📄 নারীদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতেন
আহতদের চিকিৎসা করা ও খাদ্য তৈরি করা প্রভৃতি কাজের জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের যুদ্ধে অংশগ্রহণের অনুমতি দিতেন।
রুবাইয়ি' বিনতে মুআওবিজ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুদ্ধে অংশ নিতাম। যোদ্ধাদের পানি পান করাতাম। সেবা-শুশ্রূষা করতাম। আহত ও নিহতদের মদিনায় পাঠিয়ে দিতাম। '৭৭১
অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'আমরা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুদ্ধে অংশ নিতাম। যোদ্ধাদের পানি পান করাতাম, আহতদের চিকিৎসা করতাম, নিহতদের মদিনায় স্থানান্তর করতাম।'
আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'উম্মে সুলাইম (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ও আনসারদের কতক নারীকে সঙ্গে নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধে যেতেন। তারা যোদ্ধাদের পানি করাতেন এবং আহতদের চিকিৎসা করতেন। '৭৭২
আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আরও বলেন, 'উহুদের দিন আমি দেখলাম, আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ও উম্মে সুলাইম (রাদিয়াল্লাহু আনহা) পানির পাত্র বহন করে আনছেন এবং আহতদের পানি পান করাচ্ছেন। পানি শেষ হয়ে গেলে আবার তারা পাত্র ভরে এনে আগের মতো পানি পান করাচ্ছেন। '৭৭৩
উম্মে আতিয়া আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। তাদের শিবিরের পেছনে থাকতাম আমি। তাদের জন্য খাবার তৈরি করতাম। আহতদের চিকিৎসা করতাম। রোগীদের সেবা-শুশ্রূষা করতাম। '৭৭৪
ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ হাদিস প্রমাণ করে নারীদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা, পানি পান করার ক্ষেত্রে তাদের সাহায্য নেওয়া, চিকিৎসাসেবাসহ এমন সব সেবা প্রদান করা জায়িজ। তবে নারীরা চিকিৎসাসেবা দেবে শুধু তাদের স্বামী ও মাহরামদের। অন্যদের সেবা করার সময় তাদের স্পর্শ করা যাবে না। অবশ্য একান্ত প্রয়োজন হলে সেটা ভিন্ন কথা। '৭৭৫
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'যুদ্ধের ময়দানে জরুরি মুহূর্তগুলোতে গাইরে মাহরামদেরও চিকিৎসা করতে পারবে নারীরা। তবে যথাসম্ভব নজরের হিফাজত ও হাত দিয়ে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। '৭৭৬
মাহমুদ বিন লাবিদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর চাচা খন্দকের দিন আহত হন। রুফাইদা নামক এক নারীর কাছে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের সেবা করতেন রুফাইদা। সন্ধ্যাবেলা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর চাচার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলতেন, "আজ সন্ধ্যায় কেমন বোধ হচ্ছে?" আবার সকালবেলা যাওয়ার সময় বলতেন, "আজ সকালে কেমন বোধ হচ্ছে?" আর সাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর চাচা তার জবাব দিতেন। '৭৭৭
সতর্কবাণী
নারী স্বাধীনতার কথা বলে এমন কিছু দুষ্কৃতকারী এ সকল হাদিস দিয়ে উন্মুক্ত কর্মক্ষেত্রে নারীদের যোগদানের ব্যাপারে দলিল দেয়। তাদের এ দলিলগ্রহণ বাতিল। কোথায় অফিসে টেবিলের পেছনে বসে কাজ করা আর কোথায় যুদ্ধের ময়দানে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া এবং নিহতদের স্থানান্তরের কাজ করা! এ দুটি কখনো সমান নয়।
যেখানে রক্তে মাখামাখি হয়ে থাকে মানুষের দেহ, পড়ে থাকে লাশের পর লাশ-সেখানে কারও মাঝে প্রবৃত্তির কামনা উত্থিত হয় না বা ফিতনা হওয়ারও কোনো সম্ভাবনা থাকে না। কিন্তু অন্যদিকে এসি রুমের অফিসে ফিতনা হওয়ার ও প্রবৃত্তির কামনা চরিতার্থ করার ব্যাপক ও জোর সম্ভাবনা থাকে। যুদ্ধের ময়দানে সেবাদানকারী নারী আর অফিসের টেবিলের পেছনে আবেদনময়ী ভঙ্গিতে বসে থাকা তরুণী কখনো কি সমান হতে পারে?!
টিকাঃ
৭৭১. সহিহুল বুখারি: ২৬৭০।
৭৭২. সহিহু মুসলিম: ১৮১০।
৭৭৩. সহিহুল বুখারি: ৩৮১১, সহিহু মুসলিম: ৪০৬৪।
৭৭৪. সহিহু মুসলিম: ৩৩৮০।
৭৭৫. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১২/১৮৮।
৭৭৬. ফাতহুল বারি: ১০/১৩৬।
৭৭৭. আল-আদাবুল মুফরাদ: ১১২৯।