📄 নারী সাহাবিদের খোঁজখবর নিতেন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারী সাহাবিদের খোঁজখবর নিতেন। উত্তম আমলের সময় কেউ অনুপস্থিত থাকলে তার অনুপস্থিতির কারণ জিজ্ঞেস করতেন।
আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ থেকে ফিরে এসে উম্মে সিনান আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে বললেন, "আমাদের সাথে হজে যেতে কীসে তোমাকে বাধা দিল?"
উম্মে সিনান (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, "আমার স্বামীর কেবল দুটি পানি টানার উট আছে। একটিতে চড়ে তিনি ও তার ছেলে হজে গিয়েছেন। অন্যটি দিয়ে আমাদের দাস পানি বহনের কাজ করেছে।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে রমাজানে উমরা আদায় করে নেবে। কারণ, তা আমার সাথে হজ করার মতো।"৬৬৪
উম্মে মাকিল (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিদায় হজ আদায় করেন, তখন আমাদের কেবল একটি উট ছিল। সে উটটিও আবু মাকিল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিয়েছিলেন। এদিকে আমরা রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ি। আবু মাকিল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এ সময় মারা যান। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ আদায়ের জন্য রওনা হয়ে যান।'
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ শেষে মদিনায় ফিরে এলে আমাকে বললেন, “উম্মে মাকিল, আমাদের সাথে হজের সফরে বের হলে না কেন?"
আমি বললাম, "আমরা তো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু আবু মাকিল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মারা গেলেন। আমাদের একটি উট ছিল। সেটায় করেই আমরা হজে যাব বলে স্থির করেছিলাম। কিন্তু আবু মাকিল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উটটি আল্লাহর রাহে দান করার জন্য অসিয়ত করে গিয়েছিলেন।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি সেটায় চড়ে হজে বের হলে না কেন? হজ তো আল্লাহর রাস্তাই হয়ে থাকে। এখন যেহেতু আমাদের সাথে হজ করার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে তোমার, তাই তুমি রমাজানে উমরা করে নাও। কারণ, তা হজের মতোই।"৬৬৫
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে মাকিল (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে জানালেন, সাওয়াবের ক্ষেত্রে রমাজানের উমরা হজের মতোই। এখানে এ অর্থ নেওয়া মোটেই সমীচীন হবে না যে, ফরজ আদায় না করে তদস্থলে রমাজানে উমরা করে নিলেই যথেষ্ট হবে। কারণ, আলিমদের সর্বসম্মতিক্রমে উমরা কখনো ফরজ হজের স্থলে যথেষ্ট হয় না। '৬৬৬
বোঝার স্বার্থে একটি উদাহরণ উল্লেখ করছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একবার সুরা ইখলাস পড়া কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পড়ার সমান। ৬৬৭ এখন কেউ যদি মানত করে যে, সে সুস্থ হলে একবার কুরআন খতম করবে, অতঃপর সে লোকটিকে আল্লাহ সুস্থ করলেন, এখন সে যদি সুরা ইখলাস তিনবার তিলাওয়াত করে নেয়, তবে কি তা কুরআন খতম হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে?
উত্তর হচ্ছে, না। সুরা ইখলাস তিনবার পড়া পুরো কুরআন পড়ার স্থলে যথেষ্ট হবে না।
ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) ও অন্যান্য ইমামগণ হাদিসের অংশ 'হজ তো আল্লাহর রাস্তাই হয়ে থাকে'-এর ওপর ভিত্তি করে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ফরজ হজ আদায়ের খরচ জোগাড় করতে পারে না, সে হজ করার জন্য জাকাতের অংশ নিতে পারবে। কারণ, এ হাদিস মোতাবেক হজও "ফি সাবিলিল্লাহ”-এর অন্তর্ভুক্ত।
টিকাঃ
৬৬৪. সহিহুল বুখারি: ১৮৬৩, সহিহু মুসলিম: ১২৫৬।
৬৬৫. সুনানু আবি দাউদ: ১৯৮৯, সুনানুত তিরমিজি: ৯৩৯, সুনানু ইবনি মাজাহ: ২৯৯৩।
৬৬৬. ফাতহুল বারি: ৩/৬০৪।
৬৬৭. সহিহুল বুখারি: ৬৬৪৩, সহিহু মুসলিম: ৮১১।
📄 মসজিদ থেকে নারীদের সবার আগে বের হওয়ার সুযোগ করে দিতেন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের প্রতি খেয়াল রাখতে সালাত শেষে বসে থাকতেন, যাতে নারীরা বের হতে পারে এবং পুরুষদের সাথে সংমিশ্রণ না ঘটে।
উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সালাম ফেরালেই মহিলাগণ মসজিদ থেকে বের হয়ে যেত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওঠার আগে কিছুক্ষণ বসে থাকতেন।'
ইমাম জুহরি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আল্লাহই অধিক জানেন, আমার ধারণা, নারীরা যেন পুরুষদের মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগেই বাড়ি গিয়ে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সময় বসে থাকতেন। '৬৬৮
উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) আরও বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সালাম ফেরালেই নারীরা মসজিদ থেকে বের হয়ে পড়তেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে আগে তারা নিজেদের বাড়িতে চলে যেতেন। '৬৬৯
হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:
* ইমামকে মুক্তাদিদের অবস্থার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।
* অসতর্কতা কখনো কখনো হারাম কাজে প্রবৃত্ত করতে পারে।
* অপবাদের আশঙ্কা হয়-এমন স্থান থেকে দূরে থাকতে হবে।
* নির্জন বাড়িতে তো দূরের কথা, জনমানুষের মাঝে রাস্তায়ও নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ শরিয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়। ৬৭০
টিকাঃ
৬৬৮. সহিহুল বুখারি: ৮৩৭।
৬৬৯. সহিহুল বুখারি: ৮৫০।
৬৭০. ফাতহুল বারি: ২/৩৩৬।
📄 নারীদের জন্য শেষ দিকের কাতার নির্ধারণ করে দিয়েছেন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'পুরুষদের জন্য সর্বোত্তম কাতার হচ্ছে, প্রথম কাতার। আর সর্বনিকৃষ্ট হচ্ছে শেষ কাতার। মহিলাদের জন্য সর্বোত্তম কাতার হচ্ছে শেষ কাতার। আর সর্বনিকৃষ্ট হচ্ছে প্রথম কাতার। '৬৭১
ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ হাদিসের সম্বোধন পাত্র হচ্ছেন সেসব নারী-পুরুষ, যারা একত্রে সালাত আদায় করছেন। এ ক্ষেত্রে নারীদের জন্য শেষ কাতার উত্তম এবং প্রথম কাতার মন্দ। কিন্তু নারীরা যদি পৃথক সালাত আদায় করেন। তখন প্রথম কাতারই সর্বোত্তম এবং শেষ কাতার মন্দ।'
নারীদের জন্য শেষ কাতার উত্তম হওয়ার কারণ হচ্ছে, এতে নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ হবে না। নারীরা পুরুষদের দেখবে না, পুরুষরা নারীদের দেখবে না। নারী-পুরুষের কাতারে বিভাজন থাকলে পুরুষরা নারীদের নড়া-চড়া দেখে এবং কথাবার্তা শুনে তাদের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার ব্যাপারটি থাকবে না। '৬৭২
টিকাঃ
৬৭১. সহিহু মুসলিম: ৪৪০।
৬৭২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৪/১৫৯।
📄 নারীদের আসা-যাওয়ার জন্য আলাদা দরজা করে দিয়েছিলেন
ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার বলেছিলেন, "আমরা যদি এ দরোজাটি মহিলাদের জন্য ছেড়ে দিতাম!"
নাফি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এরপর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সে দরোজা দিয়ে কখনো প্রবেশ করেননি। '৬৭৩
হাদিসটি এ বিষয়ে দলিল যে, মসজিদে নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ হবে না; বরং নারীরা মসজিদের এক পাশে ইমামের অনুসরণে সালাত আদায় করবে। দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় এখানে উল্লেখ না করলেই নয়। তা হচ্ছে, সুন্নাত অনুসরণের বেলায় আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন। মসজিদে নববির যে দরোজাটি মহিলাদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তিনি সে দরোজা দিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত কখনো প্রবেশ করেননি। ৬৭৪
টিকাঃ
৬৭৩. সুনানু আবি দাউদ: ৪৬২।
৬৭৪. আওনুল মাবুদ: ২/৯২।