📄 কোনো কোনো নারীর নাম পরিবর্তন করে অন্য নাম রাখতেন
ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর এক কন্যার নাম ছিল আসিয়া। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সে নাম পরিবর্তন করে রাখলেন জামিলা।'৭৫০
পূর্বে একটি হাদিসে আমরা দেখেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাসসামা মুজানিয়্যাহর নাম পরিবর্তন করে হাসসানা মুজানিয়্যাহ রাখেন।
ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ হাদিসগুলোর সারমর্ম হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মন্দ ও নিকৃষ্ট নামগুলো পরিবর্তন করে সুন্দর নাম রাখতেন তাদের। এ রকম অনেক হাদিসেই বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক সাহাবির নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম রেখেছিলেন তাদের।'৭৫১
মুহাম্মাদ বিন আমর বিন আতা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আমি আমার কন্যার নাম রাখলাম, বাররা (পুণ্যবতী)। কিন্তু জাইনাব বিনতে আবু সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) আমাকে বললেন, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নাম রাখতে নিষেধ করেছেন। আমার নামও বাররা ছিল। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, "তোমরা নিজেরা নিজেদের এমন মনে কোরো না। আল্লাহই জানেন তোমাদের মধ্যে কে পুণ্যবান আর কে পুণ্যবান নয়।"
তখন সাহাবিরা বলেছিলেন, "তাহলে আমরা কী নাম রাখব?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উত্তর দিয়েছিলেন, "তোমরা তার নাম রাখো জাইনাব।"৭৫২
টিকাঃ
৭৫০. সহিহু মুসলিম: ৩৯৮৮।
৭৫১. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৪/১২০।
৭৫২. সহিহু মুসলিম: ২১৪২।
📄 পুরুষ সাহাবিদের নামও তিনি পরিবর্তন করতেন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অনেক পুরুষ সাহাবির নাম পরিবর্তন করে সুন্দর নামকরণ করেছিলেন। তিনি আসি (অবাধ্য) নামের সাহাবিদের নাম পরিবর্তন করে মুতি' (অনুগত) রাখতেন।
আব্দুল্লাহ বিন মুতি' (রাহিমাহুল্লাহ) নিজ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, 'কুরাইশদের আসি নাম বিশিষ্টদের মধ্য থেকেই যে-ই ইসলাম গ্রহণ করত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম রাখতেন মুতি'। ৭৫৩ তার (আব্দুল্লাহ-এর পিতার) নামও আসি ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নামও মুতি' রাখলেন। '৭৫৪
ইবনে মুসাইয়িব (রাহিমাহুল্লাহ) স্বীয় পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন যে, 'তার পিতা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কী?" তিনি উত্তর দিলেন, "হাজান (চিন্তা-পেরেশানি)।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি সাহল (সহজ)।"
আমার পিতা বললেন, "হাজান নামটা আমার বাবার দেওয়া। এ নাম আমি পরিবর্তন করব না।"
ইবনে মুসাইয়িব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এরপর থেকে সব সময় আমাদের সাথে চিন্তা-উদ্বিগ্নতা লেগেই আছে। '৭৫৫
উসামা বিন আখদারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক লোকের নাম ছিল আসরাম (পরিত্যক্ত/কর্তিত)। সে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে আসা দলের একজন ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কী?" সে উত্তর দিল, "আমি আসরাম।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "বরং তুমি জুরআ (বীজ/খেত)।"৭৫৬
আমাদের উচিত সন্তানদের মন্দ নাম না রেখে ভালো ও সুন্দর নাম বাছাই করা।
টিকাঃ
৭৫৩. দেখুন, ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১২/১৩৪।
৭৫৪. সহিহু মুসলিম: ১৭৮২।
৭৫৫. সহিহুল বুখারি: ৬১৯০।
৭৫৬. সুনানু আবি দাউদ: ৪৯৫৪। সনদ জাইয়িদ।
📄 বৃদ্ধা নারীর সাথেও কখনো কৌতুক করতেন
হাসান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এক বৃদ্ধা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, “হে আল্লাহর রাসুল, আমার জন্য দোয়া করুন, আল্লাহ যেন আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করান।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উদ্দেশে বললেন, "হে অমুকের মা, জান্নাতে কোনো বৃদ্ধা প্রবেশ করবে না।"
এরপর বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে সেখান থেকে চলে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরপর বললেন, "তোমরা তাকে জানিয়ে দাও, জান্নাতে কোনো নারী বৃদ্ধা অবস্থায় প্রবেশ করবে না। জান্নাতে তারা যুবতি হয়ে প্রবেশ করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّا أَنشَأْنَاهُنَّ إِنشَاءُ - فَجَعَلْنَاهُنَّ أَبْكَارًا - عُرُبًا أَتْرَابًا
"আমি জান্নাতি রমণীগণকে বিশেষরূপে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর তাদের করেছি চিরকুমারী, সোহাগিনী ও সমবয়স্কা।” (সুরা আল-ওয়াকিয়া, ৫৬: ৩৫-৩৭) '৭৫৭
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃদ্ধার সাথে কৌতুক করে তাকে বোঝাতে চেয়েছেন যে, জান্নাতে কেউ তার মতো বৃদ্ধা হয়ে প্রবেশ করবে না; বরং সকলেই তেত্রিশ বছর বয়সী যুবক-যুবতি হবে।
টিকাঃ
৭৫৭. তিরমিজি শামায়িলে বর্ণনা করেছেন। পৃষ্ঠা নং ১৯৯। হাদিসের মান: সহিহ।
📄 স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন রক্ষা করার জন্য স্ত্রীর নিকট সুপারিশ করতেন
বারিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে আজাদ করা হলে তিনি তার কৃতদাস স্বামীর সাথে বৈবাহিক জীবন রাখতে চাইলেন না। তাই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াকেই তিনি বেছে নিলেন। ৭৫৮ নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারিরার স্বামীর হয়ে তার কাছে সুপারিশ করে বললেন, যেন সে ফিরে যায়। কিন্তু বারিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, 'তার কাছে আমার কোনো প্রয়োজন নেই।'
ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'বারিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর স্বামী ছিল একজন কৃতদাস। তার নাম ছিল মুগিস। আমার মনে হচ্ছে, আমি এখনো মুগিস-কে বারিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর পেছনে কাঁদতে কাঁদতে যেতে দেখছি। দেখতে পাচ্ছি, তার চোখ থেকে পানি এসে দাড়ি ভিজিয়ে দিচ্ছে।'
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন, “আব্বাস, বারিরার প্রতি মুগিসের এ ভালোবাসা, অন্যদিকে মুগিসের প্রতি বারিরার অনীহায় কি আপনি আশ্চর্য নন?"
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর উদ্দেশে বলেছিলেন, "আহ! যদি বারিরা মুগিসের কাছে ফিরে যেত!"৭৫৯
বারিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এই জবাবে বললেন, "আপনি কি আমায় আদেশ করছেন?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উত্তরে বললেন, "না; বরং আমি সুপারিশ করছি।"
বারিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তখন উত্তর দিলেন, "তবে তার কাছে আমার কোনো প্রয়োজন নেই।"৭৬০
বারিরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কথার অর্থ হচ্ছে, যদি আপনি আমাকে আদেশ না করে থাকেন, তবে আমি এ বিবাহ বিচ্ছেদ করাই বেছে নেব।
টিকাঃ
৭৫৮. কারণ, কোনো দাস-দাসীর বিবাহ হলে, পরবর্তী সময়ে দাসী স্বাধীন হয়ে গেলে তার পূর্বস্বামীর সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক রাখা না-রাখার বিষয়ে তার স্বাধীনতা থাকে।
৭৫৯. সুনানুন নাসায়ির বর্ণনায় (৫৩৩২) এসেছে, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'যদি তুমি মুগিসের কাছে ফিরে যেতে! কারণ, সে তো তোমার বাচ্চার পিতা।'
৭৬০. সহিহুল বুখারি: ৫২৮৩।