📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নিজের পালিত জন্তুদের নাম রাখতেন

📄 নিজের পালিত জন্তুদের নাম রাখতেন


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উট, ঘোড়া ও খচ্চরসহ বেশ কিছু চতুষ্পদ জন্তু ছিল, যেগুলোর তিনি নামও রাখতেন।

ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্তুগুলোর বৃত্তান্ত সবিস্তারে উল্লেখ করেছেন।

ঘোড়া

সাকাব: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি ঘোড়ার নাম ছিল সাকাব। বলা হয়, এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মালিকানায় আসা প্রথম ঘোড়া। মুখে সাদা ছোপ ছোপ দাগ ছিল এ ঘোড়ার। ঘোড়ার পায়েও এমন সাদা রং ছিল। ঘোড়ার গায়ের রং ছিল কালো ও লালের মাঝে।

মুরতাজিজ: এ ঘোড়ার গায়ের রং ছিল ধূসর। এক বেদুইন এ ঘোড়ার ব্যাপারে মালিকানা দাবি করেছিল। তখন খুজাইমা বিন সাবিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এ ঘোড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বলে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আরও কয়েকটি ঘোড়ার নাম হচ্ছে, লুহাইফ, লাজ্জাজ, জারব, সাবহা ও ওয়ারদ। এ সাতটি ঘোড়ার ব্যাপারে সিরাতপ্রণেতাদের ঐকমত্য রয়েছে। ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন জিমাআহ শাফিয়ি (রাহিমাহুল্লাহ) এ সাতটি ঘোড়ার নাম একত্র করেছেন একটি কবিতায়:

وَالْخَيْلُ سَكْبُ الخَيْفُ سَبْحَةً طَرِبٌ ... لِزَازُ مُرْتَجَزُّ وَرْدٌ لَهَا اسْرَارُ

খচ্চর

দুলদুল নামের খচ্চরটির গায়ের রং ছিল ধূসর। মিশরের শাসক মুকাওকিস রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ খচ্চরটি হাদিয়া দিয়েছিলেন।

আরেকটি খচ্চরের নাম ছিল ফিদ্দাহ। এ খচ্চরটি ফারওয়া জুজামি হাদিয়া দিয়েছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আরেকটি খচ্চর ছিল। রং ছিল ধূসর। খচ্চরটি আইলা অঞ্চলের শাসকের পক্ষ থেকে হাদিয়া ছিল।

গাধা

তাঁর একটি গাধার নাম ছিল উফাইর। ধূসর রঙের ছিল এটি। কিবতের শাসক মুকাওকিসের পক্ষ থেকে উপহার ছিল এটি।

এ ছাড়াও ফারওয়া জুজামির পক্ষ থেকে হাদিয়া পাওয়া একটি গাধা ছিল তাঁর।

বর্ণিত আছে, সাদ বিন উবাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে একটি গাধা উপহার দিয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায় সময় এ গাধাতে চড়তেন।

উট

কাসওয়া: বলা হয়, এ উটটিতে করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে এসেছিলেন।

আজবা ও জাদআ: আজবা অর্থ হচ্ছে, ভাঙা শিংওয়ালা পশু। আর জাদআ অর্থ হচ্ছে, কান-কাটা পশু। আজবা ও জাদআ স্রেফ নাম ছিল। আদতে এ দুটি উটের ভাঙা শিং বা কান কাটা ছিল না। কিন্তু বলা হয়, একটি উটের কান আসলেই কাটা ছিল। আবার এ বিষয়েও মতভেদও আছে যে, আজবা ও জাদআ কি দুটি উট না একটি উটের দুটি নাম!

আজবা নামের এ উটটিকে কোনো উট হারাতে পারত না। কিন্তু একদিন এক বেদুইন বসার যোগ্য একটি উটে চড়ে আসলো। এ উট দিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও প্রতিযোগিতা করলেন তার সাথে। বেদুইনের সে উট আজবার আগে চলে গেল। এ দেখে মুসলিমদের মনে বেশ কষ্ট লাগল। দুঃখভরা কণ্ঠে তারা বলল, "আজবা হেরে গেল।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের মুখে কষ্টের রেখা দেখে বললেন, "এটাই আল্লাহর নীতি। দুনিয়ার সব উত্থানের পর পতন আছেই।"৮৯৭

বদরের দিন 'মাহরি' নামের একটি উট গনিমত হিসেবে পেয়েছিলেন তিনি। আবু জাহেলের ছিল এ উটটি। উটের নাকে রুপার নোলক ছিল। হুদাইবিয়ার দিন মুশরিকদের অন্তর্জালা সৃষ্টির জন্য এ উটটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাইয়ের জন্য হাদি হিসেবে নিয়েছিলেন। ৮৯৮

ছাগল

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মালিকানায় একশটি ছাগল ছিল। তিনি চাইতেন না ছাগলের সংখ্যা বাড়ুক। তাই যখনই ছাগলের একটি বাছুর হতো, তার স্থলে একটি ছাগল জবাই করতেন তিনি। উম্মে আইমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দানকৃত আরও সাতটি ছাগল ছিল। ৮৯৯

লাকিত বিন সাবরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একটি প্রতিনিধি দলের সাথে আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। কিন্তু তাকে তাঁর বাড়িতে পাইনি। বাড়িতে উম্মুল মুমিনিন আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ছিলেন। তিনি আমাদের আপ্যায়নের জন্য খাজিরা৯০০ তৈরির আদেশ দিলে তা তৈরি করা হচ্ছিল। এদিকে আমাদের কাছে এক পাত্র খেজুর আনা হলো।'

এ সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন। আমাদের বললেন, "তোমাদের আপ্যায়ন করা হয়েছে বা তোমাদের আপ্যায়নের জন্য বলা হয়েছে?"

আমরা বললাম, “হাঁ, আল্লাহর রাসুল।"

এরপর আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বসে রইলাম। তখন রাখাল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এক পাল ছাগল খোঁয়াড়ে রাখছিল। রাখালের সাথের একটি ছাগল আওয়াজ করছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "হে অমুক, আজ কী বাচ্চা জন্মেছে?"

রাখাল জবাব দিল, "একটি মাদি ছাগলছানা।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তবে তার স্থানে একটি ছাগল জবাই করো।"

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেন, "মনে কোরো না যে, তোমাদের জন্য জবাই করছি। আমাদের একশ ছাগল আছে। ছাগলের সংখ্যা এর চেয়ে বাড়ুক, তা আমরা চাই না। তাই যখন কোনো ছাগল প্রসব করে, তখন সদ্যপ্রসূত বাচ্চার স্থলে একটি ছাগল জবাই করা হয়। "৯০১

টিকাঃ
৮৯৬. সুরা আন-নাহল, ১৬: ৫-৮।
৮৯৭. সহিহুল বুখারি: ২৮৭২।
৮৯৮. সুনানু আবি দাউদ: ১৭৪৯, সুনানু ইবনি মাজাহ: ৩১০০।
৮৯৯. জাদুল মাআদ: ১/১২৮।
৯০০. খাজিরা ময়দা ও গোশতের মিশ্রণে তৈরি খাবার। এ খাবার তৈরির জন্য গোশত ছোট ছোট করে টুকরো করা হয়। এরপর পানি ঢেলে পাকানো শুরু হয়। গোশত পাকানো হয়ে গেলে তার ওপর ময়দা ঢেলে দেওয়া হয়। গোশত ব্যতীত এ খাবারটা তৈরি করলে, তাকে আসিদা বলে।
৯০১. সুনানু আবি দাউদ: ১৪২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তিনি ঘোড়া ভালোবাসতেন

📄 তিনি ঘোড়া ভালোবাসতেন


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোড়া ভালোবাসতেন, ঘোড়ার যত্ন করতেন এবং অন্যদের এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিতেন।

মাকিল বিন ইয়াসার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'ঘোড়ার চেয়ে অধিক প্রিয় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অন্য কিছু ছিল না। এরপর তিনি বলে উঠলেন, “হে আল্লাহ, আমায় ক্ষমা করুন। ভুল বলেছি; বরং তাঁর কাছে স্ত্রীই ছিল অধিক প্রিয়।"৯০২

আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একদিন দেখা গেল, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদর দিয়ে তাঁর ঘোড়ার মুখ মুছে দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, “ঘোড়ার ব্যাপারে গত রাতে আমাকে তিরস্কার করা হয়েছে।"৯০৩

আবু ওয়ালিদ সুলাইমান আল-বাজি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'ঘোড়ার মর্যাদা বর্ণনা করতে, ঘোড়ার রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ দৃষ্টি দিতে এবং ঘোড়ার প্রতি উত্তম আচরণ করার গুরুত্ব বোঝানোর জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপন চাদর দিয়ে ঘোড়ার মুখ মুছে দিচ্ছিলেন।'

পূর্বে এমন কিছু দেখা যায়নি বলে তাঁর কাছে এ প্রশ্নটি করা হয়েছিল। প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, “ঘোড়ার পরিচর্যা করেন না বলে তাঁকে তিরস্কার করা হয়েছে।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথা থেকে বোঝা যাচ্ছে, ঘোড়ার রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচর্যা ও যত্ন করার প্রতি আরও গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তাঁকে তিরস্কার করা হয়েছে। কারণ, ঘোড়া সাওয়াব ও গনিমতের মাধ্যম। ঘোড়ার মাধ্যমে অনেক সাওয়াব এবং যুদ্ধের ময়দানে গনিমত লাভ হয়। '৯০৪

জারির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখলাম, তিনি ঘোড়ার কপালের চুল বিন্যাস করছেন আর বলছেন, "ঘোড়ার কপালে কিয়ামত পর্যন্ত কল্যাণ নিহিত আছে। কল্যাণগুলো হচ্ছে, প্রতিদান ও গনিমত। "৯০৫

খাত্তাবি (রাহিমাহুল্লাহ)-সহ মুহাদ্দিসগণ বলেন, 'কপাল বলে এখানে পুরো ঘোড়া উদ্দেশ্য। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, ঘোড়া লালনপালন করা মুসতাহাব। যুদ্ধের জন্য এবং আল্লাহর শত্রুদের বিরুদ্ধে কিতাল করার উদ্দেশ্যে ঘোড়া ক্রয় করা ও প্রস্তুত করা শরিয়তে প্রশংসনীয় কাজ। ঘোড়া অনেক কল্যাণ ও মর্যাদার অধিকারী। আর এ হাদিস থেকে আরও বোঝা যায়, কিয়ামত পর্যন্ত জিহাদ চলমান থাকবে। '৯০৬

টিকাঃ
৯০২. মুসনাদু আহমাদ: ১৯৮০১। শুআইব আরনাউত-এর মতে হাদিসটি হাসান লি-গাইরিহি। আলবানি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন হাদিসটি জইফ।
৯০৩. সুনানুত তিরমিজি: ১৬৯৬।
৯০৪. আল-মুনতাকা শারহুল মুয়াত্তা: ৩/২১৬।
৯০৫. সহিহু মুসলিম: ১৮৭২।
৯০৬. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৩/১৬।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শিকাল ঘোড়া অপছন্দ করতেন তিনি

📄 শিকাল ঘোড়া অপছন্দ করতেন তিনি


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিকাল ঘোড়া অপছন্দ করতেন। '৯০৭

শিকাল হচ্ছে, ঘোড়ার পেছনের ডান পা ও সামনের বাম পায়ে সাদা রঙের ছটা থাকা। অথবা সামনের ডান পা ও পেছনের বাঁ পায়ে সাদা রঙের ছটা থাকা।

আবু উবাইদ (রাহিমাহুল্লাহ) ও অধিকাংশ ভাষা বিশেষজ্ঞগণ বলেন, 'তিন পা সাদা-শুভ্র এবং এক পা সাধারণ বর্ণের হলে সে ঘোড়াকে শিকাল বলে। অধিকাংশ সময় শিকাল ঘোড়ার তিন পা এক রঙের হয়। এ ব্যাপারে এ ছাড়াও অনেক অভিমত পাওয়া যায়।'

একটি মত হচ্ছে, এ রকম ঘোড়ার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতায় পাওয়া গেছে যে, এগুলো অভিজাত ঘোড়া হয় না। '৯০৮

টিকাঃ
৯০৭. সহিহু মুসলিম: ১৮৭৫।
৯০৮. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৩/১৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বিড়ালকে খাওয়াতেন, পান করাতেন এবং আদর করতেন

📄 বিড়ালকে খাওয়াতেন, পান করাতেন এবং আদর করতেন


আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিড়ালের জন্য পানির পাত্র রাখতেন। বিড়াল পানি পান করে নিলে বাকি পানি দিয়ে অজু করে নিতেন তিনি। '৯০৯

আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "বিড়াল অপবিত্র প্রাণী নয়। বিড়াল তোমাদের ঘরে আসা-যাওয়া করে এমন একটি প্রাণী। আর আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, বিড়ালের পান করা পানির অবশিষ্টাংশ দিয়ে অজু করেছেন তিনি। "৯১০

কাব বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মেয়ে কাবশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ছিলেন আবু কাতাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পুত্রবধূ। তিনি বলেন, 'একবার আবু কাতাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বাইরে থেকে এলে আমি তাঁকে অজুর পানি দিলাম। এ সময় একটি বিড়াল এসে পাত্র থেকে পান করতে লাগলে আবু কাতাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পাত্রটা হেলিয়ে ধরলেন বিড়ালের জন্য। বিড়াল পানি পান করে নিল। কাবশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, "আবু কাতাদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দেখলেন, আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি বললেন, "তুমি দেখছি, আশ্চর্য হয়েছ!" আমি বললাম, "জি।" তিনি বললেন, "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "বিড়াল অপবিত্র প্রাণী নয়। সে তো তোমাদের ঘরে আসা-যাওয়া করে এমন একটি প্রাণী।"৯১১

ইমাম বাগাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়তো বিড়ালের সাদৃশ্য দিয়েছেন দাস-দাসীর সাথে। দাস-দাসী সেবার জন্য রাখা হয়। তারা সেবা করার জন্য পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কাছে যাওয়া-আসা করে। পরিবারের মাঝে তাদের আনাগোনা থাকে। তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন, )طَوَّافُونَ عَلَيْكُمْ( অর্থাৎ “তোমাদের একজনকে অন্যজনের নিকট তো যাতায়াত করতেই হয়।" [সুরা আন-নুর, ২৪: ৫৮]

অথবা হতে পারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিড়ালকে তাদের সাথে সাদৃশ্য দিয়েছেন, যারা কোনো প্রয়োজনের জিনিসটি নেওয়ার জন্য এসে থাকে। মূল কথা হচ্ছে, যে মানুষটি কোনো প্রয়োজনে এসে থাকে, তার প্রয়োজন মেটানো যেমন সাওয়াবের কাজ, তেমনই বিড়ালের প্রয়োজন মেটানোও সাওয়াবের কাজ। '৯১২

টিকাঃ
৯০৯. তাবারানি কৃত আল-আওসাত: ৭৯৪৯।
৯১০. সুনানু আবি দাউদ: ৭৬।
৯১১. সুনানু আবি দাউদ: ৭৫, সুনানুত তিরমিজি: ৯২, সুনানুন নাসায়ি ৮৬, সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৬৭।
৯১২. শারহুস সুন্নাহ: ২/৭০। ঈষৎ পরিমার্জিত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00