📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ জিনদের কুরআন পড়ে শুনিয়েছেন

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ জিনদের কুরআন পড়ে শুনিয়েছেন


আলকামা (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞেস করলাম, "জিনের রাতে কেউ কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন?"

ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "না। তবে এক রাতে আমরা মক্কায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে আমরা তাঁকে হারিয়ে ফেলি। উপত্যকা, গিরিপথে আমরা তাঁকে খুঁজতে থাকলাম। কিন্তু না পেয়ে আমরা মনে মনে বললাম, "হয়তো জিনেরা তাঁকে উড়িয়ে নিয়ে গেছে বা গোপনে কেউ তাঁকে হত্যা করেছে। সে রাত আমাদের জন্য সবচেয়ে মন্দ রাত ছিল।"

পরের দিন সকালবেলায় দেখলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেরা পর্বতের দিক থেকে আসছেন। আমরা বললাম, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমরা আপনাকে হারিয়ে হন্যে হয়ে খুঁজলাম। কিন্তু আপনাকে কোথাও পেলাম না। গতরাত আমরা সবচেয়ে মন্দ রাত কাটিয়েছি।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমার কাছে জিনদের এক আহ্বায়ক এসেছিল। আমি তার সাথে গেলাম, তারপর তাদের কুরআন পড়ে শোনালাম।"

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সেখানে নিয়ে গেলেন। তাদের বিভিন্ন চিহ্ন ও আগুনের নিদর্শন আমাদের দেখালেন।'

জিনরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে খাবারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, “আল্লাহর নামে জবাইকৃত পশুর হাড় তোমাদের খাবার। তোমাদের হাতে সে হাড় আসলে তা আগের চেয়ে বেশি গোশতে পূর্ণ হয়ে যাবে। আর উটের বিষ্ঠা তোমাদের পশুর খাবার।"

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা এ দুটি জিনিস দিয়ে ইসতিনজা করবে না। কারণ, এ দুটি তোমাদের ভাইদের খাবার।"৮৮৯

টিকাঃ
৮৮৯. সহিহু মুসলিম: ৪৫০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাদের মনোযোগ দিয়ে কুরআন শোনার প্রশংসা করতেন

📄 তাদের মনোযোগ দিয়ে কুরআন শোনার প্রশংসা করতেন


জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদের নিকট আসলেন। অতঃপর তাদের সামনে 'সুরা আর-রাহমান' শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেন। সাহাবিরা চুপ করে রইলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "জিনের রাতে আমি এই সুরা তাদের সামনে তিলাওয়াত করেছিলাম। তাদের প্রতিক্রিয়া তোমাদের চেয়ে উত্তম ছিল। যখনই আমি )فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ( “তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?"-এই আয়াত পর্যন্ত পৌঁছাতাম, তারা বলত, “হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা আপনার কোনো নিয়ামতকেই অস্বীকার করতে পারি না। আপনার জন্যই সকল প্রশংসা।"৮৯০

টিকাঃ
৮৯০. সুনানুত তিরমিজি: ৩২৯১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মু’মিন জিনদের খাবারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করতেন

📄 মু’মিন জিনদের খাবারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করতেন


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অজুর পানি ও প্রাকৃতিক প্রয়োজনের পানির পাত্র বহন করতেন। একদিন ইসতিনজার পানি নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পিছু পিছু আসছিলেন তিনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন জিজ্ঞেস করলেন, “কে?” আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "আমি আবু হুরাইরা।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমাকে কিছু পাথর এনে দাও ইসতিনজা করার জন্য। তবে হাড় ও গোবর আনবে না।"

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এরপর আমি আমার কাপড়ের এক প্রান্তে কয়েকটি পাথর তুলে আনলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে রেখে চলে এলাম সেখান থেকে। ইসতিনজা সেরে তিনি বের হয়ে এলেন। আমি তখন বললাম, "হাড় ও গোবরের বিষয়টা কী?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "এ দুটি জিনের খাবার। নাসিবিনের জিন প্রতিনিধি দল আমার কাছে এসেছিল। বড় ভালো জিন ছিল তারা। আমাকে তাদের খাবার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। আমি তখন আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম, তারা যখনই কোনো হাড় ও গোবর পায়, তখন যেন তা খাদ্যে পূর্ণ থাকে।"৮৯১

টিকাঃ
৮৯১. সহিহুল বুখারি: ৩৮৬০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মু’মিন জিনদের কষ্ট দেওয়া থেকে সাবধান করতেন

📄 মু’মিন জিনদের কষ্ট দেওয়া থেকে সাবধান করতেন


আবু সাইদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'মদিনার কিছু জিন ইসলাম গ্রহণ করেছে। তোমরা যদি তাদের চিহ্ন দেখে তাদের চিনতে পারো, তবে তিনবার সতর্ক সংকেত দেবে। এরপরও যদি তোমাদের সামনে প্রকাশ পায়, তবে হত্যা করবে জিনকে। কারণ, (সে মুসলিম নয়) সে শয়তান। '৮৯২

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আলিমগণ বলেন, হাদিসের মর্মার্থ হচ্ছে, যখন তোমরা দেখবে, তিনবার সতর্ক করার পরও সে যাচ্ছে না, তবে তোমরা বুঝে নেবে, সে বাড়িঘরের কোনো জীব নয় এবং কোনা মুসলিম জিনও নয়; বরং সে শয়তান জিন। তাকে হত্যা করতে তোমাদের আর কোনো বাধা থাকবে না। তোমরা তাকে হত্যা করবে। প্রতিশোধ নিতে তোমাদের ওপর চড়াও হওয়ার পথ আল্লাহ তার জন্য রাখেননি। অন্যদিকে বাড়িঘরের জীব ও মুমিন জিনের সে শক্তি আছে।'৮৯৩

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'অন্যায়ভাবে কোনো মানুষকে হত্যা করা জায়িজ নেই, তেমনই অন্যায়ভাবে কোনো জিনকেও হত্যা করা জায়িজ নেই। জুলুম সর্বাবস্থায়ই হারাম। কারও ওপর জুলুম করা কখনো হালাল নয়। এমনকি কাফির হলেও তার ওপর জুলুম করা জায়িজ নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ

"কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতার কারণে কখনো ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করো না। সুবিচার করো। এটাই আল্লাহভীতির অধিক নিকটবর্তী। আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা যা করো, নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে অবগত।" [সুরা আল-মায়িদা: ৮]৮৯৪

টিকাঃ
৮৯২. সহিহু মুসলিম: ২২৩৬।
৮৯৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৪/২৩৬।
৮৯৪. মাজমুউল ফাতাওয়া: ১৯/৪৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00