📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 নারীদের জন্য শেষ দিকের কাতার নির্ধারণ করে দিয়েছেন

📄 নারীদের জন্য শেষ দিকের কাতার নির্ধারণ করে দিয়েছেন


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'পুরুষদের জন্য সর্বোত্তম কাতার হচ্ছে, প্রথম কাতার। আর সর্বনিকৃষ্ট হচ্ছে শেষ কাতার। মহিলাদের জন্য সর্বোত্তম কাতার হচ্ছে শেষ কাতার। আর সর্বনিকৃষ্ট হচ্ছে প্রথম কাতার। '৬৭১

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ হাদিসের সম্বোধন পাত্র হচ্ছেন সেসব নারী-পুরুষ, যারা একত্রে সালাত আদায় করছেন। এ ক্ষেত্রে নারীদের জন্য শেষ কাতার উত্তম এবং প্রথম কাতার মন্দ। কিন্তু নারীরা যদি পৃথক সালাত আদায় করেন। তখন প্রথম কাতারই সর্বোত্তম এবং শেষ কাতার মন্দ।'

নারীদের জন্য শেষ কাতার উত্তম হওয়ার কারণ হচ্ছে, এতে নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ হবে না। নারীরা পুরুষদের দেখবে না, পুরুষরা নারীদের দেখবে না। নারী-পুরুষের কাতারে বিভাজন থাকলে পুরুষরা নারীদের নড়া-চড়া দেখে এবং কথাবার্তা শুনে তাদের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার ব্যাপারটি থাকবে না। '৬৭২

টিকাঃ
৬৭১. সহিহু মুসলিম: ৪৪০।
৬৭২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৪/১৫৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 নারীদের আসা-যাওয়ার জন্য আলাদা দরজা করে দিয়েছিলেন

📄 নারীদের আসা-যাওয়ার জন্য আলাদা দরজা করে দিয়েছিলেন


ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বলেছিলেন, "আমরা যদি এ দরোজাটি মহিলাদের জন্য ছেড়ে দিতাম!"

নাফি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এরপর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সে দরোজা দিয়ে কখনো প্রবেশ করেননি। '৬৭৩

হাদিসটি এ বিষয়ে দলিল যে, মসজিদে নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ হবে না; বরং নারীরা মসজিদের এক পাশে ইমামের অনুসরণে সালাত আদায় করবে। দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় এখানে উল্লেখ না করলেই নয়। তা হচ্ছে, সুন্নাত অনুসরণের বেলায় আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন। মসজিদে নববির যে দরোজাটি মহিলাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তিনি সে দরোজা দিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত কখনো প্রবেশ করেননি। ৬৭৪

টিকাঃ
৬৭৩. সুনানু আবি দাউদ: ৪৬২।
৬৭৪. আওনুল মাবুদ: ২/৯২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 রাস্তায় নারী-পুরুষের সংমিশ্রণকে নিষেধ করতেন

📄 রাস্তায় নারী-পুরুষের সংমিশ্রণকে নিষেধ করতেন


আবু উসাইদ আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় দেখলেন, রাস্তায় নারী-পুরুষ সংমিশ্রণ হয়ে গেছে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের উদ্দেশে বললেন, "তোমরা দেরি করে ফেলেছ। এখন রাস্তার মাঝ দিয়ে চলা তোমাদের জন্য সমীচীন নয়; বরং তোমরা রাস্তার পাশ ধরে চলো।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশের পর নারীরা রাস্তার পাশ দিয়ে দেয়ালের পাশ ঘেঁষে চলতে লাগল। এমনকি দেয়ালের সাথে তাদের কাপড় আটকে যেত। '৬৭৫

টিকাঃ
৬৭৫. সুনানু আবি দাউদ: ৫২৭২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ 📄 নারীদের হাতে মেহেদি লাগাতে বলতেন

📄 নারীদের হাতে মেহেদি লাগাতে বলতেন


আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'এক মহিলা পর্দার আড়াল থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে একটি কিতাব এগিয়ে দিলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা না নিয়ে হাত গুটিয়ে নিলেন। মহিলাটি বলল, "হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার দিকে কিতাব বাড়িয়ে দিলাম, কিন্তু আপনি তা নিলেন না কেন?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমি বুঝতে পারছি না, এটা নারীর হাত নাকি পুরুষের হাত!" মহিলা বলল, "এটা নারীরই হাত।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যদি তুমি নারী হতে, তবে তোমার নখ মেহেদিতে রাঙিয়ে রাখতে।"৬৭৬

ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'নারীদের চামড়া ঢেকে দেওয়ার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেহেদি লাগানোর আদেশ করেছেন। কোনটি পুরুষের হাত, কোনটি নারীর হাত, সেটি পার্থক্য করার জন্য নারীদের হাত মেহেদি দিয়ে রাঙানো মুসতাহাব। '৬৭৭

টিকাঃ
৬৭৬. সুনানু আবি দাউদ: ৪১৬৬, সুনানুন নাসায়ি: ৫০৮৯।
৬৭৭. ফাইজুল কাদির: ৫/৩৩০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية