📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নারীদের প্রতি উত্তম আচরণ করার নির্দেশ দিতেন

📄 নারীদের প্রতি উত্তম আচরণ করার নির্দেশ দিতেন


আমর বিন আহওয়াস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বিদায় হজে উপস্থিত ছিলেন। বিদায় হজের খুতবায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করলেন। তাঁর স্তুতি কীর্তন করলেন। কিছু কথা স্মরণ করে দিলেন এবং কিছু উপদেশ দিলেন। পরিশেষে বললেন, "তোমরা নারীদের প্রতি উত্তম আচরণ করার উপদেশ গ্রহণ করো।"৬০৭

অর্থাৎ তাদের প্রতি উত্তম আচরণ করো, কোমল আচরণ করো এবং স্নেহ-সহানুভূতির সাথে তোমরা তাদের নিয়ে জীবনযাপন করো। ৬০৮

টিকাঃ
৬০৭. সুনানুত তিরমিজি: ১১৬৩, সুনানু ইবনি মাজাহ: ১৮৫১। হাদিসের মান: হাসান।
৬০৮. ফাতহুল বারি: ৬/৩৬৮।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নারীদেরকে পুরুষদের অর্ধাংশ গণ্য করতেন

📄 নারীদেরকে পুরুষদের অর্ধাংশ গণ্য করতেন


আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "নারীরা পুরুষদেরই অংশ।"৬০৯

অর্থাৎ স্বভাব-চরিত্রে নারীরা পুরুষদেরই মতো। যেন তারা পুরুষদের থেকে নির্গত একটা অংশ। ৬১০

আল্লাহ তাআলা শরিয়তের কিছু বিধানের ক্ষেত্রে নারীদের ছাড় দিয়েছেন। যেমন: জুমআ ও জিহাদ। আবার কিছু বিধান বাড়িয়ে দিয়েছেন। যেমন: হিজাব পরিধান করা।

উম্মে উমারা আনসারি (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, 'তিনি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, "আমি দেখছি, পবিত্র কুরআনের প্রতিটি আয়াতই পুরুষদের ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হচ্ছে। কোথাও নারীদের কোনো উল্লেখ নেই।" এরপর আল্লাহ তাআলা নাজিল করলেন:

إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيرًا وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا

"নিশ্চয় মুসলমান পুরুষ, মুসলমান নারী, ইমানদার পুরুষ, ইমানদার নারী, অনুগত পুরুষ, অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ, সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ, ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ, বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ, দানশীল নারী, রোজা পালনকারী পুরুষ, রোজা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী পুরুষ, যৌনাঙ্গ হিফাজতকারী নারী, আল্লাহর অধিক জিকিরকারী পুরুষ ও অধিক জিকিরকারী নারী-তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।"৬১১-৬১২

এভাবে আল্লাহ তাআলা নারীদের কথাও কুরআনে স্পষ্ট আনলেন এবং দশটি বিষয়ে পুরুষদের সাথে তাদেরও প্রশংসা করলেন।

টিকাঃ
৬০৯. সুনানুত তিরমিজি: ১১৩, সুনানু আবি দাউদ: ২৩৬।
৬১০. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ২/৪৯২।
৬১১. সুরা আল-আহজাব, ৩৩: ৩৫।
৬১২. সুনানুত তিরমিজি: ৩২১১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 পুরুষদের মতো নারীদেরও বাইআত করাতেন

📄 পুরুষদের মতো নারীদেরও বাইআত করাতেন


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষদের মতো নারীদের বাইআত করাতেন। তবে তাদের হাত স্পর্শ করতেন না। বাইআত হচ্ছে, এক ধরনের চুক্তি ও প্রতিজ্ঞা। এর গুরুত্ব অত্যধিক। বাইআতের মাধ্যমে কিছু শর্তের ওপর অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হয়। জীবনের প্রতিটি সময় এ শর্তগুলো যথাযথভাবে পালন করতে হয়।

আল্লাহ তাআলা নারীদের বাইআত নেওয়ার ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি আদেশ করে বলেন:

يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ عَلَى أَن لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا وَلَا يَسْرِقْنَ وَلَا يَزْنِينَ وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَّ وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ ، فَبَايِعْهُنَّ وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

'হে নবি, মুমিনা নারীরা যখন তোমার নিকট এসে বাইআত হয় এই মর্মে যে, তারা আল্লাহর সাথে কোনো শরিক স্থির করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদের হত্যা করবে না, তারা সজ্ঞানে কোনো অপবাদ রটাবে না এবং ভালো কাজে তোমাকে অমান্য করবে না, তখন তাদের বাইআত গ্রহণ করো এবং তাদের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। '৬১৩

সাদি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'আয়াতে বর্ণিত শর্তগুলোকে 'মুবাআয়াতুন নিসা' বা মহিলাদের বাইআত বলা হয়। নারীরা নারী-পুরুষ উভয়ের ওপর অর্পিত ফরজ ও ওয়াজিব কর্তব্যগুলো সর্বদা আদায় করার ওপর বাইআত করতেন। পুরুষদের অবস্থা, স্তর বিবেচনায় তাদের কর্তব্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে ভিন্ন হতো। তারা তাদের সেসব কর্তব্যও পালন করতেন।'

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর আদেশের পূর্ণ অনুসরণ করতেন। যখন নারীরা তাঁর কাছে আসত, তিনি তাদের বাইআত গ্রহণ করতেন। তাদেরকে আয়াতে বর্ণিত শর্তগুলো দিয়ে বাইআত গ্রহণ করতেন। শান্ত করতেন তাদের অস্থির অন্তর। পূর্বে তাদের মাধ্যমে কোনো কমতি হয়ে থাকলে তাদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। পরিশেষে, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিতেন মুমিনদের মাঝে। বাইআতের শর্তগুলো হলো:

)لَّا يُشْرِكْنَ بِاللَّهِ شَيْئًا অর্থাৎ তোমরা আল্লাহকে এক বলে মানবে। তাওহিদে বিশ্বাসী হবে। এক আল্লাহর ইবাদত করবে।

)وَلَا يَزْنِينَ( অর্থাৎ জাহিলি যুগে পতিতাবৃত্তি চরম আকারে বিরাজমান ছিল। নারীরা উপপতি গ্রহণ করত। এ বাইআতের মাধ্যমে নারীদের ইসলামে প্রবেশ করিয়ে এসবে না জড়ানোর শপথ নেওয়া হচ্ছে।
وَلَا يَقْتُلْنَ أَوْلَادَهُنَّ
অর্থাৎ জাহিলি যুগের নারীদের মাঝে সন্তান হত্যার প্রচলন ছিল। এ বাইআতে সে ঘৃণিত কর্মটিও নিষিদ্ধ হচ্ছে।

)وَلَا يَأْتِينَ بِبُهْتَانٍ يَفْتَرِينَهُ بَيْنَ أَيْدِيهِنَّ وَأَرْجُلِهِنَ( - বুহতান হচ্ছে, অন্য কারও ওপর অপবাদ আরোপ করা। অর্থাৎ তারা কখনো কোনো অবস্থাতেই অপবাদ দেওয়ার মতো ঘৃণ্য কর্মে লিপ্ত হবে না; চাই সে অপবাদ তাদের ও তাদের স্বামীকে জড়িয়ে হোক বা অন্য কারও সম্পর্কে হোক।

)وَلَا يَعْصِينَكَ فِي مَعْرُوفٍ( - অর্থাৎ আল্লাহ যেন বলছেন, তারা আপনার কোনো আদেশেরই অবাধ্য হবে না। কারণ, আপনার প্রতিটি আদেশই ভালো কাজের আদেশ হবে। তারা যেসব আদেশে আপনার আনুগত্য করবে, তার কিছু হচ্ছে-উচ্চস্বরে কেঁদে কেঁদে, কাপড় ছিড়ে, নখ দিয়ে মুখ আঁচড়ে, জাহিলি কথা বলে মাতম করা থেকে বিরত থাকা।

)فَبَايِعْهُنَّ( -অর্থাৎ আপনি প্রদত্ত শর্তগুলো তাদের ওপর আরোপ করে, তাদের বাইআত নিন।

( وَاسْتَغْفِرْ لَهُنَّ اللَّهَ) করার জন্য আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন আল্লাহর আছে।

)إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ( অর্থাৎ গুনাহগারদের জন্য আল্লাহর ক্ষমার অভাব নেই। পাপ করে যারা তাওবা করে, তিনি তাদের মার্জনা করেন।

)رَّحِيمٌ( -অর্থাৎ তাঁর রহমত প্রতিটি বস্তুকে বেষ্টন করে আছে। তার অনুগ্রহ সারা দুনিয়ায় ছেয়ে আছে। '৬১৪

উমাইমা বিন রুকাইকা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'আনসারি কয়েকজন মহিলার সাথে আমিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম বাইআত হওয়ার জন্য। আমরা বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল, আমরা আপনার হাতে এই মর্মে বাইআত হচ্ছি যে, আমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করব না, চুরি করব না, জিনা করব না, কারও প্রতি অপবাদ আরোপ করব না এবং আপনার কোনো আদেশের অবাধ্য হব না।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সামর্থ্য অনুযায়ী পালন করবে।"

আমরা বললাম, “আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতি অতি দয়ার্দ্র। আপনার হাত এগিয়ে দিন আমরা বাইআত হই।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, "আমি কোনো (গাইরে মাহরাম) নারীর হাত স্পর্শ করি না। একজন নারীর জন্য আমার কথা যেমন, একশজন নারীর জন্যও তেমন।"৬১৫

টিকাঃ
৬১৩. সুরা আল-মুমতাহিনা, ৬০: ১২।
৬১৪. তাফসিরুস সাদি: ১/৮৫৭।
৬১৫. সুনানুন নাসায়ি: ৪১৮১, সুনানুত তিরমিজি: ১৫৯৭, সুনানু ইবনি মাজাহ: ২৮৭৪।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 তিনি মুহাজির মুমিন নারীদের পরীক্ষা নিতেন

📄 তিনি মুহাজির মুমিন নারীদের পরীক্ষা নিতেন


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, 'মুমিন নারীগণ হিজরত করে এলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের পরীক্ষা করে নিতেন। কারণ, আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ...

“হে মুমিনগণ, ইমানদার নারীরা যখন তোমাদের কাছে হিজরত করে আসে, তখন তাদের পরখ করে দেখো (তারা সত্যিই ইমান এনেছে কি না)।..." ৬১৬

আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, "যখন তারা বাইআতের শর্তগুলো মেনে নিত, তখন তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বলে গণ্য হতো। যে সকল নারী বাইআতের শর্তগুলো মেনে নিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উদ্দেশে বলতেন, "যাও তোমরা। আমি তোমাদের বাইআত করলাম।” আল্লাহর কসম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো কোনো নারীর হাত স্পর্শ করতেন না। স্রেফ কথার মাধ্যমে তাদের বাইআত করতেন। আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় তিনি মহিলাদের বাইআত গ্রহণ করতেন। বাইআত গ্রহণ শেষে তাদের বলতেন, "আমি মৌখিকভাবে তোমাদের বাইআত করেছি।"৬১৭

অর্থাৎ তিনি কেবল মুখেই তাদের বাইআত করতেন। পুরুষদের থেকে বাইআত নেওয়ার সময় তাদের সাথে মুসাফাহা করতেন। নারীদের থেকে বাইআত নেওয়ার সময় তাদের হাত স্পর্শ করতেন না। ৬১৮

টিকাঃ
৬১৬. সুরা আল-মুমতাহিনা, ৬০: ১০।
৬১৭. সহিহুল বুখারি: ২৭১৩, সহিহু মুসলিম: ১৮৬৬।
৬১৮. ফাতহুল বারি: ৮/৬৩৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00