📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 সাহাবিদের জন্য পুণ্যবতী নারীদের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতেন

📄 সাহাবিদের জন্য পুণ্যবতী নারীদের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতেন


আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুলাইবাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য এক আনসারি মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন মহিলার পিতার কাছে। তার পিতা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, "আমি মেয়ের মায়ের সাথে পরামর্শ করে জানাচ্ছি আপনাকে।"

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "ঠিক আছে তবে।"

মেয়ের পিতা তার স্ত্রীর কাছে এসে ঘটনা খুলে বলল। তখন মেয়ের মা বলে উঠল, "না, আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি জুলাইবাব ছাড়া অন্য কাউকে পাননি! অথচ আমরা মেয়ের ব্যাপারে অমুক অমুককে ফিরিয়ে দিয়েছি!"

ওদিকে বিয়ের পাত্রী আড়াল থেকে শুনছিল সব। তার বাবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নিষেধ করার জন্য রওনা হচ্ছিল প্রায়। তখন মেয়েটি বলে উঠল, "আপনারা কি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার ওপরে নিষেধ করতে যাচ্ছেন!? যদি তিনি আপনাদের জন্য এটা ভালো মনে করেন, তবে আমাকে জুলাইবাবের কাছেই বিয়ে দিয়ে দিন।"

মেয়েটি যেন তার বাবা-মার দিব্যচক্ষু খুলে দিল। তারা দুজন বলল, “তুমি সঠিক বলেছ।"

মেয়ের বাবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, "আপনি যদি তার ব্যাপারে ভালো মনে করেন, তবে আমরাও রাজি।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট।"

এরপর উভয়ের বিয়ে হয়ে যায়। এরপর একদিন মদিনাবাসীর ওপর শত্রুরা উদ্যত হলে জুলাইবাব তাদের বিরুদ্ধে লড়তে যায়। লড়াই শেষে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আর তার চারপাশে পাওয়া যায় কিছু মুশরিকের লাশ, যাদেরকে জুলাইবাব একাই ধরাশায়ী করেছিলেন।' আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এরপর আমি দেখলাম, মদিনার মাঝে সবচেয়ে বেশি বিয়ের প্রস্তাব আসা নারী ছিল সেই মেয়েটি। '৭৬৪

টিকাঃ
৭৬৪. মুসনাদু আহমাদ: ১১৯৪৪। হাদিসটি শাইখাইনের শর্তানুযায়ী সহিহ।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নারীর সম্মতি ছাড়া কাউকে বিয়ে দিতেন না

📄 নারীর সম্মতি ছাড়া কাউকে বিয়ে দিতেন না


উকবা বিন আমির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বললেন, "অমুক নারীর সাথে তোমার বিয়ে দিলে কি তুমি সন্তুষ্ট হবে?" লোকটি বলল, "জি।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরপর মহিলাকে বললেন, "অমুকের সাথে তোমার বিয়ে যদি দিই, তবে তুমি সন্তুষ্ট হবে?" মহিলাটি বলল, "জি।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরপর উভয়ের বিয়ে দিলেন। লোকটি সে মেয়েটির সাথে একত্রে সংসার করতে লাগল। কিন্তু তার জন্য মোহর নির্ধারণ করেনি, তাকে কিছু দেয়ওনি। লোকটি হুদাইবিয়াতে অংশ নিয়েছিল। যে হুদাইবিয়াতে অংশ নিয়েছিল, খাইবারের গনিমতে তার জন্য একটা অংশ ছিল। যখন লোকটি মৃত্যুর নিকটবর্তী, তখন সে সাথিদের বলল, "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অমুকের সাথে বিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমি সে নারীকে কোনো মোহর দিইনি। তাকে কোনো কিছুই দিইনি। আমি তোমাদের সাক্ষী করে রাখছি, আমি তাকে মোহর হিসেবে আমার খাইবারের অংশটা দিলাম।" মহিলাটি স্বামীর দেওয়া মোহর এক লক্ষ দিরহামের বিনিময়ে বিক্রি করে দিল।'

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সে বিয়েই উত্তম, যে বিয়ে সহজে হয়।"৭৬৫

অর্থাৎ কম খরচে, সহজ প্রস্তাবে যে বিয়ে হয়। এ হাদিসে মহিলাটির সৌভাগ্য ও প্রবৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া যায়। কারণ, বিয়ে হচ্ছে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে হৃদ্যতার সম্পর্ক। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে সহজতাই কাম্য। যখন এ সহজতা পুরো বিয়ের মাঝে পাওয়া যায়, তখন বরকত ছড়িয়ে পড়ে তাদের জীবনে। আর মোহর দেওয়ার ক্ষেত্রে মাত্রাতিরিক্ততা ছেড়ে অনায়াসে আদায়যোগ্য মোহর নির্ধারণ করা এবং অলিমাসহ বিয়ের অন্যান্য দিকের খরচ কম হওয়া হাদিসে বর্ণিত সহজতার অন্তর্ভুক্ত। ৭৬৬

টিকাঃ
৭৬৫. সুনানু আবি দাউদ: ২১১৭।
৭৬৬. ফাইজুল কাদির: ৩/৪৮২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 পিতা মেয়ের অমতে বিয়ে দিলে সে বিয়ে নাকচ করে দিতেন

📄 পিতা মেয়ের অমতে বিয়ে দিলে সে বিয়ে নাকচ করে দিতেন


খানসা বিনতে খিজাম আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, 'তার পিতা তাকে বিয়ে দিলেন। তখন তিনি সাইয়িবা (অকুমারী) ছিলেন। তিনি এ বিয়ে অপছন্দ করলেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিবাহ বাতিল করে দিলেন। '৭৬৭

এ হাদিসটি প্রমাণ করে, অকুমারী মেয়েকে তার অমতে বিয়ে দেওয়া জায়িজ নয়। এ হাদিসের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, কেউ নিজের অকুমারী মেয়েকে তার অমতে বিয়ে দিলে সে বিয়ে জায়িজ হবে না এবং তা বাতিল হয়ে যাবে। ৭৬৮

টিকাঃ
৭৬৭. সহিহুল বুখারি: ৫১৩৯।
৭৬৮. আওনুল মাবুদ: ৬/৯০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নারীদের অভিযোগের সমাধান করে দিতেন

📄 নারীদের অভিযোগের সমাধান করে দিতেন


খাওলা বিনতে সালাবা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর কসম, সুরা মুজাদালার শুরুর আয়াতগুলো আমার ও আওস বিন সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা নাজিল করেছেন।'

আমি ছিলাম আওসের স্ত্রী। তিনি বৃদ্ধ ছিলেন। মাঝে মাঝে তিনি মন্দ আচরণ করতেন এবং রাগের বশবর্তী হয়ে পড়তেন। একদিন তিনি আমার কাছে আসলে আমি তার কোনো ভুলের সংশোধন করে দিলাম। এতে তিনি রাগান্বিত হয়ে পড়লেন এবং বলে বসলেন, “তুমি আমার কাছে আমার মায়ের পিঠের মতো।" এ কথা বলে আওস আমার কাছ থেকে চলে গেলেন। তারপর নিজ গোত্রের সভার স্থানে গিয়ে কিছু সময় কাটিয়ে আসলেন। অতঃপর আমার কাছে এসে আমার নিকটবর্তী হতে চাইলেন। আমি তখন বললাম, "কক্ষনো না! যাঁর হাতে খাওলার প্রাণ-তাঁর কসম করে বলছি, আপনি আমার কাছে আসবেন না। আপনি যা বলার বলেছেন। আমাদের বিষয়টি আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মীমাংসা করা পর্যন্ত আপনি আমার নিকট আসবেন না।" আমার কথায় কোনো ফল হলো না। আওস আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। আমি সাধ্যমতো তাকে প্রতিরোধ করলাম। একজন মহিলা যে রকম স্বাভাবিকভাবে কোনো দুর্বল বৃদ্ধের ওপর বিজয়ী হয়, আমিও সেভাবে বিজয়ী হলাম। তাকে সরিয়ে দিলাম আমার ওপর থেকে। এরপর ঘর থেকে বেরিয়ে আমার এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে তার কাপড় ধার নিলাম। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে উপস্থিত হলাম। তার সামনে বসলাম। ঘটনার বিবরণ দিলাম তার কাছে। আমি আওসের মন্দ স্বভাবের ব্যাপারে তাঁর নিকট অভিযোগ করলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, "খাওলা, তোমার চাচাতো ভাই (স্বামী) বুড়ো মানুষ। তার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো।"

আমি তখন বললাম, "আল্লাহর কসম, যতক্ষণ না এ ব্যাপারে কুরআন নাজিল হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি ক্ষান্ত হব না।" এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হলো-ওহি নাজিলের সময় যেভাবে তাকে কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হয়, সেভাবে। এরপর যখন তিনি স্বাভাবিক হলেন, তখন বললেন, "হে খাওলা, তোমার ও তোমার স্বামীর ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বিধান নাজিল করেছেন।" এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করলেন:

قَدْ سَمِعَ اللَّهُ قَوْلَ الَّتِي تُجَادِلُكَ فِي زَوْجِهَا وَتَشْتَكِي إِلَى اللَّهِ وَاللَّهُ يَسْمَعُ تَحَاوُرَكُمَا إِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ بَصِيرٌ (۱) الَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْكُمْ مِنْ نِسَائِهِمْ مَا هُنَّ أُمَّهَاتِهِمْ إِنْ أُمَّهَاتُهُمْ إِلَّا اللَّائِي وَلَدْنَهُمْ وَإِنَّهُمْ لَيَقُولُونَ مُنْكَرًا مِنَ الْقَوْلِ وَزُورًا وَإِنَّ اللَّهَ لَعَفُوٌّ غَفُورُ (٢) وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسًا ذَلِكُمْ تُوعَظُونَ بِهِ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ (۳) فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسًا فَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَإِطْعَامُ سِتِّينَ مِسْكِينًا ذَلِكَ لِتُؤْمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتِلْكَ حُدُودُ اللهِ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ (٤)

"যে নারী তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছে এবং অভিযোগ পেশ করছে আল্লাহর দরবারে, আল্লাহ তার কথা শুনেছেন। আল্লাহ আপনাদের উভয়ের কথাবার্তা শুনেন। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছু শুনেন, সবকিছু দেখেন। তোমাদের মধ্যে যারা তাদের স্ত্রীগণকে মাতা বলে ফেলে, তাদের স্ত্রীগণ তাদের মাতা নয়। তাদের মাতা কেবল তারাই, যারা তাদের জন্ম দিয়েছে। তারা তো অসমীচীন ও ভিত্তিহীন কথাই বলে। নিশ্চয় আল্লাহ মার্জনাকারী, ক্ষমাশীল। যারা তাদের স্ত্রীদের মাতা বলে ফেলে, অতঃপর নিজেদের উক্তি প্রত্যাহার করে, তাদের কাফফারা হলো, একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একটি দাস মুক্ত করবে। এটা তোমাদের জন্য উপদেশ। আল্লাহ খবর রাখেন তোমরা যা করো। আর যে ব্যক্তির দাসমুক্তির সামর্থ্য নেই, সে একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে ধারাবাহিকভাবে দুই মাস রোজা রাখবে। যে এতেও অক্ষম হয়, সে ষাটজন মিসকিনকে আহার করাবে। এটা এ জন্য, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত শাস্তি। আর কাফিরদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আজাব।"৭৬৯

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, "তার কাছে যাও, তাকে বলো একটি দাস মুক্ত করতে।"

আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহর কসম, তার সে সামর্থ্য নেই।"

তাহলে সে ধারাবাহিক দুই মাস রোজা রাখবে।

আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসুল, তিনি তো বেশ বৃদ্ধ। রোজা রাখার সামর্থ্যও তার নেই।

তাহলে সে যেন এক অসাক খেজুর ষাটজন মিসকিনকে খাওয়ায়।

আল্লাহর শপথ, হে আল্লাহর রাসুল, তার এমন সামর্থ্যও নেই।

তাহলে আমি তাকে এক আরক পরিমাণ খেজুর দিয়ে সাহায্য করব।

খাওলা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, তখন আমি বললাম, "হে আল্লাহর রাসুল, আমিও তাকে এক আরক খেজুর দিয়ে সাহায্য করব।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার এ সিদ্ধান্ত যথার্থ ও উত্তম হয়েছে। এবার গিয়ে তার পক্ষ থেকে সাদাকা করে দাও। আর তোমার স্বামীর ব্যাপারে কল্যাণকামী হও।"

খাওলা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'এরপর আমি তেমনই করলাম, যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ করেছেন। '৭৭০

টিকাঃ
৭৬৯. সুরা আল-মুজাদালা, ৫৮: ১-৪।
৭৭০. মুসনাদু আহমাদ ২৬৭৭৪, সুনানু আবি দাউদ: ২২১৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00