📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বেদুইনরা চড়া গলায় প্রশ্ন করলেও তিনি বরদাশত করতেন

📄 বেদুইনরা চড়া গলায় প্রশ্ন করলেও তিনি বরদাশত করতেন


ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একবার এক বেদুইন উচ্চস্বরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করল, গুইসাপের ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?'

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, 'আমি তা খাইও না, আবার হারামও বলি না। '৩৩৮

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক বেদুইন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উচ্চস্বরে ডেকে জানতে চাইল, "ইহরাম অবস্থায় কোন কোন জন্তু মারা যাবে?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "কাক, চিল, ইঁদুর, হিংস্র কুকুর, বিচ্ছু।”

(إِنَّ الَّذِينَ يُنَادُونَكَ مِن وَرَاءِ الْحُجُرَاتِ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ) -'যারা ঘরের বাইরে থেকে আপনাকে উচ্চস্বরে ডাকে, তাদের অধিকাংশই অবুঝ। '৩৩৯-এ আয়াতের ব্যাপারে বলেন, 'এ আয়াত তিলাওয়াতের পর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, "হে আল্লাহর রাসুল, আমার প্রশংসা করা সৌন্দর্য এবং আমার নিন্দা করা অপমান।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এটা কেবল আল্লাহ তাআলাই হতে পারেন।"৩৪০

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রশ্নকর্তা লোকটি নিজের প্রশংসা ও নিজের বড়ত্ব জাহির করতে চেয়েছিল। তার কথার অর্থ হচ্ছে, যদি আমি কারও প্রশংসা করি, তবে সে প্রশংসিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত। কিন্তু যদি আমি কোনো লোকের নিন্দা করি, তবে সে নিন্দিত ও ঘৃণিত।

তার জবাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমনটা কেবল আল্লাহই হতে পারেন। অর্থাৎ যার প্রশংসা কাউকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে পারে এবং যার নিন্দা কাউকে দোষযুক্ত করতে পারে, তিনি হলেন আল্লাহ। এ ছাড়া অন্য কারও জন্য এ কথা প্রযোজ্য নয়। ৩৪১

টিকাঃ
৩৩৮. মুসনাদু আহমাদ: ৫৫০৫; শাইখাইনের শর্তানুযায়ী হাদিসটির সনদ সহিহ। বেদুইনের আহ্বানের ছত্রটি বাদে হাদিসটি এসেছে, সহিহুল বুখারি: ৫৫৩৬, সহিহু মুসলিম ১৯৪৩-এ।
৩৩৯. সুরা আল-হুজুরাত, ৪৯: ৪।
৩৪০. সুনানুত তিরমিজি: ৩২৬৭।
৩৪১. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৯/১০৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 উদাহরণ দিয়ে বেদুইনদের বোঝাতেন

📄 উদাহরণ দিয়ে বেদুইনদের বোঝাতেন


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, (আমি ফরসা কিন্তু) আমার একটি কালো ছেলে জন্মেছে (তাই আমি সন্তানটি আমার বলে স্বীকার করতে সংশয় বোধ করছি)।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার কি উট আছে?" লোকটি বললেন, "জি, আছে।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তার রং কী?" লোকটি উত্তর দিলেন, "লাল।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সেগুলোর মধ্যে কি ছাই বর্ণের কোনো উট আছে?" লোকটি বললেন, "জি, আছে।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে এটা কোথা থেকে আসলো?" তিনি উত্তর দিলেন, "হয়তো পূর্বপুরুষদের রক্তধারায় এমনটি হয়েছে।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার ছেলের কালো রংটাও হয়তো পূর্বপুরুষদের রক্তধারার কারণে হয়েছে।"৩৪২

টিকাঃ
৩৪২. সহিহুল বুখারি: ৫৩০৫, সহিহু মুসলিম: ১৫০০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বেদুইনদের সঙ্গে সহজভাবে মিশতেন

📄 বেদুইনদের সঙ্গে সহজভাবে মিশতেন


তিনি বেদুইনদের সাথে বসতেন, হাসি-কৌতুক করতেন, তাদের সাথে কথা বলতেন, মেহমান বানাতেন এবং সুন্দর করে তাদের আপ্যায়ন করতেন।

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একদিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলছিলেন। সেখানে তখন এক বেদুইন লোকও বসেছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "জান্নাতের এক অধিবাসী আল্লাহর কাছে চাষাবাদ করার অনুমতি চাইবে। আল্লাহ তাআলা বলবেন, "তুমি যা চাচ্ছ, তা কি পাচ্ছ না?"

সে লোক জবাব দেবে, “অবশ্যই। কিন্তু আমার চাষ করতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "এরপর লোকটা বীজ রোপণ করবে। সাথে সাথেই বীজ থেকে অঙ্কুর বের হবে, গাছ বড় হবে, ফসলও কাটা হয়ে যাবে, ফসল হবে পাহাড়ের মতো বিশাল। এসবই হবে চোখের পলকে।"

তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, "আদম-সন্তান, তোমাকে কিছুই তৃপ্ত করতে পারে না।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শেষ হলে সে বেদুইন বলে উঠল, "এমন লোক আপনি কেবল কুরাইশ বা আনসার সাহাবিদের মাঝেই পাবেন। কারণ, তারা কৃষি কাজ করে। আমরা বেদুইনরা কৃষক নই।"

তার কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। ৩৪৩

অর্থাৎ বেদুইন লোকটার বুদ্ধিমত্তা ও চমৎকার জবাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে উঠলেন। ৩৪৪

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আজাদকৃত দাস সাওবান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একবার আমাদের বাড়িতে এক বেদুইন মেহমান এলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিয়ে বাড়ির সামনে বসলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মানুষের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন যে, "ইসলামে এসে তারা কেমন খুশি? সালাতের সাথে তাদের কেমন সখ্যতা গড়ে উঠেছে?” তিনি তাঁকে প্রশ্নের উত্তর দিতে লাগলেন। এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখলাম।

তারপর যখন দিন বেড়ে খাবারের সময় হলো, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে চুপিচুপি বললেন, "আয়িশার ঘরে যাও আর তাকে বলো যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন মেহমান আছে।"

আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলে পাঠালেন, "সে সত্তার শপথ-যিনি হিদায়াত ও সত্য দ্বীন প্রেরণ করেছেন, আমাদের ঘরে মানুষের খাওয়ার মতো কিছুই নেই।"

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এক এক করে তাঁর সকল স্ত্রীর কাছে পাঠালেন। কিন্তু সকলেই আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মতো ওজর পেশ করলেন। এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখ মলিন হয়ে উঠতে দেখলাম।

বেদুইন বুদ্ধিমান ছিলেন। তিনি বুদ্ধি খাটিয়ে কথার মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে বললেন, "এ যুগের বেদুইনরা কষ্ট সহ্য করতে পারে বেশ। আমরা শহরবাসীর মতো নই। একটি খেজুর ও একটু দুধই আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়।"৩৪৫

তখন সামনে দিয়ে সদ্য দুধ দোহনকৃত আমাদের একটি ছাগী হেঁটে যাচ্ছিল। তাকে আমরা "সামরা" বলে ডাকতাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম ধরে ডাক দিলেন।

ছাগীটি ম্যাঁ ম্যাঁ করতে করতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "বিসমিল্লাহ” বলে তার পায়ের পাশ দিয়ে হাত গলিয়ে ওলান স্পর্শ করলেন। সাথে সাথে ছাগীর ওলান দুধে ভরপুর হয়ে গেল।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে পাত্র আনতে বললেন। পাত্র নিয়ে আসলে তিনি বিসমিল্লাহ বলে দুধ দোহন করলেন। পাত্রটি তখনই ভরে গেল দুধে।

এরপর বললেন, "বিসমিল্লাহ” বলে তাকে দাও।

আমি মেহমানকে তা দিলাম। তিনি লম্বা এক চুমুক দিয়ে তা থেকে পান করলেন। অতঃপর পাত্র রেখে দেওয়ার ইচ্ছা করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আবার পান করো।" তিনি আবার পান করলেন। এরপর রেখে দেওয়ার ইচ্ছে করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেন, "আবার পান করো।” এভাবে কয়েকবার পান করে তার পেটভর্তি হয়ে গেল। আল্লাহ যতটুকু চাইলেন ততটুকু সে সাহাবি পান করলেন।

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "বিসমিল্লাহ” বলে আবারও দুধ দোহন করলেন। সাথে সাথে পাত্রটি ভরে গেল। অতঃপর বললেন, "এগুলো আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে নিয়ে যাও। তারপর যে পরিমাণ সম্ভব, সে পরিমাণ যেন সে এখান থেকে পান করে।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ পালনের পর আমি ফিরে এলাম। তিনি আগের মতো "বিসমিল্লাহ” বলে দুধ দোহন করলেন। পাত্র পূর্ণ হলো। অতঃপর আমাকে এক এক করে তাঁর প্রত্যেক স্ত্রীর নিকট পাঠালেন। যখনই কোনো স্ত্রী পান করতেন, "বিসমিল্লাহ” বলে পুনরায় দুধ দোহন করে আমাকে আরেকজনের কাছে পাঠাতেন। এভাবে একে একে আমাকে তাঁর সকল স্ত্রীর কাছে পাঠালেন। সবার কাছ থেকে ফিরে এসে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম।

তিনি বললেন, "আমার দিকে বাটিটি উত্তোলন করো। আমি বাটি ওঠালাম। তিনি "বিসমিল্লাহ” বলে আল্লাহ যতটুকু চান পান করলেন। এরপর আমাকে দিলেন। আমি পাত্রে ঠোঁট লাগিয়ে পান করলাম। দুধটা মধুর চাইতেও মিষ্টি ছিল। মিশকের চাইতেও বেশি সুগন্ধযুক্ত ছিল। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে আল্লাহ, এ ছাগীর মাঝে তার পরিবারের জন্য বরকত দিন। "৩৪৬

টিকাঃ
৩৪৩. সহিহুল বুখারি: ২৩৪৮।
৩৪৪. মিরকাতুল মাফাতিহ: ৯/৩৬০০।
৩৪৫. অর্থাৎ 'যখন কোনো বেদুইন খাবার হিসেবে একটি খেজুর এবং সাথে একটু পানি বা দুধ পায়, তা-ই তখন তার জন্য উত্তম হয় এবং তার জন্য যথেষ্ট হয়।' এ বেদুইনের কথার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, তিনি বেশ বুদ্ধিমান ও সুন্দর কথার অধিকারী ছিলেন।
৩৪৬. আজুরি কিতাবুশ শরিয়া: ১০৪৮-এ উল্লেখ করেছেন। হাদিসটি সহিহ।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 সত্যাবাদী ও মুজাহিদ বেদুইনদের প্রশংসা করতেন

📄 সত্যাবাদী ও মুজাহিদ বেদুইনদের প্রশংসা করতেন


শাদ্দাদ বিন হাদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক বেদুইন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে ইমান আনলেন এবং তাঁর অনুসারী হলেন। অতঃপর বললেন, "আমি কি আপনার কাছে হিজরত করব?" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এক সাহাবিকে তার ব্যাপারে অসিয়ত করলেন।'

এরপর এক যুদ্ধের কথা। যুদ্ধে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে গনিমত হিসেবে বন্দী আসলো। তিনি সাহাবিদের মাঝে গনিমত বণ্টন করে দিলেন। বেদুইনের জন্যও গনিমতের অংশ বণ্টন করা হলো। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অংশটা তার কিছু নিকটতম সাথির কাছে দিয়ে দিলেন তাকে দেওয়ার জন্য। তিনি পেছনের দিকে ছিলেন। যখন সামনে আসলেন, তার সাথিরা তার ভাগটা এগিয়ে দিল তার দিকে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "এটা কী?"

তারা উত্তর দিল, এটা তোমার অংশ, যা নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার জন্য বণ্টন করেছেন। তিনি তার অংশ নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, "এটা কী?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "গনিমত থেকে তোমার অংশ।"

তিনি বললেন, “এগুলোর জন্য আমি আপনার অনুসারী হইনি; বরং আমি আপনার অনুসারী হয়েছি এ কারণে যে, আমার এ স্থানে তির বিদ্ধ হবে-এটা বলার সময় তিনি তার গলার দিকে ইশারা করলেন-আর আমি শহিদ হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করব।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যদি তুমি আল্লাহর কাছে সত্যিই এ ইচ্ছে পোষণ করো, তবে আল্লাহ তা সত্যে পরিণত করবেন।"

এরপর সে লোকটি সেখানে কিছু সময় অবস্থান করে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য উঠে গেলেন। অতঃপর গলায় তিরবিদ্ধ অবস্থায় তাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে আনা হলো।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এ কি ওই লোকটাই?” তারা বললেন, "জি।” তিনি বললেন, “সে আল্লাহর কাছে সত্য বলেছে, আল্লাহও তার কথা সত্যে পরিণত করেছেন।"

এরপর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের জুব্বা দিয়ে তাকে কাফন পরালেন। তাকে সামনে রেখে জানাজা আদায় করলেন। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে তার জন্য যে দোয়া করেছিলেন, তার মাঝে যেটুকু শোনা গিয়েছিল, তা হলো:

اللهُمَّ هَذَا عَبْدُكَ خَرَجَ مُهَاجِرًا فِي سَبِيلِكَ فَقُتِلَ شَهِيدًا أَنَا شَهِيدٌ عَلَى ذَلِكَ

"হে আল্লাহ, আপনার এ বান্দাটি মুহাজির অবস্থায় বের হয়েছে, এরপর শহিদ হয়েছে। আমি নিজে এ ব্যাপারে সাক্ষী।"৩৪৭

জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'মুআজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ইশার সালাত পড়ে বাড়িতে ফিরে গিয়ে তার সাথিদের নিয়ে আবার সালাত আদায় করতেন। এমনই একদিন ফিরে গিয়ে তিনি তার সাথিদের নিয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। ইত্যবসরে তার সম্প্রদায়ের এক যুবক এসে সালাতে দাঁড়াল। কিন্তু সালাত লম্বা হওয়ার কারণে সে যুবক নিজেই সালাত পড়ে বের হয়ে যায়। উটের লাগাম ধরে উট হাঁকিয়ে চলে যায় সেখান থেকে। সালাত পড়া শেষে মুআজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে তা জানালে তিনি বললেন, "নিশ্চয় এটা নিফাক। আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ ব্যাপারে জানাব অবশ্যই।"

মুআজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সে যুবকের ঘটনা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানালেন।

যুবকটি তখন বলল, “হে আল্লাহর রাসুল, আপনার কাছ থেকে তিনি লম্বা সময় ধরে সালাত পড়ে যান। এরপর ফিরে গিয়ে আমাদের নিয়েও লম্বা সময় নিয়ে সালাত আদায় করেন।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন মুআজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর উদ্দেশে বললেন, "হে মুআজ, তুমি কি ফিতনাকারী?"

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবককে লক্ষ করে বললেন, "ভাতিজা, তুমি কীভাবে সালাত পড়ো?"

যুবক উত্তর দিল, "আমি ফাতিহা পড়ি, আল্লাহর কাছে জান্নাত চাই, জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। কিন্তু আমি জানি না আপনি গুনগুন করে কী পড়েন এবং মুআজই-বা সালাতে গুনগুন করে কী পড়েন!"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আমি ও মুআজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) প্রায় তা-ই করি।"

যুবকটি বলল, "কিন্তু মুআজ অচিরেই জেনে যাবেন (আমি মুনাফিক কি না), যখন শত্রুবাহিনী আসবে।"

এদিকে খবর আসলো যে, শত্রুরা কাছে চলে এসেছে। মুসলিমরা অগ্রসর হলো এবং যুদ্ধে যুবক শহিদ হয়ে গেল।

যুদ্ধ শেষে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞেস করলেন, "আমার ও তোমার সে বিবাদীর কী হলো?"

মুআজ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তখন বললেন, "হে আল্লাহর রাসুল, সে সত্য ছিল, আমিই মিথ্যা ছিলাম। আর সে শাহাদাত বরণ করেছে। "৩৪৮

টিকাঃ
৩৪৭. সুনানুন নাসায়ি: ১৯৫৩।
৩৪৮. সহিহু ইবনি খুজাইমা ১৬৩৪, সনদ জাইয়িদ। এ হাদিসটি সংক্ষিপ্ত আকারে বর্ণিত হয়েছে, বুখারি: ৭০৫ ও সহিহু মুসলিম: ৪৬৫-এ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00