📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মহিলাদের সাথে কোমল আচরণ করতেন

📄 মহিলাদের সাথে কোমল আচরণ করতেন


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্নেহ, দয়া, কোমলতা ও সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ করতেন মহিলাদের প্রতি। কারণ, নারীরা সাধারণত দুর্বল হয়ে থাকে। এ জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের ক্ষেত্রে 'القَوَارِير কাচের বোতল' অভিধাটি ব্যবহার করতেন।

আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো এক সফরে ছিলেন। তখন আনজাশা নামক কালো এক কিশোর গান গেয়ে উট চালাচ্ছিল। বেশ মিষ্টি ছিল তার কণ্ঠটা। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "আনজাশা, উট ধীরে চালাও, তুমি কিছু কাচপাত্র (মহিলা) সাথে নিয়ে সফর করছ।"'

আবু কিলাবা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন শব্দে কথা বললেন, যদি তোমাদের কেউ সে শব্দ ব্যবহার করে কথা বলতে, তবে সেটা ঠাট্টা হিসেবে ধরা হতো। '৬১৯

মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় এসেছে, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আনজাশা, ধ্বংস হোক তোমার! কাচপাত্রগুলোর (মহিলাদের) প্রতি দয়া করো।"৬২০

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের কাচপাত্রের সাথে তুলনা করেছেন। কারণ, নারীরা সাধারণত কাচের বোতলের মতোই নরম, কমনীয় ও দুর্বল কাঠামোর হয়ে থাকে। ৬২১

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনজাশাকে বললেন, 'মহিলাদের প্রতি দয়া করো।'-এর কারণ কী?

এই প্রশ্নের উত্তরে আলিমদের মতানৈক্য রয়েছে।

কেউ বলেন, 'সুমিষ্ট কণ্ঠের অধিকারী ছিল আনজাশা। সে পুরুষদের সাথে থেকে যেমন উট চালনার গান গেয়ে উট হাঁকিয়ে চলত। তেমনই মহিলাদের সাথে থেকেও উট চালনার গান গাইত। কারণ, তখনো যৌবন পুরোপুরি আসেনি তার মাঝে, কিন্তু ধীরে ধীরে তার মাঝে যৌবন আসছিল। তাই নারীরা তার মাধ্যমে ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল বলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গান গাইতে নিষেধ করলেন।'

আর কেউ বলেন, 'দয়া করা বলতে উটের গতি কমাতে বলেছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কারণ, উট যখন উট-চালনার গান শুনত, তখন উট গানের তালে উত্তেজিত হয়ে জোর গতিতে চলতে শুরু করত। এতে আরোহী কষ্ট পেত। নারীগণ দুর্বল গড়নের হওয়ার কারণে উটের দ্রুত ধাবমান ধকল সইতে না পারার যথেষ্ট আশঙ্কা থাকত। নারীদের কোনো ক্ষতি হওয়ার বা উট থেকে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই আনজাশাকে গান গাইতে নিষেধ করলেন।'

কুরতুবি (রাহিমাহুল্লাহ) তার 'আল-মুফহিম' গ্রন্থে উভয় অভিমতকে সঠিক বলে ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের কাচপাত্রের সাথে তুলনা করেছেন। কারণ, নারীদের ওপর কোনো কিছুর প্রভাব খুব তাড়াতাড়ি পড়ে যায়। তারা কঠিন কিছুর ধকল সইতে পারে না। উট দ্রুত গতিতে চালানোর জন্য গান গাইতে থাকলে তা দ্রুত গতিতে চলবে। ওদিকে নারীদের উট থেকে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে, অথবা বেশি জোরে চলার কারণে তারা কষ্ট পাবে। দ্রুত চলার কারণে বিপদ হতে পারে বিধায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনজাশাকে গান গাইতে নিষেধ করলেন। অথবা গান শোনার কারণে তাদের অন্তরে খারাপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে, এ আশঙ্কায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনজাশাকে গান গাইতে নিষেধ করলেন। '৬২২

টিকাঃ
৬১৯. সহিহুল বুখারি: ৬১৪৯, সহিহু মুসলিম: ২৩২৩।
৬২০. মুসনাদু আহমাদ: ১২৩৫০।
৬২১. ফাতহুল বারি: ১০/৫৪৫।
৬২২. ফাতহুল বারি ১০/৫৬৪, আল-মুফহিম লিমা উশকিলা মিন তালবিসি কিতাবি মুসলিম: ১৯/৪৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বিশেষ গুণের কারণে কুরাইশ-নারীদের প্রশংসা করতেন

📄 বিশেষ গুণের কারণে কুরাইশ-নারীদের প্রশংসা করতেন


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বললেন, "উট-আরোহী নারীদের (আরব্য নারীদের) মধ্যে কুরাইশের নেক নারীরাই সর্বোত্তম। তারা তাদের এতিম শিশুদের প্রতি স্নেহশীল এবং তাদের স্বামীদের ধনসম্পত্তির উত্তম রক্ষক হয়ে থাকে। "৬২৩

(তারা তাদের এতিম শিশুদের প্রতি স্নেহশীল) অর্থাৎ পিতৃহারা শিশুর প্রতি অন্যান্য নারীর তুলনায় তারা বেশি স্নেহশীল হয়ে থাকে। এতিম শিশুর প্রতিপালন করে। বিবাহের দরকার থাকলেও শিশুটির প্রতিপালনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে তারা বিয়ে করে না। কেননা, তারা যদি অন্য ঘরে বিয়ে করে নেয়, তবে তাদের মমতা ও স্নেহে ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

(তাদের স্বামীদের ধনসম্পদের উত্তম রক্ষক হয়ে থাকে): তারা অন্য নারীদের তুলনায় স্বামীর ধনসম্পদ রক্ষার ব্যাপারে অধিক সতর্ক ও বিশ্বস্ত। স্বামীর অর্থকড়ি অপচয় করে না তারা। ৬২৪

মুহাল্লিব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'দুটি কারণে এ হাদিসে কুরাইশ নারীদেরকে আরবের অন্য নারীদের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে।

এক. সন্তানবাৎসল্য। সন্তান প্রতিপালনে তারা গুরুত্ব দেয় বেশি এবং সন্তানের উত্তম পরিচর্যা করে।

দুই. বিশ্বস্ততার সাথে স্বামীর সম্পদের হিফাজত করা। '৬২৫

টিকাঃ
৬২৩. সহিহুল বুখারি: ৫০৮২, সহিহু মুসলিম: ২৫২৭।
৬২৪. ফাতহুল বারি: ৯/১২৫।
৬২৫. শারহু সহিহিল বুখারি: ৭/৫৪৪।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নারীদের তালিমের প্রতি গুরুত্বারোপ করতেন

📄 নারীদের তালিমের প্রতি গুরুত্বারোপ করতেন


নারীদের প্রয়োজনীয় ইলম শেখানোর প্রতি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুত্বারোপ করতেন। সপ্তাহে একটি দিন নির্দিষ্ট করে তাদের উপদেশ ও নির্দেশনা দিতেন।

আবু সাইদ খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক নারী এসে বলল, “হে আল্লাহর রাসুল, পুরুষরা কথা বলে আপনার পুরো সময়টা নিয়ে নেয়। আমাদের সুযোগ হয় না। তাই আমাদের জন্য একদিন ঠিক করে দিন। সেদিন আমরা আপনার কাছে আসব, আর আল্লাহ আপনাকে যে ইলম শিখিয়েছেন, তা থেকে আপনি আমাদের শেখাবেন।"৬২৬

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "তোমরা এ রকম এ রকম দিনে অমুক স্থানে একত্র হবে। "৬২৭

নির্দিষ্ট স্থানে মহিলারা একত্র হলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন তাদের কাছে। তাদের ইলম শেখালেন, উপদেশ দিলেন এবং নির্দেশনা দিলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের যা বলেছিলেন, তার একাংশ হচ্ছে- তোমাদের মধ্যে কোনো নারীর নাবালেগ তিনটি সন্তান মৃত্যুবরণ করলে, এ সন্তানরা তার জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হয়ে তাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাবে।"

তখন এক মহিলা বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল, দুজন হলেও কি? দুজন হলেও কি?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "হাঁ, দুজন হলেও, দুজন হলেও, দুজন হলেও।"৬২৮

এ হাদিসে দ্বীনি ইলমের প্রতি নারী সাহাবিদের অদম্য স্পৃহা ও আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট প্রতিভাত হচ্ছে। বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) এই হাদিসটিকে 'নারীদের প্রতি আমিরের উপদেশ ও শিক্ষাপ্রদান অধ্যায়' শীর্ষক অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।

(নাবালেগ সন্তান): গুনাহের বয়সে পৌঁছেনি। অর্থাৎ এর পূর্বেই মারা যায়। কেননা, বালেগ হওয়ার পরই তাদের গুনাহ লিপিবদ্ধ করা হয়। এখানে নাবালেগ অবস্থায় মারা যাওয়ার কথাটির রহস্য সম্ভবত এটা যে, বালেগ হয়ে গুনাহ করে মারা গেলে সেটা বাবা-মায়ের জন্য আরও অধিক পেরেশানির কারণ হবে। '৬২৯

হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:

* নারী সাহাবিগণ ইলম শেখার প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী ও উৎসাহী ছিলেন।
* মুসলিমদের মৃত শিশুরা জান্নাতের অধিবাসী।
* যার দুটি শিশুসন্তান মারা যাবে, তারা তার মায়ের জন্য জাহান্নামের প্রতিবন্ধক হবে। ৬৩০

টিকাঃ
৬২৬. বুখারির রিওয়ায়াতে আছে, 'মহিলারা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশে বলল, 'পুরুষরা আপনার পুরো সময়টা নিয়ে নিচ্ছে। তাই আমাদের জন্য একদিন নির্দিষ্ট করে দিন, যেদিন আমরা আপনার কাছে শিখব।'
৬২৭. ইমাম আহমাদের রিওয়ায়াতে (হাদিস: ৭৩১০) আছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, 'অমুকের ঘর তোমাদের জন্য নির্ধারিত।'
৬২৮. সহিহুল বুখারি: ১০২, সহিহু মুসলিম: ২৬৩৪।
৬২৯. ফাতহুল বারি: ১/১৯৬।
৬৩০. ফাতহুল বারি: ১/১৯৬।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নারীদের উপদেশ দেওয়ার প্রতি বেশ আগ্রহী ছিলেন

📄 নারীদের উপদেশ দেওয়ার প্রতি বেশ আগ্রহী ছিলেন


জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'ইদের দিন আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সালাত আদায় করলাম। খুতবার আগে আজান ও ইকামত ছাড়া তিনি সালাত পড়ালেন। সালাত শেষে বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন তিনি। অতঃপর আল্লাহকে ভয় করার ও তাঁর আনুগত্য করার আদেশ করলেন এবং মানুষদের উপদেশ দিলেন।'

এরপর সেখান থেকে নারীদের কাছে আসলেন। তাদের উপদেশ দিলেন। বললেন, "তোমরা সাদাকা করবে। কারণ, অধিকাংশ নারীরা জাহান্নামের ইন্ধন হবে।" মহিলাদের মাঝখান থেকে গালে তিলবিশিষ্ট এক নারী দাঁড়িয়ে বলল, “কেন, হে আল্লাহর রাসুল?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "কারণ, তোমরা অধিক হারে অভিযোগ করো এবং স্বামীর প্রতি অকৃতজ্ঞ হও।"৬৩১

জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এরপর নারীরা তাদের অলংকার খুলে সাদাকা করতে লাগল। তারা তাদের কানের দুল ও আংটি খুলে বিলাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাপড়ে নিক্ষেপ করতে লাগল। '৬৩২

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইদের সালাত পড়াতে এসে যখন দেখলেন, অনেক মানুষ একত্র হয়েছে, তখন স্বভাবতই মহিলাদের কাতার পুরুষদের কাতারের পেছনে হওয়ায় মহিলারা বেশ দূরে পড়ে যায়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখলেন, তারা খুতবা শুনতে পাবে না। তাই ইলম শেখার ক্ষেত্রে তাদের অধিকার আদায় করার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই তাদের কাছে গিয়ে উপদেশ ও নির্দেশনা দিলেন।

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'শিক্ষক ইলম শেখানোর সময় যদি মহিলারা শুনতে না পায়, তবে পুরুষদের শেখানো থেকে অবসর হয়ে কোনো ফিতনা ও ক্ষতির আশঙ্কা না থাকলে মহিলাদের কাছে এসে তাদের ইলম শেখানো মুসতাহাব। '৬৩৩

বর্তমানে মাইক, সাউন্ডবক্স ইত্যাদি সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে আওয়াজ উঁচু করা যায়। তাই মহিলাদের কাছে এসে তাদের ইলম শেখানোর কোনো প্রয়োজন নেই।

হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:

* নারীদের ইলম শেখানো, তাদের উপদেশ দেওয়া, ইসলামের বিধিবিধান জানানো শরিয়তের দৃষ্টিতে মুসতাহাব ও প্রশংসনীয় কাজ।
* ইবনে জুরাইজ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আমি আতা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কাছে জানতে চাইলাম, বর্তমান সময়ে নারীদের উপদেশ দেওয়া আমিরের কর্তব্য কি না? আতা (রাহিমাহুল্লাহ) জবাব দিলেন, "এটা নারীদের অধিকার। কেন তারা তাদের অধিকার আদায় করে না?"৬৩৪
* রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্নেহশীল হয়ে নারীদের উপদেশ দিয়েছেন। তাদের প্রতি কঠোর হননি, রূঢ় আচরণ করেননি।
* ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'সে সময়টা তাদের জন্য কঠিন কষ্টের সময় হলেও তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শুনে দ্রুত গতিতে নিজেদের অলংকার সাদাকা করতে লাগলেন। এ থেকে বোঝা যায়, দ্বীনি কাজে তাদের মর্যাদা ছিল অতি উন্নত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশের আনুগত্যের প্রতি তারা ছিল বেশ আগ্রহী ও উৎসাহী। তাদের আনুগত্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সন্তুষ্ট। '৬৩৫

টিকাঃ
৬৩১. অর্থাৎ নারীরা স্বামীর অধিকার ও অনুগ্রহ অস্বীকার করে। স্বামীর অনুগ্রহের কথা গোপন রাখে এবং বেশি বেশি অভিযোগ করে। অন্য এক রিওয়ায়াতে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'স্ত্রীর প্রতি যদি স্বামী এক যুগ ধরে সদাচরণ করতে থাকে, এরপর স্ত্রী যদি সামান্য কোনো কিছু কোনোদিন তার মাঝে দেখে, সাথে সাথে স্ত্রী বলে উঠবে, আমি তোমার থেকে কখনো সদাচরণ পাইনি।' দেখুন, সহিহুল বুখারি: ২৯, সহিহু মুসলিম: ৯০৭।
৬৩২. সহিহু মুসলিম: ৮৮৫।
৬৩৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ৬/১৭৪।
৬৩৪. সহিহুল বুখারি: ৯৬১, সহিহু মুসলিম: ৮৮৫।
৬৩৫. ফাতহুল বারি: ২/৪৬৯।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00