📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 পুরুষ সাহাবিদের নামও তিনি পরিবর্তন করতেন

📄 পুরুষ সাহাবিদের নামও তিনি পরিবর্তন করতেন


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অনেক পুরুষ সাহাবির নাম পরিবর্তন করে সুন্দর নামকরণ করেছিলেন। তিনি আসি (অবাধ্য) নামের সাহাবিদের নাম পরিবর্তন করে মুতি' (অনুগত) রাখতেন।

আব্দুল্লাহ বিন মুতি' (রাহিমাহুল্লাহ) নিজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'কুরাইশদের আসি নাম বিশিষ্টদের মধ্য থেকেই যে-ই ইসলাম গ্রহণ করত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম রাখতেন মুতি'। ৭৫৩ তার (আব্দুল্লাহ-এর পিতার) নামও আসি ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নামও মুতি' রাখলেন। '৭৫৪

ইবনে মুসাইয়িব (রাহিমাহুল্লাহ) স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন যে, 'তার পিতা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কী?" তিনি উত্তর দিলেন, "হাজান (চিন্তা-পেরেশানি)।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি সাহল (সহজ)।"

আমার পিতা বললেন, "হাজান নামটা আমার বাবার দেওয়া। এ নাম আমি পরিবর্তন করব না।"

ইবনে মুসাইয়িব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এরপর থেকে সব সময় আমাদের সাথে চিন্তা-উদ্বিগ্নতা লেগেই আছে। '৭৫৫

উসামা বিন আখদারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক লোকের নাম ছিল আসরাম (পরিত্যক্ত/কর্তিত)। সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আসা দলের একজন ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কী?" সে উত্তর দিল, "আমি আসরাম।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "বরং তুমি জুরআ (বীজ/খেত)।"৭৫৬

আমাদের উচিত সন্তানদের মন্দ নাম না রেখে ভালো ও সুন্দর নাম বাছাই করা।

টিকাঃ
৭৫৩. দেখুন, ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১২/১৩৪।
৭৫৪. সহিহু মুসলিম: ১৭৮২।
৭৫৫. সহিহুল বুখারি: ৬১৯০।
৭৫৬. সুনানু আবি দাউদ: ৪৯৫৪। সনদ জাইয়িদ।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বৃদ্ধা নারীর সাথেও কখনো কৌতুক করতেন

📄 বৃদ্ধা নারীর সাথেও কখনো কৌতুক করতেন


হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এক বৃদ্ধা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, “হে আল্লাহর রাসুল, আমার জন্য দোয়া করুন, আল্লাহ যেন আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উদ্দেশে বললেন, "হে অমুকের মা, জান্নাতে কোনো বৃদ্ধা প্রবেশ করবে না।"

এরপর বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে সেখান থেকে চলে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরপর বললেন, "তোমরা তাকে জানিয়ে দাও, জান্নাতে কোনো নারী বৃদ্ধা অবস্থায় প্রবেশ করবে না। জান্নাতে তারা যুবতি হয়ে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

إِنَّا أَنشَأْنَاهُنَّ إِنشَاءُ - فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا - عُرُبًا أَتْرَابًا

"আমি জান্নাতি রমণীগণকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের করেছি চিরকুমারী, সোহাগিনী ও সমবয়স্কা।” (সুরা আল-ওয়াকিয়া, ৫৬: ৩৫-৩৭) '৭৫৭

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃদ্ধার সাথে কৌতুক করে তাকে বোঝাতে চেয়েছেন যে, জান্নাতে কেউ তার মতো বৃদ্ধা হয়ে প্রবেশ করবে না; বরং সকলেই তেত্রিশ বছর বয়সী যুবক-যুবতি হবে।

টিকাঃ
৭৫৭. তিরমিজি শামায়িলে বর্ণনা করেছেন। পৃষ্ঠা নং ১৯৯। হাদিসের মান: সহিহ।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন রক্ষা করার জন্য স্ত্রীর নিকট সুপারিশ করতেন

📄 স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন রক্ষা করার জন্য স্ত্রীর নিকট সুপারিশ করতেন


বারিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে আজাদ করা হলে তিনি তার কৃতদাস স্বামীর সাথে বৈবাহিক জীবন রাখতে চাইলেন না। তাই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াকেই তিনি বেছে নিলেন। ৭৫৮ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারিরার স্বামীর হয়ে তার কাছে সুপারিশ করে বললেন, যেন সে ফিরে যায়। কিন্তু বারিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, 'তার কাছে আমার কোনো প্রয়োজন নেই।'

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'বারিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর স্বামী ছিল একজন কৃতদাস। তার নাম ছিল মুগিস। আমার মনে হচ্ছে, আমি এখনো মুগিস-কে বারিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর পেছনে কাঁদতে কাঁদতে যেতে দেখছি। দেখতে পাচ্ছি, তার চোখ থেকে পানি এসে দাড়ি ভিজিয়ে দিচ্ছে।'

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন, “আব্বাস, বারিরার প্রতি মুগিসের এ ভালোবাসা, অন্যদিকে মুগিসের প্রতি বারিরার অনীহায় কি আপনি আশ্চর্য নন?"

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর উদ্দেশে বলেছিলেন, "আহ! যদি বারিরা মুগিসের কাছে ফিরে যেত!"৭৫৯

বারিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এই জবাবে বললেন, "আপনি কি আমায় আদেশ করছেন?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উত্তরে বললেন, "না; বরং আমি সুপারিশ করছি।"

বারিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তখন উত্তর দিলেন, "তবে তার কাছে আমার কোনো প্রয়োজন নেই।"৭৬০

বারিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কথার অর্থ হচ্ছে, যদি আপনি আমাকে আদেশ না করে থাকেন, তবে আমি এ বিবাহ বিচ্ছেদ করাই বেছে নেব।

টিকাঃ
৭৫৮. কারণ, কোনো দাস-দাসীর বিবাহ হলে, পরবর্তী সময়ে দাসী স্বাধীন হয়ে গেলে তার পূর্বস্বামীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক রাখা না-রাখার বিষয়ে তার স্বাধীনতা থাকে।
৭৫৯. সুনানুন নাসায়ির বর্ণনায় (৫৩৩২) এসেছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যদি তুমি মুগিসের কাছে ফিরে যেতে! কারণ, সে তো তোমার বাচ্চার পিতা।'
৭৬০. সহিহুল বুখারি: ৫২৮৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নারীদেরকে বিবাহের ব্যাপারে পরামর্শ দিতেন

📄 নারীদেরকে বিবাহের ব্যাপারে পরামর্শ দিতেন


ফাতিমা বিনতে কাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'তার স্বামী তাকে তিন তালাক দিয়ে ইদ্দত পালনের জন্য স্থান ও খরচ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও এমন ফয়সালা দিলেন এবং তাকে একজন সাহাবির ঘরে ইদ্দত পালনের সময়টা থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন।'

ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, "ইদ্দত পালন শেষে আমাকে বলবে।"

আমার ইদ্দত পালন শেষ হলো একসময়। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে জানালাম, "মুআবিয়া বিন আবু সুফইয়ান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এবং আবু জাহম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আবু জাহমের কাঁধে সব সময় ঋণের বোঝা থাকে। আর মুআবিয়া তো কপর্দকহীন; তুমি বরং উসামা বিন জাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বিয়ে করো।"

কিন্তু উসামা বিন জাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে আমি পছন্দ করলাম না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেন, "তুমি উসামাকে বিয়ে করো।"

ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হাত দিয়ে ইশারা করে বললেন, 'উসামা এমন এমন।' ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলে চললেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, "আল্লাহর আনুগত্য ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য তোমার জন্য উত্তম হবে।"

এরপর আমি উসামার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলাম। তারপর আল্লাহ তাআলা এতে এত কল্যাণ দান করলেন যে, আমি ঈর্ষার পাত্রে পরিণত হলাম। '৭৬১

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামা বিন জাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা বলে তার দ্বীনদারি, তার মর্যাদা, তার উত্তম চরিত্রের কথা জানালেন ফাতিমা বিনতে কাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে। এরপর বিয়ের কথা বললেন। কিন্তু ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) উসামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বিয়ে করা অপছন্দ করলেন। কারণ, একে তো উসামা বিন জাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একজন কৃতদাস। তার ওপর তিনি ছিলেন অতি কালো বর্ণের। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে উৎসাহ দিতে থাকলেন।'

ফাতিমা বিনতে কাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহা) কল্যাণের কথা বুঝতে পেরে রাজি হয়ে গেলেন। আর হলোও তা-ই। তাদের সংসারে কল্যাণ বর্ষিত হলো। এ জন্যই ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছিলেন, "আল্লাহ আমাদের সংসারে আমার জন্য এমন কল্যাণ দান করলেন যে, আমি অন্যদের নিকট ঈর্ষার পাত্রে পরিণত হলাম।"৭৬২

ইবনে উসাইমিন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ হাদিসে আমরা দেখেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুজন সাহাবির মন্দগুণ বর্ণনা করেছেন। তিনি এ বর্ণনা তাদের দোষত্রুটি বর্ণনার জন্য দেননি; বরং নসিহত হিসেবে কল্যাণের স্বার্থে সত্যটা বলেছেন। নিন্দা করা এবং কল্যাণের স্বার্থে কারও মন্দ তুলে ধরার মাঝে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে।'

এমনিভাবে, কেউ যদি আপনার কাছে জানতে আসে যে, আমি কি অমুকের কাছে ইলম শিখব? যার কথা জিজ্ঞেস করা হয়েছে, আপনি যদি তার ব্যাপারে জানেন যে, সে আলিম বিকৃত মতের অনুসারী, তবে দ্বিধাহীন হয়ে প্রশ্নকারীকে বলবেন, তার কাছে তুমি ইলম শিখো না।'

এভাবে যদি সে আলিমের আকিদাতে বা চিন্তা কিংবা মতাদর্শে ত্রুটি থাকে, যে ত্রুটি পরামর্শ গ্রহণকারীর মাঝেও প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে আপনি ধারণা করেন, তবে নিঃসংকোচে পরামর্শ গ্রহণকারীকে বলবেন, না, তুমি তার কাছে ইলম শিখবে না। তার মাঝে এ ভুল আছে। তার এ এ বিকৃত চিন্তাধারা আছে। '৭৬৩

টিকাঃ
৭৬১. সহিহু মুসলিম: ১৪৮০।
৭৬২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১০/৯৮।
৭৬৩. শারহু রিয়াজিস সালিহিন: ৬/১১০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00