📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বাইরে যাওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন

📄 বাইরে যাওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "তোমরা আল্লাহর বান্দিদের মসজিদে আসতে বাধা দিয়ো না। কিন্তু তারা যেন সুগন্ধি না মেখে বের হয়।"৬৫৬

আজিমাবাদি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'মুসলিমের বর্ণনায় জাইনাব (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, "রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের সুগন্ধি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। কারণ, এতে পুরুষদের বাসনা জেগে ওঠে। সুগন্ধি নিষিদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে সুন্দর পোশাক, প্রকাশ হয় এমন অলংকার, আড়ম্বরপূর্ণ সাজসজ্জাও নিষিদ্ধ। কারণ, এগুলোও পুরুষদের বাসনা জাগরিত করে।"৬৫৭

আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্ত্রী জাইনাব (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বললেন, "তোমাদের কেউ মসজিদে এসে সালাতের জামাআতে উপস্থিত হতে চাইলে সে যেন সুগন্ধি না মাখে।"৬৫৮

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে নারী সুগন্ধি দ্রব্যের ধোঁয়া গ্রহণ করে, সে যেন আমাদের সাথে ইশার সালাতে উপস্থিত না হয়।"৬৫৯

আবু মুসা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "কোনো নারী সুগন্ধি মেখে কোনো মজলিসের পাশ দিয়ে গেলে সে এমন এমন।"৬৬০ অর্থাৎ জিনাকারিণী।

কারণ, সুগন্ধি মেখে সে পুরুষের কামোত্তেজনা জাগিয়ে তোলে। সুগন্ধি মাখার কারণে পুরুষরা তার প্রতি দৃষ্টি দেয়। আর যে ব্যক্তি নারীর দিকে তাকায়, তার চোখের জিনা হয়। তাই যে নারী নিজ থেকেই জিনার কারণ হচ্ছে, সে পাপী নয় তো কী!৬৬১

টিকাঃ
৬৫৬. সুনানু আবি দাউদ: ৫৬৫।
৬৫৭. আওনুল মাবুদ: ২/১৯২।
৬৫৮. সহিহু মুসলিম: ৪৪৩।
৬৫৯. সহিহু মুসলিম: ৪৪৪।
৬৬০. সুনানু আবি দাউদ: ৪১৭৩, সুনানুত তিরমিজি: ২৭৮৬।
৬৬১. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৮/৫৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নারীদের জন্য মসজিদে না গিয়ে বাড়িতে সালাত আদায় করা উত্তম

📄 নারীদের জন্য মসজিদে না গিয়ে বাড়িতে সালাত আদায় করা উত্তম


ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমরা নারীদের মসজিদে আসতে নিষেধ কোরো না। তবে বাড়িতে সালাত পড়াই তাদের জন্য উত্তম। "৬৬২

ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মহিলাদের বাড়িতে সালাত আদায় করা উত্তম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মহিলাগণ বেপর্দা চলতেন না, সাজসজ্জাও করতেন না বাড়ির বাইরে যাওয়ার সময়। তখন মহিলাদের বাড়িতে সালাত আদায় করা উত্তম বলেছেন স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বর্তমানে পর্দার লঙ্ঘন ও সাজসজ্জা বেড়ে যাওয়ার কারণে মহিলাদের বাড়িতে সালাত আদায় করার দিকটি আরও বেশি পোক্ত হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কথাটি প্রণিধানযোগ্য। ৬৬৩

টিকাঃ
৬৬২. সুনানু আবি দাউদ: ৫৬৭।
৬৬৩. ফাতহুল বারি: ২/৩৪৯। ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর যে উক্তিটির কথা বলতে চাচ্ছেন, তা হচ্ছে, আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি বর্তমান সময়ের নারীদের অবস্থা দেখতেন, তবে অবশ্যই মসজিদে আসতে তাদের সেভাবে নিষেধ করতেন, যেভাবে বনি ইসরাইলের মহিলাদের নিষেধ করা হয়েছিল।' দেখুন, সহিহুল বুখারি: ৮৬৯, সহিহু মুসলিম: ৪৪৫।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নারী সাহাবিদের খোঁজখবর নিতেন

📄 নারী সাহাবিদের খোঁজখবর নিতেন


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারী সাহাবিদের খোঁজখবর নিতেন। উত্তম আমলের সময় কেউ অনুপস্থিত থাকলে তার অনুপস্থিতির কারণ জিজ্ঞেস করতেন।

আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ থেকে ফিরে এসে উম্মে সিনান আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে বললেন, "আমাদের সাথে হজে যেতে কীসে তোমাকে বাধা দিল?"

উম্মে সিনান (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, "আমার স্বামীর কেবল দুটি পানি টানার উট আছে। একটিতে চড়ে তিনি ও তার ছেলে হজে গিয়েছেন। অন্যটি দিয়ে আমাদের দাস পানি বহনের কাজ করেছে।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে রমাজানে উমরা আদায় করে নেবে। কারণ, তা আমার সাথে হজ করার মতো।"৬৬৪

উম্মে মাকিল (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিদায় হজ আদায় করেন, তখন আমাদের কেবল একটি উট ছিল। সে উটটিও আবু মাকিল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিয়েছিলেন। এদিকে আমরা রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ি। আবু মাকিল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এ সময় মারা যান। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ আদায়ের জন্য রওনা হয়ে যান।'

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ শেষে মদিনায় ফিরে এলে আমাকে বললেন, “উম্মে মাকিল, আমাদের সাথে হজের সফরে বের হলে না কেন?"

আমি বললাম, "আমরা তো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু আবু মাকিল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মারা গেলেন। আমাদের একটি উট ছিল। সেটায় করেই আমরা হজে যাব বলে স্থির করেছিলাম। কিন্তু আবু মাকিল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উটটি আল্লাহর রাহে দান করার জন্য অসিয়ত করে গিয়েছিলেন।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি সেটায় চড়ে হজে বের হলে না কেন? হজ তো আল্লাহর রাস্তাই হয়ে থাকে। এখন যেহেতু আমাদের সাথে হজ করার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে তোমার, তাই তুমি রমাজানে উমরা করে নাও। কারণ, তা হজের মতোই।"৬৬৫

ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে মাকিল (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে জানালেন, সাওয়াবের ক্ষেত্রে রমাজানের উমরা হজের মতোই। এখানে এ অর্থ নেওয়া মোটেই সমীচীন হবে না যে, ফরজ আদায় না করে তদস্থলে রমাজানে উমরা করে নিলেই যথেষ্ট হবে। কারণ, আলিমদের সর্বসম্মতিক্রমে উমরা কখনো ফরজ হজের স্থলে যথেষ্ট হয় না। '৬৬৬

বোঝার স্বার্থে একটি উদাহরণ উল্লেখ করছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একবার সুরা ইখলাস পড়া কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ পড়ার সমান। ৬৬৭ এখন কেউ যদি মানত করে যে, সে সুস্থ হলে একবার কুরআন খতম করবে, অতঃপর সে লোকটিকে আল্লাহ সুস্থ করলেন, এখন সে যদি সুরা ইখলাস তিনবার তিলাওয়াত করে নেয়, তবে কি তা কুরআন খতম হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে?

উত্তর হচ্ছে, না। সুরা ইখলাস তিনবার পড়া পুরো কুরআন পড়ার স্থলে যথেষ্ট হবে না।

ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) ও অন্যান্য ইমামগণ হাদিসের অংশ 'হজ তো আল্লাহর রাস্তাই হয়ে থাকে'-এর ওপর ভিত্তি করে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ফরজ হজ আদায়ের খরচ জোগাড় করতে পারে না, সে হজ করার জন্য জাকাতের অংশ নিতে পারবে। কারণ, এ হাদিস মোতাবেক হজও "ফি সাবিলিল্লাহ”-এর অন্তর্ভুক্ত।

টিকাঃ
৬৬৪. সহিহুল বুখারি: ১৮৬৩, সহিহু মুসলিম: ১২৫৬।
৬৬৫. সুনানু আবি দাউদ: ১৯৮৯, সুনানুত তিরমিজি: ৯৩৯, সুনানু ইবনি মাজাহ: ২৯৯৩।
৬৬৬. ফাতহুল বারি: ৩/৬০৪।
৬৬৭. সহিহুল বুখারি: ৬৬৪৩, সহিহু মুসলিম: ৮১১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মসজিদ থেকে নারীদের সবার আগে বের হওয়ার সুযোগ করে দিতেন

📄 মসজিদ থেকে নারীদের সবার আগে বের হওয়ার সুযোগ করে দিতেন


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের প্রতি খেয়াল রাখতে সালাত শেষে বসে থাকতেন, যাতে নারীরা বের হতে পারে এবং পুরুষদের সাথে সংমিশ্রণ না ঘটে।

উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সালাম ফেরালেই মহিলাগণ মসজিদ থেকে বের হয়ে যেত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওঠার আগে কিছুক্ষণ বসে থাকতেন।'

ইমাম জুহরি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আল্লাহই অধিক জানেন, আমার ধারণা, নারীরা যেন পুরুষদের মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগেই বাড়ি গিয়ে পৌঁছাতে পারে, সে জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু সময় বসে থাকতেন। '৬৬৮

উম্মে সালামা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) আরও বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সালাম ফেরালেই নারীরা মসজিদ থেকে বের হয়ে পড়তেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদ থেকে বের হওয়ার আগে আগে তারা নিজেদের বাড়িতে চলে যেতেন। '৬৬৯

হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:

* ইমামকে মুক্তাদিদের অবস্থার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।
* অসতর্কতা কখনো কখনো হারাম কাজে প্রবৃত্ত করতে পারে।
* অপবাদের আশঙ্কা হয়-এমন স্থান থেকে দূরে থাকতে হবে।
* নির্জন বাড়িতে তো দূরের কথা, জনমানুষের মাঝে রাস্তায়ও নারী-পুরুষের সংমিশ্রণ শরিয়তের দৃষ্টিতে অপছন্দনীয়। ৬৭০

টিকাঃ
৬৬৮. সহিহুল বুখারি: ৮৩৭।
৬৬৯. সহিহুল বুখারি: ৮৫০।
৬৭০. ফাতহুল বারি: ২/৩৩৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00