📄 তাওবাকারী নারীর সঙ্গে পূর্বের মতো সদাচার করার নির্দেশ দিতেন
ইমরান বিন হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'জুহাইনা গোত্রের এক নারী গর্ভবতী অবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, “হে আল্লাহর নবি, আমি হদযোগ্য। আমার ওপর হদ কায়িম করুন।"
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিভাবককে ডেকে বললেন, "এ নারীর প্রতি সদাচরণ করো। সন্তান প্রসব হলে তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ পালন করা হলো যথাযথভাবে। তাকে নিয়ে আসা হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ দিলে মহিলার কাপড় শক্ত করে বাঁধা হলো। এরপর তিনি রজম করার আদেশ করলেন। রজম শেষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাজা আদায় করলেন।'
তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশে বললেন, “হে আল্লাহর নবি, আপনি জিনাকারীর জানাজা আদায় করলেন?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সে এমন তাওবা করেছে, যদি তার তাওবা মদিনার সত্তরজন লোকের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়, তবে তাদের সকলের জন্য তা যথেষ্ট হবে। তুমি এর চেয়ে উত্তম তাওবা দেখেছ? সে তো তাওবা করতে গিয়ে আল্লাহর জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছে। "৭২৮
গামিদি মহিলার অভিভাবককে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, 'এ নারীর প্রতি সদাচরণ করো। সন্তান প্রসব হলে তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে।'
সদাচরণের আদেশ করার দুটি কারণ।
এক. মহিলার আত্মীয়-স্বজনরা লজ্জার কারণে আত্মসম্মানের বশবর্তী হয়ে তার ক্ষতি করতে পারে। সে জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবধানতাবশত আদেশ করলেন, যেন তার প্রতি তারা সদাচরণ করে।
দুই. মহিলা তাওবা করার কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দয়াপরবশ হয়ে তার প্রতি সদাচরণ করার জন্য আদেশ করেছেন। কারণ, তার তাওবার পরে মানুষের মনে তার প্রতি ঘৃণার কারণে তাকে তারা কষ্টদায়ক কথাবার্তা শোনাবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই আগ থেকেই সেগুলো নিষেধ করে দিলেন। ৭২৯
মাখজুম গোত্রের এক মহিলা চুরি করে হদপ্রাপ্ত হয়। আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'সে উত্তমরূপে তাওবা করেছিল। এরপর তার বিয়ে হয়। সে আমার কাছে আসত। আর আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তার প্রয়োজন তুলে ধরতাম। '৭৩০
অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'হদ কায়িমের পর মাখজুমি নারী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশে বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, আমার জন্য তাওবা করার কোনো পথ আছে কি?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, "জন্মের দিন সন্তান যেমন গুনাহ থেকে মুক্ত থাকে, তেমনই তুমিও আজ গুনাহমুক্ত।"৭৩১
টিকাঃ
৭২৮. সহিহু মুসলিম: ১৬৯৬।
৭২৯. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১১/২০৫।
৭৩০. সহিহুল বুখারি: ৪৩০৪, সহিহু মুসলিম: ১৬৮৮।
৭৩১. মুসনাদু আহমাদ ৬৬১৯, আহমাদ শাকিরের মতে, হাদিসটি সহিহ। শুআইব আরনাউত বলেন, হাদিসটি জইফ।
📄 কোনো নারী হাদিয়া পাঠালে তা গ্রহণ করতেন
আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ে করলেন। স্ত্রীকে নিয়ে ঘরে এলেন। আমার মা উম্মে সুলাইম (রাদিয়াল্লাহু আনহা) আমাকে বললেন, "আমাদের উচিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিছু হাদিয়া দেওয়া।"
আমি বললাম, "দিন।"
উম্মে সুলাইম (রাদিয়াল্লাহু আনহা) খেজুর, ঘি ও পনিরে মিশ্রিত হাইসা বানিয়ে সেগুলো একটি পাত্রে রাখলেন। আমাকে বললেন, "আনাস, এগুলো নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যাও। তাকে বলবে, এগুলো আমার মা পাঠিয়েছেন। আপনাকে সালাম জানিয়েছেন। বলবে, এগুলো আমাদের পক্ষ থেকে আপনার জন্য হাদিয়া, হে আল্লাহর রাসুল।"
আমি খাবারের পাত্রটা নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে চলে এলাম। তাকে বললাম, "আমার মা আপনাকে সালাম জানিয়েছেন। বলেছেন, এগুলো আমাদের পক্ষ থেকে আপনার জন্য স্বল্প হাদিয়া, হে আল্লাহর রাসুল।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এখানে রাখো।" এরপর বললেন, "তুমি গিয়ে অমুক, অমুক, অমুককে ডেকে আনো। আর পথে যাকে পাবে, তাকে দাওয়াত দিয়ে আসবে।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজনের নাম বলে তাদের দাওয়াত দিতে বললেন। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বলা নাম অনুযায়ী এবং যার সাথেই দেখা হলো, তাকে দাওয়াত দিলাম। ফিরে এসে দেখি, ঘর লোকে পরিপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, "আনাস, খাবারের পাত্রটা আনো।"
আমি পাত্রটা এনে রাখলাম। দেখলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাইসার মাঝে হাত রেখে আল্লাহ যা ইচ্ছে করেছেন, তা বললেন। এরপর দশজন দশজন করে ডাকতে লাগলেন। বললেন, "দশজন দশজন করে গোল হয়ে বসো।" প্রত্যেকে যেন তার সামনের অংশ থেকে খায়। সবাই খেয়ে তৃপ্ত হলো। একদল বের হলে অন্য দল প্রবেশ করত। এভাবে সকলের খাওয়া শেষ হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার আমাকে বললেন, "আনাস, পাত্রটা উঠিয়ে নাও।"
আমি পাত্রটা ওঠালাম। আমি জানি না, যখন পাত্রটা রেখেছিলাম, তখন বেশি ওজন ছিল, নাকি যখন পাত্রটা ওঠালাম তখন বেশি ওজন ছিল! '৭৩২
খাবারের আধ্যিকতার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্পষ্ট একটি মুজিজা প্রকাশিত হলো এ ঘটনায়। ৭৩৩
সাহল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলো একটি বয়নকৃত বুরদাহ নিয়ে। তার ঝালর অক্ষয় ছিল। ৭৩৪ মহিলা বলল, "আমি নিজ হাতে আপনার জন্য এটি বয়ন করেছি। এখন আপনার কাছে নিয়ে আসলাম আপনার পরিধানের জন্য।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদরটি নিলেন। তাঁর প্রয়োজনও ছিল চাদরের। এরপর চাদরটি লুঙ্গি হিসেবে পরিধান করে বাইরে এলেন।'
এক লোক চাদরের সৌন্দর্য বর্ণনা করে বলল, "কত সুন্দর চাদর! আমাকে এটি পরিধানের জন্য দিন।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "হাঁ।"
এরপর আল্লাহ যতক্ষণ ইচ্ছে করলেন, ততক্ষণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসে বসা ছিলেন। এরপর ঘরে ফিরে চাদরটি ভাঁজ করে সে লোকের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তখন উপস্থিত লোকেরা বলল, "তুমি ঠিক করলে না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রয়োজন ছিল এ চাদরটির। তুমি চেয়ে বসলে। তুমি তো জানো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে ফিরিয়ে দেন না।"
লোকটি বলল, "আল্লাহর শপথ, আমি সাধারণভাবে পরিধানের জন্য এটি চাইনি। আমি চাদরটা চেয়েছি আমার কাফন হিসেবে।"
সাহল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, "এ কাপড়টিই তার কাফন হিসেবে ব্যবহৃত হয় পরে। "৭৩৫
টিকাঃ
৭৩২. সহিহু মুসলিম: ১৪২৮।
৭৩৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৯/২৩২।
৭৩৪. কাপড়টা নতুন ছিল।
৭৩৫. সহিহুল বুখারি: ১২৭৭।
📄 কোনো নারী খানার দাওয়াত করলে গ্রহণ করতেন
আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমার মা উম্মে সুলাইম (রাদিয়াল্লাহু আনহা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খাবারের দাওয়াত দিলেন। সে খাবার তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্যই তৈরি করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাবার খেয়ে বললেন, "ওঠো, আমি তোমাদের নিয়ে সালাত আদায় করব।"
আমি চাটাই আনার জন্য উঠে গেলাম। আমাদের চাটাইটি অধিক ব্যবহারের কারণে কালো হয়ে গিয়েছিল। আমি সেটাতে পানি ছিটিয়ে পরিষ্কার করে নিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটার ওপরে দাঁড়ালেন সালাতের জন্য। আমি ও এতিম ৭৩৭ বালক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে কাতার করে দাঁড়ালাম। আর নারীদের দাঁড়ানোর জায়গা ছিল আমাদের পেছনের কাতারে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে দুই রাকআত সালাত আদায় করলেন। এরপর চলে গেলেন। '৭৩৮
হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:
* বিয়ের ভোজ না হয়ে সাধারণ কোনো ভোজের দাওয়াত হলেও তা গ্রহণ করা যায়। কোনো মহিলা দাওয়াত দিলে ফিতনা হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে সে দাওয়াত গ্রহণ করা যায়।
* মহিলাদের সালাত শেখানোর জন্য বাড়িতে নফল সালাত জামাআতে আদায় করা যায়। কারণ, সালাতের কিছু সূক্ষ্ম বিষয় হয়তো নারীদের নিকট অস্পষ্ট থাকতে পারে।
* সালাত পড়ার আগে সালাতের জায়গা পরিষ্কার করে নিতে হয়। শিশুরা প্রয়োজন হলে পুরুষদের কাতারে দাঁড়াতে পারে। আর মহিলাদের কাতার হবে সবার পেছনে। এ ক্ষেত্রে যদি মহিলা একজনই হয়, তবে একজনকে নিয়ে মহিলাদের কাতার হবে। ৭৩৯
টিকাঃ
৭৩৭. জুমাইরা বিন সাদ আল-হুমাইরি। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কৃতদাস ছিলেন।
৭৩৮. সহিহুল বুখারি: ৩৮০, সহিহু মুসলিম: ৬৫৮।
৭৩৯. ফাতহুল বারি: ১/৪৯০।
📄 অসুস্থ নারীদের দেখতে যেতেন
জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সায়িব (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর নিকট এলেন। তাকে বললেন, "উম্মে সায়িব, তোমার কী হয়েছে, কাঁদছ কেন?"
উম্মে সায়িব (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলল, "জ্বর। আল্লাহ এর অমঙ্গল করুন।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "জ্বরকে গালমন্দ করো না। কারণ, জ্বর এমনভাবে আদম-সন্তানের গুনাহ দূর করে, যেভাবে কামারের হাপর লোহার মরীচিকা দূর করে। "৭৪০
জংধরা লোহাকে যখন আগুনের মাঝে দেওয়া হয়, তখন তার সব মরীচিকা দূর হয়ে লোহা পরিষ্কার হয়ে যায়; তেমনই জ্বর মানুষের গুনাহকে দূর করে দেয়।
উম্মে আলা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'আমি যখন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন আমাকে দেখতে আসেন। তিনি বলেন, "সুসংবাদ গ্রহণ করো, হে উম্মে আলা। কারণ, অসুখের মাধ্যমে একজন মুসলিমের গুনাহগুলো আল্লাহ এমনভাবে মিটিয়ে দেন, যেমনভাবে আগুন স্বর্ণ-রৌপ্যের ময়লা দূর করে।"৭৪১
ইমাম মুনজিরি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'উম্মে আলা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ছিলেন হাকিম বিন হিজাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফুফু। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বাইআত হওয়া নারীদের একজন ছিলেন তিনি। '৭৪২
আবু উমামা বিন সাহল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আওয়ালি গোত্রের এক নারী অসুস্থ হয়ে পড়ল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থদের দেখতে যেতেন। তাকে দেখতে এসে বলে গেলেন, "এ নারী মারা গেলে আমাকে জানাবে।"
সে রাতে মহিলাটি মারা যায়। লোকেরা তাকে দাফনও করে ফেলে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে না জানিয়ে। সকালবেলা তিনি সে নারী সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তখন তারা বলল, “আমরা আপনাকে ঘুম থেকে জাগানো সমীচীন মনে করিনি, হে আল্লাহর রাসুল।"
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে নারীর কবরের নিকট আসলেন। অতঃপর চারটি তাকবির বলে তার জানাজা আদায় করলেন। '৭৪৩
ইবনে আব্দুল বার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ হাদিস প্রমাণ করে, (গাইরে মাহরাম) বৃদ্ধা নারী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দেখতে যাওয়াতে বাধা নেই। তবে গাইরে মাহরাম নারী যদি বৃদ্ধা না হয়, তাহলে তার কাছে না গিয়ে তার মাহরাম কারও থেকে খোঁজখবর নেবে। '৭৪৪
টিকাঃ
৭৪০. সহিহু মুসলিম: ২৫৭৫।
৭৪১. সুনানু আবি দাউদ: ৩০৯২।
৭৪২. আত-তারগিব ওয়াত তারহিব ৪/১৪৮।
৭৪৩. সুনানুন নাসায়ি ১৯০৭, সহিহুল বুখারি ৪৫৮, সহিহু মুসলিম: ৯৫৬।
৭৪৪. আত-তামহিদ: ৬/২৫৫।