📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বিভিন্ন কাজে বয়স্কদের প্রাধান্য দিতেন

📄 বিভিন্ন কাজে বয়স্কদের প্রাধান্য দিতেন


কথাবার্তায় বড়দের প্রাধান্য দিতেন

খাইবারে নিহত এক ব্যক্তির ঘটনায় এটা সংঘটিত হয়। ঘটনাটি হলো, 'খাইবারে এক ব্যক্তিকে হত্যা করা হলো। তখন লোকটির ভাই আব্দুর রহমান বিন সাহল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং মাসউদ বিন জাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর দুপুত্র মুহাইয়িসাও (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হুয়াইয়িসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। আব্দুর রহমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কথা বলার জন্য এগিয়ে আসতে চাইলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "বড়কে আগে বলতে দাও, বড়কে আগে বলতে দাও।" আব্দুর রহমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশক্রমে বাকি দুজন তাঁর সাথে কথা বললেন। '৮০৬

পানের ক্ষেত্রে বড়দের প্রাধান্য দিতেন

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পানি পান করাতেন, তখন বলতেন, "বড়দের দিয়ে শুরু করো। অথবা বলতেন, বড়রা আগে।"৮০৭

ইমামতির ক্ষেত্রে বড়দের প্রাধান্য দিতেন

আবু মাসউদ আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে বললেন, "কুরআনের জ্ঞান ও তিলাওয়াতে যে সর্বাপেক্ষা অগ্রবর্তী, সে ইমামতি করবে। যদি সবাই তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে সমান হয়, তবে হিজরতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রবর্তীজন ইমামতি করবে। এ ক্ষেত্রেও যদি সবাই সমান হয়, তবে সবচেয়ে বয়স্কজন ইমামতি করবে। "৮০৮

* সালামের ক্ষেত্রে বড়দের প্রাধান্য দিতেন

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "ছোটরা বড়দের সালাম দেবে। হেঁটে যাওয়া ব্যক্তি বসে থাকা ব্যক্তিকে সালাম দেবে। অল্প সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যক লোকদের সালাম দেবে।"৮০৯

কোনো কিছু দেওয়ার ক্ষেত্রে বড়দের প্রাধান্য দিতেন

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আমি স্বপ্নে দেখলাম, মিসওয়াক করছি। তখন দুজন লোক আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। তাদের একজন অপরজনের চেয়ে বয়সে বড়। আমি ছোটজনকে মিসওয়াকটি দিতে গেলে তখন আমাকে বলা হলো, "বড়কে দিন।" এরপর আমি মিসওয়াকটি বড়জনকে দিলাম।"৮১০

ইবনে বাত্তাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'হাদিসে যেমন মিসওয়াক দেওয়ার ক্ষেত্রে বড়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, তেমনই আহার, কথাবার্তা, হাঁটাচলা, চিঠি লেখাসহ সব দিক থেকে বড়দের প্রাধান্য দিতে হবে। মিসওয়াকের হাদিসের ওপর কিয়াস করে এবং হুয়াইয়িসা ও মুহাইয়িসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসে যে বলা হয়েছে, "বড়কে বলতে দাও, বড়কে বলতে দাও"-এসব থেকে প্রমাণিত হয়, বড়দের প্রাধান্য দেওয়া ইসলামি আদব।'

মুহাল্লাব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'প্রতিটি ক্ষেত্রে বড়দের প্রাধান্য দিতে হবে যথাসম্ভব। যদি বসার ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে বড় থেকে ছোট ক্রম পালন করা হয়, তবে ডান থেকে শুরু করা সুন্নাত। কিন্তু এর ব্যতিক্রম হলে সে ক্ষেত্রে বড় হওয়া মুখ্য নয়; বরং ডান দিক থেকেই শুরু করা সুন্নাত। দুধপান করানোর হাদিসে (বর্ণিত হয়েছে) ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছিলেন সবার ডানে। ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সবার চেয়ে ছোট হওয়া সত্ত্বেও ডানে হওয়ার কারণে তাকে দিয়ে শুরু করেছেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, "এ অভিমতটি সঠিক।"৮১১

সাহল বিন সাদ সায়িদি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানীয় নিয়ে আসলেন। নিজে কিছুটা পান করলেন। উপস্থিত লোকদের মাঝে সবার ডানে ছিল একটি ছেলে। আর বাম দিকে ছিল বৃদ্ধরা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছেলেটিকে বললেন, "বড়দের আগে দেওয়ার জন্য তুমি কি আমায় অনুমতি দেবে?"

ছেলেটি বলল, “না, আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসুল। আপনার কাছ থেকে আমার পাওনাতে আমি অন্য কাউকে প্রাধান্য দেবো না।"

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছেলেটির হাতে পানীয়ের বাটিটি দিলেন। '৮১২

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছেলেটিকে কথাগুলো বলেছেন উপস্থিত বড়দের মন আকৃষ্ট করার জন্য, তাদের জানানোর জন্য যে, তিনি তাদেরই প্রাধান্য দিয়ে থাকেন এবং তাদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা রয়েছে। যদি ডান দিক থেকে দেওয়া সুন্নাত না হতো, তবে তিনি তাদেরই প্রাধান্য দিতেন। এ হাদিস থেকে ডান দিক থেকে দেওয়ার সুন্নাতটি স্পষ্ট হয়ে যায় সকলের সামনে। বোঝা যাচ্ছে, ডান দিকের সুন্নাতটিই অধিক প্রাধান্যযোগ্য। ডান দিকে যে আছে, তার অনুমতি ব্যতীত অন্যদের প্রাধান্য দেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে ডান দিকে যে আছে, তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে কোনো দোষ নেই।'৮১৩

কোনো কারণ বাধা না হয়ে থাকলে স্বাভাবিকভাবে বড়দের প্রাধান্য দিতে হবে। উল্লিখিত হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোটদের ওপর বড়দের প্রাধান্য দিতেন। কারণ, এটি তাদের অধিকার। কারণ, তারা জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় ছোটদের চাইতে বেশি প্রাজ্ঞ।

বড়দের প্রাধান্য দেওয়ার অর্থ তাদের সম্মান করা, তাদের মর্যাদা দেওয়া। যখন ছোটদের ওপর বড়দের প্রাধান্য দেবে, তখন বড়রা প্রভাবিত হবে এবং প্রশান্ত বোধ করবে। এ জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড়দের প্রাধান্য দিতেন।

টিকাঃ
৮০৬. সহিহুল বুখারি: ৩১৭৩, সহিহু মুসলিম: ১৬৬৯।
৮০৭. ইমাম আবু ইয়ালা হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। মুসনাদু আবি ইয়ালা ২৪২৫। ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদিসের সনদ শক্তিশালী। দেখুন, ফাতহুল বারি: ১০/৮৭।
৮০৮. সহিহু মুসলিম: ৬৭৩।
৮০৯. সহিহুল বুখারি: ৬২৩১, সহিহু মুসলিম: ২১৬০।
৮১০. সহিহু মুসলিম: ২২৭১।
৮১১. ফাতহুল বারি: ১/৩৫৭।
৮১২. সহিহুল বুখারি: ২৩১৯, সহিহু মুসলিম: ২০৩০।
৮১৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৩/২০১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তাদের জন্য শরিয়তের অনেক বিধান শিথিল করে দিতেন

📄 তাদের জন্য শরিয়তের অনেক বিধান শিথিল করে দিতেন


* বয়স্ক ব্যক্তি দুর্বল হয়ে গেলে তার পক্ষে অন্য কেউ হজ আদায় করে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'খাসআম গোত্রের এক নারী এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, "হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার ওপর হজ করা ফরজ। আমার বাবা বেশ বৃদ্ধ। বাহনে চড়া তার জন্য অসম্ভব ব্যাপার। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করব?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "হাঁ।"৮১৪

* বার্ধক্যের কারণে রোজার মাধ্যমে কাফফারা দিতে অক্ষম হলে মিসকিনকে খানা খাইয়ে কাফফারা আদায়ের সুযোগ রয়েছে

খাওলা বিনতে সালাবা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিসে আমরা স্পষ্ট দেখেছি। জিহারের কারণে তার স্বামী আওস বিন সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর রোজা আদায় করা ফরজ হলেও খাওলা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) স্বামীর অপরাগতার কথা তুললেন। খাওলা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, "তার কাছে যাও, তাকে বলো, একটি দাস মুক্ত করতে।"

আমি বললাম, "আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসুল, তার সে সামর্থ্য নেই।"

তাহলে সে ধারাবাহিক দুমাস রোজা রাখবে।

আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসুল, তিনি তো বেশ বৃদ্ধ। রোজা রাখার সামর্থ্যও তার নেই।

তাহলে সে যেন এক অসাক খেজুর ষাটজন মিসকিনকে খাওয়ায়।

আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসুল, তার এমন সামর্থ্যও নেই।

তাহলে আমি তাকে এক আরক পরিমাণ খেজুর দিয়ে সাহায্য করব।

খাওলা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, তখন আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসুল, আমিও তাকে এক আরক খেজুর দিয়ে সাহায্য করব।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি সঠিক করেছ, উত্তম করেছ। তাহলে যাও, তার পক্ষ থেকে সাদাকা করে দাও। আর তোমার স্বামীর ব্যাপারে কল্যাণকামী হও।"

খাওলা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'এরপর আমি তেমনই করলাম, যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ করেছেন। '৮১৫

* বৃদ্ধদের দুর্বলতার প্রতি লক্ষ রেখে সালাত সংক্ষিপ্ত করার আদেশ দিতেন

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তোমাদের কেউ মানুষদের ইমামতি করলে, সে যেন সালাত দীর্ঘায়িত না করে। কারণ, মুক্তাদিদের মধ্যে দুর্বল, অসুস্থ এবং বয়স্ক থাকতে পারে। অপরপক্ষে, একাকী সালাত আদায় করার সময় নিজের ইচ্ছেমতো লম্বা সময় নিয়ে সালাত আদায় করতে পারে সে।"৮১৬

টিকাঃ
৮১৪. সহিহুল বুখারি: ১৫১৩, সহিহু মুসলিম: ১৩৩৪।
৮১৫. মুসনাদু আহমাদ ২৬৭৭৪, সুনানু আবি দাউদ: ২২১৪।
৮১৬. সহিহুল বুখারি: ৬৭১, সহিহু মুসলিম ৪৬৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বৃদ্ধদেরকে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন

📄 বৃদ্ধদেরকে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন


বৃদ্ধরা মৃত্যুর নিকটবর্তী। তাই তাওবা করা এবং আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া অপরিহার্য তাদের জন্য। আল্লাহ তাআলা বলেন:

أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُم مَّا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَن تَذَكَّرَ وَجَاءَكُمُ النَّذِيرُ فَذُوقُوا فَمَا لِلظَّالِمِينَ مِن نَّصِيرٍ

'আমি কি তোমাদের এত দীর্ঘ জীবন দান করিনি যে, তখন কেউ সতর্ক হতে চাইলে সতর্ক হতে পারতে? তোমাদের নিকট তো সতর্ককারীরাও এসেছিল। সুতরাং শাস্তি আস্বাদন করো; জালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই। '৮১৭

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'সতর্ককারীর অর্থ হচ্ছে চুল পেকে যাওয়া। '৮১৮

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "আল্লাহ যাকে অধিক আয়ু দিয়েছেন, এমনকি সে ষাট বছর বয়সে উপনীত হয়েছে, তার জন্য ওজর পেশ করার কোনো সুযোগ রাখেননি তিনি। "৮১৯

ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, '(ওজর পেশ করার কোনো সুযোগ রাখেননি): তথা আল্লাহর কাছে গিয়ে "আপনি যদি আমার জীবনকালটা আরেকটু দীর্ঘ করতেন, তবে আপনার আদেশগুলো পালন করতে পারতাম আমি" বলে ওজর পেশ করার কোনো সুযোগ নেই।'

কোনো বৃদ্ধের জন্য আল্লাহর আনুগত্য না করে যেহেতু এতটুকু ওজর পেশ করারও সুযোগ বাকি নেই, তাই তার জন্য জীবনে অর্জিত আমলের কবুলিয়াত কামনা করা, ইসতিগফার করে যাওয়া, আখিরাতের জন্য পরিপূর্ণরূপে নিজেকে আল্লাহর আনুগত্যে সঁপে দেওয়া উচিত। '৮২০

ইবনে বাত্তাল (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আল্লাহ তাকে ষাট বছরের দীর্ঘ এক জীবন দিয়ে সমাপ্তি ঘটিয়েছেন সকল ওজরের। কারণ, ষাট বছর বয়স জীবন সমাপ্তির ঘোষণা। এ বয়সটা আল্লাহমুখী হওয়ার বয়স। এ বয়সটা আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করার বয়স। এ বয়সটা মৃত্যু ও আল্লাহর সাক্ষাতের অপেক্ষায় থাকার বয়স।'

ষাট বছর পর্যন্ত জীবন প্রলম্বিত হওয়া আদম-সন্তানের জীবনে আরেকটি সুযোগ। এমন সুযোগ তার জীবনে বহুবারই গত হয়েছে। প্রথমে সে ছিল অবুঝ, আল্লাহ তাকে বোধশক্তি দিয়ে তার একটি ওজরের সুযোগ নিঃশেষ করেছেন। এভাবে একে একে বারবার আল্লাহর দিকে ফিরে আসার সুযোগ দিয়ে আল্লাহ তার ওজরগুলো সমাপ্ত করেছেন। শেষ পর্যন্ত তাকে বৃদ্ধ বয়সে উপনীত করেছেন। কিন্তু তার ওপর প্রমাণ সাব্যস্ত করার আগ পর্যন্ত তাকে কোনো শাস্তি দেননি তিনি। '৮২১

টিকাঃ
৮১৭. সুরা ফাতির, ৩৫: ৩৭।
৮১৮. তাফসিরু ইবনি কাসির ৬/৪৯৩। বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) এ কিতাবুর রিকাকে এ হাদিসটি তালিকে এনেছেন।
৮১৯. সহিহুল বুখারি: ৬০৫৬।
৮২০. ফাতহুল বারি: ১১/২৪০।
৮২১. শারহু সহিহিল বুখারি: ১০/১৫৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 দুনিয়াসক্তি ও সম্পদ জমা করা থেকে তাদের সতর্ক করতেন

📄 দুনিয়াসক্তি ও সম্পদ জমা করা থেকে তাদের সতর্ক করতেন


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'দুটি বিষয়ে একজন বৃদ্ধের মনেও যুবকের মতো আকর্ষণ বিরাজ করে। এক. দীর্ঘ জীবনের আশা। দুই. সম্পদ-প্রাচুর্যের লোভ। '৮২২

বুখারির বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'দুটি বিষয়ে বৃদ্ধের মনে যুবকের মতো প্রাণবন্ত আশা থাকে। অপরটি হচ্ছে, দীর্ঘ জীবনের আশা।'

হাদিসের মর্মার্থ: 'যুবকের অন্তরের ভালোবাসা তাকে দিয়ে যেকোনো কিছু করিয়ে নিতে পারে; তেমনই বৃদ্ধের অন্তরও সম্পদের প্রতি এমন ভালোবাসা পোষণ করে, যার কারণে যেকোনো কিছু করতে পারে সে। ৮২৩

আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "আদম-সন্তান বুড়িয়ে যায়, কিন্তু দুটি বিষয় তার মাঝে যৌবনপ্রাপ্ত হতে থাকে। একটি হচ্ছে, সম্পদের লোভ। অপরটি হচ্ছে, জীবনের আশা।"৮২৪

(বুড়িয়ে যায়): তথা তার চুল পেকে যেতে থাকে এবং সে দুর্বল হতে থাকে।

(যৌবন প্রাপ্ত হতে থাকে): অর্থাৎ যৌবন বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং শক্তিশালী হতে থাকে। (তার মাঝে) তথা তার চরিত্রের মাঝে। (সম্পদের লোভ): তথা সম্পদ জমা করা ও তা দান না করার স্বভাব। (জীবনের আশা): তথা দীর্ঘ জীবনের আশা। ৮২৫

ইমাম কুরতুবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ হাদিসে দীর্ঘ জীবন ও অধিক ধনসম্পদের আশা করার প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এগুলো প্রশংসনীয় নয় মোটেই।'

প্রশ্ন হতে পারে, কেবল এ দুটিকেই কেন বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে? উত্তর হচ্ছে, এ দুটিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করার পেছনে রয়েছে গভীর প্রজ্ঞা। মানুষের নিকট সবচেয়ে পছন্দসই বিষয় তার জীবন। মানুষ বেঁচে থাকতে চায়। তাই তার কাছে দীর্ঘ জীবন পছন্দনীয়। আর মানুষ জীবনের পরে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে তার সম্পদকে। কারণ, সম্পদের মাধ্যমে দেহের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পারে সে। সুস্থ থাকলেই তো সে দীর্ঘ জীবন পাবে-অন্তত স্বাভাবিকভাবে এমনটিই তো হয়ে থাকে। কিন্তু জীবন ও সম্পদ নিয়ে দীর্ঘ আশায় লিপ্ত ব্যক্তি যখনই দেখে যে, তার প্রিয় দুটি বিষয় নিঃশেষের পথে; তখন আরও বেশি আকর্ষণ ও ভালোবাসা সৃষ্টি হয় এ দুটির প্রতি এবং এগুলোর স্থায়িত্বের প্রতি সৃষ্টি হয় আরও বেশি আগ্রহ। '৮২৬

টিকাঃ
৮২২. সহিহুল বুখারি: ৬৪২০, সহিহু মুসলিম: ১০৪৬।
৮২৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৭/১৩৮।
৮২৪. সহিহুল বুখারি: ৬৪২১, সহিহু মুসলিম: ১০৪৭।
৮২৫. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৬/৫২০।
৮২৬. ফাতহুল বারি: ১১/২৪১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00