📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শিশুর প্রতি দয়া ও স্নেহ পোষণ করতেন

📄 শিশুর প্রতি দয়া ও স্নেহ পোষণ করতেন


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের বিশেষ যত্ন নিতেন। তাদের প্রতি দয়া, আদর ও স্নেহ করার আদেশ দিতেন। যেমন তিনি বলেছেন, 'সে ব্যক্তি আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, যে ছোটদের দয়া-স্নেহ করে না। '৮৩৭

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিটি শিশুর প্রতি দয়া ও স্নেহ করতেন; যদিও শিশুটি জিনার সন্তানই হোক না কেন।

জিনাকারী গামিদি মহিলা নিজ অপরাধ স্বীকার করার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাচ্চা প্রসব পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিলেন। বাচ্চা প্রসবের পর আসলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'আমরা তাকে এখন রজম করব না। রজম করলে তার ছোট বাচ্চাটা একাকী হয়ে যাবে। তাকে দুধপান করার মতো কেউ থাকবে না।'

তখন আনসারি এক সাহাবি বললেন, 'হে আল্লাহর নবি, এ শিশুর দুধপান করানোর দায়িত্ব আমার। '৮৩৮

টিকাঃ
৮৩৭. সুনানুত তিরমিজি: ১৯২০।
৮৩৮. সহিহু মুসলিম: ১৬৯৫।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শিশুদের যত্নের ব্যাপারে বিভিন্ন নির্দেশনা দিতেন

📄 শিশুদের যত্নের ব্যাপারে বিভিন্ন নির্দেশনা দিতেন


শিশুদের তাহনিক ৮৩৯ করা, তাদের জন্য দোয়া করা ও বরকত কামনা করা শিশুযত্নের অংশ। তাঁর কাছে শিশুদের আনা হতো। তিনি তাহনিক তথা খেজুর চিবিয়ে বাচ্চাদের মুখে দিতেন, তাদের জন্য দোয়া করতেন, বরকত কামনা করতেন তাদের জন্য। সাহাবিদের কারও ঘরে সন্তান জন্ম হলেই বরকত লাভের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে আসা হতো।

আসমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি মক্কা থেকে বের হলাম। তখন আমার গর্ভে ছিল আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। মদিনায় এসে কুবায় অবতরণ করার পর সেখানে জন্ম দিলাম তাকে। এরপর তাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোলে রাখলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর আনতে বললেন। খেজুর আনা হলে তিনি চিবিয়ে নিলেন। অতঃপর শিশু আব্দুল্লাহর মুখে নিজ থুথু লাগিয়ে দিলেন। আব্দুল্লাহর পেটে প্রথম যে বস্তুটি প্রবেশ করে, তা ছিল রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখের লালা। এরপর একটি খেজুর দিয়ে তার তাহনিক করলেন তিনি। তারপর দোয়া করলেন এবং বরকত প্রার্থনা করলেন তার জন্য। হিজরতের পর কোনো মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া প্রথম শিশু ছিল আব্দুল্লাহ।'৮৪০

আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'সদ্যপ্রসূত আবু তালহা আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ছেলে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নিয়ে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গায়ে ছিল একটি আবা (আলখেল্লাবিশেষ) এবং তিনি উটের গায়ে তেল মালিশ করছিলেন। তিনি বললেন, "তোমার কাছে খেজুর আছে?"

আমি বললাম, "জি, আছে।" অতঃপর তাঁর দিকে খেজুর বাড়িয়ে দিলাম। খেজুরগুলো তিনি মুখে পুরে চিবিয়ে নিলেন। এরপর শিশুটির মুখ খুলে তার মুখে পুরে দিলেন। শিশুটিও তখন তা চুষতে লাগল।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আনসারদের ভালোবাসা হলো খেজুর। আর তিনি ছেলেটির নাম রাখলেন আব্দুল্লাহ।"৮৪১

টিকাঃ
৮৩৯. খেজুর চিবিয়ে বাচ্চার মুখে দেওয়া।
৮৪০. সহিহুল বুখারি: ৩৯০৯।
৮৪১. সহিহু মুসলিম: ২১১৪।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শিশুদের জন্য সুন্দর নাম রাখতেন

📄 শিশুদের জন্য সুন্দর নাম রাখতেন


সাহল বিন সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আবু উসাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সদ্যপ্রসূত পুত্র মুনজির (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে নিয়ে আসা হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উরুর ওপর রাখলেন। আবু উসাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-ও বসলেন পাশে। হঠাৎ-ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অন্য ব্যস্ততা এল। তিনি আবু উসাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে শিশুটি (তার কোলে) নেওয়ার নির্দেশ দিলেন। আবু উসাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উরু থেকে শিশুটিকে উঠিয়ে নিলেন। এরপর যখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিশুটির কথা মনে পড়ল, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "শিশুটি কোথায়?"

আবু উসাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "তাকে পাঠিয়ে দিয়েছি, হে আল্লাহর রাসুল!"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার জিজ্ঞেস করলেন, "তার কী নাম রেখেছ?"

আবু উসাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) শিশুটির নাম বললেন।

রাসulullah সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "কিন্তু আমি তার নাম মুনজির রাখছি।" এভাবে সেদিন শিশুটির নাম তিনি মুনজির রাখলেন। '৮৪২

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ শিশুটির নাম রাখলেন মুনজির। এ নামকরণের পেছনে রয়েছে বিশেষ কারণ। তার বাবার চাচাতো ভাইয়ের নাম ছিল মুনজির বিন আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। বিরে মাউনার ঘটনায় তিনি শাহাদাতবরণ করেন। সে কাফেলার আমির ছিলেন মুনজির। সদ্যপ্রসূত এ শিশুটির নাম মুনজির রেখে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশা পোষণ করলেন যে, এ ছেলেটি মুনজির বিন আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্থলাভিষিক্ত হবে একদিন। '৮৪৩

আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমার একটি শিশুপুত্র জন্ম নিল। তাকে নিয়ে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম রাখলেন ইবরাহিম। একটি খেজুর দিয়ে তার তাহনিক করলেন এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করলেন। এরপর তাকে ফিরিয়ে দিলেন আমার কোলে। '৮৪৪

এ হাদিস থেকে আমরা শিখতে পাই যে, নবিদের নামে শিশুর নাম রাখা সুন্নাত। এটাও প্রমাণিত হয় যে, আব্দুল্লাহ ও আবদুর রহমান আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় নাম-এই হাদিসটি অন্য নাম রাখার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নয়। তাই তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু উসাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ছেলের নাম রেখেছিলেন মুনজির। ৮৪৫

টিকাঃ
৮৪২. সহিহুল বুখারি: ৬১৯১, সহিহু মুসলিম: ২১৪৯।
৮৪৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৪/১২৮।
৮৪৪. সহিহুল বুখারি: ৫৪৬৭, সহিহু মুসলিম: ২১৪৫।
৮৪৫. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৪/১২৬।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শিশুর কোলে নিয়ে আদর করতেন

📄 শিশুর কোলে নিয়ে আদর করতেন


শিশু সন্তানদের তিনি নিজ কোলে ও উরুর ওপর বসাতেন এবং শিশুদের থেকে কোনো কষ্ট পেলেও তাতে তিনি ধৈর্য ধরতেন।

আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে শিশুদের নিয়ে আসা হতো। তিনি বরকতের দোয়া করতেন তাদের জন্য। তাদের তাহনিক করতেন। একবার একটি শিশুকে নিয়ে আসা হলো। শিশুটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোলে প্রস্রাব করে দিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন পানি আনতে বললেন আর কাপড়টা না ধুয়ে প্রস্রাবের জায়গাগুলোতে স্রেফ পানি ছিটিয়ে দিলেন। '৮৪৬

উম্মে কাইস বিনতে মিহসান (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, 'তিনি তার ছোট্ট একটি ছেলেকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। শিশুটি খাবার খেত না। তাই তাকে নিয়ে রাসulullah সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুটিকে কোলে বসালেন। হঠাৎ শিশুটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাপড়ের ওপর পেশাব করে দিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি আনতে বললেন। পানি আনা হলো। তারপর কাপড় না ধুয়ে কাপড়ের ওপর কেবল পানি ছিটিয়ে দিলেন তিনি। '৮৪৭

এ হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:

* শিশুদের প্রতি স্নেহপূর্ণ আচরণ করতে হবে। শিশুদের কারণে কোনো কষ্ট এলেও সে কষ্টে ধৈর্যধারণ করতে হবে। তাদের দেওয়া কষ্টের কারণে তাদের পাকড়াও করা যাবে না। ৮৪৮

টিকাঃ
৮৪৬. সহিহুল বুখারি ৫৪৬৮, সহিহু মুসলিম: ২৮৬।
৮৪৭. সহিহুল বুখারি: ২২৩, সহিহু মুসলিম: ২৮৭।
৮৪৮. ফাতহুল বারি: ১০/৪৩৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00