📄 নবুয়তের সাথে নারীদের ভুল সংশোধন করে দিতেন
নারীদের কাউকে ভুল করতে দেখলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্নেহের সাথে নরম কণ্ঠে তার ভুল ধরিয়ে দিতেন।
আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মহিলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি কবরের পাশে বসে কাঁদছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি আল্লাহকে ভয় করো এবং সবর করো।" মহিলাটি বলল, "আমার কাছ থেকে চলে যান। আপনার ওপর তো আমার মতো মুসিবত আসেনি।" সে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চিনতে পারেনি (বিধায় এমন কথা বলেছে)। পরে তাকে বলা হলো যে, তিনি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তখন সে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরোজায় হাজির হলো। সেখানে কোনো পাহারাদার পেলে না। সে আরজ করল, "আমি আপনাকে চিনতে পারিনি।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সবর তো বিপদের প্রথম অবস্থাতেই।"৭২৩
অর্থাৎ উত্তম সবরকারী হচ্ছে সে, যে বিপদ আপতিত হওয়ার সাথে সাথে সবর করে। অন্যদিকে যে দেরিতে সবর করে, তার সবর প্রথম পর্যায়ের মতো উত্তম হয় না। তার সাওয়াবও কম হয়। কারণ, দিন যত গড়াবে, মানুষ তত দুঃখ ভুলে যায়, কষ্ট ভুলে যায়-তখন সবর করাও সহজ হয়ে যায়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত উত্তরের ব্যাখ্যা
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে সে নারীকে তাকওয়া ও ধৈর্যের আদেশ করেছিলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে চিনতে না পেরে সে নারী বিরূপ আচরণ করে বসে। এরপর ক্ষমা চাইতে আসলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রত্যুত্তর দিলেন আরেকটি কথা যোগ করে। সেটি হচ্ছে, সবরের আসল স্থল হচ্ছে দুঃখ অবস্থার প্রথম সময়টি। এ সবরেই সাওয়াব মিলে বেশি। ৭২৪
(আল্লাহকে ভয় করো এবং সবর করো) হাদিসের ভাষ্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, এ নারী অতিরিক্ত কাঁদার কারণে বা তার ক্রন্দন বিলাপে পরিণত হওয়ার কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার উদ্দেশে এ কথাটা বলেছেন। অন্যথায় স্বাভাবিকভাবে কাঁদলে তো কোনো সমস্যা নেই। স্বাভাবিক ক্রন্দনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাও নেই।
মহিলাটি যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ক্ষমা চাইতে আসে, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে উত্তরটি দিয়েছিলেন, এ ধরনের উত্তরকে বলা হয় 'উসলুবুল হাকিম' তথা প্রজ্ঞাময় উত্তর। প্রশ্নকারী যে প্রশ্নটি করেন, সেটি যদি প্রয়োজনীয় প্রশ্ন বা যথাযথ প্রশ্ন না হয়, তখন উত্তরদাতা যথাযথ ও প্রয়োজনীয় প্রশ্নটির উত্তর দেওয়া উসলুবুল হাকিমের অন্তর্ভুক্ত। ৭২৫
হাদিস থেকে আমরা অনায়াসে বুঝতে পারি যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন বলছেন, ক্ষমা চাওয়ার দরকার নেই। আমি নিজের জন্য রাগান্বিত হই না; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমি রাগান্বিত হই। তুমি বরং এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের দিকে নজর দাও।...
হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:
* কেউ না জানলে তাকে জানানোর ক্ষেত্রে বিনয়ী হওয়া, কোমল আচরণে আগলে নিয়ে শিখিয়ে দেওয়া, দুঃখ-কষ্টে নিপতিত ব্যক্তির প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, বিরূপ আচরণ করে ক্ষমা চাইলে ক্ষমা করে দেওয়া, সর্বদা সকলের ক্ষেত্রে আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকারের আমল করে যাওয়া।
* একজন বিচারক সাধারণ মানুষের জন্য সহজগম্য হবেন।
* কেউ সৎ কাজের আদেশ করলে, তাকে না চিনলেও তার কথা গ্রহণ করে আমল করতে হবে।
* ধৈর্যহীনতা নিষিদ্ধ কর্ম। সে জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নারী সাহাবিকে সবরের সাথে সাথে আল্লাহকে ভয় করার আদেশ দিয়েছেন।
* দাওয়াত বা নসিহা করার সময় মানুষের দেওয়া কষ্টের ওপর ধৈর্যধারণ করার প্রতি উৎসাহ।
টিকাঃ
৭২৩. সহিহুল বুখারি: ১২৮৩, সহিহু মুসলিম: ৯২৬।
৭২৪. ফাতহুল বারি: ৩/১৫০।
৭২৫. আল-ইদাহ ফি উলুমিল বালাগাহ ২/১১০।
📄 মহিলাদের প্রহার করতে নিষেধ করেছেন
ইয়াস বিন আব্দুল্লাহ বিন আবু জুবাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা আল্লাহর দাসীদের মেরো না।" এরপর উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালেন, "মহিলারা তাদের স্বামীর অবাধ্য হয়।" অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের মৃদু আঘাতের অনুমতি দেন।'
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রীদের কাছে মহিলারা এসে তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে লাগল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিবারের কাছে অনেক মহিলা স্বামীদের নিয়ে অভিযোগ করেছে। যারা নিজের স্ত্রীকে প্রহার করে, তারা তোমাদের মধ্যে ভালো মানুষ নয়।"৭২৬
তাই নারীদের মন্দ আচরণে ধৈর্যধারণ করা এবং তাদের প্রহার না করা উত্তম ও অধিক সুন্দর। ৭২৭
টিকাঃ
৭২৬. সুনানু আবি দাউদ: ২১৪৬, সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৯৮৫।
৭২৭. আওনুল মাবুদ: ৬/১৩০।
📄 তাওবাকারী নারীর সঙ্গে পূর্বের মতো সদাচার করার নির্দেশ দিতেন
ইমরান বিন হুসাইন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'জুহাইনা গোত্রের এক নারী গর্ভবতী অবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, “হে আল্লাহর নবি, আমি হদযোগ্য। আমার ওপর হদ কায়িম করুন।"
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিভাবককে ডেকে বললেন, "এ নারীর প্রতি সদাচরণ করো। সন্তান প্রসব হলে তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ পালন করা হলো যথাযথভাবে। তাকে নিয়ে আসা হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ দিলে মহিলার কাপড় শক্ত করে বাঁধা হলো। এরপর তিনি রজম করার আদেশ করলেন। রজম শেষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাজা আদায় করলেন।'
তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশে বললেন, “হে আল্লাহর নবি, আপনি জিনাকারীর জানাজা আদায় করলেন?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সে এমন তাওবা করেছে, যদি তার তাওবা মদিনার সত্তরজন লোকের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়, তবে তাদের সকলের জন্য তা যথেষ্ট হবে। তুমি এর চেয়ে উত্তম তাওবা দেখেছ? সে তো তাওবা করতে গিয়ে আল্লাহর জন্য নিজের জীবন পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছে। "৭২৮
গামিদি মহিলার অভিভাবককে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন, 'এ নারীর প্রতি সদাচরণ করো। সন্তান প্রসব হলে তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে।'
সদাচরণের আদেশ করার দুটি কারণ।
এক. মহিলার আত্মীয়-স্বজনরা লজ্জার কারণে আত্মসম্মানের বশবর্তী হয়ে তার ক্ষতি করতে পারে। সে জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাবধানতাবশত আদেশ করলেন, যেন তার প্রতি তারা সদাচরণ করে।
দুই. মহিলা তাওবা করার কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দয়াপরবশ হয়ে তার প্রতি সদাচরণ করার জন্য আদেশ করেছেন। কারণ, তার তাওবার পরে মানুষের মনে তার প্রতি ঘৃণার কারণে তাকে তারা কষ্টদায়ক কথাবার্তা শোনাবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই আগ থেকেই সেগুলো নিষেধ করে দিলেন। ৭২৯
মাখজুম গোত্রের এক মহিলা চুরি করে হদপ্রাপ্ত হয়। আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'সে উত্তমরূপে তাওবা করেছিল। এরপর তার বিয়ে হয়। সে আমার কাছে আসত। আর আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তার প্রয়োজন তুলে ধরতাম। '৭৩০
অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'হদ কায়িমের পর মাখজুমি নারী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশে বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, আমার জন্য তাওবা করার কোনো পথ আছে কি?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলেন, "জন্মের দিন সন্তান যেমন গুনাহ থেকে মুক্ত থাকে, তেমনই তুমিও আজ গুনাহমুক্ত।"৭৩১
টিকাঃ
৭২৮. সহিহু মুসলিম: ১৬৯৬।
৭২৯. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১১/২০৫।
৭৩০. সহিহুল বুখারি: ৪৩০৪, সহিহু মুসলিম: ১৬৮৮।
৭৩১. মুসনাদু আহমাদ ৬৬১৯, আহমাদ শাকিরের মতে, হাদিসটি সহিহ। শুআইব আরনাউত বলেন, হাদিসটি জইফ।
📄 কোনো নারী হাদিয়া পাঠালে তা গ্রহণ করতেন
আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ে করলেন। স্ত্রীকে নিয়ে ঘরে এলেন। আমার মা উম্মে সুলাইম (রাদিয়াল্লাহু আনহা) আমাকে বললেন, "আমাদের উচিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কিছু হাদিয়া দেওয়া।"
আমি বললাম, "দিন।"
উম্মে সুলাইম (রাদিয়াল্লাহু আনহা) খেজুর, ঘি ও পনিরে মিশ্রিত হাইসা বানিয়ে সেগুলো একটি পাত্রে রাখলেন। আমাকে বললেন, "আনাস, এগুলো নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যাও। তাকে বলবে, এগুলো আমার মা পাঠিয়েছেন। আপনাকে সালাম জানিয়েছেন। বলবে, এগুলো আমাদের পক্ষ থেকে আপনার জন্য হাদিয়া, হে আল্লাহর রাসুল।"
আমি খাবারের পাত্রটা নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে চলে এলাম। তাকে বললাম, "আমার মা আপনাকে সালাম জানিয়েছেন। বলেছেন, এগুলো আমাদের পক্ষ থেকে আপনার জন্য স্বল্প হাদিয়া, হে আল্লাহর রাসুল।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এখানে রাখো।" এরপর বললেন, "তুমি গিয়ে অমুক, অমুক, অমুককে ডেকে আনো। আর পথে যাকে পাবে, তাকে দাওয়াত দিয়ে আসবে।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কয়েকজনের নাম বলে তাদের দাওয়াত দিতে বললেন। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বলা নাম অনুযায়ী এবং যার সাথেই দেখা হলো, তাকে দাওয়াত দিলাম। ফিরে এসে দেখি, ঘর লোকে পরিপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, "আনাস, খাবারের পাত্রটা আনো।"
আমি পাত্রটা এনে রাখলাম। দেখলাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাইসার মাঝে হাত রেখে আল্লাহ যা ইচ্ছে করেছেন, তা বললেন। এরপর দশজন দশজন করে ডাকতে লাগলেন। বললেন, "দশজন দশজন করে গোল হয়ে বসো।" প্রত্যেকে যেন তার সামনের অংশ থেকে খায়। সবাই খেয়ে তৃপ্ত হলো। একদল বের হলে অন্য দল প্রবেশ করত। এভাবে সকলের খাওয়া শেষ হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার আমাকে বললেন, "আনাস, পাত্রটা উঠিয়ে নাও।"
আমি পাত্রটা ওঠালাম। আমি জানি না, যখন পাত্রটা রেখেছিলাম, তখন বেশি ওজন ছিল, নাকি যখন পাত্রটা ওঠালাম তখন বেশি ওজন ছিল! '৭৩২
খাবারের আধ্যিকতার মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্পষ্ট একটি মুজিজা প্রকাশিত হলো এ ঘটনায়। ৭৩৩
সাহল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক মহিলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলো একটি বয়নকৃত বুরদাহ নিয়ে। তার ঝালর অক্ষয় ছিল। ৭৩৪ মহিলা বলল, "আমি নিজ হাতে আপনার জন্য এটি বয়ন করেছি। এখন আপনার কাছে নিয়ে আসলাম আপনার পরিধানের জন্য।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাদরটি নিলেন। তাঁর প্রয়োজনও ছিল চাদরের। এরপর চাদরটি লুঙ্গি হিসেবে পরিধান করে বাইরে এলেন।'
এক লোক চাদরের সৌন্দর্য বর্ণনা করে বলল, "কত সুন্দর চাদর! আমাকে এটি পরিধানের জন্য দিন।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "হাঁ।"
এরপর আল্লাহ যতক্ষণ ইচ্ছে করলেন, ততক্ষণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মজলিসে বসা ছিলেন। এরপর ঘরে ফিরে চাদরটি ভাঁজ করে সে লোকের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তখন উপস্থিত লোকেরা বলল, "তুমি ঠিক করলে না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রয়োজন ছিল এ চাদরটির। তুমি চেয়ে বসলে। তুমি তো জানো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে ফিরিয়ে দেন না।"
লোকটি বলল, "আল্লাহর শপথ, আমি সাধারণভাবে পরিধানের জন্য এটি চাইনি। আমি চাদরটা চেয়েছি আমার কাফন হিসেবে।"
সাহল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, "এ কাপড়টিই তার কাফন হিসেবে ব্যবহৃত হয় পরে। "৭৩৫
টিকাঃ
৭৩২. সহিহু মুসলিম: ১৪২৮।
৭৩৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৯/২৩২।
৭৩৪. কাপড়টা নতুন ছিল।
৭৩৫. সহিহুল বুখারি: ১২৭৭।