📄 শিশুদের সাথে সর্বদা সত্য বলার ওপর গুরুত্বারোপ করতেন
আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বাড়িতে এলেন। আমার মা আমাকে ডাকতে গিয়ে বললেন, "এদিকে এসো, তোমাকে এ বস্তুটি দেবো।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাকে বললেন, "তুমি তাকে কী দিতে চাইছ?"
মা বললেন, "তাকে খেজুর দেবো।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার বললেন, "কিছু না দিয়ে এমনিতে তাকে ডাকার জন্য এ কথাটি বললে তোমার আমলনামায় একটা মিথ্যা লেখা হতো।"৮৮২
এ হাদিস থেকে প্রমাণিত হয়, শিশুরা কাঁদলে সাধারণত মা-বাবারা তাদের কিছু দেওয়ার মিথ্যা কথা বলে বা তাদের কোনো কিছুর ভয় দেখিয়ে কান্না থামায়। তাদের এমন কথা ও কাজ মিথ্যা ও হারাম। ৮৮৩
সন্তানদের মিথ্যা বললে মা-বাবার প্রতি তাদের দৃঢ়তা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে তারা বাবা-মার কথা শোনে না। বাবা-মা যে রকম মিথ্যা কথা বলে, তারাও সেভাবে মিথ্যা বলার প্রতি প্ররোচিত হয়। কারণ, সন্তান বাবা-মার আচার-আচরণ দেখে শেখে। বাবা-মার কথা নয়; বরং তাদের চরিত্রকেই তারা অনুসরণ করে।
তাই সন্তানকে শান্ত করার সময় বা তাদের হাসানো, গল্প বলা, কাহিনি শোনানোর সময় সত্য বলা ওয়াজিব। মিথ্যা নিকৃষ্ট দোষগুলোর একটি। সহজেই যে কেউ মিথ্যা বলতে পারে। কিন্তু বলা যতটা সহজ, এর চিকিৎসা ততটাই কঠিন।
পরিশেষে বলব, ছোটদের সাথে আচার-আচরণের ভিত্তি হবে নম্রতা ও মমতা। তাদের সম্মান-মর্যাদা দিতে হবে। তাদের ব্যক্তিত্ব গঠন করতে হবে। তাদের মাঝে সমতাবিধান করতে হবে। আত্মবিশ্বাসী-রূপে তাদের গড়ে তুলতে হবে। তাদের মাঝে মুমিনদের ভালোবাসা জাগিয়ে তুলতে হবে।
তাদের পরস্পরের মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে দিতে হবে।
টিকাঃ
৮৮২. সুনানু আবি দাউদ: ৪৯৯১।
৮৮৩. আওনুল মাবুদ: ১৩/২২৯।