📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 শাস্তিযোগ্য মদ্যাপকে গালি দিতে নিষেধ করতেন

📄 শাস্তিযোগ্য মদ্যাপকে গালি দিতে নিষেধ করতেন


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'এক মদ্যপকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে আসা হলো। তিনি প্রহার করার নির্দেশ দিলেন। আমাদের কেউ তাকে হাত দিয়ে মারতে শুরু করল, তো কেউ পায়ের জুতো দিয়ে তাকে পেটাল। কেউ আবার কাপড় দিয়ে তাকে মারতে লাগল। সে যখন চলে যেতে লাগল, তখন এক লোক বলল, "আল্লাহ তোমাকে অপদস্থ করুক।"

তা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে শয়তানের সহযোগী হয়ো না। "৪১৪

অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বললেন, "বরং তোমরা বলো, হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করে দিন। তার ওপর দয়া করুন। "৪১৫

ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'শয়তানের সাহায্য হওয়ার কারণ হচ্ছে, শয়তান চায় গুনাহকে তার সামনে চাকচিক্যময় করে তুলে ধরতে। যাতে সে আবারও লাঞ্ছিত হয়। তাই যদি কেউ অপরাধীর জন্য লাঞ্ছনার বদদোয়া করে, তাহলে যেন সে শয়তানের উদ্দেশ্য পূরণ করে দিয়েছে।

এ হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে, লানত দিয়ে কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে বদদোয়া করা নিষেধ। '৪১৬

আবু কালাবা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণিত একটি আসার এই হাদিসটির কাছাকাছি। সেটা হলো, 'আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এক লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকটি গুনাহ করার কারণে মানুষ তাকে গালি দিচ্ছিল। তিনি লোকগুলোর উদ্দেশে বললেন, "যদি তোমরা তাকে কুয়োর ভেতরে বিপদাপন্ন দেখতে, তাহলে কি সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করতে না?"

তারা বলল, "অবশ্যই করতাম।"

আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "তাহলে তোমাদের ভাইকে গালি দিয়ো না; বরং তোমরা যে পাপ থেকে বিরত আছ, সে জন্য আল্লাহর প্রশংসা করো।"

তারা জানতে চাইল, "আমরা কি তাকে ঘৃণা করব না?"

আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "বরং আমি তার কর্মকে ঘৃণা করব। যদি সে পাপকর্ম থেকে বিরত থাকে, তবে সে আমার ভাই। "৪১৭

টিকাঃ
৪১৪. সহিহুল বুখারি: ৬৭৮১।
৪১৫. সুনানু আবি দাউদ: ৪৪৭৮।
৪১৬. ফাতহুল বারি: ১২/৬৭। পরিমার্জিত।
৪১৭. আবু দাউদ কৃত আজ-জুহদ: ২৩২, মুসান্নাফু আব্দির রাজ্জাক: ২০২৬৭, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১/২২৫।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নির্দিষ্ট কোনো গুনাহগারের ওপর বদদোয়া করতে নিষেধ করতেন

📄 নির্দিষ্ট কোনো গুনাহগারের ওপর বদদোয়া করতে নিষেধ করতেন


উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় এক ব্যক্তির নাম ছিল আব্দুল্লাহ। তার উপাধি ছিল হিমার (গাধা)। লোকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাসাত। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগেও তাকে মদপানের কারণে বেত্রাঘাতের শাস্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু আরেক দিন সে মদপান করে আসলো এবং এবারও তাকে বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হলো। তখন এক ব্যক্তি বদদোয়া করে বলল, "হে আল্লাহ, তাকে আপনার দয়া থেকে বঞ্চিত করুন। তার ওপর লানত পড়ুক! কতবারই-না সে এ পাপ করছে!"

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা তাকে অভিশাপ দিয়ো না। আল্লাহর কসম, আমি জানি, সে আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসে।"৪১৮

হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:

* পাপী ব্যক্তির অন্তরে পাপ এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসা একত্রে থাকাটা অসম্ভব কিছু নয়। কারণ, এ লোকটি থেকে মদপানের মতো একটি পাপ প্রকাশিত হলেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, তার অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসা আছে।
* যদি কোনো পাপী ও গুনাহগারের অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভালোবাসা অনবরত বিদ্যমান থাকে, তবে সে যখন লজ্জিত হবে বা তার ওপর হদ প্রয়োগ করা হবে, তখন উক্ত গুনাহ মুছে যাবে। অন্যদিকে কারও অন্তর যদি পাপ করার কারণে লজ্জিত না হয়, তবে আশঙ্কা আছে যে, বারবার গুনাহ করার কারণে তার অন্তর থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভালোবাসা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আল্লাহর কাছে আমরা ক্ষমা ও নিষ্কলুষতা প্রার্থনা করছি। ৪১৯

শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারও ওপর নির্দিষ্ট করে লানত করতে নিষেধ করেছেন। যেমন এ লোকটি মদপানের কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েও আবার একই পাপ করেছে। তার অধিক মদপানের কারণে কেউ একজন তাকে লানত করলে, তিনি লানত করতে নিষেধ করলেন। কারণ হিসেবে বলেন, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসে। যদিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাপকভাবে মদখোরদের ওপর লানত করেছেন।

এ থেকে বোঝা যায়, ব্যাপকভাবে লানত করা জায়িজ আছে। কিন্তু যদি কেউ আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসে, তবে তাকে নির্দিষ্ট করে লানত করা জায়িজ নেই। আর প্রতিটি মুমিনই তো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসে। তাই কোনো মুমিনকেই নির্দিষ্ট করে লানত করা জায়িজ নেই। '৪২০

প্রশ্ন হতে পারে, এ হাদিস ও আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের মাঝে সমন্বয় হয় কীভাবে? আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ-সংশ্লিষ্ট দশ শ্রেণির লোককে লানত করেছেন-যথা: মদ তৈরিকারী, মদের ফরমায়েশকারী, মদ পানকারী, মদ বহনকারী, যার জন্য মদ বহন করা হয়, মদ পরিবেশনকারী, মদ বিক্রয়কারী, মদের মূল্য ভোগকারী, মদ ক্রেতা, যার জন্য মদ ক্রয় করা হয়। '৪২১

উত্তর হচ্ছে, এখানে উল্লিখিত হাদিসটিতে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লানত করা হয়েছে, যা জায়িজ নেই। আর আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিসটিতে ব্যাপকভাবে মদের কারবারিতে যুক্ত বিভিন্ন শ্রেণিকে লানত করা হয়েছে। এটা জায়িজ। আদতে দুই হাদিসের মাঝে কোনো বৈপরীত্য নেই।

টিকাঃ
৪১৮. সহিহুল বুখারি: ৬৭৮০।
৪১৯. ফাতহুল বারি: ১২/৭৮।
৪২০. মানহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যা: ৪/৫৬৯-৫৭০।
৪২১. সুনানুত তিরমিজি: ১২৯৫, সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৩৮১।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 নেকটপ্রাপ্ত কেউ গুনাহ করলে কঠিন ভর্ৎসনা করতেন

📄 নেকটপ্রাপ্ত কেউ গুনাহ করলে কঠিন ভর্ৎসনা করতেন


মারুর বিন সুয়াইদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাবজায় আবু জার (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে আমার দেখা হলো। তখন তিনি এক সেট কাপড় (লুঙ্গি ও চাদর) পরিহিত ছিলেন এবং তার গোলামের শরীরেও একই মানের পোশাক ছিল। আমি এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, "একবার আমি এক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিলাম এবং আমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছিলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন:

يَا أَبَا ذَرٍّ أَعَيَّرْتَهُ بِأُمِّهِ ۚ إِنَّكَ امْرُؤٌ فِيكَ جَاهِلِيَّةٌ، إِخْوَانُكُمْ خَوَلُكُمْ، جَعَلَهُمُ اللهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ، فَمَنْ كَانَ أَخُوهُ تَحْتَ يَدِهِ، فَلْيُطْعِمْهُ مِمَّا يَأْكُلُ، وَلْيُلْبِسْهُ مِمَّا يَلْبَسُ، وَلَا تُكَلِّفُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ، فَإِنْ كَلَّفْتُمُوهُمْ فَأَعِينُوهُمْ

'আবু জার, তুমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছ? তুমি তো এমন ব্যক্তি, যার মধ্যে এখনো জাহিলি যুগের স্বভাব রয়ে গেছে। জেনে রাখো, তোমাদের দাস-দাসী তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। তাই যার ভাই তার অধীনে থাকবে, সে যেন নিজে যা খায়, তাকে তা-ই খাওয়ায় এবং নিজে যা পরে, তাকে তা-ই পরায়। তাদের ওপর এমন কাজ চাপিয়ে দিয়ো না, যা তাদের জন্য খুব কষ্টকর। যদি এমন কষ্টকর কাজ করতে দাও, তাহলে তোমরাও তাদের সে কাজে সাহায্য করবে। '৪২২

ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এমন কর্মের পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সে জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু জার (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ভর্ৎসনা করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আবু জার (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিশেষ মর্যাদা ছিল। তাই আবু জার (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট যদিও লোকটার সাথে কটু আচরণ করার কারণ ছিল, ফলে আবু জার (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে এ ক্ষেত্রে ওজরগ্রস্ত ধরা যেত, কিন্তু তার মতো শীর্ষস্থানীয় সাহাবির নিকট থেকে এমন আচরণ প্রকাশ পাওয়াও গুরুতর। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ভর্ৎসনা করলেন। '৪২৩

টিকাঃ
৪২২. সহিহুল বুখারি: ৩০, সহিহু মুসলিম ১৬৬১।
৪২৩. ফাতহুল বারি: ১/৮৫।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 গুনাহের ভয়াবহতা স্পষ্ট করতেন এবং খুব কঠোর হতেন

📄 গুনাহের ভয়াবহতা স্পষ্ট করতেন এবং খুব কঠোর হতেন


গুনাহের ভয়াবহতা পরিষ্কার করার জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুনাহের কথা বারবার বলতেন এবং সে ক্ষেত্রে খুব কঠোর হতেন।

উসামা বিন জাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে হুরাকা অভিমুখে একটি অভিযানে পাঠালেন। সকালবেলা সে গোত্রের নিকট উপস্থিত হলাম আমরা। তাদের ওপর আক্রমণ করলাম। সে গোত্রের একজন লোক আমার ও এক আনসারির সামনে পড়ল। আমরা যখন তাকে ঘেরাও করে নিলাম, সে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলে উঠল। আনসারি তার হাত গুটিয়ে নিলেন। কিন্তু আমি বর্শার আঘাতে তাকে হত্যা করলাম।'

অভিযান শেষে আমরা ফিরে এলাম। কালিমা বলা সত্ত্বেও আমি একজন লোককে হত্যা করেছি, এ সংবাদ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছে গিয়েছিল ততক্ষণে। আমাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন, "উসামা, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলার পরও তুমি তাকে হত্যা করলে? কিয়ামতের দিন যখন সে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" নিয়ে হাজির হবে, তখন তুমি কী করবে?"

আমি বললাম, "সে প্রাণে বাঁচার জন্য এমনটা বলেছে, মন থেকে বলেনি।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি কি তার অন্তর ফেঁড়ে দেখেছ যে, তুমি জানো, সে সত্য মনে বলেছে নাকি মিথ্যা বলেছে?"

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথাটি বারবার বলতে থাকলেন। তখন আমি মনে মনে অনুশোচনা করছিলাম নিজের কর্মের জন্য। তখন (লজ্জা ও অনুতাপে) আশা করছিলাম, হায়, যদি সেই দিনটির আগে আমি ইসলাম গ্রহণ না করতাম! '৪২৪

ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ হাদিসটিতে ফিকহের সুবিদিত একটি মূলনীতির দলিল রয়েছে। আর সেটি হচ্ছে, বাহ্যিক অবস্থা বিবেচনায় হুকুম প্রযোজ্য হবে এবং অভ্যন্তরীণ ব্যাপারটি আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে।

উসামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অনুশোচনায় বলেছিলেন, 'এমনকি আমি আশা করছিলাম, যদি সেদিনই আমি ইসলাম গ্রহণ করতাম।" এর অর্থ হচ্ছে, যদি এ ঘটনার আগে ইসলাম গ্রহণ না করে সেদিন সে সময়টাতে ইসলাম গ্রহণ করতাম, তাহলে আমার পূর্বের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যেত। কারণ, ইসলাম গ্রহণ করলেই তো পূর্বের সকল গুনাহ মুছে যায়। উসামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এ কথাটি বলার কারণ হচ্ছে, তার কৃত অপরাধের কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে যেভাবে তিরস্কার করছিলেন, সে তিরস্কার তার অন্তরে বিরাট প্রভাব ফেলেছিল। '৪২৫

কুরতুবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কঠোর ভর্ৎসনার ফলে উসামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যে অনুশোচনামূলক কথা বলেছেন, তা থেকে বোঝা যাচ্ছে, এর আগে তিনি যত নেক আমল করেছেন, এ গুনাহের সামনে সেসব আমলকে তুচ্ছ মনে করেছেন তিনি। '৪২৬

ইবনে তিন (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ তিরস্কারে রয়েছে এক কঠোর শিক্ষা ও নির্দেশনা যে, তাওহিদের বাণী উচ্চারণ করে- এমন কাউকে কখনো কেউ অন্যায়ভাবে হত্যা করার জন্য অগ্রসর হবে না।'

ইমাম খাত্তাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'উসামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হয়তো (আল্লাহ তাআলা বাণী: فَلَمْ يَكُ يَنفَعُهُمْ إِيمَانُهُمْ لَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا -"তারা যখন আমার শাস্তি দেখল, তখন তাদের ইমান গ্রহণ তাদের কোনো উপকারে আসলো না।"৪২৭) এ আয়াতের ব্যাখ্যার ভিত্তিতে সে লোকটিকে হত্যা করেছিলেন। সে জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উসামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে অপারগ সাব্যস্ত করেছেন এবং তার ওপর দিয়াত ইত্যাদি ধার্য করেননি। '৪২৮

টিকাঃ
৪২৪. সহিহুল বুখারি: ৪২৬৯, সহিহু মুসলিম: ৯৬।
৪২৫. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ২/১০৭।
৪২৬. ফাতহুল বারি: ১২/১৯৬।
৪২৭. সুরা গাফির, ৪০: ৮৫
৪২৮. ফাতহুল বারি: ১২/১৯৬।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00