📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শিশুদের গালে হাত বুলিয়ে তাদের আদর করতেন

📄 শিশুদের গালে হাত বুলিয়ে তাদের আদর করতেন


জাবির বিন সামুরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে জোহরের সালাত আদায় করলাম আমি। সালাত শেষে বাড়ির উদ্দেশে বের হলেন তিনি। আমিও তাঁর পিছু পিছু চলছিলাম। এ সময় কয়েকজন ছেলে আসলো তাঁর সামনে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেকের গালে হাত বুলিয়ে তাদের আদর করলেন। একইভাবে আমার গালেও হাত বুলিয়ে আদর করলেন। তাঁর হাতটি এমন ঠান্ডা বা সুগন্ধময় ছিল; মনে হচ্ছিল এই মাত্র তিনি আতরের পাত্র থেকে বের করে এনেছেন তাঁর হাত। '৮৬৪

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদর করে শিশুদের গালে-মাথায় হাত বুলাতেন। তাঁর এ আচরণ তাঁর চারিত্রিক সৌন্দর্য, শিশুদের প্রতি তাঁর দয়া ও আদর-স্নেহের বিষয়টি প্রকাশ করে স্পষ্টরূপে। '৮৬৫

টিকাঃ
৮৬৪. সহিহু মুসলিম: ২৩২৯।
৮৬৫. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৫/৮৫।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 আদর করে শিশুদের চুমু খেতেন

📄 আদর করে শিশুদের চুমু খেতেন


আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'কিছু বেদুইন লোক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, "আপনারা কি শিশুদের চুমু দেন?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "হাঁ।"

বেদুইনরা বলল, "আল্লাহর কসম, আমরা কিন্তু তাদের চুমু দিই না।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার বললেন, "আল্লাহ যদি তোমাদের অন্তর থেকে দয়ামায়া তুলে নেন, তবে আমি তা ফিরিয়ে দিতে সমর্থ নই।"৮৬৬

টিকাঃ
৮৬৬. সহিহুল বুخারি: ৫৯৯৮, সহিহু মুসলিম: ২৩১৭।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শিশুদের উপহার দিতেন

📄 শিশুদের উপহার দিতেন


উপহার সাধারণভাবে সকল মানুষের মনে একটি সুন্দর ও ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। শিশুদের মনে উপহার একটু বেশিই প্রভাব বিস্তার করে। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের উপহার দিতেন।

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'ফসল তোলার পর প্রথম খেজুরের ছড়াটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেওয়া হতো। তখন তিনি দোয়া করতেন:

اللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا، وَفِي ثِمَارِنَا، وَفِي مُدَّنَا، وَفِي صَاعِنَا بَرَكَةً مَعَ بَرَكَةٍ

“হে আল্লাহ, আমাদের মদিনায় বরকত দিন, আমাদের ফসল, আমাদের মুদ, আমাদের সা'-এর মাঝে বরকত দিন। বরকতের ওপর বরকত দিন।"

দোয়া করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত শিশুদের সবচেয়ে ছোট্টটির হাতে খেজুরগুলো দিয়ে দিতেন। '৮৬৭

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুপম চরিত্রের একটি দিক ফুটে উঠেছে। সে সাথে ফুটে উঠেছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দয়া ও আদর-স্নেহের অতুলনীয় চিত্র। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড়-ছোট সবাইকে স্নেহে আগলে রাখতেন। বিশেষ করে ছোটদের প্রতি স্নেহ করতেন তিনি। কারণ, ছোটরাই স্নেহের প্রতি অধিক আগ্রহী। ছোটরা মায়া-মমতা ও আদর-স্নেহের খোঁজে থাকে সব সময়। '৮৬৮

উম্মে খালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে হাদিয়া দেওয়ার বর্ণনা আমরা একটু আগেই তো জেনে এসেছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে বললেন, 'নকশাদার কাপড়টি কাকে দেওয়া যায় বলে মনে করো তোমরা?' চুপ হয়ে থাকলেন সাহাবিরা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরপর নিজ থেকেই বললেন, 'উম্মে খালিদকে নিয়ে এসো।' উম্মে খালিদকে নিয়ে আসলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চাদরটি পরিয়ে দিলেন নিজ হাতে। ৮৬৯

টিকাঃ
৮৬৭. সহিহু মুসলিম: ১৩৭৩।
৮৬৮. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৯/১৪৬।
৮৬৯. সহিহুল বুখারি: ৫৮৪৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 ইলম শেখানো ও প্রতিপালনের প্রতি গুরুত্ব দিতেন

📄 ইলম শেখানো ও প্রতিপালনের প্রতি গুরুত্ব দিতেন


আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একদিন আমি (বাহনের ওপর) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে বসা ছিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন, "হে বালক, আমি তোমাকে কয়েকটি কথা শিখিয়ে দিচ্ছি-আল্লাহর (বিধানসমূহের) হিফাজত করো, তিনি তোমার হিফাজত করবেন। আল্লাহর (বিধানসমূহের) হিফাজত করো, তাঁকে তোমার পাশে পাবে। [সচ্ছলতার সময় তাঁর সাথে পরিচিত হও, অসচ্ছলতার সময় তিনি তোমাকে চিনবেন।] কিছু চাইতে হলে একমাত্র আল্লাহর কাছেই চাও এবং সাহায্য কামনা করতে হলে একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য কামনা করো।'

আর জেনে রেখো, সকল মানুষ যদি একত্র হয়ে তোমার উপকার করতে চায়, তবে আল্লাহ তাআলা যা তোমার তাকদিরে লিখে রেখেছেন, সেটা ছাড়া কোনো উপকার করতে পারবে না। আর যদি সকল মানুষ একত্র হয়ে তোমার ক্ষতি করতে চায়, তবে আল্লাহ তাআলা যা তোমার তাকদিরে লিখে রেখেছেন, সেটা ছাড়া কোনো ক্ষতি পারবে না।'

(তাকদির লেখার) কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কাগজসমূহও শুকিয়ে গেছে। [অপছন্দনীয় বিষয়ের (বিপদ-আপদের) ওপর ধৈর্যধারণ করলে অনেক কল্যাণ অর্জিত হয়। আল্লাহর সাহায্য ধৈর্যের মাঝে নিহিত। সচ্ছলতা কষ্ট-মেহনতের মাঝে নিহিত। আর নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।]"৮৭০

টিকাঃ
৮৭০. সুনানুত তিরমিজি: ২৫১৬, মুসনাদু আহমাদ: ২৮০০ (তৃতীয় বন্ধনীর ভেতরের অংশ মুসনাদু আহমাদে অতিরিক্ত এসেছে)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00