📄 তাদের বেশি জিকির করতে উদ্বুদ্ধ করতেন
ইউসাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত-তিনি মুহাজির নারী ছিলেন-তিনি বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে বললেন, "তোমরা অবশ্যই তাসবিহ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوس ) (لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ) 7 (سُبْحَانَ اللهِ) অথবা سُبُّوحٌ قُدُّوسُ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ( পড়বে। আঙুলে গুনে গুনে জিকির করবে। কিয়ামতের দিন আঙুলগুলোকে জিজ্ঞেস করা হবে এবং এগুলোকে কথা বলার জন্য আদেশ করা হবে। তাই তোমরা উদাসীন হয়ে আল্লাহর রহমত থেকে বিস্মৃত হোয়ো না।"৬৪০
ইবনে ইল্লান (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আঙুলে গোনার প্রকৃতি দুভাবে হতে পারে। এক. প্রতি আঙুলের গিরায় গিরায় গণনা করা। দুই. গিরায় গিরায় না গুনে পুরো আঙুল ধরে গণনা করা।'
আঙুলের গিরায় গিরায় গণনার ক্ষেত্রে প্রতিবার জিকিরের সময়ে একটি গিরায় বৃদ্ধাঙ্গুল রাখতে হবে। পুরো আঙুলে গণনার সময় প্রতিবার জikিরের সময় একটি আঙুল ভাঁজ করবে। '৬৪১
পুরো আঙুলে গণনা করা হোক বা আঙুলের গিরায় গিরায় ধরে গণনা করা হোক, উভয় পদ্ধতিরই অবকাশ আছে এখানে।
তিবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে জিকিরের সময় আঙুল দিয়ে হিসাব করতে উৎসাহিত করেছেন। কারণ, এতে তারা নিজেদের আঙুল দিয়ে যে গুনাহ করেছে, সে গুনাহ মুছে যাবে এবং তারা মার্জনাপ্রাপ্ত হবে।'
(কিয়ামতের দিন আঙুলগুলোকে জিজ্ঞাসা করা হবে): অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আঙুলকে জিজ্ঞেস করা হবে যে, তারা কোন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, তার মাধ্যমে কোন কর্মগুলো সাধিত হয়েছে।
(এগুলোকে কথা বলার জন্য আদেশ করা হবে): অর্থাৎ আঙুলগুলোকে কথা বলার আদেশ করলে, এগুলো ব্যক্তির পক্ষে অথবা বিপক্ষে কথা বলবে। আঙুল দিয়ে কৃত কর্মগুলোর ফিরিস্তি দিতে থাকবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
يَوْمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِمْ أَلْسِنَتُهُمْ وَأَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
“যেদিন তাদের কৃতকর্মের ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা।"৬৪২
(তাই তোমরা উদাসীন হোয়ো না...): অর্থাৎ তাই তোমরা জিকির থেকে উদাসীন হোয়ো না। জিকির পরিত্যাগ কোরো না।
(আল্লাহর রহমত থেকে বিস্মৃত হোয়ো না): মোল্লা আলি কারি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এখানে আল্লাহর রহমতকে বিস্মৃত হওয়ার অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর রহমত আসার মাধ্যমকে ভুলে যাওয়া। অর্থাৎ তোমরা যদি জিকির না করো, তবে তোমরা তার সাওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। তাই জিকির পরিত্যাগ করার অর্থ হচ্ছে রহমত পরিত্যাগ করা। তোমরা জিকির থেকে উদাসীন হলে আল্লাহও তোমাদের ওপর রহম করবেন না। '৬৪৩
টিকাঃ
৬৪০. সুনানুত তিরমিজি: ৩৫৮৩, সুনানু আবি দাউদ ১৫০৫, মুসনাদু আহমাদ ২৬৫৪৯। হাদিসের মান: হাসান।
৬৪১. আল-ফুতুহাতুর রব্বানিয়াহ: ৩/২৫০।
৬৪২. সুরা আন-নুর, ২৪: ২৪।
৬৪৩. তুহফাতুল আহওয়াজি: ১০/৩১।
📄 তাদের উপকারী দোয়া শেখাতেন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল মহীয়সী নারীদের ইলম শিখিয়েছেন, তাদের মধ্যে আসমা বিনতে উমাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহা) অন্যতম। তিনি দায়ি ছিলেন। ছিলেন গাম্ভীর্যপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে তিনি ইলম শেখাতেন, উপদেশ দিতেন তাদের। দূর-দূরান্ত থেকে লোকেরা তার কাছে আসত 'হাবশায় হিজরতের ফজিলত' সম্পর্কে শোনার জন্য।
সেই আসমা বিনতে উমাইস (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, "আমি কি তোমাকে কিছু শব্দ শিখিয়ে দেবো না, যেগুলো তুমি বিপদের সময় বলবে? সেগুলো হচ্ছে : اللهُ اللهُ رَبِّي لَا أُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا আল্লাহ, আল্লাহ, আমার রব, আমি তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করি না।]"৬৪৪
নারীরা গর্ভধারণ, সন্তান জন্মদান, স্বামীর কঠোরতা, সন্তান লালনপালনসহ প্রভৃতি ক্ষেত্রগুলোতে কষ্টের সম্মুখীন হয়। তাই প্রতিটি নারীর কর্তব্য হচ্ছে, কষ্ট ও বিপদ থেকে মুক্তির জন্য এ দোয়াটি পড়া।
তবে কষ্ট ও বিপদের সময় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পঠিত দোয়াটি হচ্ছে :
لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ العَظِيمُ الحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ العَرْشِ العَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ، وَرَبُّ العَرْشِ الكَرِيمِ
'সহনশীল মহান আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। বিশাল আরশের অধিপতি আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আসমান-জমিনের রব ও মহান আরশের মালিক ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। '৬৪৫
ইমাম তাবারি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'সালাফ এ দোয়াটি পড়তেন। তারা এ দোয়ার নাম দিয়েছিলেন, دعاء الكرب বা বিপদের দোয়া। '৬৪৬
টিকাঃ
৬৪৪. সুনানু আবি দাউদ: ১৫২৫, সুনানু ইবনি মাজাহ: ৩৮৮২।
৬৪৫. সহিহুল বুখারি: ৬৩৪৬, সহিহু মুসলিম: ২৭৩০।
৬৪৬. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৭/৪৭।
📄 বিভিন্ন উৎসব ও নেকির মজলিসে তাদের উপস্থিত হতে উৎসাহ দিতেন
বিভিন্ন উৎসব বা বিশেষ সময়ে কল্যাণ লাভের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট স্থলে তাদের উপস্থিত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করতেন।
উম্মে আতিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋতুবতী তরুণী, কুমারী নির্বিশেষে আমাদের সকল নারীকে ইদের দিন বের হয়ে কল্যাণ এবং মুসলিমদের জমায়েত ও দোয়ায় অংশগ্রহণ করার নির্দেশ দিলেন। অবশ্য ঋতুবতী নারীদের সালাতের স্থান থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। তখন এক নারী দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসুল, আমাদের কারও যদি ওড়না না থাকে?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তবে তার সাথি তাকে নিজ ওড়না পরতে দেবে।"৬৪৭
অর্থাৎ তার সাথি তাকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত থেকে একটি ওড়না ধার দেবে। ৬৪৮
الْعَوَاتِقُ শব্দটি عَائِقَة শব্দের বহুবচন। যার অর্থ হচ্ছে নবউদ্ভিন্না তরুণী। কেউ কেউ বলেন, 'বাবার বাড়িতে বসবাসরত অবিবাহিত তরুণীকে عَائِقَة বলা হয়। '৬৪৯
ذَوَاتُ الْخُدُورِ ঘরের কোণে আলাদা কক্ষে বসবাসরত কুমারী মেয়েকে বলা হয় ذَوَاتُ الخُدُورِ।
হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:
* নারীরা দুই ইদের জামাআতে উপস্থিত হওয়া মুসতাহাব। চাই সে নারী যুবতি হোক বা বৃদ্ধা হোক; চাই সে বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত হোক। উম্মে আতিয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত এ হাদিসে ইদের সময় ঘর থেকে বের হওয়ার এ বিধানের কারণ হচ্ছে, এতে নারীরা কল্যাণপ্রাপ্ত হবে এবং মুসলিমদের দোয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারবে এবং এ দিনের বরকত ও পবিত্রতা অর্জন করতে পারবে।
* হায়িজা নারী জিকির করতে পারবে। মসজিদ ব্যতীত ইলম ও জিকিরের মজলিসের মতো কল্যাণময় স্থানগুলোতেও আসতে পারবে। ৬৫০
টিকাঃ
৬৪৭. সহিহুল বুখারি: ৩৫১, সহিহু মুসলিম: ৮৯০।
৬৪৮. ফাতহুল বারি: ১/৪২৪।
৬৪৯. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৩/১৭৯।
৬৫০. ফাতহুল বারি: ১/৪২৪, ২/৪৭০।
📄 নারী সাহাবিগণ জুমআয় অংশগ্রহণ করতেন
উম্মে হিশাম বিনতে হারিসা বিন নুমান (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআর খুতবায় সুরা কাহফ তিলাওয়াত করতেন। জুমআর সালাতে শুনে শুনেই আমি সুরা কাহফ মুখস্থ করে ফেলেছি।' তিনি আরও বলেন, 'আমাদের ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রান্না একই রান্নাঘরে রান্না করা হতো। '৬৫১
আলিমগণ বলেন, 'জুমআর খুতবার জন্য সুরা কাহফ নির্বাচন করার কারণ হচ্ছে, এ সুরা পুনরুত্থান, মৃত্যু, ভীতিজনক উপদেশ ও কঠিন ধমকসংবলিত একটি সুরা।'
আর এ নারী সাহাবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অবস্থাদি জানতেন এবং তার বাড়ি ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাড়ি পাশপাশি তা বোঝানোর জন্য তিনি বললেন, "আমাদের ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রান্না একই রান্নাঘরে রান্না করা হতো।"৬৫২
টিকাঃ
৬৫১. সহিহু মুসলিম: ৮৭৩।
৬৫২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৬/১৬১।