📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নারীদের হাতে মেহেদি লাগাতে বলতেন

📄 নারীদের হাতে মেহেদি লাগাতে বলতেন


আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'এক মহিলা পর্দার আড়াল থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে একটি কিতাব এগিয়ে দিলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা না নিয়ে হাত গুটিয়ে নিলেন। মহিলাটি বলল, "হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার দিকে কিতাব বাড়িয়ে দিলাম, কিন্তু আপনি তা নিলেন না কেন?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমি বুঝতে পারছি না, এটা নারীর হাত নাকি পুরুষের হাত!" মহিলা বলল, "এটা নারীরই হাত।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যদি তুমি নারী হতে, তবে তোমার নখ মেহেদিতে রাঙিয়ে রাখতে।"৬৭৬

ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'নারীদের চামড়া ঢেকে দেওয়ার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেহেদি লাগানোর আদেশ করেছেন। কোনটি পুরুষের হাত, কোনটি নারীর হাত, সেটি পার্থক্য করার জন্য নারীদের হাত মেহেদি দিয়ে রাঙানো মুসতাহাব। '৬৭৭

টিকাঃ
৬৭৬. সুনানু আবি দাউদ: ৪১৬৬, সুনানুন নাসায়ি: ৫০৮৯।
৬৭৭. ফাইজুল কাদির: ৫/৩৩০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 কোনো শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনলে নামাজ সংক্ষিপ্ত করতেন

📄 কোনো শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনলে নামাজ সংক্ষিপ্ত করতেন


সালাতের জামাআতে দাঁড়িয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো শিশুর কান্না শুনলে নারীদের প্রতি স্নেহপরবশ হয়ে সালাত সংক্ষিপ্ত করতেন।

আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "সালাতে দাঁড়িয়ে সালাত দীর্ঘ করার ইচ্ছে থাকে। কিন্তু যখন কোনো শিশুর কান্নার আওয়াজ পাই, তখন সালাত সংক্ষিপ্ত করে ফেলি। শিশুর কান্নার কারণে মায়ের অন্তরে কেমন ভীষণ প্রতিক্রিয়া করে, তা আমি জানি। "৬৭৮

(মায়ের অন্তরে কেমন ভীষণ প্রতিক্রিয়া করে): শিশুর কান্নার কারণে মায়ের অন্তরে যে চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা উদ্ভূত হয়, এখানে সে প্রতিক্রিয়ার কথাই বলা হয়েছে। ৬৭৯

হাদিস থেকে বোঝা যায়:

* ইমামকে মুক্তাদিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। তাদের কল্যাণের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। সালাতে যেন তারা কোনো কষ্টের সম্মুখীন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে; চাই সে কষ্ট ভীষণ হোক বা সামান্যই হোক।
* নারীরা পুরুষদের পেছনে মসজিদে সালাত আদায় করা জায়িজ।
* যেসব শিশু মসজিদের পবিত্রতা বজায় রাখতে সক্ষম নয়, সেসব শিশুকে মসজিদে না আনা উচিত হলেও শিশুদের মসজিদে আনা জায়িজ। ৬৮০

লাজনাতুদ দায়িমার (স্থায়ী ফিকহ-বোর্ড) আলিমদের ফতোয়া

যদি শিশুর ভালো-মন্দ পার্থক্য করার বুঝশক্তি থাকে, তবে জামাআতের সাথে সালাতে অভ্যস্ত করার জন্য তাকে নিয়ে মসজিদে উপস্থিত হওয়া জায়িজ। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, 'সাত বছরে উপনীত হলে তোমরা তোমাদের সন্তানদের সালাতের আদেশ করবে। দশ বছরে সালাত না পড়লে তাদের প্রহার করবে এবং এ বয়সে তাদের বিছানা পৃথক করে দেবে। '৬৮১ কিন্তু শিশু যদি ভালো-মন্দ পার্থক্য করার বুঝশক্তি সম্পন্ন না হয়, তবে মসজিদে তাদের না আনাই উত্তম। কারণ, তারা না সালাত বুঝবে, না জামাআতের অর্থ বুঝবে; বরং অন্য মুসল্লিদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। '৬৮২

টিকাঃ
৬৭৮. সহিহুল বুখারি ৭০৯, সহিহু মুসলিম: ৪৬৯।
৬৭৯. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৪/১৮৭।
৬৮০. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৪/১৮৭।
৬৮১. সুনানু আবি দাউদ: ৪৯৫।
৬৮২. ফাতাওয়া লাজনাতুদ দায়িমা: ৫/২৬৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 যোদ্ধার নারীর জানাজা পড়তে না পেরে আফসোস করেছিলেন

📄 যোদ্ধার নারীর জানাজা পড়তে না পেরে আফসোস করেছিলেন


নারীদের প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহানুভূতির একটি প্রমাণ হচ্ছে, মসজিদ ঝাড়ুদার নারীর মৃত্যুর পর তার জানাজা পড়তে না পারায় আফসোস করেছিলেন তিনি।

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক কৃষ্ণাঙ্গ নারী মসজিদে নববি ঝাড়ু দিতেন। একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখতে না পেয়ে তার সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তখন সাহাবিগণ বললেন, "সে তো মারা গেছে।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা আমাকে জানালে না কেন?" সাহাবিগণ যেন সে নারীর বিষয়টিকে তুচ্ছভাবে নিয়েছিল। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমাকে তার কবর দেখিয়ে দাও।" সাহাবিগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তার কবর দেখিয়ে দিলে তিনি সেখানে তার জানাজা আদায় করলেন। '৬৮৩

হাদিস থেকে বোঝা যায়:

* মসজিদ পরিষ্কার করার ফজিলত।
* কোনো সেবক বা বন্ধুকে না দেখলে তার সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে হবে।
* নেককার মানুষের জানাজায় অংশগ্রহণ করার প্রতি উৎসাহ।
* সদ্য দাফনকৃত কারও জানাজা আদায় করতে না পারলে তার কবরের সামনে গিয়ে তার জানাজা আদায় করা মুসতাহাব।
* মৃত্যুসংবাদ ঘোষণা করার প্রমাণ। ৬৮৪

টিকাঃ
৬৮৩. সহিহুল বুখারি ৪৫৮, সহিহু মুসলিম: ৯৫৬।
৬৮৪. ফাতহুল বারি: ১/৫৫৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 কোনো নারীর মর্যাদায় আঘাত এলে তাদের অন্তর প্রশান্ত করতেন

📄 কোনো নারীর মর্যাদায় আঘাত এলে তাদের অন্তর প্রশান্ত করতেন


আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'আমরা ইয়ামানে ছিলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হিজরতের কথা আমাদের কাছে পৌঁছালে আমি ও আমার দুই ভাইসহ আমরা মোট ৫৩ কি ৫৪ জন হিজরতের নিয়তে রওনা হলাম। ভাইদের মধ্যে আমিই ছিলাম কনিষ্ঠ। বাকি দুই ভাই হলেন-আবু বুরদা ও আবু রুহম।'

নৌকায় চড়ে একসময় আমরা নাজ্জাশির হাবশায় পৌঁছালাম। সেখানে জাফর বিন আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর সাথিদের সাথে একত্র হলাম আমরা। জাফর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমাদের বললেন, “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এখানে পাঠিয়েছেন। আমাদের আদেশ করেছেন এখানে থাকার জন্য। তাই তোমরাও আমাদের সাথে এখানে থাকো।"

আমরা জাফর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর সাথিদের সাথে থেকে গেলাম হাবশায়। এরপর সকলে একসাথে মদিনার উদ্দেশে রওনা করলাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খাইবার বিজয় করেন, তখন আমরা মদিনায় এসে উপস্থিত হলাম। সে যুদ্ধে আমরাও অংশগ্রহণ করি। (অথবা আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন,) তিনি খাইবারের গনিমত থেকে আমাদের কিছু অংশ দিলেন। খাইবারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যে-ই অংশ নিয়েছিলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গনিমতের অংশ দিয়েছিলেন। জাফর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তার সাথিরাও গনিমতের অংশ পেয়েছিলেন।'

কিছু মানুষ আমাদের তথা নৌকা চড়ে আমরা যারা মাত্র হাবশা থেকে এলাম, তাদের বলতে লাগল, হিজরতের ক্ষেত্রে আমরা তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী।'

আসমা বিনতে উমাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহা) আমাদের সাথেই এসেছিলেন হাবশা থেকে। হাবশায় যারা নাজ্জাশির কাছে হিজরত করেছিলেন, তিনি তাদেরই একজন। তিনি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে গেলেন সাক্ষাৎ করবেন বলে। আসমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) যখন হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে, তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আসলেন তার মেয়ে হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আসমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে দেখে জানতে চাইলেন, "কে সে?"

হাফসা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, "আসমা বিনতে উমাইস।"

উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "হাবশা থেকে এসেছেন যিনি? সাগর পার হয়ে এসেছেন যিনি?"

আসমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) উত্তর দিলেন, "জি, আমিই সে।"

উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তখন বললেন, "হিজরতের ক্ষেত্রে আমরা তোমাদের অগ্রবর্তী। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর তোমাদের চাইতে আমাদের অধিকার বেশি।"

উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা শুনে উমাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহা) রাগান্বিত হয়ে বললেন, "কখনো না। আল্লাহর কসম, আপনারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাদের ক্ষুধার্তদের খাইয়েছেন, মূর্খদের শিখিয়েছেন। আর আমরা ছিলাম দূর দেশে। শত্রুবেষ্টিত ছিলাম হাবশায়। ৬৮৫ এসবই ছিল আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য। আল্লাহর শপথ, আপনার কথা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে না বলা পর্যন্ত আমি না কোনো খাবার খাব, না কোনো কিছু পান করব। আমরা সব সময় ভয় ও বিপদের মাঝে ছিলাম হাবশায়। এ বিষয়টি আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উপস্থাপন করব, তাঁকে জিজ্ঞেস করব এ ব্যাপারে। আল্লাহর কসম, আমি এতটুকুও মিথ্যা বলব না, কথাকে বিকৃত করেও বলব না, এতটুকুও বাড়িয়ে বলব না।"

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এলেন, আসমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) তখন তাঁকে বললেন, "হে আল্লাহর নবি, উমর এমন এমন বলেছেন।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি তাকে কী বললে?"

আসমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, "আমি তাকে এমন এমন বলেছি।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার বললেন, "তোমাদের চেয়ে তাদের অধিকার বেশি নয় আমার ওপর। উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও তার সাথিরা কেবল একটি হিজরত করেছে। আর তোমরা নৌকাওয়ালারা তো দুই হিজরতের অধিকারী।"

আসমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'এ ঘটনার পর আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও নৌকাওয়ালারা আমার কাছে দলে দলে আসতে থাকল। আমার কাছে এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইত সবাই। তাদের জন্য এটিই ছিল দুনিয়ার সবচেয়ে আনন্দদায়ক বিষয়। অন্য কোনো কিছুতে এতটা সন্তুষ্ট হয়নি তারা। তাদের নিকট এর চেয়ে মাহাত্ম্যপূর্ণ কথা দ্বিতীয়টি ছিল না।' আসমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) আরও বলেন, 'আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমার কাছে এ হাদিসটি বারবার শুনতে চাইতেন। '৬৮৬

টিকাঃ
৬৮৫. তারা বাহ্যিক অর্থে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বহু দূরে ছিলেন। কাফির শত্রুদের মাঝে ছিলেন তারা। কারণ, হাবশায় কেবল নাজ্জাশি মুসলিম ছিলেন। অন্য সবাই ছিল কাফির। নাজ্জাশি তার ইমান গোপন করেছিল। -ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৬/৬৫।
৬৮৬. সহিহুল বুখারি ৪২৩১, সহিহু মুসলিম: ২৫০৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00