📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বেদুইনরা বেশি প্রশ্ন করলেও ধৈর্য সহকারে জবাব দিতেন

📄 বেদুইনরা বেশি প্রশ্ন করলেও ধৈর্য সহকারে জবাব দিতেন


সাহাবিগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনেক কিছু জানতে চাইলেও অনেক প্রশ্ন তাঁরা ভয়ে ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি সম্মানের কারণে জিজ্ঞেস করতেন না। আবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ব্যাপারে চুপ থেকেছেন, সে ব্যাপারে জানতে চাইতেন না এ ভয়ে যে, যদি সেসব হারাম হয়ে যায় আর প্রশ্নকর্তা নিজেই যদি তাতে পরে লিপ্ত হয়ে গুনাহগার হয়ে যায়!

তাই যখনই কোনো বেদুইনকে তারা মদিনায় আসতে দেখতেন, তারা আনন্দিত হতেন এই ভেবে যে, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করবেন আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাব দিলে তাঁরা সবাই উপকৃত হবেন।

নাওয়াস বিন সামআন (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে মদিনায় আমি এক বছর অবস্থান করি। কিন্তু বেদুইন জীবন ছেড়ে মদিনায় হিজরত থেকে কেবল একটি কারণেই বিরত থাকি। সেটি হচ্ছে, জিজ্ঞাসা করার সুযোগ। কারণ, আমাদের কেউ হিজরত করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছুই জিজ্ঞেস করত না। '৩৩১

নাওয়াস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মদিনায় এক বছর মেহমানের মতো ছিলেন। মদিনায় হিজরত ও মদিনাকে নিজের আবাস হিসেবে গ্রহণ করতে চাইলেও দ্বীন সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জানতে চাইবার আকাঙ্ক্ষা তাকে হিজরত থেকে বিরত রাখে। কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আকস্মিক কোনো কিছু জানতে চাওয়ার অনুমতি তাদের জন্য ছিল, মুহাজিরদের জন্য এমন সুযোগ হতো না। তাই বেদুইন বা অন্য ভিনদেশিরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রশ্ন করলে মুহাজির সাহাবিরা খুশি হতেন। কারণ, তাদের জন্য প্রশ্ন করার সুযোগ ছিল, তাদের প্রশ্ন করার ওজরও ছিল, কিন্তু মুহাজিরদের জন্য তা ছিল না বিধায় তাঁরা ভিনদেশিদের প্রশ্নের মাধ্যমে উপকৃত হতেন। ৩৩২

আনাস বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'কিছু বিষয় সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করার ব্যাপারে আমাদের নিষেধ করা হয়েছিল। তাই আমরা আশা করতাম যে, সে বিষয়টি যদি কোনো বুদ্ধিমান বেদুইন এসে জিজ্ঞেস করে, তবে আমরাও উপকৃত হতাম তা শুনে।'

একদিন আমরা মসজিদে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পাশে বসা ছিলাম। ইত্যবসরে এক বেদুইন উটে চড়ে আসলেন। মসজিদে প্রবেশ করে উটকে বসালেন। এরপর উটটিকে একটি খুঁটিতে বেঁধে রেখে বললেন, "আপনাদের মাঝে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে?"

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সকলের অগ্রভাগে হেলান দিয়ে ছিলেন। আমরা বললাম, "সুন্দর অবয়ববিশিষ্ট হেলান দেওয়া এ মানুষটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।"

লোকটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্দেশে বললেন, "হে আব্দুল মুত্তালিবের সন্তান!"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তোমার আহ্বানের উত্তর দেওয়া হলো।'

আমি আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করব। জিজ্ঞাসাগুলো আপনার জন্য কঠিন হতে পারে। তাই আপনি আমার ওপর রাগ করবেন না যেন!

তোমার প্রশ্ন জিজ্ঞেস করো।

হে মুহাম্মাদ, আপনি আমাদের নিকট রাসুল হয়ে এসেছেন। দূত হয়ে এসেছেন। এক লোক বলল যে, আপনি নাকি বলেন, "আল্লাহ আপনাকে আমাদের নিকট প্রেরণ করেছেন?"

সে লোকটি সত্য বলেছে।

তাহলে বলুন, আসমানের সৃষ্টিকর্তা কে?

আল্লাহ।

কে এ পাহাড়গুলো প্রতিস্থাপন করেছে, আর তাতে যা সৃষ্টি করার তা সৃষ্টি করেছেন?

আল্লাহ।

যে আল্লাহ আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছেন, জমিনের ওপর পাহাড় প্রতিস্থাপন করেছেন-সে আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি, তিনিই কি আপনাকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন?

হাঁ।

আপনার দূত আরও বলেছে, "আমাদের ওপর প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ।"
সে সত্য বলেছে।

যে আল্লাহ আপনাকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন-তাঁর শপথ করে বলছি, তিনিই কি আপনাকে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের আদেশ দিয়েছেন?

হাঁ।

আপনার দূত আরও বলেছে, "আমাদের সম্পদে জাকাত ফরজ।"

সে সত্য বলেছে।

যে আল্লাহ আপনাকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন-তাঁর শপথ করে বলছি, তিনিই কি আপনাকে জাকাতের আদেশ দিয়েছেন?

হাঁ।

আপনার দূত আরও বলেছে, “প্রতি বছর রমাজান মাসের রোজা আমাদের ওপর ফরজ।"

সে সত্য বলেছে।

যে আল্লাহ আপনাকে রাসুল করে পাঠিয়েছেন-তাঁর শপথ করে বলছি, তিনিই কি আপনাকে রোজার আদেশ দিয়েছেন?

হাঁ।

আপনার দূত আরও বলেছে, "আমাদের যারা সামর্থ্যবান তাদের ওপর বাইতুল্লাহর হজ করা ফরজ।"

সে সত্য বলেছে।

এরপর লোকটি ফিরে গেলেন। যাওয়ার আগে বলে গেলেন, "সে সত্তার শপথ করে বলছি যিনি আপনাকে প্রেরণ করেছেন, আমি এর ওপর কোনো কিছু বাড়াবও না, কোনো কিছু কমাবও না।" এ বলে তিনি চলে গেলেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যদি সে সত্য বলে থাকে, তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"৩৩৪

টিকাঃ
৩৩১. সহিহু মুসলিম: ২৫৫৩।
৩৩২. ইমাম নববি কৃত শারহু সহিহি মুসলিম: ১৬/১১১।
৩৩৩. বেদুইন সে সাহাবি ছিলেন, জিমাম বিন সালাবা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।
৩৩৪. সহিহুল বুখারি: ৬৩৩, সহিহু মুসলিম: ১২।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বেদুইনদের অসময়ে করা প্রশ্নে সবর করতেন

📄 বেদুইনদের অসময়ে করা প্রশ্নে সবর করতেন


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'একদিন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের উদ্দেশে কথা বলছিলেন। এমন সময় এক বেদুইন এসে বললেন, "কিয়ামত কখন হবে?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে বেদুইনের কথার উত্তর না দিয়ে আগের মতো কথা বলতে থাকলেন।

তখন একজন মন্তব্য করলেন, "তিনি শুনেছেন, তবে এ কথাটি অপছন্দ করেছেন বিধায় উত্তর দেননি।"

আরেকজন বললেন, "না, বরং তিনি শুনেনইনি। "৩৩৫

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বক্তব্য শেষ করে জিজ্ঞেস করলেন, "কিয়ামত সম্পর্কে জানতে চাইল কে?"

বেদুইন বললেন, "আমি, হে আল্লাহর রাসুল।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "যখন আমানত বিনষ্ট হবে, তখন তোমরা কিয়ামতের অপেক্ষায় থেকো।"

লোকটি আবার জিজ্ঞেস করলেন, "আমানতের বিনষ্টতা কেমন?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "যখন অযোগ্যকে নেতৃত্ব দেওয়া হবে, তখন তোমরা কিয়ামতের অপেক্ষায় থেকো। "৩৩৬

হাদিস থেকে বোঝা যায়:

* কেউ কিছু জানতে চাইলে, তাকে সে বিষয়ের ইলম শিক্ষা দেওয়া ওয়াজিব। হাদিসে আমরা দেখেছি, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবিদের সাথে কথা শেষ করে জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'কোথায় সে প্রশ্নকর্তা?' এরপর তাকে প্রশ্নের উত্তর দিলেন।
* শিক্ষার অন্যতম আদব হচ্ছে, শিক্ষার্থী শিক্ষককে সে সময় কোনো প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবে না, যে সময় শিক্ষক অন্য কোনো কথা বা অন্য কোনো শিক্ষার্থীকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কারণ, তারাই অগ্রাধিকার পাবে, যারা আগে কথা শুরু করেছিল। তাদের সাথে কথা শেষ হওয়ার আগে কথার মাঝে বিচ্ছেদ ঘটানো ঠিক নয়।
* শিক্ষার্থী যদিও প্রশ্ন করার সময় মূর্খতা বা রুক্ষতা দেখায়, তবুও শিক্ষক কোমলতার সাথে উত্তর দেবে। কারণ, হাদিসে আমরা দেখেছি কথা পূর্ণ করার আগে প্রশ্ন করলেও সে বেদুইন সাহাবিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধমক দেননি।
* প্রশ্নকারী যদি উত্তর না বুঝে থাকে, তবে পুনরায় প্রশ্ন করা জায়িজ আছে। কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বোঝানোর পরও সে বেদুইন সাহাবি পুরো বিষয়টা বুঝতে পারেননি বলে আবারও প্রশ্ন করেছিলেন যে, 'আমানত বিনষ্ট হয় কীভাবে?'৩৩৭

টিকাঃ
৩৩৫. 'সাহাবিদের মাঝে এ দ্বিধার কারণ হচ্ছে, একজন লোকের প্রশ্নের উত্তর দেননি, এমনকি তিনি প্রশ্নকারীর প্রতি তাকানওনি; বরং এ বিষয়ে তিনি ছিলেন নির্লিপ্ত। ...এ থেকে বোঝা যায়, কারও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া কেবল উল্লিখিত দুটি ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং কখনো অন্যদের সাথে কথাগুলো পূর্ণ করা পর্যন্ত কৃত প্রশ্নের উত্তর দিতে দেরি করার অবকাশ আছে।' দেখুন, ফাতহুল বারি : ১/১৪৩।
৩৩৬. সহিহুল বুখারি: ৫৯।
৩৩৭. ইবনে বাত্তাল কৃত শারহু সহিহিল বুখারি: ১/১২৭, উমদাতুল কারি: ২/৭।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 বেদুইনরা চড়া গলায় প্রশ্ন করলেও তিনি বরদাশত করতেন

📄 বেদুইনরা চড়া গলায় প্রশ্ন করলেও তিনি বরদাশত করতেন


ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'একবার এক বেদুইন উচ্চস্বরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করল, গুইসাপের ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?'

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, 'আমি তা খাইও না, আবার হারামও বলি না। '৩৩৮

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, 'এক বেদুইন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উচ্চস্বরে ডেকে জানতে চাইল, "ইহরাম অবস্থায় কোন কোন জন্তু মারা যাবে?"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, "কাক, চিল, ইঁদুর, হিংস্র কুকুর, বিচ্ছু।”

(إِنَّ الَّذِينَ يُنَادُونَكَ مِن وَرَاءِ الْحُجُرَاتِ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ) -'যারা ঘরের বাইরে থেকে আপনাকে উচ্চস্বরে ডাকে, তাদের অধিকাংশই অবুঝ। '৩৩৯-এ আয়াতের ব্যাপারে বলেন, 'এ আয়াত তিলাওয়াতের পর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, "হে আল্লাহর রাসুল, আমার প্রশংসা করা সৌন্দর্য এবং আমার নিন্দা করা অপমান।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এটা কেবল আল্লাহ তাআলাই হতে পারেন।"৩৪০

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে প্রশ্নকর্তা লোকটি নিজের প্রশংসা ও নিজের বড়ত্ব জাহির করতে চেয়েছিল। তার কথার অর্থ হচ্ছে, যদি আমি কারও প্রশংসা করি, তবে সে প্রশংসিত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত। কিন্তু যদি আমি কোনো লোকের নিন্দা করি, তবে সে নিন্দিত ও ঘৃণিত।

তার জবাবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এমনটা কেবল আল্লাহই হতে পারেন। অর্থাৎ যার প্রশংসা কাউকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে পারে এবং যার নিন্দা কাউকে দোষযুক্ত করতে পারে, তিনি হলেন আল্লাহ। এ ছাড়া অন্য কারও জন্য এ কথা প্রযোজ্য নয়। ৩৪১

টিকাঃ
৩৩৮. মুসনাদু আহমাদ: ৫৫০৫; শাইখাইনের শর্তানুযায়ী হাদিসটির সনদ সহিহ। বেদুইনের আহ্বানের ছত্রটি বাদে হাদিসটি এসেছে, সহিহুল বুখারি: ৫৫৩৬, সহিহু মুসলিম ১৯৪৩-এ।
৩৩৯. সুরা আল-হুজুরাত, ৪৯: ৪।
৩৪০. সুনানুত তিরমিজি: ৩২৬৭।
৩৪১. তুহফাতুল আহওয়াজি: ৯/১০৯।

📘 যেমন ছিলেন তিনি ﷺ > 📄 উদাহরণ দিয়ে বেদুইনদের বোঝাতেন

📄 উদাহরণ দিয়ে বেদুইনদের বোঝাতেন


আবু হুরাইরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, 'এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললেন, "ইয়া রাসুলাল্লাহ, (আমি ফরসা কিন্তু) আমার একটি কালো ছেলে জন্মেছে (তাই আমি সন্তানটি আমার বলে স্বীকার করতে সংশয় বোধ করছি)।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার কি উট আছে?" লোকটি বললেন, "জি, আছে।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তার রং কী?" লোকটি উত্তর দিলেন, "লাল।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "সেগুলোর মধ্যে কি ছাই বর্ণের কোনো উট আছে?" লোকটি বললেন, "জি, আছে।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তাহলে এটা কোথা থেকে আসলো?" তিনি উত্তর দিলেন, "হয়তো পূর্বপুরুষদের রক্তধারায় এমনটি হয়েছে।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তোমার ছেলের কালো রংটাও হয়তো পূর্বপুরুষদের রক্তধারার কারণে হয়েছে।"৩৪২

টিকাঃ
৩৪২. সহিহুল বুখারি: ৫৩০৫, সহিহু মুসলিম: ১৫০০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00