📄 হদপ্রাপ্তকে গালি, তিরস্কার কিংবা অভিশাপ দিতে নিষেধ করতেন
বুরাইদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ঘটনা বর্ণনার পর বলেন, 'এরপর গামিদি মহিলা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) এসে বলল, "হে আল্লাহর রাসুল, আমি জিনা করেছি। আমাকে এ গুনাহ থেকে পবিত্র করুন।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ফিরিয়ে দিলেন।'
পরবর্তী দিন সে নারী আবার আসলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল, "হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আমাকে কেন ফিরিয়ে দিচ্ছেন? হয়তো আপনি আমাকে সেভাবে ফিরিয়ে দিচ্ছেন, যেমন ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে। আল্লাহর কসম করে বলছি, জিনার কারণে আমি এখন গর্ভবতী।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন, "হয়তো না। এখন যাও। যদি সত্যিই তুমি সন্তান প্রসব করে থাকো, তবে তখন এসো।"
সন্তান প্রসবের পর সন্তানকে একটি কাপড়ে জড়িয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, "এ সন্তানটি আমি প্রসব করেছি।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যাও, দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত তার প্রতিপালন করো।"
একসময় দুধ ছাড়ানো হলো শিশুটির। তখন সে শিশুটিকে নিয়ে এল। শিশুর হাতে তখন রুটির ছেঁড়া একটা টুকরো। বলল, "হে আল্লাহর নবি, তার দুধ ছাড়ানো হয়েছে। সে এখন খেতে পারে।" তখন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুটিকে এক মুসলিমের দায়িত্বে দিয়ে দিলেন। আর মহিলাটিকে রজমের আদেশ দিলেন। প্রথমে গর্ত খোঁড়া হলো। তাকে বুক পর্যন্ত গর্তে ঢোকানোর পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ দিলে মানুষ তাকে রজম করল।'
খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) একটি পাথর নিয়ে চুমু দিল তাতে। মহিলাটির মাথা লক্ষ করে ছুড়ল সে পাথরটি। রক্ত এসে লাগল খালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুখে। খালিদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মহিলাটিকে গালি দিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা শুনতে পেয়ে বললেন, “সাবধান, হে খালিদ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ-তাঁর শপথ, এ নারী এমন তাওবা করেছে, যদি এমন তাওবা ট্যাক্স আদায়কারী করত, তবে তার জন্য যথেষ্ট হতো এবং তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হতো।"
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলার মৃতদেহ উঠিয়ে আনার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তার জানাজা আদায় করে তাকে দাফন করা হলো। '৪০৯
এক বর্ণনায় এসেছে, 'জানাজা পড়ার আগে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, “হে আল্লাহর নবি, সে জিনা করেছে; অথচ আপনি তার জানাজা পড়বেন?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উত্তর দিলেন, "এ নারী এমন তাওবা করেছে, যদি সে তাওবা মদিনার সত্তরজন লোকের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হয়, তবে তাদের জন্য যথেষ্ট হবে। তুমি কি এর চেয়ে উত্তম তাওবা দেখেছ, যে তাওবায় সে তার প্রাণ পর্যন্ত দিয়ে দিয়েছে?"৪১০
হাদিস থেকে বোঝা যায়:
* মানুষের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে ট্যাক্স আদায় করা নিকৃষ্ট গুনাহ ও মারাত্মক ধ্বংসাত্মক পাপ। কারণ, এতে মানুষের কাছ থেকে অনেক পরিমাণে ট্যাক্স নেওয়া হয়, তাদের ওপর জুলুম করা হয়। আর এ জুলুম চলতেই থাকে এবং মানুষের অধিকার লঙ্ঘিত হয়। তাদের সম্পদ অন্যায়ভাবে দখল করা হয় এবং খরচ করা হয় অপাত্রে।
* সাধারণ মানুষের মতো ইমাম ও নামিদামি মানুষজনও রজমের শাস্তিতে মৃত ব্যক্তির জানাজা পড়বে।
* তাওবা কবিরা গুনাহকে মিটিয়ে দেয়। ৪১১
ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে, যদি তাওবাই হদযোগ্য গুনাহের ক্ষেত্রে যথেষ্ট হতো, তাহলে কেন মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও গামিদি মহিলা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বারবার শাস্তির আবেদন করলেন এবং নিজেদের জন্য রজম বেছে নিলেন?
উত্তর হলো, হদ প্রয়োগের মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়া সুনিশ্চিত। তদুপরি তা যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশে হয়, তাহলে তো কোনো কথাই নেই। কিন্তু তাওবার ব্যাপারে এ আশঙ্কা থেকে যায় যে, তা খাঁটি নাও হতে পারে অথবা তার কোনো একটি শর্ত অপূর্ণ থেকে যেতে পারে। ফলে গুনাহ অবশিষ্ট থেকে যেত। তাই তারা দুজন এমন সুনিশ্চিতভাবে গুনাহ থেকে মুক্ত হতে চেয়েছেন, যার পরে গুনাহ থেকে যাওয়ার কোনো অবকাশই বাকি না থাকে। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। '৪১২
একটি প্রশ্ন ও তার জবাব
প্রশ্ন: এ বর্ণনায় এসেছে, মহিলাটি বাচ্চা প্রসবের পর দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত তাকে রজম করা হয়নি। কিন্তু এর আগের বর্ণনায় এসেছে, বাচ্চা প্রসবের পর এক আনসারি সাহাবি সে বাচ্চা পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করলে সে মহিলাকে তখনই রজম করা হয়। এ দুটি বর্ণনা পরস্পর বিরোধী।
জবাব: ইমাম নববি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ দুটি রিওয়ায়াত বাহ্যিকভাবে বিপরীত মনে হচ্ছে। কারণ, দ্বিতীয় বর্ণনায় এসেছে, দুধ ছাড়ানোর পর শিশুটিকে রুটি হাতে নিয়ে আসার পর মহিলাকে রজম করা হয়। অন্যদিকে প্রথম বর্ণনায় এসেছে, বাচ্চা প্রসবের পরপরই মহিলাকে রজম করা হয়। তাই এখানে প্রথম বর্ণনাটিকে দ্বিতীয় বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যশীল করতে হবে। কারণ, ঘটনা একটিই। আর উভয় বর্ণনাই সহিহ। দুটি বর্ণনার মাঝে দ্বিতীয়টি স্পষ্ট। এতে ভিন্ন ব্যাখ্যার কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে প্রথম বর্ণনাটি এটার মতো স্পষ্ট নয়। তাই ব্যাখ্যার জন্য সেটাকেই বেছে নেওয়া হলো।
প্রথম বর্ণনায় এসেছে যে, আনসারদের এক লোক দাঁড়িয়ে বললেন, "আমি তার দুধপান করানোর দায়িত্ব নিচ্ছি।" এ কথাটি সে আনসারি সাহাবি মূলত তার দুধ ছাড়ানোর পরে বলেছেন। আনসারি সাহাবি রূপক অর্থে দুধপান শব্দটি ব্যবহার করেছেন। رَضَاعَة )দুধপান) শব্দ দ্বারা মূলত তার উদ্দেশ্য ছিল, كَفَالَة 3 تَرْبِيّة তথা প্রতিপালন ও তত্ত্বাবধান। '৪১৩
টিকাঃ
৪০৯. সহিহু মুসলিম: ১৬৯৫।
৪১০. সহিহু মুসলিম: ১৬৯৬।
৪১১. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১১/১৯৯।
৪১২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১১/১৯৯।
৪১৩. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১১/২০২।
📄 শাস্তিযোগ্য মদ্যাপকে গালি দিতে নিষেধ করতেন
আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'এক মদ্যপকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে আসা হলো। তিনি প্রহার করার নির্দেশ দিলেন। আমাদের কেউ তাকে হাত দিয়ে মারতে শুরু করল, তো কেউ পায়ের জুতো দিয়ে তাকে পেটাল। কেউ আবার কাপড় দিয়ে তাকে মারতে লাগল। সে যখন চলে যেতে লাগল, তখন এক লোক বলল, "আল্লাহ তোমাকে অপদস্থ করুক।"
তা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে শয়তানের সহযোগী হয়ো না। "৪১৪
অন্য বর্ণনায় এসেছে, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বললেন, "বরং তোমরা বলো, হে আল্লাহ, তাকে ক্ষমা করে দিন। তার ওপর দয়া করুন। "৪১৫
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'শয়তানের সাহায্য হওয়ার কারণ হচ্ছে, শয়তান চায় গুনাহকে তার সামনে চাকচিক্যময় করে তুলে ধরতে। যাতে সে আবারও লাঞ্ছিত হয়। তাই যদি কেউ অপরাধীর জন্য লাঞ্ছনার বদদোয়া করে, তাহলে যেন সে শয়তানের উদ্দেশ্য পূরণ করে দিয়েছে।
এ হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে, লানত দিয়ে কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে বদদোয়া করা নিষেধ। '৪১৬
আবু কালাবা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণিত একটি আসার এই হাদিসটির কাছাকাছি। সেটা হলো, 'আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) এক লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। লোকটি গুনাহ করার কারণে মানুষ তাকে গালি দিচ্ছিল। তিনি লোকগুলোর উদ্দেশে বললেন, "যদি তোমরা তাকে কুয়োর ভেতরে বিপদাপন্ন দেখতে, তাহলে কি সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করতে না?"
তারা বলল, "অবশ্যই করতাম।"
আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "তাহলে তোমাদের ভাইকে গালি দিয়ো না; বরং তোমরা যে পাপ থেকে বিরত আছ, সে জন্য আল্লাহর প্রশংসা করো।"
তারা জানতে চাইল, "আমরা কি তাকে ঘৃণা করব না?"
আবু দারদা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "বরং আমি তার কর্মকে ঘৃণা করব। যদি সে পাপকর্ম থেকে বিরত থাকে, তবে সে আমার ভাই। "৪১৭
টিকাঃ
৪১৪. সহিহুল বুখারি: ৬৭৮১।
৪১৫. সুনানু আবি দাউদ: ৪৪৭৮।
৪১৬. ফাতহুল বারি: ১২/৬৭। পরিমার্জিত।
৪১৭. আবু দাউদ কৃত আজ-জুহদ: ২৩২, মুসান্নাফু আব্দির রাজ্জাক: ২০২৬৭, হিলইয়াতুল আওলিয়া: ১/২২৫।
📄 নির্দিষ্ট কোনো গুনাহগারের ওপর বদদোয়া করতে নিষেধ করতেন
উমর বিন খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় এক ব্যক্তির নাম ছিল আব্দুল্লাহ। তার উপাধি ছিল হিমার (গাধা)। লোকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাসাত। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগেও তাকে মদপানের কারণে বেত্রাঘাতের শাস্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু আরেক দিন সে মদপান করে আসলো এবং এবারও তাকে বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হলো। তখন এক ব্যক্তি বদদোয়া করে বলল, "হে আল্লাহ, তাকে আপনার দয়া থেকে বঞ্চিত করুন। তার ওপর লানত পড়ুক! কতবারই-না সে এ পাপ করছে!"
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমরা তাকে অভিশাপ দিয়ো না। আল্লাহর কসম, আমি জানি, সে আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসে।"৪১৮
হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:
* পাপী ব্যক্তির অন্তরে পাপ এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসা একত্রে থাকাটা অসম্ভব কিছু নয়। কারণ, এ লোকটি থেকে মদপানের মতো একটি পাপ প্রকাশিত হলেও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন যে, তার অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ভালোবাসা আছে।
* যদি কোনো পাপী ও গুনাহগারের অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভালোবাসা অনবরত বিদ্যমান থাকে, তবে সে যখন লজ্জিত হবে বা তার ওপর হদ প্রয়োগ করা হবে, তখন উক্ত গুনাহ মুছে যাবে। অন্যদিকে কারও অন্তর যদি পাপ করার কারণে লজ্জিত না হয়, তবে আশঙ্কা আছে যে, বারবার গুনাহ করার কারণে তার অন্তর থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভালোবাসা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। আল্লাহর কাছে আমরা ক্ষমা ও নিষ্কলুষতা প্রার্থনা করছি। ৪১৯
শাইখুল ইসলাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কারও ওপর নির্দিষ্ট করে লানত করতে নিষেধ করেছেন। যেমন এ লোকটি মদপানের কারণে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েও আবার একই পাপ করেছে। তার অধিক মদপানের কারণে কেউ একজন তাকে লানত করলে, তিনি লানত করতে নিষেধ করলেন। কারণ হিসেবে বলেন, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসে। যদিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাপকভাবে মদখোরদের ওপর লানত করেছেন।
এ থেকে বোঝা যায়, ব্যাপকভাবে লানত করা জায়িজ আছে। কিন্তু যদি কেউ আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসে, তবে তাকে নির্দিষ্ট করে লানত করা জায়িজ নেই। আর প্রতিটি মুমিনই তো আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ভালোবাসে। তাই কোনো মুমিনকেই নির্দিষ্ট করে লানত করা জায়িজ নেই। '৪২০
প্রশ্ন হতে পারে, এ হাদিস ও আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের মাঝে সমন্বয় হয় কীভাবে? আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদ-সংশ্লিষ্ট দশ শ্রেণির লোককে লানত করেছেন-যথা: মদ তৈরিকারী, মদের ফরমায়েশকারী, মদ পানকারী, মদ বহনকারী, যার জন্য মদ বহন করা হয়, মদ পরিবেশনকারী, মদ বিক্রয়কারী, মদের মূল্য ভোগকারী, মদ ক্রেতা, যার জন্য মদ ক্রয় করা হয়। '৪২১
উত্তর হচ্ছে, এখানে উল্লিখিত হাদিসটিতে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লানত করা হয়েছে, যা জায়িজ নেই। আর আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিসটিতে ব্যাপকভাবে মদের কারবারিতে যুক্ত বিভিন্ন শ্রেণিকে লানত করা হয়েছে। এটা জায়িজ। আদতে দুই হাদিসের মাঝে কোনো বৈপরীত্য নেই।
টিকাঃ
৪১৮. সহিহুল বুখারি: ৬৭৮০।
৪১৯. ফাতহুল বারি: ১২/৭৮।
৪২০. মানহাজুস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যা: ৪/৫৬৯-৫৭০।
৪২১. সুনানুত তিরমিজি: ১২৯৫, সুনানু ইবনি মাজাহ : ৩৩৮১।
📄 নেকটপ্রাপ্ত কেউ গুনাহ করলে কঠিন ভর্ৎসনা করতেন
মারুর বিন সুয়াইদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'রাবজায় আবু জার (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর সাথে আমার দেখা হলো। তখন তিনি এক সেট কাপড় (লুঙ্গি ও চাদর) পরিহিত ছিলেন এবং তার গোলামের শরীরেও একই মানের পোশাক ছিল। আমি এ ব্যাপারে তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, "একবার আমি এক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিলাম এবং আমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছিলাম। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন:
يَا أَبَا ذَرٍّ أَعَيَّرْتَهُ بِأُمِّهِ ۚ إِنَّكَ امْرُؤٌ فِيكَ جَاهِلِيَّةٌ، إِخْوَانُكُمْ خَوَلُكُمْ، جَعَلَهُمُ اللهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ، فَمَنْ كَانَ أَخُوهُ تَحْتَ يَدِهِ، فَلْيُطْعِمْهُ مِمَّا يَأْكُلُ، وَلْيُلْبِسْهُ مِمَّا يَلْبَسُ، وَلَا تُكَلِّفُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ، فَإِنْ كَلَّفْتُمُوهُمْ فَأَعِينُوهُمْ
'আবু জার, তুমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছ? তুমি তো এমন ব্যক্তি, যার মধ্যে এখনো জাহিলি যুগের স্বভাব রয়ে গেছে। জেনে রাখো, তোমাদের দাস-দাসী তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন। তাই যার ভাই তার অধীনে থাকবে, সে যেন নিজে যা খায়, তাকে তা-ই খাওয়ায় এবং নিজে যা পরে, তাকে তা-ই পরায়। তাদের ওপর এমন কাজ চাপিয়ে দিয়ো না, যা তাদের জন্য খুব কষ্টকর। যদি এমন কষ্টকর কাজ করতে দাও, তাহলে তোমরাও তাদের সে কাজে সাহায্য করবে। '৪২২
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এমন কর্মের পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সে জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু জার (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ভর্ৎসনা করলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আবু জার (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর বিশেষ মর্যাদা ছিল। তাই আবু জার (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নিকট যদিও লোকটার সাথে কটু আচরণ করার কারণ ছিল, ফলে আবু জার (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে এ ক্ষেত্রে ওজরগ্রস্ত ধরা যেত, কিন্তু তার মতো শীর্ষস্থানীয় সাহাবির নিকট থেকে এমন আচরণ প্রকাশ পাওয়াও গুরুতর। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ভর্ৎসনা করলেন। '৪২৩
টিকাঃ
৪২২. সহিহুল বুখারি: ৩০, সহিহু মুসলিম ১৬৬১।
৪২৩. ফাতহুল বারি: ১/৮৫।