়তের দৃষ্টিতে মাকরুহ। কারণ, এর তেমন প্রয়োজনীয়তা নেই। পোড়ানো ছাড়াই অন্যভাবে ভীমরুল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।'
পিঁপড়া দুই ধরনের হয়ে থাকে। ক্ষতিকর পিঁপড়া মারা স্বাভাবিকভাবে জায়িজ। কিন্তু যে পিঁপড়া ক্ষতিকর নয়, সেগুলো মারা জায়িজ নয়। এ পিঁপড়াগুলোর পা লম্বা লম্বা হয়ে থাকে। '৯২৯
টিকাঃ
৯২৭. হুম্মারা চড়ুই'র মতো ছোট জাতের পাখি।
৯২৮. সুনানু আবি দাউদ: ২৬৭৫।
৯২৯. আওনুল মাবুদ: ৭/২৪০।