📄 উত্তম আচরণের মাধ্যমে শিশুদের গড়ে তোলা নববি শিক্ষা
শিশুদের সাথে হাস্যরস করে কথা বলা, তাদের আদর-স্নেহ করা, সোহাগ করে গালে মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া, তাদের চুমু খাওয়া ছোটদের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আচরণের অন্যতম অংশ। তবে এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং আদর-সোহাগ করা ছাড়াও তিনি ছোটদের উত্তম প্রতিপালন করতেন এবং সঠিক নির্দেশনা দিতেন।
আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, "বৎস, তোমার বাড়িতে যখন যাবে, তখন তাদের সালাম দেবে। তাহলে তা বরকতময় হবে তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য।"৮৭২
অর্থাৎ সালাম বরকত, কল্যাণ ও আল্লাহর রহমত বৃদ্ধির মাধ্যম হবে। ৮৭৩
টিকাঃ
৮৭২. সুনানুত তিরমিজি: ২৬৯৮।
৮৭৩. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৭/৩৯৭।
📄 শিশুদের খানাপিনার আদব শেখাতেন
উমর বিন আবু সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তত্ত্বাবধানে ছিলাম ছোটবেলায়। খাবার প্লেটে আমার হাত (চারদিকে) ঘোরাঘুরি করত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, "বেটা, আল্লাহর নাম নাও এবং ডান দিক থেকে খাও। তোমার সামনে যা আছে, তা থেকে খাও।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথার পর থেকে এটাই ছিল আমার খাবার খাওয়ার পদ্ধতি। '৮৭৪
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোটদের সাথে খাবার খাওয়ার সময় তাদের মাঝে আদবের কোনো ঘাটতি দেখলে বা বিপরীত দেখলে তাদের নসিহত করতেন এবং তাদের শিখিয়ে দিতেন।
টিকাঃ
৮৭৪. সহিহুল বুখারি: ৫৩৭৬, সহিহু মুসলিম: ২০২২।
📄 তাদের কেউ ভুল করলে নরম ভাষায় শুধরে দিতেন
ছোটদের কেউ ভুল করলে তাদের সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আচরণের মূলনীতি ছিল নির্দেশনামূলক। ছোটদের কম বয়স হিসেবে তাদের যেভাবে শুধরানো দরকার, সেভাবে তাদের শুধরে দিতেন তিনি।
আবু রাফি বিন আমর গিফারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'বাল্যকালে একবার আনসারদের খেজুর গাছে ঢিল ছুড়ছিলাম আমি। তারা আমাকে ধরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে গেলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, "বেটা, খেজুর গাছে ঢিল মারো কেন?"
আমি বললাম, "ক্ষুধার জ্বালায়, হে আল্লাহর রাসুল।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তবে খেজুর গাছে ঢিল মারবে না। গাছের নিচে যা পড়বে, সে খেজুরগুলো খাবে।"
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, "আল্লাহ তোমাকে পরিতৃপ্ত করুন। তোমার তৃষ্ণা নিবারণ করুন।"৮৭৫
টিকাঃ
৮৭৫. সুনানুত তিরমিজি: ১২৮৮, মুসনাদু আহমাদ: ১৯৮৩০।
📄 তাদের সঙ্গে স্নেহভরা বাক্যে কথা বলতেন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোটদেরকে তাদের সবচেয়ে সুন্দর নাম বা কুনিয়াত বা বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে ডাকতেন। কখনো কোনো শিশুকে ডাকার সময় বলতেন 'বেটা, আমি তোমাকে কিছু বাক্য শেখাব।' কখনো-বা বলতেন, 'বেটা, আল্লাহর নাম নাও। ডান দিক থেকে খাও।'
কখনো ডাকতেন 'বৎস' বলে। যেমন: হিজাবের আয়াত নাজিল হওয়ার পর আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন, 'বৎস, তোমার পেছনে। '৮৭৬
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচাতো ভাই জাফর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঘরে এসে তার সন্তানদের ডাকার নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, 'তোমরা আমার ভাইয়ের প্রিয় সন্তানদের ডেকে দাও।'
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তাদের কুনিয়ত ধরে ডেকেছিলেন। যেমন: এক ছোট শিশুকে 'হে আবু উমাইর' বলে ডেকেছিলেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কত আদর করে, স্নেহভরা কণ্ঠে শিশু ও কিশোর সাহাবিদের ডাকতেন! কিন্তু আজ মুসলিমদের মাঝে ভর করে নিয়েছে কঠোরতা। তারা শিশুদের সাথে কঠোর আচরণ করে বসে প্রায় সময়।
টিকাঃ
৮৭৬. মুসনাদু আহমাদ: ১১৯৫৮।