📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নারীদের প্রতি সদাচরণ করতেন

📄 নারীদের প্রতি সদাচরণ করতেন


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের প্রতি সদাচরণ করতেন, তাদের যথাযথভাবে সম্মান করতেন, বিশেষ করে যদি কোনো নারী মাহাত্ম্যবিশিষ্ট হতেন অথবা তাঁর প্রতি কোনো নারীর অবদান থাকত, তবে তার প্রতি থাকত বিশেষ সদাচরণ ও সম্মান।

* সুয়াইবা

সুয়াইবা ছিলেন আবু লাহাবের দাসী। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মের পর সর্বপ্রথম তিনিই তাঁকে দুধ পান করিয়েছিলেন। হালিমা সাদিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর আগেই। সে সময় সুয়াইবার কোলে তার এক ছেলেও ছিল। তার নাম মাসরুহ। এর আগে সুয়াইবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা হামজা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে এবং পরে আবু সালামা বিন আব্দুল আসাদকে দুধ পান করিয়েছিলেন। ৭০১

ইমাম ইবনে সাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'সুয়াইবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দুধ পান করিয়েছিলেন। মক্কায় থাকাকালে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-ও তাকে সম্মান করতেন। সুয়াইবা ছিলেন আবু লাহাবের দাসী। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার তাকে কিনে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আবু লাহাব বিক্রি করেনি।'

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হিজরত করে মদিনায় চলে এলেন, আবু লাহাব তখন সুয়াইবাকে আজাদ করে দেয়। মদিনা থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুয়াইবার জন্য বিভিন্ন উপঢৌকন ও পোশাকাদি পাঠাতেন। '৭০২

ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'সিরাত প্রণেতাগণ সুয়াইবার ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে মতানৈক্য পোষণ করেন। সিরাত গ্রন্থগুলোতে এতটুকু এসেছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সম্মান করতেন। খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে বিয়ে করার পর সুয়াইবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসতেন। মদিনা থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য উপঢৌকন পাঠাতেন। শেষ পর্যন্ত খাইবার বিজয়ের পর সুয়াইবা মৃত্যুবরণ করেন। এ সময় তার ছেলে মাসরুহও মৃত্যুবরণ করেন। '৭০৩

* উম্মে আইমান

উম্মে আইমান ছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতিপালনকারিণী। তার আসল নাম, বারাকা বিনতে সালাবা বিন আমর বিন হুসাইন বিন মালিক বিন সালামা বিন আমর বিন নুমান। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মা আমিনার দাসী ছিলেন। ৭০৪

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আনসাররা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খেজুর গাছ হাদিয়া দিলেন। যখন বনি কুরাইজা ও বনি নাজিরের ওপর তিনি জয়লাভ করলেন, আনসাররা তাদের দেওয়া খেজুর গাছগুলো ফেরত চাইল। আমার পরিবারের লোকেরা আমাকে বলল, "আমি যেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে তাঁর কাছে বিষয়টা নিবেদন করি। নিবেদন করি, যেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেওয়া খেজুর গাছগুলো বা কিছু খেজুর গাছ তিনি ফিরিয়ে দেন তাদের।"

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যে খেজুর গাছগুলো দেওয়া হয়েছিল, তিনি সেগুলো উম্মে আইমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে দিয়েছিলেন। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলে তিনি আমাকে সেগুলো দিলেন। কিন্তু উম্মে আইমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এসে আমার কাঁধে কাপড় পেঁচিয়ে বললেন, "আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে সেগুলো দেবো না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলো আমাকে দিয়েছেন।"

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "উম্মে আইমান, তাকে ছাড়ুন। সেগুলোর বদলে আপনাকে আমি এত এত গাছ দেবো।"

উম্মে আইমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, "সে সত্তার শপথ-যিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, কক্ষনো নয়।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলতে থাকলেন, "এত এত আপনাকে দিলাম। এমনকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশগুণ বা প্রায় দশগুণের মতো দিলে তখন গিয়ে উম্মে আইমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা) রাজি হলেন।"৭০৫

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'উম্মে আইমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘটনায় বলা হয়েছে, যতক্ষণ না রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশগুণ পর্যন্ত বাড়ালেন, ততক্ষণ উম্মে আইমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা) রাজি হননি। উম্মে আইমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা) রাজি না হওয়ার কারণ হচ্ছে, তিনি সে খেজুর গাছগুলো সারা জীবনের জন্য দান করা হয়েছে বলে মনে করেছেন। তিনি মনে করেছেন কাউকে দাসের মালিক বানিয়ে দিলে যেমন সব সময়ের জন্য সে দাসের মালিক হয়ে যায়, তেমনই খেজুর গাছগুলোর ক্ষেত্রেও একই হুকুম।'

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে আইমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর অন্তর প্রশান্ত করতে চাইছিলেন। এ জন্য তিনি তাকে কয়েকগুণ বিনিময় দিয়ে রাজি করিয়ে আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর পরিবারের গাছগুলো তাদের ফিরিয়ে দিলেন। পুরো ঘটনা থেকে উম্মে আইমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মান প্রদানের বিষয়টি পোক্ত হয়। কারণ, উম্মে আইমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিচর্যা ও প্রতিপালন করেছিলেন শিশুবেলায়। '৭০৬

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন, 'আলিমগণ বলেন, মুহাজিরগণ যখন মদিনায় এলেন, মদিনার আনসারগণ তাদেরকে নিজেদের গাছগুলো দিতে লাগলেন জীবিকার জন্য। কতক মুহাজির সেগুলোকে নিঃশর্তে গ্রহণ করলেন। আবার কতক মুহাজির গাছ ও জমিনে কাজ করে নিজে অর্ধেক ফসল নিয়ে বাকিটা গাছ ও জমিনের মালিককে দেওয়ার শর্তে রাজি হলেন। এ মুহাজিরগণ স্রেফ দান হিসেবে গাছগুলো নেওয়ার প্রতি আগ্রহী ছিলেন না। এটা তাদের আত্মমর্যাদার কথা প্রকাশ করে। আর তাদের এ শর্তটা ছিল বর্গাচাষের শর্ত বা সে শর্তের কাছাকাছি।'

মুসলিমদের হাতে খাইবার বিজয় হলে মুহাজিররা ধনী হলেন। তাদের আর সে গাছগুলোর কোনো প্রয়োজন রইল না। তখন মুহাজিরগণ আনসারদের নিকট তাদের গাছগুলো ফিরিয়ে দিলেন। '৭০৭

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পরের সময়ের কথা। আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে উদ্দেশ্য করে বললেন, "চলুন, যেভাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে আইমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর সাথে সাক্ষাৎ করতে যেতেন, আমরাও তার সাক্ষাতে যাই।” তাঁরা যখন উম্মে আইমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে উপস্থিত হলেন, তিনি কেঁদে উঠলেন। তারা দুজন জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কাঁদছেন কেন? আল্লাহর কাছে যা আছে, তা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য উত্তম।"

উম্মে আইমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, "আমি এ জন্য কাঁদছি না যে, আমি জানি না, আল্লাহর কাছে যা আছে, তা তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য উত্তম কি উত্তম না। বরং আমি এ জন্য কাঁদছি যে, আকাশ থেকে ওহি আসা বন্ধ হয়ে গেছে।"

উম্মে আইমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কথায় আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এরও কান্না এসে গেল। তাঁরাও উম্মে আইমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর সাথে কাঁদতে থাকলেন। '৭০৮

হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:

* নেককারদের সাথে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া ও তার ফজিলত।
* নেককার ব্যক্তি তার চেয়ে কম নেককারের সাক্ষাতে যেতে কোনো বাধা নেই।

টিকাঃ
৭০১. উসুদুল গাবাহ: ১/৮।
৭০২. আল-ইসাবাহ ফি তামিজিস সাহাবা: ৭/৫৪৮।
৭০৩. ফাতহুল বারি: ৯/১৪৫।
৭০৪. আল-ইসাবাহ: ১৪/২৯১, তারিখু দিমাশক: ৪/৩০২।
৭০৫. সহিহুল বুখারি ৪১২০, সহিহু মুসলিম: ১৭৭১।
৭০৬. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১২/১০১।
৭০৭. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১২/৯৯।
৭০৮. সহিহু মুসলিম: ২৪৫৪।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 স্ত্রীর বান্ধবীদের সম্মান করতেন

📄 স্ত্রীর বান্ধবীদের সম্মান করতেন


আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর প্রতি আমি যতটা ঈর্ষাপরায়ণ হয়েছি অন্য কোনো নারীর প্রতি এতটা ঈর্ষা কখনো আমার জন্মেনি। অথচ আমি তাকে কখনো দেখেনি। কিন্তু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আলোচনা অনেক বেশি করতেন। যখনই ছাগল জবাই করতেন, গোশতকে তিনি কয়েক ভাগ করে নিতেন। এরপর সেগুলো খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বান্ধবীদের কাছে পাঠাতেন।'

আমি তাঁকে কখনো কখনো বলতাম, "মনে হচ্ছে খাদিজা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) ব্যতীত দুনিয়াতে দ্বিতীয় কোনো নারী নেই!"

তিনি বলতেন, "আল্লাহ খাদিজার ভালোবাসা আমার অন্তরে গেঁথে দিয়েছেন। আর খাদিজা আমার সন্তানদের মা।"৭১০

আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'এক বৃদ্ধা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলো। তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পাশে ছিলেন। তিনি তাকে বললেন, "কে তুমি?" মহিলা বলল, "আমি জাসসামা মুজানিয়্যাহ।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "বরং তুমি হাসসানা মুজানিয়‍্যাহ। তোমাদের কী খবর? কেমন আছ তোমরা? আমরা চলে আসার পর তোমাদের দিনকাল কেমন চলছে?"

মহিলাটি বলল, "ভালো। হে আল্লাহর রাসুল, আপনার প্রতি আমার বাবা-মা উৎসর্গ হোক।"

মহিলাটি চলে গেলে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, আপনি এ বৃদ্ধ মহিলার সাথে এত সুন্দর করে সদাচরণ করলেন কেন?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আয়িশা, খাদিজা যখন বেঁচে ছিল, তখন এ নারী আমাদের কাছে আসতেন। আর পুরোনো বন্ধুদের প্রতি সদাচরণ করা ইমানের অংশ। "৭১১

টিকাঃ
৭০৯. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৬/১০।
৭১০. সহিহুল বুখারি: ৩৮১৮, সহিহু মুসলিম: ২৪৩৫।
৭১১. মুসতাদরাকুল হাকিম: ১/১৭।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মৃত সাহাবির পরিবারের সঙ্গে সদাচরণ করতেন

📄 মৃত সাহাবির পরিবারের সঙ্গে সদাচরণ করতেন


আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের মধ্যে কেবল তাঁর স্ত্রীদের কাছে যেতেন। আর কেবল উম্মে সুলাইম (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এসে তাকে সহানুভূতি জানাতেন। এ ব্যাপারে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বললেন, "আমি তার প্রতি স্নেহশীল হই। কারণ, তার ভাই আমার সাথেই জিহাদে অংশ নিয়ে শহিদ হয়।"৭১২

উম্মে সুলাইম বিনতে মিলহান আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহা)। আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মা। তিনি জন্মগত নামে নয়; বরং তার উপনাম উম্মে সুলাইম নামেই প্রসিদ্ধ ছিলেন। তার নামের ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে।

'তার ভাই'-বলে উদ্দেশ্য হচ্ছে, হারাম বিন মিলহান (রাদিয়াল্লাহু আনহু)। তিনি বিরে মাউনার ঘটনায় শাহাদত বরণ করেন।

হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:

* দ্বীনি ভাই, বন্ধুর মৃত্যুর পর তার পরিবারের সুবিধা-অসুবিধা দেখাশোনা করা, তাদের কাছে যাওয়া-আসা করা উচিত।
* নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সুলাইমের বাড়িতে যাতায়াত করে তার অন্তর প্রশান্ত করতেন, তাকে সহানুভূতি জানাতেন। কারণ, তার ভাই হারাম বিন মিলহান রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে (তাঁর নির্দেশে) জিহাদে অংশ নিয়ে শহিদ হন। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবি হারাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মৃত্যুর পর তার পরিবর্তে তার বোনের নিকট এসে তাকে সহানুভূতি জানাতেন। ৭১৩

টিকাঃ
৭১২. সহিহুল বুখারি: ২৮৪৪, সহিহু মুসলিম: ২৪৫৫।
৭১৩. ফাতহুল বারি: ৮/৪৬১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 স্বামীকে সম্বোধন করতেন

📄 স্বামীকে সম্বোধন করতেন


নারীদের প্রতি তাঁর সহানুভূতির আরেকটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে, কোনো নারী তার স্বামী থেকে যথোচিত আচরণ না পেলে তিনি স্বামীদের সংশোধন করতেন।

আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'একদিন খুইয়াইলা বিনতে হাকিম (রাদিয়াল্লাহু আনহা) আমার কাছে আসলেন। তিনি ছিলেন উসমান বিন মাজউন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জীর্ণ-শীর্ণ অবস্থায় দেখে আমাকে বললেন, "আয়িশা, খুয়াইলার কী জীর্ণ অবস্থা!"

আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, খুয়াইলা এমন এক নারী, যার স্বামী থেকেও নেই। তার স্বামী দিনে রোজা থাকে আর রাতে কিয়ামুল লাইল আদায় করে পার করে দেয়। খুয়াইলাকে সময় দেয় না; তার হক আদায় করে না। যেন সে খুয়াইলার স্বামীই নয়।"

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসমান বিন মাজউন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ডেকে পাঠালেন। উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আসলে তাকে বললেন, "উসমান, তুমি কি আমার সুন্নাতের প্রতি অনীহ?!"

উসমান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "আল্লাহর শপথ, কখনো নয়। আমি তো আপনার সুন্নাত তালাশ করি।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তবে আমি ঘুমাই, সালাত আদায় করি। কখনো রোজা রাখি, কখনো রোজা রাখি না। আমি নারীদের বিবাহ করি। উসমান, আল্লাহকে ভয় করো। কারণ, তোমার ওপর তোমার স্ত্রীর অধিকার আছে। তোমার ওপর তোমার মেহমানের অধিকার রয়েছে। তোমার ওপর তোমার নিজের অধিকার আছে। তাই কোনো দিন রোজা রাখবে, কোনো দিন রোজা রাখবে না। রাতের কিছু অংশ সালাত আদায় করবে, কিছু অংশ ঘুমোবে।"৭১৪

(তোমার ওপর তোমার স্ত্রীর অধিকার রয়েছে) ইমাম খাত্তাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, হাদিসাংশটির উদ্দেশ্য হচ্ছে, তুমি সারা দিন রোজা রেখে ও সারা রাত সালাত পড়ে শক্তিহীন হয়ে পড়লে তোমার স্ত্রীর অধিকার আদায় করতে পারবে না।

(তোমার ওপর তোমার মেহমানদের অধিকার রয়েছে): হাদিসের এ অংশটি এ মাসআলার জন্য দলিল যে, কোনো নফল সিয়াম পালনকারীর নিকট মেহমান এলে মেহমানের সাথে খাবার খাওয়ার জন্য রোজা ভাঙা মুসতাহাব। যাতে মেহমানের মন আনন্দিত হয় এবং মেজবানের প্রতি মেহমানের ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। কারণ, মেজবান তার জন্য নিজের রোজা ভেঙে তাকে একপ্রকার সম্মান করেছে। ৭১৫

টিকাঃ
৭১৪. সুনানু আবি দাউদ: ১৩৬৯, মুসনাদু আহমাদ: ২৫৭৭৬।
৭১৫. আওনুল মাবুদ: ৪/১৭০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00