📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 পুরুষদের মতো নারীদেরও বাইআত করাতেন

📄 পুরুষদের মতো নারীদেরও বাইআত করাতেন


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদের মতো নারীদের বাইআত করাতেন। তবে তাদের হাত স্পর্শ করতেন না। বাইআত হচ্ছে, এক ধরনের চুক্তি ও প্রতিজ্ঞা। এর গুরুত্ব অত্যধিক। বাইআতের মাধ্যমে কিছু শর্তের ওপর অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হয়। জীবনের প্রতিটি সময় এ শর্তগুলো যথাযথভাবে পালন করতে হয়।

আল্লাহ তাআলা নারীদের বাইআত নেওয়ার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আদেশ করে বলেন:

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَن لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ ، فَبَايِعْهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

'হে নবি, মুমিনা নারীরা যখন তোমার নিকট এসে বাইআত হয় এই মর্মে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোনো শরিক স্থির করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদের হত্যা করবে না, তারা সজ্ঞানে কোনো অপবাদ রটাবে না এবং ভালো কাজে তোমাকে অমান্য করবে না, তখন তাদের বাইআত গ্রহণ করো এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। '৬১৩

সাদি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আয়াতে বর্ণিত শর্তগুলোকে 'মুবাআয়াতুন নিসা' বা মহিলাদের বাইআত বলা হয়। নারীরা নারী-পুরুষ উভয়ের ওপর অর্পিত ফরজ ও ওয়াজিব কর্তব্যগুলো সর্বদা আদায় করার ওপর বাইআত করতেন। পুরুষদের অবস্থা, স্তর বিবেচনায় তাদের কর্তব্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে ভিন্ন হতো। তারা তাদের সেসব কর্তব্যও পালন করতেন।'

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর আদেশের পূর্ণ অনুসরণ করতেন। যখন নারীরা তাঁর কাছে আসত, তিনি তাদের বাইআত গ্রহণ করতেন। তাদেরকে আয়াতে বর্ণিত শর্তগুলো দিয়ে বাইআত গ্রহণ করতেন। শান্ত করতেন তাদের অস্থির অন্তর। পূর্বে তাদের মাধ্যমে কোনো কমতি হয়ে থাকলে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। পরিশেষে, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিতেন মুমিনদের মাঝে। বাইআতের শর্তগুলো হলো:

)لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا অর্থাৎ তোমরা আল্লাহকে এক বলে মানবে। তাওহিদে বিশ্বাসী হবে। এক আল্লাহর ইবাদত করবে।

)وَلَا يَزْنِينَ( অর্থাৎ জাহিলি যুগে পতিতাবৃত্তি চরম আকারে বিরাজমান ছিল। নারীরা উপপতি গ্রহণ করত। এ বাইআতের মাধ্যমে নারীদের ইসলামে প্রবেশ করিয়ে এসবে না জড়ানোর শপথ নেওয়া হচ্ছে।
وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ
অর্থাৎ জাহিলি যুগের নারীদের মাঝে সন্তান হত্যার প্রচলন ছিল। এ বাইআতে সে ঘৃণিত কর্মটিও নিষিদ্ধ হচ্ছে।

)وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَ( - বুহতান হচ্ছে, অন্য কারও ওপর অপবাদ আরোপ করা। অর্থাৎ তারা কখনো কোনো অবস্থাতেই অপবাদ দেওয়ার মতো ঘৃণ্য কর্মে লিপ্ত হবে না; চাই সে অপবাদ তাদের ও তাদের স্বামীকে জড়িয়ে হোক বা অন্য কারও সম্পর্কে হোক।

)وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ( - অর্থাৎ আল্লাহ যেন বলছেন, তারা আপনার কোনো আদেশেরই অবাধ্য হবে না। কারণ, আপনার প্রতিটি আদেশই ভালো কাজের আদেশ হবে। তারা যেসব আদেশে আপনার আনুগত্য করবে, তার কিছু হচ্ছে-উচ্চস্বরে কেঁদে কেঁদে, কাপড় ছিড়ে, নখ দিয়ে মুখ আঁচড়ে, জাহিলি কথা বলে মাতম করা থেকে বিরত থাকা।

)فَبَايِعْهُنَّ( -অর্থাৎ আপনি প্রদত্ত শর্তগুলো তাদের ওপর আরোপ করে, তাদের বাইআত নিন।

( وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ) করার জন্য আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন আল্লাহর আছে।

)إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ( অর্থাৎ গুনাহগারদের জন্য আল্লাহর ক্ষমার অভাব নেই। পাপ করে যারা তাওবা করে, তিনি তাদের মার্জনা করেন।

)رَّحِيمٌ( -অর্থাৎ তাঁর রহমত প্রতিটি বস্তুকে বেষ্টন করে আছে। তার অনুগ্রহ সারা দুনিয়ায় ছেয়ে আছে। '৬১৪

উমাইমা বিন রুকাইকা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'আনসারি কয়েকজন মহিলার সাথে আমিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম বাইআত হওয়ার জন্য। আমরা বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, আমরা আপনার হাতে এই মর্মে বাইআত হচ্ছি যে, আমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করব না, চুরি করব না, জিনা করব না, কারও প্রতি অপবাদ আরোপ করব না এবং আপনার কোনো আদেশের অবাধ্য হব না।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সামর্থ্য অনুযায়ী পালন করবে।"

আমরা বললাম, “আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতি অতি দয়ার্দ্র। আপনার হাত এগিয়ে দিন আমরা বাইআত হই।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, "আমি কোনো (গাইরে মাহরাম) নারীর হাত স্পর্শ করি না। একজন নারীর জন্য আমার কথা যেমন, একশজন নারীর জন্যও তেমন।"৬১৫

টিকাঃ
৬১৩. সুরা আল-মুমতাহিনা, ৬০: ১২।
৬১৪. তাফসিরুস সাদি: ১/৮৫৭।
৬১৫. সুনানুন নাসায়ি: ৪১৮১, সুনানুত তিরমিজি: ১৫৯৭, সুনানু ইবনি মাজাহ: ২৮৭৪।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তিনি মুহাজির মুমিন নারীদের পরীক্ষা নিতেন

📄 তিনি মুহাজির মুমিন নারীদের পরীক্ষা নিতেন


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'মুমিন নারীগণ হিজরত করে এলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের পরীক্ষা করে নিতেন। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ...

“হে মুমিনগণ, ইমানদার নারীরা যখন তোমাদের কাছে হিজরত করে আসে, তখন তাদের পরখ করে দেখো (তারা সত্যিই ইমান এনেছে কি না)।..." ৬১৬

আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, "যখন তারা বাইআতের শর্তগুলো মেনে নিত, তখন তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বলে গণ্য হতো। যে সকল নারী বাইআতের শর্তগুলো মেনে নিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উদ্দেশে বলতেন, "যাও তোমরা। আমি তোমাদের বাইআত করলাম।” আল্লাহর কসম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোনো নারীর হাত স্পর্শ করতেন না। স্রেফ কথার মাধ্যমে তাদের বাইআত করতেন। আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় তিনি মহিলাদের বাইআত গ্রহণ করতেন। বাইআত গ্রহণ শেষে তাদের বলতেন, "আমি মৌখিকভাবে তোমাদের বাইআত করেছি।"৬১৭

অর্থাৎ তিনি কেবল মুখেই তাদের বাইআত করতেন। পুরুষদের থেকে বাইআত নেওয়ার সময় তাদের সাথে মুসাফাহা করতেন। নারীদের থেকে বাইআত নেওয়ার সময় তাদের হাত স্পর্শ করতেন না। ৬১৮

টিকাঃ
৬১৬. সুরা আল-মুমতাহিনা, ৬০: ১০।
৬১৭. সহিহুল বুখারি: ২৭১৩, সহিহু মুসলিম: ১৮৬৬।
৬১৮. ফাতহুল বারি: ৮/৬৩৬।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 মহিলাদের সাথে কোমল আচরণ করতেন

📄 মহিলাদের সাথে কোমল আচরণ করতেন


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্নেহ, দয়া, কোমলতা ও সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ করতেন মহিলাদের প্রতি। কারণ, নারীরা সাধারণত দুর্বল হয়ে থাকে। এ জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের ক্ষেত্রে 'القَوَارِير কাচের বোতল' অভিধাটি ব্যবহার করতেন।

আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো এক সফরে ছিলেন। তখন আনজাশা নামক কালো এক কিশোর গান গেয়ে উট চালাচ্ছিল। বেশ মিষ্টি ছিল তার কণ্ঠটা। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, "আনজাশা, উট ধীরে চালাও, তুমি কিছু কাচপাত্র (মহিলা) সাথে নিয়ে সফর করছ।"'

আবু কিলাবা (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন শব্দে কথা বললেন, যদি তোমাদের কেউ সে শব্দ ব্যবহার করে কথা বলতে, তবে সেটা ঠাট্টা হিসেবে ধরা হতো। '৬১৯

মুসনাদে আহমাদের বর্ণনায় এসেছে, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আনজাশা, ধ্বংস হোক তোমার! কাচপাত্রগুলোর (মহিলাদের) প্রতি দয়া করো।"৬২০

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের কাচপাত্রের সাথে তুলনা করেছেন। কারণ, নারীরা সাধারণত কাচের বোতলের মতোই নরম, কমনীয় ও দুর্বল কাঠামোর হয়ে থাকে। ৬২১

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনজাশাকে বললেন, 'মহিলাদের প্রতি দয়া করো।'-এর কারণ কী?

এই প্রশ্নের উত্তরে আলিমদের মতানৈক্য রয়েছে।

কেউ বলেন, 'সুমিষ্ট কণ্ঠের অধিকারী ছিল আনজাশা। সে পুরুষদের সাথে থেকে যেমন উট চালনার গান গেয়ে উট হাঁকিয়ে চলত। তেমনই মহিলাদের সাথে থেকেও উট চালনার গান গাইত। কারণ, তখনো যৌবন পুরোপুরি আসেনি তার মাঝে, কিন্তু ধীরে ধীরে তার মাঝে যৌবন আসছিল। তাই নারীরা তার মাধ্যমে ফিতনায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল বলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গান গাইতে নিষেধ করলেন।'

আর কেউ বলেন, 'দয়া করা বলতে উটের গতি কমাতে বলেছিলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। কারণ, উট যখন উট-চালনার গান শুনত, তখন উট গানের তালে উত্তেজিত হয়ে জোর গতিতে চলতে শুরু করত। এতে আরোহী কষ্ট পেত। নারীগণ দুর্বল গড়নের হওয়ার কারণে উটের দ্রুত ধাবমান ধকল সইতে না পারার যথেষ্ট আশঙ্কা থাকত। নারীদের কোনো ক্ষতি হওয়ার বা উট থেকে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাই আনজাশাকে গান গাইতে নিষেধ করলেন।'

কুরতুবি (রাহিমাহুল্লাহ) তার 'আল-মুফহিম' গ্রন্থে উভয় অভিমতকে সঠিক বলে ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের কাচপাত্রের সাথে তুলনা করেছেন। কারণ, নারীদের ওপর কোনো কিছুর প্রভাব খুব তাড়াতাড়ি পড়ে যায়। তারা কঠিন কিছুর ধকল সইতে পারে না। উট দ্রুত গতিতে চালানোর জন্য গান গাইতে থাকলে তা দ্রুত গতিতে চলবে। ওদিকে নারীদের উট থেকে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হবে, অথবা বেশি জোরে চলার কারণে তারা কষ্ট পাবে। দ্রুত চলার কারণে বিপদ হতে পারে বিধায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনজাশাকে গান গাইতে নিষেধ করলেন। অথবা গান শোনার কারণে তাদের অন্তরে খারাপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে, এ আশঙ্কায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনজাশাকে গান গাইতে নিষেধ করলেন। '৬২২

টিকাঃ
৬১৯. সহিহুল বুখারি: ৬১৪৯, সহিহু মুসলিম: ২৩২৩।
৬২০. মুসনাদু আহমাদ: ১২৩৫০।
৬২১. ফাতহুল বারি: ১০/৫৪৫।
৬২২. ফাতহুল বারি ১০/৫৬৪, আল-মুফহিম লিমা উশকিলা মিন তালবিসি কিতাবি মুসলিম: ১৯/৪৩।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বিশেষ গুণের কারণে কুরাইশ-নারীদের প্রশংসা করতেন

📄 বিশেষ গুণের কারণে কুরাইশ-নারীদের প্রশংসা করতেন


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা করেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন বললেন, "উট-আরোহী নারীদের (আরব্য নারীদের) মধ্যে কুরাইশের নেক নারীরাই সর্বোত্তম। তারা তাদের এতিম শিশুদের প্রতি স্নেহশীল এবং তাদের স্বামীদের ধনসম্পত্তির উত্তম রক্ষক হয়ে থাকে। "৬২৩

(তারা তাদের এতিম শিশুদের প্রতি স্নেহশীল) অর্থাৎ পিতৃহারা শিশুর প্রতি অন্যান্য নারীর তুলনায় তারা বেশি স্নেহশীল হয়ে থাকে। এতিম শিশুর প্রতিপালন করে। বিবাহের দরকার থাকলেও শিশুটির প্রতিপালনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে তারা বিয়ে করে না। কেননা, তারা যদি অন্য ঘরে বিয়ে করে নেয়, তবে তাদের মমতা ও স্নেহে ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

(তাদের স্বামীদের ধনসম্পদের উত্তম রক্ষক হয়ে থাকে): তারা অন্য নারীদের তুলনায় স্বামীর ধনসম্পদ রক্ষার ব্যাপারে অধিক সতর্ক ও বিশ্বস্ত। স্বামীর অর্থকড়ি অপচয় করে না তারা। ৬২৪

মুহাল্লিব (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'দুটি কারণে এ হাদিসে কুরাইশ নারীদেরকে আরবের অন্য নারীদের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে।

এক. সন্তানবাৎসল্য। সন্তান প্রতিপালনে তারা গুরুত্ব দেয় বেশি এবং সন্তানের উত্তম পরিচর্যা করে।

দুই. বিশ্বস্ততার সাথে স্বামীর সম্পদের হিফাজত করা। '৬২৫

টিকাঃ
৬২৩. সহিহুল বুখারি: ৫০৮২, সহিহু মুসলিম: ২৫২৭।
৬২৪. ফাতহুল বারি: ৯/১২৫।
৬২৫. শারহু সহিহিল বুখারি: ৭/৫৪৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00