📄 শিশুদের উপহার দিতেন
উপহার সাধারণভাবে সকল মানুষের মনে একটি সুন্দর ও ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। শিশুদের মনে উপহার একটু বেশিই প্রভাব বিস্তার করে। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের উপহার দিতেন।
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'ফসল তোলার পর প্রথম খেজুরের ছড়াটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেওয়া হতো। তখন তিনি দোয়া করতেন:
اللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا، وَفِي ثِمَارِنَا، وَفِي مُدَّنَا، وَفِي صَاعِنَا بَرَكَةً مَعَ بَرَكَةٍ
“হে আল্লাহ, আমাদের মদিনায় বরকত দিন, আমাদের ফসল, আমাদের মুদ, আমাদের সা'-এর মাঝে বরকত দিন। বরকতের ওপর বরকত দিন।"
দোয়া করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত শিশুদের সবচেয়ে ছোট্টটির হাতে খেজুরগুলো দিয়ে দিতেন। '৮৬৭
ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুপম চরিত্রের একটি দিক ফুটে উঠেছে। সে সাথে ফুটে উঠেছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দয়া ও আদর-স্নেহের অতুলনীয় চিত্র। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড়-ছোট সবাইকে স্নেহে আগলে রাখতেন। বিশেষ করে ছোটদের প্রতি স্নেহ করতেন তিনি। কারণ, ছোটরাই স্নেহের প্রতি অধিক আগ্রহী। ছোটরা মায়া-মমতা ও আদর-স্নেহের খোঁজে থাকে সব সময়। '৮৬৮
উম্মে খালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে হাদিয়া দেওয়ার বর্ণনা আমরা একটু আগেই তো জেনে এসেছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে বললেন, 'নকশাদার কাপড়টি কাকে দেওয়া যায় বলে মনে করো তোমরা?' চুপ হয়ে থাকলেন সাহাবিরা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরপর নিজ থেকেই বললেন, 'উম্মে খালিদকে নিয়ে এসো।' উম্মে খালিদকে নিয়ে আসলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চাদরটি পরিয়ে দিলেন নিজ হাতে। ৮৬৯
টিকাঃ
৮৬৭. সহিহু মুসলিম: ১৩৭৩।
৮৬৮. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৯/১৪৬।
৮৬৯. সহিহুল বুখারি: ৫৮৪৮।
📄 ইলম শেখানো ও প্রতিপালনের প্রতি গুরুত্ব দিতেন
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একদিন আমি (বাহনের ওপর) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে বসা ছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, "হে বালক, আমি তোমাকে কয়েকটি কথা শিখিয়ে দিচ্ছি-আল্লাহর (বিধানসমূহের) হিফাজত করো, তিনি তোমার হিফাজত করবেন। আল্লাহর (বিধানসমূহের) হিফাজত করো, তাঁকে তোমার পাশে পাবে। [সচ্ছলতার সময় তাঁর সাথে পরিচিত হও, অসচ্ছলতার সময় তিনি তোমাকে চিনবেন।] কিছু চাইতে হলে একমাত্র আল্লাহর কাছেই চাও এবং সাহায্য কামনা করতে হলে একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য কামনা করো।'
আর জেনে রেখো, সকল মানুষ যদি একত্র হয়ে তোমার উপকার করতে চায়, তবে আল্লাহ তাআলা যা তোমার তাকদিরে লিখে রেখেছেন, সেটা ছাড়া কোনো উপকার করতে পারবে না। আর যদি সকল মানুষ একত্র হয়ে তোমার ক্ষতি করতে চায়, তবে আল্লাহ তাআলা যা তোমার তাকদিরে লিখে রেখেছেন, সেটা ছাড়া কোনো ক্ষতি পারবে না।'
(তাকদির লেখার) কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কাগজসমূহও শুকিয়ে গেছে। [অপছন্দনীয় বিষয়ের (বিপদ-আপদের) ওপর ধৈর্যধারণ করলে অনেক কল্যাণ অর্জিত হয়। আল্লাহর সাহায্য ধৈর্যের মাঝে নিহিত। সচ্ছলতা কষ্ট-মেহনতের মাঝে নিহিত। আর নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।]"৮৭০
টিকাঃ
৮৭০. সুনানুত তিরমিজি: ২৫১৬, মুসনাদু আহমাদ: ২৮০০ (তৃতীয় বন্ধনীর ভেতরের অংশ মুসনাদু আহমাদে অতিরিক্ত এসেছে)
📄 তাদেরকে কুরআন, ঈমান ও তাওহিদ শেখাতেন
জুনদুব বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তখন আমরা বালেগ হওয়ার কাছাকাছি বয়সের কিশোর। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আমাদের কুরআন শেখানোর আগে ইমান শেখালেন। এরপর কুরআন শেখালেন। এতে আমাদের ইমান বেড়ে গেল বহুগুণ। '৮৭১
টিকাঃ
৮৭১. সুনানু ইবনি মাজাহ: ৬১।
📄 উত্তম আচরণের মাধ্যমে শিশুদের গড়ে তোলা নববি শিক্ষা
শিশুদের সাথে হাস্যরস করে কথা বলা, তাদের আদর-স্নেহ করা, সোহাগ করে গালে মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া, তাদের চুমু খাওয়া ছোটদের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আচরণের অন্যতম অংশ। তবে এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং আদর-সোহাগ করা ছাড়াও তিনি ছোটদের উত্তম প্রতিপালন করতেন এবং সঠিক নির্দেশনা দিতেন।
আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, "বৎস, তোমার বাড়িতে যখন যাবে, তখন তাদের সালাম দেবে। তাহলে তা বরকতময় হবে তোমার ও তোমার পরিবারের জন্য।"৮৭২
অর্থাৎ সালাম বরকত, কল্যাণ ও আল্লাহর রহমত বৃদ্ধির মাধ্যম হবে। ৮৭৩
টিকাঃ
৮৭২. সুনানুত তিরমিজি: ২৬৯৮।
৮৭৩. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৭/৩৯৭।