📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বেদুইনদের অসময়ে করা প্রশ্নে সবর করতেন

📄 বেদুইনদের অসময়ে করা প্রশ্নে সবর করতেন


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'একদিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের উদ্দেশে কথা বলছিলেন। এমন সময় এক বেদুইন এসে বললেন, "কিয়ামত কখন হবে?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে বেদুইনের কথার উত্তর না দিয়ে আগের মতো কথা বলতে থাকলেন।

তখন একজন মন্তব্য করলেন, "তিনি শুনেছেন, তবে এ কথাটি অপছন্দ করেছেন বিধায় উত্তর দেননি।"

আরেকজন বললেন, "না, বরং তিনি শুনেনইনি। "৩৩৫

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বক্তব্য শেষ করে জিজ্ঞেস করলেন, "কিয়ামত সম্পর্কে জানতে চাইল কে?"

বেদুইন বললেন, "আমি, হে আল্লাহর রাসুল।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যখন আমানত বিনষ্ট হবে, তখন তোমরা কিয়ামতের অপেক্ষায় থেকো।"

লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলেন, "আমানতের বিনষ্টতা কেমন?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "যখন অযোগ্যকে নেতৃত্ব দেওয়া হবে, তখন তোমরা কিয়ামতের অপেক্ষায় থেকো। "৩৩৬

হাদিস থেকে বোঝা যায়:

* কেউ কিছু জানতে চাইলে, তাকে সে বিষয়ের ইলম শিক্ষা দেওয়া ওয়াজিব। হাদিসে আমরা দেখেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের সাথে কথা শেষ করে জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'কোথায় সে প্রশ্নকর্তা?' এরপর তাকে প্রশ্নের উত্তর দিলেন।
* শিক্ষার অন্যতম আদব হচ্ছে, শিক্ষার্থী শিক্ষককে সে সময় কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবে না, যে সময় শিক্ষক অন্য কোনো কথা বা অন্য কোনো শিক্ষার্থীকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কারণ, তারাই অগ্রাধিকার পাবে, যারা আগে কথা শুরু করেছিল। তাদের সাথে কথা শেষ হওয়ার আগে কথার মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো ঠিক নয়।
* শিক্ষার্থী যদিও প্রশ্ন করার সময় মূর্খতা বা রুক্ষতা দেখায়, তবুও শিক্ষক কোমলতার সাথে উত্তর দেবে। কারণ, হাদিসে আমরা দেখেছি কথা পূর্ণ করার আগে প্রশ্ন করলেও সে বেদুইন সাহাবিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধমক দেননি।
* প্রশ্নকারী যদি উত্তর না বুঝে থাকে, তবে পুনরায় প্রশ্ন করা জায়িজ আছে। কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বোঝানোর পরও সে বেদুইন সাহাবি পুরো বিষয়টা বুঝতে পারেননি বলে আবারও প্রশ্ন করেছিলেন যে, 'আমানত বিনষ্ট হয় কীভাবে?'৩৩৭

টিকাঃ
৩৩৫. 'সাহাবিদের মাঝে এ দ্বিধার কারণ হচ্ছে, একজন লোকের প্রশ্নের উত্তর দেননি, এমনকি তিনি প্রশ্নকারীর প্রতি তাকানওনি; বরং এ বিষয়ে তিনি ছিলেন নির্লিপ্ত। ...এ থেকে বোঝা যায়, কারও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কেবল উল্লিখিত দুটি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং কখনো অন্যদের সাথে কথাগুলো পূর্ণ করা পর্যন্ত কৃত প্রশ্নের উত্তর দিতে দেরি করার অবকাশ আছে।' দেখুন, ফাতহুল বারি : ১/১৪৩।
৩৩৬. সহিহুল বুখারি: ৫৯।
৩৩৭. ইবনে বাত্তাল কৃত শারহু সহিহিল বুখারি: ১/১২৭, উমদাতুল কারি: ২/৭।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বেদুইনরা চড়া গলায় প্রশ্ন করলেও তিনি বরদাশত করতেন

📄 বেদুইনরা চড়া গলায় প্রশ্ন করলেও তিনি বরদাশত করতেন


ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একবার এক বেদুইন উচ্চস্বরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করল, গুইসাপের ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?'

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, 'আমি তা খাইও না, আবার হারামও বলি না। '৩৩৮

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক বেদুইন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উচ্চস্বরে ডেকে জানতে চাইল, "ইহরাম অবস্থায় কোন কোন জন্তু মারা যাবে?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "কাক, চিল, ইঁদুর, হিংস্র কুকুর, বিচ্ছু।”

(إِنَّ الَّذِينَ يُنَادُونَكَ مِن وَرَاءِ الْحُجُرَاتِ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ) -'যারা ঘরের বাইরে থেকে আপনাকে উচ্চস্বরে ডাকে, তাদের অধিকাংশই অবুঝ। '৩৩৯-এ আয়াতের ব্যাপারে বলেন, 'এ আয়াত তিলাওয়াতের পর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, "হে আল্লাহর রাসুল, আমার প্রশংসা করা সৌন্দর্য এবং আমার নিন্দা করা অপমান।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এটা কেবল আল্লাহ তাআলাই হতে পারেন।"৩৪০

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রশ্নকর্তা লোকটি নিজের প্রশংসা ও নিজের বড়ত্ব জাহির করতে চেয়েছিল। তার কথার অর্থ হচ্ছে, যদি আমি কারও প্রশংসা করি, তবে সে প্রশংসিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত। কিন্তু যদি আমি কোনো লোকের নিন্দা করি, তবে সে নিন্দিত ও ঘৃণিত।

তার জবাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমনটা কেবল আল্লাহই হতে পারেন। অর্থাৎ যার প্রশংসা কাউকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে পারে এবং যার নিন্দা কাউকে দোষযুক্ত করতে পারে, তিনি হলেন আল্লাহ। এ ছাড়া অন্য কারও জন্য এ কথা প্রযোজ্য নয়। ৩৪১

টিকাঃ
৩৩৮. মুসনাদু আহমাদ: ৫৫০৫; শাইখাইনের শর্তানুযায়ী হাদিসটির সনদ সহিহ। বেদুইনের আহ্বানের ছত্রটি বাদে হাদিসটি এসেছে, সহিহুল বুখারি: ৫৫৩৬, সহিহু মুসলিম ১৯৪৩-এ।
৩৩৯. সুরা আল-হুজুরাত, ৪৯: ৪।
৩৪০. সুনানুত তিরমিজি: ৩২৬৭।
৩৪১. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৯/১০৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 উদাহরণ দিয়ে বেদুইনদের বোঝাতেন

📄 উদাহরণ দিয়ে বেদুইনদের বোঝাতেন


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, (আমি ফরসা কিন্তু) আমার একটি কালো ছেলে জন্মেছে (তাই আমি সন্তানটি আমার বলে স্বীকার করতে সংশয় বোধ করছি)।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার কি উট আছে?" লোকটি বললেন, "জি, আছে।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তার রং কী?" লোকটি উত্তর দিলেন, "লাল।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সেগুলোর মধ্যে কি ছাই বর্ণের কোনো উট আছে?" লোকটি বললেন, "জি, আছে।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে এটা কোথা থেকে আসলো?" তিনি উত্তর দিলেন, "হয়তো পূর্বপুরুষদের রক্তধারায় এমনটি হয়েছে।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার ছেলের কালো রংটাও হয়তো পূর্বপুরুষদের রক্তধারার কারণে হয়েছে।"৩৪২

টিকাঃ
৩৪২. সহিহুল বুখারি: ৫৩০৫, সহিহু মুসলিম: ১৫০০।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বেদুইনদের সঙ্গে সহজভাবে মিশতেন

📄 বেদুইনদের সঙ্গে সহজভাবে মিশতেন


তিনি বেদুইনদের সাথে বসতেন, হাসি-কৌতুক করতেন, তাদের সাথে কথা বলতেন, মেহমান বানাতেন এবং সুন্দর করে তাদের আপ্যায়ন করতেন।

আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একদিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলছিলেন। সেখানে তখন এক বেদুইন লোকও বসেছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "জান্নাতের এক অধিবাসী আল্লাহর কাছে চাষাবাদ করার অনুমতি চাইবে। আল্লাহ তাআলা বলবেন, "তুমি যা চাচ্ছ, তা কি পাচ্ছ না?"

সে লোক জবাব দেবে, “অবশ্যই। কিন্তু আমার চাষ করতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, "এরপর লোকটা বীজ রোপণ করবে। সাথে সাথেই বীজ থেকে অঙ্কুর বের হবে, গাছ বড় হবে, ফসলও কাটা হয়ে যাবে, ফসল হবে পাহাড়ের মতো বিশাল। এসবই হবে চোখের পলকে।"

তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, "আদম-সন্তান, তোমাকে কিছুই তৃপ্ত করতে পারে না।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শেষ হলে সে বেদুইন বলে উঠল, "এমন লোক আপনি কেবল কুরাইশ বা আনসার সাহাবিদের মাঝেই পাবেন। কারণ, তারা কৃষি কাজ করে। আমরা বেদুইনরা কৃষক নই।"

তার কথা শুনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে দিলেন। ৩৪৩

অর্থাৎ বেদুইন লোকটার বুদ্ধিমত্তা ও চমৎকার জবাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেসে উঠলেন। ৩৪৪

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আজাদকৃত দাস সাওবান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একবার আমাদের বাড়িতে এক বেদুইন মেহমান এলেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিয়ে বাড়ির সামনে বসলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে মানুষের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে লাগলেন যে, "ইসলামে এসে তারা কেমন খুশি? সালাতের সাথে তাদের কেমন সখ্যতা গড়ে উঠেছে?” তিনি তাঁকে প্রশ্নের উত্তর দিতে লাগলেন। এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠতে দেখলাম।

তারপর যখন দিন বেড়ে খাবারের সময় হলো, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে চুপিচুপি বললেন, "আয়িশার ঘরে যাও আর তাকে বলো যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একজন মেহমান আছে।"

আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলে পাঠালেন, "সে সত্তার শপথ-যিনি হিদায়াত ও সত্য দ্বীন প্রেরণ করেছেন, আমাদের ঘরে মানুষের খাওয়ার মতো কিছুই নেই।"

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এক এক করে তাঁর সকল স্ত্রীর কাছে পাঠালেন। কিন্তু সকলেই আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর মতো ওজর পেশ করলেন। এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখ মলিন হয়ে উঠতে দেখলাম।

বেদুইন বুদ্ধিমান ছিলেন। তিনি বুদ্ধি খাটিয়ে কথার মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে বললেন, "এ যুগের বেদুইনরা কষ্ট সহ্য করতে পারে বেশ। আমরা শহরবাসীর মতো নই। একটি খেজুর ও একটু দুধই আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়।"৩৪৫

তখন সামনে দিয়ে সদ্য দুধ দোহনকৃত আমাদের একটি ছাগী হেঁটে যাচ্ছিল। তাকে আমরা "সামরা" বলে ডাকতাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম ধরে ডাক দিলেন।

ছাগীটি ম্যাঁ ম্যাঁ করতে করতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলো। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "বিসমিল্লাহ” বলে তার পায়ের পাশ দিয়ে হাত গলিয়ে ওলান স্পর্শ করলেন। সাথে সাথে ছাগীর ওলান দুধে ভরপুর হয়ে গেল।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে পাত্র আনতে বললেন। পাত্র নিয়ে আসলে তিনি বিসমিল্লাহ বলে দুধ দোহন করলেন। পাত্রটি তখনই ভরে গেল দুধে।

এরপর বললেন, "বিসমিল্লাহ” বলে তাকে দাও।

আমি মেহমানকে তা দিলাম। তিনি লম্বা এক চুমুক দিয়ে তা থেকে পান করলেন। অতঃপর পাত্র রেখে দেওয়ার ইচ্ছা করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আবার পান করো।" তিনি আবার পান করলেন। এরপর রেখে দেওয়ার ইচ্ছে করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার বললেন, "আবার পান করো।” এভাবে কয়েকবার পান করে তার পেটভর্তি হয়ে গেল। আল্লাহ যতটুকু চাইলেন ততটুকু সে সাহাবি পান করলেন।

এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম "বিসমিল্লাহ” বলে আবারও দুধ দোহন করলেন। সাথে সাথে পাত্রটি ভরে গেল। অতঃপর বললেন, "এগুলো আয়িশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর কাছে নিয়ে যাও। তারপর যে পরিমাণ সম্ভব, সে পরিমাণ যেন সে এখান থেকে পান করে।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশ পালনের পর আমি ফিরে এলাম। তিনি আগের মতো "বিসমিল্লাহ” বলে দুধ দোহন করলেন। পাত্র পূর্ণ হলো। অতঃপর আমাকে এক এক করে তাঁর প্রত্যেক স্ত্রীর নিকট পাঠালেন। যখনই কোনো স্ত্রী পান করতেন, "বিসমিল্লাহ” বলে পুনরায় দুধ দোহন করে আমাকে আরেকজনের কাছে পাঠাতেন। এভাবে একে একে আমাকে তাঁর সকল স্ত্রীর কাছে পাঠালেন। সবার কাছ থেকে ফিরে এসে আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম।

তিনি বললেন, "আমার দিকে বাটিটি উত্তোলন করো। আমি বাটি ওঠালাম। তিনি "বিসমিল্লাহ” বলে আল্লাহ যতটুকু চান পান করলেন। এরপর আমাকে দিলেন। আমি পাত্রে ঠোঁট লাগিয়ে পান করলাম। দুধটা মধুর চাইতেও মিষ্টি ছিল। মিশকের চাইতেও বেশি সুগন্ধযুক্ত ছিল। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে আল্লাহ, এ ছাগীর মাঝে তার পরিবারের জন্য বরকত দিন। "৩৪৬

টিকাঃ
৩৪৩. সহিহুল বুখারি: ২৩৪৮।
৩৪৪. মিরকাতুল মাফাতিহ: ৯/৩৬০০।
৩৪৫. অর্থাৎ 'যখন কোনো বেদুইন খাবার হিসেবে একটি খেজুর এবং সাথে একটু পানি বা দুধ পায়, তা-ই তখন তার জন্য উত্তম হয় এবং তার জন্য যথেষ্ট হয়।' এ বেদুইনের কথার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, তিনি বেশ বুদ্ধিমান ও সুন্দর কথার অধিকারী ছিলেন।
৩৪৬. আজুরি কিতাবুশ শরিয়া: ১০৪৮-এ উল্লেখ করেছেন। হাদিসটি সহিহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00