📄 তাদের উত্তম পদ্ধতিতে অভ্যর্থনা জানাতেন
ইতিপূর্বে খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বান্ধবী এক বৃদ্ধার আলোচনা করেছি আমরা। 'একবার মদিনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এ বৃদ্ধা আসলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কুশলাদি জানতে চেয়ে বললেন, "আপনাদের কী অবস্থা? কেমন আছেন আপনারা? আমাদের পরে কেমন কাটছে দিনকাল?"
বৃদ্ধা চলে যাওয়ার পর আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, এ বৃদ্ধাকে এমন অভ্যর্থনার কারণ কী?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিয়েছিলেন, "হে আয়িশা, খাদিজা যখন বেঁচে ছিল, তখন এ নারী আমাদের কাছে আসত। আর পুরোনো বন্ধুর প্রতি উত্তম আচরণ করা ইমানের অংশ। "৭৯৯
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মান ও সমাদরের সাথে অভ্যর্থনা করলেন বৃদ্ধার। জানতে চাইলেন তার কুশলাদি। সামান্য এক বৃদ্ধার প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এমন উন্নত আচরণ প্রমাণ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতটা অনুপম চরিত্র ও আচরণের অধিকারী ছিলেন।
টিকাঃ
৭৯৯. মুসতাদরাকুল হাকিম: ৪০।
📄 তাদের সাথে হাস্যরস করতেন
এ হাদিসটি একটু আগেই গত হয়েছে আমাদের আলোচনায়। 'এক বৃদ্ধা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, "হে আল্লাহর রাসুল, আমার জন্য দোয়া করুন, আল্লাহ যেন আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উদ্দেশে বললেন, "হে অমুকের মা, জান্নাতে কোনো বৃদ্ধা প্রবেশ করবে না।"
এরপর বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে সেখান থেকে চলে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরপর বললেন, "তোমরা তাকে জানিয়ে দাও, জান্নাতে কোনো নারী বৃদ্ধা অবস্থায় প্রবেশ করবে না। জান্নাতে তারা যুবতি হয়ে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّا أَنشَأْنَاهُنَّ إِنشَاءُ - فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا - عُرُبًا أَتْرَابًا
"আমি জান্নাতি রমণীগণকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের করেছি চিরকুমারী, সোহাগিনী ও সমবয়স্কা।” (সুরা আল-ওয়াকিয়া, ৫৬: ৩৫-৩৭) '৮০০
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃদ্ধার সাথে কৌতুক করে তাকে বোঝাতে চেয়েছেন যে, জান্নাতে কেউ তার মতো বৃদ্ধা হয়ে প্রবেশ করবে না; বরং সকলেই তেত্রিশ বছর বয়সী যুবক-যুবতি হবে।
টিকাঃ
৮০০. তিরমিজি শামায়িলে বর্ণনা করেছেন, পৃষ্ঠা নং ১৯৯। হাদিসের মান: সহিহ।
📄 বৃদ্ধদের আল্লাহর রহমতের আশা দিতেন
আমর বিন আবাসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'জুড়োথুড়ো এক বৃদ্ধ লাঠিতে ভর দিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, আমার যৌবনের অনেক পাপ-পঙ্কিলতা আছে। আল্লাহ কি আমায় ক্ষমা করবেন?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "আপনি কি "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”-এর সাক্ষ্য দেননি?"
বৃদ্ধ বলল, "অবশ্যই। আমি আরও সাক্ষ্য দিই যে, আপনি আল্লাহর রাসুল।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে তো আপনার সকল পাপ-পঙ্কিলতা ক্ষমা করে দিয়েছেন আল্লাহ তাআলা।"৮০১
অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'এরপর বৃদ্ধ "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার" বলতে বলতে প্রস্থান করলেন সেখান থেকে। '৮০২
টিকাঃ
৮০১. মুসনাদু আহমাদ: ১৮৯৩৯।'
৮০২. ইবনে আবিদ দুনিয়া কৃত হুসনুজ জন বিল্লাহ, পৃষ্ঠা নং ১৪৪।
📄 যুদ্ধে বৃদ্ধদের হত্যা করতে নিষেধ করতেন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধ-নির্দেশিকার অন্যতম ছিল, কোনো বয়স্ক ব্যক্তিকে হত্যা করবে না, যদি না সে যুদ্ধে সাহায্য করে থাকে।
বুরাইদা বিন হুসাইব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো সারিয়া প্রেরণ করতেন, তখন বলতেন, "তোমরা কোনো বয়োবৃদ্ধকে হত্যা করবে না।"৮০৩
ইমাম তাহাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'যে সকল বৃদ্ধ যুদ্ধে অংশ নিয়ে বা পরামর্শ দিয়ে শত্রুদের সাহায্য করেনি, দারুল হারবের বৃদ্ধদের হত্যা না করার এ আদেশ কেবল তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।'
দুরাইদ হত্যার হাদিসে এসেছে, 'দুরাইদসহ কয়েকজন বৃদ্ধকে হত্যা করা হয়। তাদের হত্যা করার ক্ষেত্রে শরয়ি নিষেধাজ্ঞা ছিল না। কেননা, তারা পরামর্শ দিয়ে যুদ্ধে শত্রুদের সাহায্য অব্যাহত রেখেছিল। যদিও তারা সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধে নামেনি। তাদের পরামর্শগুলো সরাসরি অস্ত্র হাতে যুদ্ধে নামার চেয়েও ভয়ানক ছিল। মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়, তাকে হত্যা করাই প্রতিষেধক হয়ে থাকে। তাই যখন কোনো বৃদ্ধ মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে, তাকে হত্যা করতে হবে।'
এ মাসআলার দলিল হচ্ছে, হানজালা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ভাই রবাহ-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক নিহত নারীকে দেখে বলেছিলেন, "এ নারী তো যুদ্ধে অংশ নেয়নি..."৮০৪ অর্থাৎ যে যুদ্ধে অংশ নেয়নি, সে হত্যাযোগ্য নয়। আর যে যুদ্ধে অংশ নিয়েছে, সে হত্যাযোগ্য। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বয়স্কদের হত্যার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জানালেন। সে নিষেধাজ্ঞার মাঝেই তিনি জানিয়ে দিলেন যে, কখন তাদের হত্যা করতে হবে।'
দুরাইদ বিন সিম্মাহর হাদিস থেকে আমরা স্পষ্ট দলিল পাই যে, কোনো নারী যদি কোনো বয়োবৃদ্ধের মতোই যুদ্ধে পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করে, তবে সে হত্যাযোগ্য। এ সকল হাদিসের মর্মার্থ এটিই। '৮০৫
টিকাঃ
৮০৩. সুনানু আবি দাউদ: ২৬৬৯, সুনানুত তিরমিজি: ১৪০৮।
৮০৪. সুনানু আবি দাউদ: ২৬৬৯, সুনানু ইবনি মাজাহ: ২৮৪২।
৮০৫. শারহু মাআনিল আসার: ৩/২২৩।