📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শিশুদের জন্য সুন্দর নাম রাখতেন

📄 শিশুদের জন্য সুন্দর নাম রাখতেন


সাহল বিন সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আবু উসাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সদ্যপ্রসূত পুত্র মুনজির (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নিয়ে আসা হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উরুর ওপর রাখলেন। আবু উসাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-ও বসলেন পাশে। হঠাৎ-ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্য ব্যস্ততা এল। তিনি আবু উসাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে শিশুটি (তার কোলে) নেওয়ার নির্দেশ দিলেন। আবু উসাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উরু থেকে শিশুটিকে উঠিয়ে নিলেন। এরপর যখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিশুটির কথা মনে পড়ল, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "শিশুটি কোথায়?"

আবু উসাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "তাকে পাঠিয়ে দিয়েছি, হে আল্লাহর রাসুল!"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার জিজ্ঞেস করলেন, "তার কী নাম রেখেছ?"

আবু উসাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শিশুটির নাম বললেন।

রাসulullah সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "কিন্তু আমি তার নাম মুনজির রাখছি।" এভাবে সেদিন শিশুটির নাম তিনি মুনজির রাখলেন। '৮৪২

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ শিশুটির নাম রাখলেন মুনজির। এ নামকরণের পেছনে রয়েছে বিশেষ কারণ। তার বাবার চাচাতো ভাইয়ের নাম ছিল মুনজির বিন আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। বিরে মাউনার ঘটনায় তিনি শাহাদাতবরণ করেন। সে কাফেলার আমির ছিলেন মুনজির। সদ্যপ্রসূত এ শিশুটির নাম মুনজির রেখে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশা পোষণ করলেন যে, এ ছেলেটি মুনজির বিন আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্থলাভিষিক্ত হবে একদিন। '৮৪৩

আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমার একটি শিশুপুত্র জন্ম নিল। তাকে নিয়ে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম রাখলেন ইবরাহিম। একটি খেজুর দিয়ে তার তাহনিক করলেন এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করলেন। এরপর তাকে ফিরিয়ে দিলেন আমার কোলে। '৮৪৪

এ হাদিস থেকে আমরা শিখতে পাই যে, নবিদের নামে শিশুর নাম রাখা সুন্নাত। এটাও প্রমাণিত হয় যে, আব্দুল্লাহ ও আবদুর রহমান আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় নাম-এই হাদিসটি অন্য নাম রাখার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়। তাই তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু উসাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ছেলের নাম রেখেছিলেন মুনজির। ৮৪৫

টিকাঃ
৮৪২. সহিহুল বুখারি: ৬১৯১, সহিহু মুসলিম: ২১৪৯।
৮৪৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৪/১২৮।
৮৪৪. সহিহুল বুখারি: ৫৪৬৭, সহিহু মুসলিম: ২১৪৫।
৮৪৫. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৪/১২৬।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শিশুর কোলে নিয়ে আদর করতেন

📄 শিশুর কোলে নিয়ে আদর করতেন


শিশু সন্তানদের তিনি নিজ কোলে ও উরুর ওপর বসাতেন এবং শিশুদের থেকে কোনো কষ্ট পেলেও তাতে তিনি ধৈর্য ধরতেন।

আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে শিশুদের নিয়ে আসা হতো। তিনি বরকতের দোয়া করতেন তাদের জন্য। তাদের তাহনিক করতেন। একবার একটি শিশুকে নিয়ে আসা হলো। শিশুটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোলে প্রস্রাব করে দিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন পানি আনতে বললেন আর কাপড়টা না ধুয়ে প্রস্রাবের জায়গাগুলোতে স্রেফ পানি ছিটিয়ে দিলেন। '৮৪৬

উম্মে কাইস বিনতে মিহসান (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, 'তিনি তার ছোট্ট একটি ছেলেকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। শিশুটি খাবার খেত না। তাই তাকে নিয়ে রাসulullah সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুটিকে কোলে বসালেন। হঠাৎ শিশুটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাপড়ের ওপর পেশাব করে দিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনতে বললেন। পানি আনা হলো। তারপর কাপড় না ধুয়ে কাপড়ের ওপর কেবল পানি ছিটিয়ে দিলেন তিনি। '৮৪৭

এ হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:

* শিশুদের প্রতি স্নেহপূর্ণ আচরণ করতে হবে। শিশুদের কারণে কোনো কষ্ট এলেও সে কষ্টে ধৈর্যধারণ করতে হবে। তাদের দেওয়া কষ্টের কারণে তাদের পাকড়াও করা যাবে না। ৮৪৮

টিকাঃ
৮৪৬. সহিহুল বুখারি ৫৪৬৮, সহিহু মুসলিম: ২৮৬।
৮৪৭. সহিহুল বুখারি: ২২৩, সহিহু মুসলিম: ২৮৭।
৮৪৮. ফাতহুল বারি: ১০/৪৩৪।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শিশুদের সাথে খেলাধুলা ও হাসিকৌতুক করতেন

📄 শিশুদের সাথে খেলাধুলা ও হাসিকৌতুক করতেন


খালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কন্যা উম্মে খালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'অনেকগুলো কাপড় আসলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। তাতে কালো নকশাদার একটি কাপড় ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের বললেন, "বলো, এ নকশি কাপড়টি কাকে পরাব?"

সাহাবিগণ চুপ হয়ে থাকলেন।

এরপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "উম্মে খালিদকে এখানে নিয়ে আসো।"

আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে আসা হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতে আমাকে পরিয়ে দিলেন কাপড়টি। আর বললেন, "এটি পুরাতন করে ফেলো।"

এরপর তিনি নকশার দিকে তাকাতে লাগলেন এবং হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন, "উম্মে খালিদ, এটা সানা। হে উম্মে খালিদ, এটা সানা।" সানা একটি হাবশি শব্দ, যার অর্থ সুন্দর। ৮৪৯

উম্মে খালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হাবশায় হিজরত করেছিলেন নিজ পরিবারের সাথে। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে হাস্যরস করলেন হাবশি ভাষা ব্যবহার করে।

(এটি পুরাতন করে ফেলো): আরবরা এ কথাটি ব্যবহার করত দোয়ার অর্থে। এর মর্মার্থ হচ্ছে, দীর্ঘজীবী হও। ৮৫০

ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'উম্মে খালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মতো দ্বিতীয় কোনো নারী এতটা সময় বেঁচে থাকেনি। '৮৫১

শিশুদের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদরঃস্নেহ করে হাস্যরসের আরকটি উদাহরণ বর্ণনা করেছেন আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। তিনি বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কন্যা জাইনাবকে স্নেহ করে ডাকতেন "হে জুয়াইনাব, হে জুয়াইনাব” বলে। '৮৫২

ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'একদিন ছোট্ট জাইনাব রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ঘরে আসলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন গোসল করছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানির ছিটা মারলেন তার মুখে। জাইনাব একসময় বৃদ্ধা হয়ে গেলেও সে পানির বরকতে তার চেহারা যুবতিদের মতো সুন্দর ও কমনীয় ছিল। '৮৫৩

মাহমুদ বিন রবি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমার স্মরণ আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বালতি থেকে মুখে পানি নিয়ে তা আমার মুখে মারলেন। তখন আমার বয়স ছিল পাঁচ বছর। '৮৫৪

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্যের বরকতের কারণেই বড় হওয়ার পর মাহমুদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কেবল এ ঘটনাটিই মনে ছিল। আর কেবল এ কারণেই মাহমুদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুলির মতো করে দূর থেকে পানি নিক্ষেপ করেছিলেন মাহমুদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর। মাহমুদের সাথে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কাজটি হয়তো খেলাচ্ছলে ছিল অথবা মাহমুদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বরকত দানের জন্য ছিল। যেমনটি তিনি সাহাবিদের সন্তানদের সাথে করতেন।'

এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, কথাবার্তার মজলিসগুলোতে শিশুদের নিয়ে উপস্থিত হতে কোনা বাধা নেই। আমির তার অধীন সঙ্গীদের ঘরে যেতে পারেন, তাদের শিশুসন্তানদের সাথে খেলাধুলা ও ঠাট্টা করতে পারেন। ৮৫৫

টিকাঃ
৮৪৯. সহিহুল বুখারি: ৫৮৪৫।
৮৫০. ফাতহুল বারি: ১০/২৮০।
৮৫১. ফাতহুল বারি: ৬/১৮৪।
৮৫২. জিয়া কৃত আল-মুখতারা: ১৭৩৩। হাদিসের মান: সহিহ।
৮৫৩. ইবনুল কাইয়িম কৃত সুনানু আবি দাউদের হাশিয়া: ১/১২২, ইবনে আব্দুল বার কৃত আল-ইসতিআব: ৪/১৮৫৫।
৮৫৪. সহিহুল বুখারি: ৭৭।
৮৫৫. ফাতহুল বারি: ১/১৭৩। ঈষৎ পরিমার্জিত।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 সদ্য দুধ ছাড়ানো শিশুর সাথেও হাস্যরস করতেন

📄 সদ্য দুধ ছাড়ানো শিশুর সাথেও হাস্যরস করতেন


আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সবচেয়ে সুন্দর চরিত্রের মানুষ। আমার একটি ছোট ভাই ছিল। তার নাম ছিল আবু উমাইর। সে ছিল সদ্য দুধ ছাড়ানো শিশু। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যখন সে আসত, স্নেহভরা কণ্ঠে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলতেন, "হে আবু উমাইর, কোথায় তোমার নুগাইর?"৮৫৬ নুগাইর ছিল আবু উমাইরের একটি পাখি। তিনি এ পাখি নিয়ে খেলতেন।'

হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:

* যার সন্তান নেই, তার কুনিয়াত (শুরুতে আবু বা উম্মু সংযুক্ত উপনাম) রাখা বৈধ।
* শিশুদের জন্য এমন কুনিয়াত ব্যবহার করা মিথ্যার অন্তর্ভুক্ত নয়।
* পাপের সংমিশ্রণ না রেখে কৌতুক করা বৈধ।
* তাসগির বা ছোট অর্থবোধক শব্দ নিয়ে নাম রাখা বৈধ।
* চড়ুই পাখি ইত্যাদি নিয়ে শিশুদের খেলাধুলা করা জায়িজ। আর শিশুর অভিভাবক শিশুর জন্য এমন পাখির ব্যবস্থা করতে কোনো অসুবিধে নেই।
* কৃত্রিমতাহীন সুন্দর বচনে ছন্দাকারে কথা বলা জায়িজ।
* শিশুদের স্নেহ করতে হবে। আদর-সোহাগে আগলে রাখতে হবে তাদের।
* রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উত্তম চারিত্র, তাঁর উন্নত গুণাবলি ও বিনয়-নম্রতার প্রমাণ।
* আত্মীয়দের সাথে সাক্ষাৎ করতে যেতে হবে। আবু উমাইরের মা উম্মে সুলাইম (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাহরাম। ৮৫৭

টিকাঃ
৮৫৬. সহিহুল বুখারি: ৬২০৩, সহিহু মুসলিম: ২১৫০।
৮৫৭. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৪/১২৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00