📄 গুনাহগারদের সামনে নম্রতার সাথে গুনাহের কার্যতা স্পষ্ট করতেন
আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'এক যুবক রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, "হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে জিনা করার অনুমতি দিন।" যুবকের এমন কথা শুনে উপস্থিত সবাই হতভম্ব হয়ে তার দিকে তাকালেন। তাকে ধমকালেন। "থামো থামো" বলতে লাগলেন।'
কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাকে আমার কাছে নিয়ে আসো।” যুবকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটবর্তী হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে বসল।'
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, "কেউ তোমার মায়ের সাথে এমনটা করুক তুমি কি তা চাইবে?"
না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন।
এভাবে অন্য মানুষেরাও তাদের মায়ের জন্য এমনটা পছন্দ করবে না। তুমি কি নিজের মেয়ের ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে?
আল্লাহর কসম, না, হে আল্লাহর রাসুল। আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন।
মানুষও নিজেদের কন্যার ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে না। তুমি কি নিজের বোনের ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে?
- না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনার জন্য আমাকে উৎসর্গ করুন।
মানুষও নিজেদের বোনের ব্যাপার এমনটা পছন্দ করবে না। তুমি কি নিজের ফুফুর ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে?
- না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন।
তোমার মতো অন্য মানুষও তাদের ফুফুদের ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে না। তুমি কি নিজের খালার ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে?
না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করুন।
মানুষও তাদের খালার ব্যাপারে এমনটা পছন্দ করবে না।
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবকটির গায়ে হাত রেখে দোয়া করলেন:
اللهُمَّ اغْفِرْ ذَنْبَهُ, وَطَهَّرْ قَلْبَهُ, وَحَصِّنْ فَرْجَهُ
"হে আল্লাহ, আপনি তার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। তার অন্তর পবিত্র করে দিন। তার লজ্জাস্থানের হিফাজত করুন।"
এরপর থেকে সে যুবক এ সংক্রান্ত কোনো কিছুর দিকে কখনো ফিরেও তাকায়নি।'৩৮৩
লক্ষ করুন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরম আদরের যুবক সাহাবিকে কাছে টেনে নিলেন। তাকে বোঝালেন, তোমার যেমন মাহরাম আছে, অন্য মহিলারাও কারও না কারও মাহরাম। যার সাথে তুমি জিনা করবে, সেও তো কারও না কারও মা, বোন বা ফুফু। যদি তুমি না চাও যে, তোমার আত্মীয়াদের সাথে এমন আচরণ কেউ করুক, তাহলে অন্যদের আত্মীয়াদের সাথে কেউ এমন আচরণ করুক-তাও তুমি চাইবে না নিশ্চয়।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রমাণ দিলেন যে, মানুষ আদতে জিনা পছন্দ করে না। জিনাকে কেবল কদর্যতাই মনে করে না; বরং নিকৃষ্ট পঙ্কিলতা মনে করে। তারা নিজেদের মা, বোন, মেয়েদের ক্ষেত্রে এ অন্যায় কখনো সহ্য করে না। তাই তুমি মানুষের সাথে তেমনই আচরণ করো, যেমন আচরণ তাদের থেকে পাওয়ার আশা করো তুমি।
পরকালে পাপীদের জন্য রয়েছে আল্লাহর কঠিন আজাব। আল্লাহর আজাবের ভয়ের সাথে যখন পাপ না করার মানসিক প্রত্যয় যুক্ত হয়, তখন তা গুনাহ প্রতিরোধে অধিক শক্তিশালী ও মজবুত হয়।
এ হাদিসে আমরা দেখেছি, যুবকটি তার হারাম ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ থেকে নিজেকে বিরত রেখেছে এবং মনের পরিতুষ্টির সাথে ব্যভিচারের প্রতি ঘৃণা পোষণ করেছে। যদি প্রতিটি যুবকই তার মতো হয়ে যায়, তবে কেউই আর জিনা করবে না কখনো। কারণ, জিনা নিকৃষ্ট কর্ম ও মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি ঘৃণ্য। ৩৮৪
যুবক সাহাবি যদিও তখনো পাপ করেনি, কিন্তু পাপের ইচ্ছা রেখেছিলেন। এমনকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনেই সে কথা প্রকাশ করে বসলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে কোমল আচরণ করেছেন। আর কেনই-বা তিনি কোমল আচরণ করবেন না! তিনি তো কোমল আচরণ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছেন। মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللهِ لِنتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَا نَفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاسْتَغْفِرْ لَهُمْ
'আল্লাহর পরম অনুগ্রহেই আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছেন। আপনি যদি রূঢ় মেজাজ ও কঠিন-হৃদয়ের হতেন, তবে অবশ্যই. তারা আপনার নিকট হতে সরে যেত। সুতরাং তাদের দোষ ক্ষমা করুন। আল্লাহর কাছে তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। '৩৮৫
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে নারী-পুরুষ, ছোট-বড়, নিষ্কলুষ ও পাপী নির্বিশেষে সকল মানুষের প্রতি কোমল হৃদয়ে কোমল আচরণ করেছেন-এ আয়াত তারাই সাক্ষ্য বহন করে। আর সাক্ষ্য দিচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা।
ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন:
)وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ( অর্থাৎ আপনি যদি রূঢ় মেজাজ ও কঠিন-হৃদয়ের হতেন, তবে তারা আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেত। আপনাকে ছেড়ে চলে যেত। কিন্তু আল্লাহ তাদের একত্র করেছেন আপনার পাশে। এখন আপনার কর্তব্য হচ্ছে, তাদের অন্তর আকৃষ্ট করার জন্য তাদের সাথে কোমল আচরণ করা।
আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, "তিনি পূর্ববর্তী কিতাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর গুণাবলি দেখেছেন। সেখানে বলা হয়েছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেমন হবেন। সেখানে আছে, তিনি কঠোর হবেন না। কঠিন ভাষায় কথা বলবেন না। বাজারে ঘোরাফেরা করবেন না। মন্দ আচরণের পরিবর্তে মন্দকে উত্তম আচরণের মাধ্যমে পরিবর্তন করবেন। তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু হবেন।"৩৮৬-৩৮৭
টিকাঃ
৩৮৩. মুসনাদু আহমাদ: ২১৭০৮।
৩৮৪. শারহুল আরাবায়িন আন-নাবাবিয়্যা: ৩৬/১১।
৩৮৫. সুরা আলি ইমরান, ৩: ১৫৯।
৩৮৬. সহিহুল বুখারি: ৪৮৩৮।
৩৮৭. তাফসিরু ইবনি কাসির: ২/১৪৮।
📄 পাপমোচন ও তাওবা কবুলের জন্য নেক আমলের নির্দেশনা দিতেন
আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'এক লোক নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, "হে আল্লাহর রাসুল, আমি মদিনার এক প্রান্তে এক মহিলার সাথে মন্দ আচরণ করেছি। আমি তাকে কেবল ছুঁয়েছি। এই তো আমি আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। আপনি যা ইচ্ছে শাস্তি দিন আমায়। আমি মাথা পেতে নেব।"
তখন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, "আহ! আল্লাহ তোমার গুনাহ গোপন রেখেছেন, যদি তুমিও তা গোপন রাখতে!"
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে লোকটিকে কিছু বললেন না। কিছুক্ষণ পর লোকটি উঠে চলে গেল। এর কিছু সময় পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন সাহাবিকে পাঠালেন তাকে ডেকে আনতে এবং তাকে এ আয়াত পড়ে শোনাতে
وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ ، إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
"তুমি সালাত প্রতিষ্ঠা করো দিনের দুই প্রান্ত সময়ে, আর কিছুটা রাত অতিবাহিত হওয়ার পর। পুণ্যরাজি অবশ্যই পাপরাশিকে দূর করে দেয়। এটা তাদের জন্য উপদেশ, যারা উপদেশ গ্রহণ করে। "৩৮৮
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার পর সাহাবিদের একজন উঠে বললেন, "আল্লাহর নবি, এ সুযোগ কি কেবল তার জন্যই?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "না; বরং সকল মানুষের জন্যই।"৩৮৯
সহিহ বুখারির বর্ণনায় এসেছে: 'না; বরং আমার উম্মতের সকলের জন্য।'
)إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ( অর্থাৎ এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ও তৎসংশ্লিষ্ট নফলগুলো হলো শ্রেষ্ঠ পুণ্যকর্মের একটি। পুণ্যকর্ম যেমন আল্লাহর নিকটবর্তী করে, পুণ্যকর্মে যেমন সাওয়াব থাকে, তেমনিভাবে পুণ্যকর্মের মাধ্যমে গুনাহও মুছে যায়।
السَّيِّئَاتِ বলে উদ্দেশ্য সগিরা গুনাহগুলো। সহিহ হাদিসসমূহে আমরা এমনই পাই। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'কেউ যদি কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে, তবে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমআ থেকে অপর জুমআ, এক রমাজান থেকে অপর রমাজান এতদুভয়ের মধ্যকার সগিরা গুনাহগুলোর কাফফারা হবে। '৩৯০
কুরআন মাজিদেও এ রকমই বলে আমাদের। সুরা নিসায় এসেছে:
إِن تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُم مُّدْخَلًا كَرِيمًا
'যদি তোমরা বড় বড় গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো, তাহলে আমি তোমাদের ছোট ছোট পাপগুলো ক্ষমা করে দেবো এবং তোমাদের এক মহামর্যাদার স্থানে প্রবেশ করাব।'৩৯১-৩৯২
মুরজিয়ারা )إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ( আয়াতকে জাহির (বাহ্যিক) অর্থে প্রয়োগ করে। তাদের মতে, গুনাহ যত বড়ই হোক না কেন, তা পুণ্যকর্মের মাধ্যমে মাফ হয়ে যায়। ভাবখানা এমন, 'যে যত বড় কবিরা গুনাহই করুক না কেন, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত পড়লেই হলো, তার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। তাওবা করার দরকার কেন পড়বে!' অন্যদিকে জুমহুর আলিমগণ হাদিসে বর্ণিত সংযুক্তি বিবেচনায় রেখে এ আয়াতের অর্থ করেছেন।
এ হাদিস থেকে আলিমগণ দলিল গ্রহণ করেছেন যে, অপাত্রে চুম্বন বা স্পর্শের মতো গুনাহের কারণে হদ ওয়াজিব হয় না এবং কেউ এমন অপরাধ করে লজ্জিত হয়ে তাওবা করলে তার ওপর তাজিরও প্রয়োগ হবে না। ৩৯৩
টিকাঃ
৩৮৮. সুরা হুদ, ১১: ১১৪।
৩৮৯. সহিহুল বুখারি: ৫২৬, সহিহু মুসলিম: ২৭৬৪।
৩৯০. সহিহু মুসলিম: ২৩৩।
৩৯১. সুরা আন-নিসা, ৪: ৩১।
৩৯২. তাফসিরুস সাদি: ১/৩৯১।
৩৯৩. ফাতহুল বারি: ৮/৩৫৭।
📄 হদ প্রয়োগের পূর্বে গুনাহ গোপন করার পরামর্শ দিতেন
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হদ প্রয়োগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করতেন। গুনাহগারকে নিজের গুনাহ গোপন করার জন্য আদেশ দিতেন। তাওবা করে নিজের ও রবের মাঝেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করার আদেশ দিতেন।
পাপ করেছেন এমন কয়েকজন সাহাবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তাদের ওপর হদ প্রয়োগের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পরিশেষে তাদের পীড়াপীড়ির কারণে তিনি হদ কায়িম করেন তাদের ওপর।
বুরাইদা বিন হাসিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'মায়িজ বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে পবিত্র করুন।"
কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "ধ্বংস হোক তোমার! চলে যাও এখান থেকে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং তাওবা করো।"
মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) চলে গেলেন ঠিক, কিন্তু একটু পর আবার ফিরে আসলেন। আগের মতো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে পবিত্র করুন।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "ধ্বংস হোক তোমার! চলে যাও এখান থেকে। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও এবং তাওবা করো।"
এবারও মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) চলে গেলেন। কিন্তু একটু পর আবারও ফিরে এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে পবিত্র করুন।"
নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবারও আগের মতোই উত্তর দিলেন। তিনিও চলে গেলেন। কিন্তু আবার ফিরে আসলেন এবং আগের মতো বললেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, "কোন অপরাধ থেকে তোমাকে পবিত্র করব?" এবার মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) উত্তর দিলেন, "জিনার অপরাধ থেকে।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তার গোত্রকে জিজ্ঞেস করলেন, "এ পাগল নাকি?"
তারা সাক্ষ্য দিল, "না, তার মাথায় কোনো সমস্যা নেই।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “সে কি মদ খেয়েছে?"
এক লোক উঠে গিয়ে তার মুখের গন্ধ পরীক্ষা করলেন। কিন্তু মদের কোনো ঘ্রাণ পেলেন না।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার জিজ্ঞেস করলেন, "সত্যিই কি তুমি এ অপরাধ করেছ?"
- জি।
হয়তো তুমি চুমু দিয়েছ, একটু ছুঁয়েছ বা একটু দৃষ্টি ফেলেছ। এর বেশি কিছু করোনি।
না, হে আল্লাহর রাসুল।
তুমি কি মিলিত হয়েছ?
হাঁ।
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে রজম (প্রস্তরাঘাতে হত্যা) করার আদেশ দিলেন।'
বর্ণনাকারী বলেন, 'এরপর আমরা তাকে নিয়ে বাকি আল-গারকাদে এলাম।
আমরা তাকে বাঁধিওনি, তার জন্য গর্তও খুঁড়িনি। বাকি প্রান্তরে এসে তার ওপর হাড়, মাটির ঢেলা ও কঙ্কর মারতে থাকলাম। ৩৯৪ কিন্তু হঠাৎ করে তিনি দৌড়াতে থাকেন, আমরাও তার পিছু পিছু যেতে থাকি। এরপর সে প্রস্তরময় একটি জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। আমরা তখন বড় বড় পাথর নিক্ষেপ করি। একসময় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।'
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ফিরে এসে তাঁকে পুরো ঘটনা বলা হলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলা হলো, তিনি পাথরের আঘাত পেয়ে দৌড় দিয়েছিলেন, কিন্তু পাথরে পাথরে শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না তখন! তার তাওবার কারণে হয়তো আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিতেন।'
তখন মানুষজন দুটি দলে ভাগ হয়ে যায়। একদল বলল, 'সে মারা গেছে। তার পাপই তাকে মৃত্যু পর্যন্ত টেনে নিয়েছে।' আরেকদল বলল, 'মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর তাওবার চেয়ে উত্তম তাওবা আর হতেই পারে না। অপরাধ করলেও সে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসেছে। তাঁর হাতে হাত রেখে বলেছে, আমাকে পাথর মেরে হত্যা করুন। এটা তো উত্তম তাওবারই নিদর্শন।' মানুষেরা দুই-তিন দিন এভাবেই বিতর্ক করতে থাকল।
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন। লোকেরা তখন সেখানে বসেই ছিল। তিনি এসে সালাম দিয়ে বসলেন। বললেন, "তোমরা মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো।” সকলে তখন বলে উঠল, "আল্লাহ মায়িজকে ক্ষমা করে দিন।"
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "মায়িজ এমন এক তাওবা করেছে, যদি তার তাওবা পুরো উম্মতের মাঝে বণ্টন করে দেওয়া হতো, তবে তাদের জন্য তা যথেষ্ট হতো।"
বর্ণনাকারী বলেন, 'এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আজদ গোত্রের গামিদ পরিবারভুক্ত এক মহিলা এসে বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল, আমাকে পবিত্র করুন।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “ধ্বংস হও তুমি! চলে যাও। ইসতিগফার করো, তাওবা করো।"
মহিলাটি বললেন, "আপনি কি আমাকে সেভাবে ফিরিয়ে দিতে চান, যেভাবে মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার জানতে চাইলেন, "কে তুমি?"
মহিলটি বললেন, "জিনার অপরাধে গর্ভবতী।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমিই কি সে?"
মহিলটি বললেন, "জি।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "বাচ্চা প্রসবের পর এসো।"
তখন এক আনসারি বাচ্চা প্রসব পর্যন্ত তার প্রতিপালনের দায়িত্ব নিলেন। একদিন সে আনসারি সাহাবি এসে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালেন, “গামিদি মহিলাটি বাচ্চা প্রসব করেছে।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এখনো রজমের সময় হয়নি। তার বাচ্চাকে দুধপান করাতে হবে তাকে।"
এক আনসারি দাঁড়িয়ে বললেন, "আমি বাচ্চার দুধপানের ব্যবস্থা করব, হে আল্লাহর নবি।"
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে এবার তাকে রজম করো।"৩৯৫
হাদিস থেকে বোঝা যায়:
* এ হাদিসটি মায়িজ বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর একটি মহৎ কাজের প্রমাণ। কারণ, তাওবা করার পরও তিনি নিজের ওপর হদ প্রয়োগের জন্য মিনতি করে যাচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য একটিই-পাপ থেকে পবিত্র হওয়া। মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করতে চায় না। বিশেষ করে যদি সে ভুল স্বীকার করার ফল হয় তার প্রাণনাশ। কিন্তু প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বারবার তাকে পবিত্র করার অনুরোধ করে গেলেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে। নিজের নফসের বিরুদ্ধে অবিরাম সাধনা করে ও নফসকে দমন করেই তিনি এ মহৎ কাজটি করতে পেরেছেন। গুনাহ থেকে মুক্ত হওয়া ও তাওবার পথ হিসেবে নিজের ওপর হদ প্রয়োগ করে হত্যা করার কথা বলে গুনাহের সাক্ষ্য দিতে তিনি এতটুকুও ইতস্তত বোধ করেননি।
* তাওবা করলে কবিরা গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে এ হাদিসটি দলিল।
* কেউ গুনাহ করলে শরিয়তের দৃষ্টিতে প্রশংসনীয় হচ্ছে কাউকে সে গুনাহের ব্যাপারে না জানিয়ে দ্রুত তাওবা করা। যে গুনাহ আল্লাহ গোপন রেখেছেন, সে গুনাহ প্রকাশ না করা। যদি কোনো গুনাহগার কাউকে জানিয়েই ফেলে, তবে সে ক্ষেত্রে করণীয় হচ্ছে, তাকে তাওবা করার আদেশ করা ও অন্য মানুষদের থেকে সে গুনাহের কথা গোপন রাখা।
* কেউ যদি কারও গুনাহ সম্পর্কে জেনে ফেলে, তবে সে যে জেনে ফেলেছে-গুনাহকারীকে সেটা বুঝতে দেবে না, তাকে ভর্ৎসনাও করবে না, কাজি বা আমিরের কাছেও বলবে না; বরং গোপন রাখবে।
* ইবনে আরাবি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'এ কথাটা গোপন গুনাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু কেউ যদি প্রকাশ্যে অশ্লীলতা করে বসে, তবে আমি তার কথা উচিত জায়গায় বলে দেওয়া ভালো মনে করি। তাকে অশ্লীলতা করার জন্য শাস্তি পাইয়ে দেওয়া উচিত মনে করি। যেন ভবিষ্যতে সবাই তা থেকে বিরত থাকে।'
* মুমিনের প্রাণদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। বরং মুমিনের জীবন বাঁচানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। আমরা দেখেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারবার মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ফিরিয়ে দিয়েছেন। ফিরে যাওয়ার জন্য তাকে ইশারা করেছেন। ইঙ্গিতে তাকে বলেছেন যে, তার তাওবা কবুল করা হয়েছে। ইঙ্গিত হিসেবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হয়তো মায়িজ জিনার অর্থ ভুল বুঝেছেন অথবা তিনি নারীকে স্পর্শ করেছেন কেবল।
* কেউ অশ্লীল কোনো গুনাহ করে ফেললে সে গুনাহর কথা আমিরের কাছে বলা শরিয়তসম্মত। গুনাহের প্রকাশ মসজিদে করতে অসুবিধে নেই। বিষয় স্পষ্ট করার জন্য লজ্জার কারণে সাধারণত অনুচ্চারিত শব্দ বলা যাবে।
* কেউ যদি হৃদযোগ্য গুনাহের কথাও বলে, তবুও আমির তাকে উপেক্ষা করবে। কেননা, হতে পারে যে, হদ সাব্যস্ত না হওয়ার কোনো কারণ হয়তো বাকি থেকে গেছে বা নিজের ওপর হদ প্রয়োগ করতে বলা ব্যক্তিটি ফিরে যাবে এবং সে হদ প্রয়োগ না করার কারণ সম্বন্ধে জেনে নেবে।
* পাগলের স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
* মদ্যপের স্বীকারোক্তিও অগ্রহণযোগ্য।
* গুনাহ স্বীকারকারীকে প্রথমে ফিরে যেতে বলবে। পরে সে যদি আবার ফিরে আসে, তবে তার গুনাহের স্বীকৃতি গ্রহণ করা হবে।
* অপরাধীর ওপর হদ প্রয়োগের জন্য আমির অন্যদের হাতে অপরাধীকে তুলে দিতে পারবেন।
* হৃদযোগ্য গুনাহের স্বীকৃতি দানকারী ব্যক্তিকে এমন কথা বলতে উৎসাহিত করা যাবে, যার কারণে তার ওপর থেকে হদ রহিত হয়ে যাবে।
* স্পষ্ট স্বীকারোক্তি ব্যতীত হদ ওয়াজিব হয় না। এ জন্যই জিনার সাক্ষ্যদাতাকে এমন বাক্যে সাক্ষ্য দেওয়া শর্ত যে, আমি তাকে তার পুরুষাঙ্গ ওর যোনিতে প্রবেশ করাতে দেখেছি। জিনার সাক্ষ্যদাতার জন্য এতটুকু বলা যথেষ্ট নয় যে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, সে জিনা করেছে।
* যে ব্যক্তি জিনা করার অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছে, শাস্তি দেওয়ার সময়ের আগ পর্যন্ত তাকে জেলে বন্দী করে রাখবে না। আর জিনাকারী মহিলা যদি গর্ভবতী হয়, তাকেও জেলে রাখবে না।
* অপরাধকারীকে আসল অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞেস করা ওয়াজিব। কারণ, অবস্থার ভিন্নতার কারণে বিধান ভিন্নও হতে পারে। এ জন্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করেছিলেন, তুমি কি তার লজ্জাস্থানে মিলন করেছ?
* জিনাকারিণী যদি গর্ভাবস্থায় থাকে, তবে প্রসব পর্যন্ত তাকে রজম করা যাবে না। যদিও তার এ গর্ভ জিনা বা অন্য যেকোনো কারণেই হোক না কেন। কারণ, তাকে হত্যা করলে পেটের সন্তানকেও তার সাথে হত্যা করা হবে। এমনিভাবে যদি কোনো গর্ভবতী মহিলার রজমের শাস্তি না হয়ে বেত্রাঘাতের শাস্তি হয়, তবে আলিমদের ইজমা মতে প্রসব পর্যন্ত তাকে বেত্রাঘাত করা যাবে না।
* বিবাহিত পুরুষ বা মহিলা জিনা করলে তাদের শাস্তি হলো রজম (প্রস্তরাঘাতে হত্যা)।
* কোনো গর্ভবতীর ওপর যদি শাস্তি হিসেবে কিসাস ওয়াজিব হয়, তবে বাচ্চা প্রসবের সময় পর্যন্ত তার ওপর কিসাসের বিধান প্রয়োগ হবে না।
এর ওপর সকল আলিমের ইজমা রয়েছে। অতঃপর বাচ্চাকে দুধপান করানো পর্যন্ত এবং বাচ্চার মা ব্যতীত অন্যের দুধ খেতে সক্ষম হওয়া পর্যন্ত জিনাকারী মহিলার ওপর রজম করা যাবে না এবং কিসাসও নেওয়া যাবে না। (অবশ্য এ মাসআলায় ইখতিলাফ রয়েছে।) ৩৯৬
টিকাঃ
৩৯৪. হাদিসের এ অংশটি দিয়ে সে সকল আলিম দলিল দেন, যাদের মতে পাথর, মাটির ঢেলা, হাড়, কঙ্কর, কাঠ প্রভৃতি প্রাণ হন্তারক উপদানের মাধ্যমে রজমের শাস্তি দেওয়া যায়।
৩৯৫. সহিহু মুসলিম: ১৬৯৫।
৩৯৬. দেখুন, ফাতহুল বারি: ১২/১২৬, ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১১/২০১।
📄 গোপন রাখার নিমিত্তে গুনাহর স্বরূপ জানতে চাইতেন না
আবু উমামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে বসা ছিলেন। আমরাও তাঁর পাশে বসা ছিলাম। ইত্যবসরে এক লোক এসে বলল, “হে আল্লাহর রাসুল, আমি হদযোগ্য; আমার ওপর হদ প্রয়োগ করুন।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ করে থাকলেন। তাকে কিছু জিজ্ঞেস করলেন না। কিন্তু লোকটি আবারও বলল, "হে আল্লাহর রাসুল, আমি হদযোগ্য; আমার ওপর হদ প্রয়োগ করুন।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবারও চুপ করে থাকলেন।
সালাতের জামাআত দাঁড়াল। সালাত শেষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরের দিকে চলে যাচ্ছিলেন। সে লোকটিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছন পেছন গেল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কী উত্তর দেন, তা জানার জন্য আমিও তখন তাঁদের অনুসরণ করলাম।
লোকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটবর্তী হলো। তাঁকে আগের মতোই বলল, “হে আল্লাহর রাসুল, আমি হৃদযোগ্য; আমার ওপর হদ প্রয়োগ করুন।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার উত্তর দিলেন, "তুমি কি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ভালোভাবে অজু করোনি?"
লোকটি বলল, "জি, ভালোভাবে অজু করেছি।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এরপর আমাদের সাথে সালাত আদায় করোনি?"
লোকটি উত্তর দিল, "জি করেছি, ইয়া রাসুলাল্লাহ।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার বললেন, "তাহলে আল্লাহ তোমার গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। অথবা বলেছেন, তোমার হদ ক্ষমা করে দিয়েছেন।"৩৯৭
বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) এই হাদিসের অধ্যায়ের নাম দিয়েছেন, 'অধ্যায়: কেউ হদযোগ্য অপরাধ করেছে বলে স্বীকারোক্তি দিলেও স্পষ্ট বিবরণ না দিলে আমির কি তার সে গুনাহ গোপন রাখবে?'
ইবনে হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর অধ্যায় শিরোনাম থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, কেউ হদযোগ্য অপরাধ করার কথা স্বীকার করলেও অপরাধটি সুস্পষ্টরূপে বিবৃত না করলে এবং সে তাওবা করে নিলে ইমামের ওপর হদ প্রয়োগ করা ওয়াজিব নয়। '৩৯৮
হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়:
* ইমাম হদসংক্রান্ত বিষয়ে খুব বেশি খোলাসা করতে চাইবেন না; বরং যথাসাধ্য তা প্রতিহত করার চেষ্টা করবেন। এই হাদিসে লোকটি স্পষ্টভাবে এমন কোনো অপরাধের স্বীকারোক্তি দেননি, যা হদকে আবশ্যক করে। তাই এটা হওয়া সম্ভব যে, হয়তো তিনি কোনো ছোট অপরাধ করেছেন, আর সেটাকেই তিনি হদ আবশ্যককারী বড় অপরাধ বলে ধারণা করছেন। এ জন্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপরাধটি খোলাসা করে জানতে চাননি। কারণ, সন্দেহের ভিত্তিতে হদ প্রযোজ্য হয় না।
* রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়টিতে গুনাহ গোপন রাখাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাই তাকে কিছু জিজ্ঞেস করেননি। কারণ, তিনি দেখেছেন, লোকটি তার কাছে লজ্জিত হয়ে ও তাওবা করে নিজের ওপর হদ প্রয়োগ করতে বলছেন। তার তাওবাই তার জন্য যথেষ্ট। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষয় গোপন রাখাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
* আলিমরা বলেন, কেউ যদি নিজেকে হদযোগ্য অপরাধী বলে, তবে তার সামনে 'হদ কী ও কেন প্রযোজ্য হয়' ইত্যাদি উপস্থাপন করে বা আরও স্পষ্টভাবে জানিয়ে হদ বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া মুসতাহাব। যাতে সে লোকটা নিজেকে হৃদযোগ্য অপরাধী সাব্যস্ত করার দাবি থেকে সরে আসে। ৩৯৯
ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) হদের ক্ষেত্রে অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, অপরাধী যদি পাকড়াও হওয়ার আগেই তাওবা করে নেয়, তবে তার থেকে হদ রহিত হয়ে যাবে। ৪০০
ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'যদি কেউ বলে, মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও গামিদি মহিলা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) উভয়ই তাওবা করার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন। তাহলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন তাদের ওপর হদ প্রয়োগ করলেন?
তাদের প্রশ্নের জবাব হচ্ছে, নিঃসন্দেহে তারা দুজন তাওবা করার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসেছিলেন, আর নিঃসন্দেহে তাদের দুজনের ওপর হদ প্রয়োগ করা হয়েছে-এ দুটি কথা দিয়ে অন্য একদল লোক প্রমাণ দিয়ে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে আমি আমাদের শাইখের কাছে জানতে চাইলে তিনি যা বলেছিলেন, তার সারসংক্ষেপ হচ্ছে, হদ মানুষকে পবিত্রকারী, তাওবাও মানুষকে পবিত্রকারী। এ দুটি জিনিস মানুষের পাপ ধুয়েমুছে সাফ করে দেয়। মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও গামিদি মহিলা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) উভয়ে কেবল তাওবা করেই সন্তুষ্ট ছিলেন না; বরং তারা হদ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের পরিশুদ্ধ করতে চাইছিলেন। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ফিরে যেতে বললেও তারা ফিরে যাননি। তাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ওপর হদ প্রয়োগ করলেন।
এ ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিন্তু তাওবার মাধ্যমে পরিশুদ্ধ হওয়াকে প্রাধান্য দিয়েছেন। মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখন বাকি প্রান্তর থেকে দৌড় দিয়েছিলেন, সাহাবিগণও তখন তার পিছু পিছু ছুটে গিয়েছিলেন। এ কথাটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে বললে তিনি বললেন, "তোমরা কেন তাকে ছেড়ে দিলে না? সে তো আল্লাহর কাছে তাওবা করেছে। আল্লাহও তাকে ক্ষমা করে দিতেন। তার তাওবা কবুল করে নিতেন।" যদি তাওবার পরেও হদই একমাত্র শরিয়াহ-নির্ধারিত পথ হতো, তাহলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ছাড়তে বলতেন না।
এ ক্ষেত্রে শরয়ি নির্দেশনা হচ্ছে, হদ প্রয়োগ করা না-করার বিষয়ে আমির স্বাধীন। তিনি যেটা ভালো মনে করেন, সেটাই প্রাধান্য দেবেন। যেমন: হৃদযোগ্য অপরাধ করার স্বীকৃতিদানকারীকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যাও, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।" আবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই মায়িজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও গামিদি নারীর ক্ষেত্রে হদ প্রয়োগ করাকে বেছে নিয়েছেন। কারণ, তারা নিজেদের ওপর হদ প্রয়োগ করার ব্যাপারে অটল ছিলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বারবার ফিরিয়ে দিলেও তারা যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।'
* হদ প্রয়োগের ব্যাপারে ইমাম স্বাধীন। হদ প্রয়োগ ভালো মনে করলে তিনি প্রয়োগ করবেন, আর ভালো মনে না করলে প্রয়োগ করবেন না।
এটা দুটি মতের মধ্যবর্তী ও মধ্যমপন্থা। আলিমদের একটি মত হচ্ছে, পূর্ণাঙ্গ তাওবার পর হদ প্রয়োগ করা জায়িজ নয়। আরেকটি অভিমত হচ্ছে, পূর্ণাঙ্গ তাওবা করলেও হদ রহিত হওয়ার ক্ষেত্রে তাওবা কোনো প্রভাব ফেলে না।
কিন্তু আপনি যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর প্রতি গভীর দৃষ্টি দেন, তাহলে বুঝতে পারবেন, বিষয়টি আমিরের ইচ্ছাধীন হওয়াটাই প্রাধান্যপ্রাপ্ত। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। '৪০১
এ মতের সমর্থনে আরেকটি হাদিস রয়েছে। আলকামা বিন ওয়ায়িল (রাহিমাহুল্লাহ) নিজের পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তার পিতা বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে এক মহিলা মসজিদে সালাতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হয়। পথিমধ্যে একজন লোক তাকে ধরে কাপড় দিয়ে পেছিয়ে তার সাথে সংগম করে। মহিলাটি তখন চিৎকার করে ওঠে। ফলে লোকটি পালিয়ে যায় সেখান থেকে।'
সে সময় আরেকজন লোক সেখান দিয়ে যাচ্ছিল। মহিলাটি তাকে বলল, "ওই লোকটি আমার সাথে এমন এমন কাজ করেছে।" এ লোকটি ধর্ষণকারীর খোঁজে চলে যায় সেখান থেকে। ওদিকে মহিলাটি একদল মুহাজির সাহাবির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলে, "ওই লোকটি আমার সাথে এমন এমন করেছে।” মুহাজির সাহাবিরাও লোকটির সন্ধানে গেল। কিন্তু যে লোকটি ধর্ষকের খোঁজে প্রথম গিয়েছিল, তাকে ধরে আনলেন তারা।'
এ লোককে নিয়ে মুহাজির সাহাবিদের সে দলটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলেন। মহিলাটি তখন বললেন, "এ-ই সে লোক।” কিন্তু লোকটি বলল, "আমি সে লোক, যে তোমাকে সাহায্য করেছিল। ধর্ষক তো পালিয়ে গেছে।" সাহাবিদের সেই দলটি জানাল যে, "তারা এ লোককে দৌড়ে যেতে দেখেছে।"
লোকটি আবার বলল, "আমি তো ধর্ষককে ধরে আনার জন্য এ মহিলার সাহায্য করছিলাম। কিন্তু এরা আমাকে ধরে আনল।"
কিন্তু মহিলাটি বলল, "মিথ্যা কথা। এ লোকটিই আমাকে ধর্ষণ করেছে।"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবার লোকটির ওপর রজম করার জন্য আদেশ দিলেন। তখন আসল ধর্ষক দাঁড়িয়ে বলল, "আল্লাহর রাসুল, আমিই ধর্ষক।"
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাকে বললেন, "যাও, তোমাকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন।" আর ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির উদ্দেশে সুন্দর কথা বললেন। তখন জানতে চাওয়া হলো, "আল্লাহর নবি, আপনি কি তাকে রজম করবেন না?"
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সে এমন তাওবা করেছে, যদি সে তাওবা মদিনাবাসীর মাঝে ভাগ করে দেওয়া হয়, তবে তাদের জন্য যথেষ্ট হবে। "৪০২
একটি প্রশ্ন ও তার জবাব
এ হাদিসের ব্যাপারে একটি প্রশ্ন করা হয়, মহিলার প্রথম সাহায্যকারী তো জিনার স্বীকারোক্তি দেয়নি, আর তার ওপর আনা অভিযোগটি স্পষ্ট প্রমাণিতও ছিল না, তাহলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ওপর হদ প্রয়োগের আদেশ কীভাবে দিলেন?
জবাব হচ্ছে:
১. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরাসরি তখনো রজমের আদেশ দেননি; বরং তিনি রজমের আদেশ দেওয়ার নিকটবর্তী হয়েছিলেন। তাই বর্ণনাকারী রজমের আদেশ দিয়েছেন বলে শব্দ ব্যবহার করেছেন। আজিমাবাদি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'ঘটনা থেকেই বোঝা যাচ্ছে, বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না; বরং জটিল আকার ধারণ করেছিল। যেহেতু জিনাকারীর স্বীকার করা ব্যতীত এবং স্পষ্ট প্রমাণ ছাড়া হদের সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। আর ধৃত লোকটিও জিনার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে মহিলার কথাও স্পষ্ট প্রমাণ হওয়ার যোগ্য ছিল না। তাই অস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রজমের আদেশ দেওয়ার নিকটবর্তী ছিলেন। সে কারণেই হয়তো বর্ণনাকারী "তিনি যখন রজমের আদেশ দিলেন" শব্দে ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন। '৪০৩
২. অকাট্য নয় কিন্তু প্রকাশ্য-এমন প্রমাণ থাকায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, 'হদের এ নির্দেশটি মূলত অকাট্য নয়, কিন্তু শক্তিশালী ও প্রকাশ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছিল। প্রথম প্রমাণ হচ্ছে, লোকটি দৌড়ানো অবস্থায় সাহাবিদের কাছে ধরা পড়েন। দ্বিতীয় প্রমাণ হচ্ছে, তিনি স্বীকার করেছেন যে, তিনি মহিলাটির কাছে ছিলেন। কিন্তু নিজেকে সাহায্যকারী বলে বাঁচতে চাইছেন। তৃতীয়ত, মহিলাটি বলেছিলেন, এ-ই সে লোক। এটা স্পষ্ট প্রমাণ। আর সাহাবিগণও এমন প্রমাণের ভিত্তিতে মদ ও জিনার হদ প্রয়োগ করেছেন। সেগুলোও এ ঘটনার অনুরূপ বা কাছাকাছি। সাহাবিদের বিচারের ক্ষেত্রে প্রমাণ ছিল, জিনার ফলে মহিলার গর্ভবতী হওয়া ও মদপানের কারণে মুখ থেকে গন্ধ আসা। '৪০৪
৩. নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাজিরের হুকুম দিয়েছিলেন, রজমের নয়। বাইহাকি (রাহিমাহুল্লাহ) এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এ শব্দে যে, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাস্তির আদেশ দিলেন, তখন আসল ধর্ষক দাঁড়িয়ে যায়। বাইহাকি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ রিওয়ায়াত অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাজিরের আদেশ দিয়েছিলেন। ৪০৫
৪. হয়তো মুহাজির সাহাবিদের সে দল ভুলে সে সাহায্যকারী লোকটির বিরুদ্ধে জিনার সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ৪০৬
৫. এ হাদিসটি জইফ। জইফ হওয়ার কারণ হচ্ছে, সাম্মাক বিন হারব (রাহিমাহুল্লাহ)। নাসায়ি (রাহিমাহুল্লাহ) তার সম্পর্কে বলেন, যদি সনদের কোথাও বর্ণনাকারী হিসেবে সাম্মাক এককভাবে থাকে, তবে হাদিসটি প্রমাণযোগ্য হবে না; দলিল হবে না। কারণ, তার নামে কোনো হাদিস বর্ণনা করা হলে (বাস্তবে তা তার বর্ণিত হাদিস না হওয়া সত্ত্বেও) তিনি তা নিজের বলে স্বীকৃতি দিতেন। ৪০৭
বাইহাকি (রাহিমাহুল্লাহ)-ও এ হাদিসটি জইফ হওয়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ হাদিস বর্ণনার পর তিনি বলেন, 'মায়িজ জুহানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ও গামিদি মহিলা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) স্বীকৃতি দিলে তাদের ওপর হদ কায়িম হয়। তাদের হাদিসগুলো অনেক বর্ণনায় এসেছে, আর সেগুলো প্রসিদ্ধও। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। '৪০৮
টিকাঃ
৩৯৭. সহিহুল বুখারি: ৬৮২৩, সহিহু মুসলিম: ২৭৬৪।
৩৯৮. ফাতহুল বারি: ১২/১৩৪।
৩৯৯. ফাতহুল বারি: ১২/১৩৪।
৪০০. ইলামুল মুয়াক্কিয়িন: ৩/১৭।
৪০১. ইলামুল মুয়াক্কিয়িন: ২/৬০-৬১।
৪০২. সুনানুত তিরমিজি: ১৪৫৪, সুনানু আবি দাউদ: ৪৩৭৯, মুসনাদু আহমাদ: ২৬৬৯৮।
৪০৩. আওনুল মাবুদ: ১২/১৬৫।
৪০৪. হাশিয়াতু ইবনিল কাইয়িম মাআ আওনিল মাবুদ: ১২/১৬৫।
৪০৫. সুনানুল বাইহাকি: ৮/২৮৪।
৪০৬. সুনানুল বাইহাকি: ৮/২৮৪।
৪০৭. আল-আহাদিসুল মুখতারা: ১২/২০, তাহজিবুত তাহজিব: ৪/২৩৪।
৪০৮. সুনানুল বাইহাকি: ৮/২৮৪।