📄 নারীদের আসা-যাওয়ার জন্য আলাদা দরজা করে দিয়েছিলেন
ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বলেছিলেন, "আমরা যদি এ দরোজাটি মহিলাদের জন্য ছেড়ে দিতাম!"
নাফি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এরপর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সে দরোজা দিয়ে কখনো প্রবেশ করেননি। '৬৭৩
হাদিসটি এ বিষয়ে দলিল যে, মসজিদে নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ হবে না; বরং নারীরা মসজিদের এক পাশে ইমামের অনুসরণে সালাত আদায় করবে। দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় এখানে উল্লেখ না করলেই নয়। তা হচ্ছে, সুন্নাত অনুসরণের বেলায় আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন। মসজিদে নববির যে দরোজাটি মহিলাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তিনি সে দরোজা দিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত কখনো প্রবেশ করেননি। ৬৭৪
টিকাঃ
৬৭৩. সুনানু আবি দাউদ: ৪৬২।
৬৭৪. আওনুল মাবুদ: ২/৯২।
📄 রাস্তায় নারী-পুরুষের সংমিশ্রণকে নিষেধ করতেন
আবু উসাইদ আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দেখলেন, রাস্তায় নারী-পুরুষ সংমিশ্রণ হয়ে গেছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের উদ্দেশে বললেন, "তোমরা দেরি করে ফেলেছ। এখন রাস্তার মাঝ দিয়ে চলা তোমাদের জন্য সমীচীন নয়; বরং তোমরা রাস্তার পাশ ধরে চলো।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশের পর নারীরা রাস্তার পাশ দিয়ে দেয়ালের পাশ ঘেঁষে চলতে লাগল। এমনকি দেয়ালের সাথে তাদের কাপড় আটকে যেত। '৬৭৫
টিকাঃ
৬৭৫. সুনানু আবি দাউদ: ৫২৭২।
📄 নারীদের হাতে মেহেদি লাগাতে বলতেন
আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'এক মহিলা পর্দার আড়াল থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে একটি কিতাব এগিয়ে দিলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা না নিয়ে হাত গুটিয়ে নিলেন। মহিলাটি বলল, "হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার দিকে কিতাব বাড়িয়ে দিলাম, কিন্তু আপনি তা নিলেন না কেন?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমি বুঝতে পারছি না, এটা নারীর হাত নাকি পুরুষের হাত!" মহিলা বলল, "এটা নারীরই হাত।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যদি তুমি নারী হতে, তবে তোমার নখ মেহেদিতে রাঙিয়ে রাখতে।"৬৭৬
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'নারীদের চামড়া ঢেকে দেওয়ার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেহেদি লাগানোর আদেশ করেছেন। কোনটি পুরুষের হাত, কোনটি নারীর হাত, সেটি পার্থক্য করার জন্য নারীদের হাত মেহেদি দিয়ে রাঙানো মুসতাহাব। '৬৭৭
টিকাঃ
৬৭৬. সুনানু আবি দাউদ: ৪১৬৬, সুনানুন নাসায়ি: ৫০৮৯।
৬৭৭. ফাইজুল কাদির: ৫/৩৩০।
📄 কোনো শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনলে নামাজ সংক্ষিপ্ত করতেন
সালাতের জামাআতে দাঁড়িয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো শিশুর কান্না শুনলে নারীদের প্রতি স্নেহপরবশ হয়ে সালাত সংক্ষিপ্ত করতেন।
আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "সালাতে দাঁড়িয়ে সালাত দীর্ঘ করার ইচ্ছে থাকে। কিন্তু যখন কোনো শিশুর কান্নার আওয়াজ পাই, তখন সালাত সংক্ষিপ্ত করে ফেলি। শিশুর কান্নার কারণে মায়ের অন্তরে কেমন ভীষণ প্রতিক্রিয়া করে, তা আমি জানি। "৬৭৮
(মায়ের অন্তরে কেমন ভীষণ প্রতিক্রিয়া করে): শিশুর কান্নার কারণে মায়ের অন্তরে যে চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা উদ্ভূত হয়, এখানে সে প্রতিক্রিয়ার কথাই বলা হয়েছে। ৬৭৯
হাদিস থেকে বোঝা যায়:
* ইমামকে মুক্তাদিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। তাদের কল্যাণের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। সালাতে যেন তারা কোনো কষ্টের সম্মুখীন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে; চাই সে কষ্ট ভীষণ হোক বা সামান্যই হোক।
* নারীরা পুরুষদের পেছনে মসজিদে সালাত আদায় করা জায়িজ।
* যেসব শিশু মসজিদের পবিত্রতা বজায় রাখতে সক্ষম নয়, সেসব শিশুকে মসজিদে না আনা উচিত হলেও শিশুদের মসজিদে আনা জায়িজ। ৬৮০
লাজনাতুদ দায়িমার (স্থায়ী ফিকহ-বোর্ড) আলিমদের ফতোয়া
যদি শিশুর ভালো-মন্দ পার্থক্য করার বুঝশক্তি থাকে, তবে জামাআতের সাথে সালাতে অভ্যস্ত করার জন্য তাকে নিয়ে মসজিদে উপস্থিত হওয়া জায়িজ। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, 'সাত বছরে উপনীত হলে তোমরা তোমাদের সন্তানদের সালাতের আদেশ করবে। দশ বছরে সালাত না পড়লে তাদের প্রহার করবে এবং এ বয়সে তাদের বিছানা পৃথক করে দেবে। '৬৮১ কিন্তু শিশু যদি ভালো-মন্দ পার্থক্য করার বুঝশক্তি সম্পন্ন না হয়, তবে মসজিদে তাদের না আনাই উত্তম। কারণ, তারা না সালাত বুঝবে, না জামাআতের অর্থ বুঝবে; বরং অন্য মুসল্লিদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। '৬৮২
টিকাঃ
৬৭৮. সহিহুল বুখারি ৭০৯, সহিহু মুসলিম: ৪৬৯।
৬৭৯. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৪/১৮৭।
৬৮০. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৪/১৮৭।
৬৮১. সুনানু আবি দাউদ: ৪৯৫।
৬৮২. ফাতাওয়া লাজনাতুদ দায়িমা: ৫/২৬৩।